অধিকারবঞ্চিত মেহনতি মানুষের মুক্তি কবে?

মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত#

Yasinরোদ্রের প্রচন্ড খরতায় মানুষ থেকে প্রাণী সবাই ধুঁকছে। তপ্ত রোদ থেকে নিষ্কৃতি পেতে গাছের মগডালে পত্রপল্লবের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে পাখিগুলো, সেখানে হয়তো রোদের কিরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু ভ্যাপসা গরম পাখিগুলোকে স্বস্তি দেয়নি। ফলে পাখিগুলোর ধুঁকধুঁক কণ্ঠ দ্রুত ওঠানামা করছে। বাগানে গাছের ছায়ায় কুকুর ছানাগুলো আশ্রয় নিলেও একহাত জিহ্বা বের করে তারা গরম যন্ত্রণায় লালা ছেড়ে দিয়ে হাঁপাচ্ছে। বনের রাজা সিংহ সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়ার পরও গরম তাকে এতই কাবু করেছে যে শেষ পর্যন্ত একটু প্রশান্তির আশায় তাকে জলে নেমে পড়তে হলো। কিন্তু গরমের নিকট সবাই কাবু হয়ে যখন প্রশান্তির ছায়ায় আশ্রয় খুঁজছে তখন শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এতটুকু পর্যন্ত টলাতে পারেনি গ্রীষ্মের উষ্ণতা। গরম যখন সবাইকে কাবু করছে তখন শ্রমজীবী মানুষগুলো গরমকে উপেক্ষা করে তাদের কর্মে অবিচল টিকে থেকেছে। এই চিত্র গ্রীষ্মের হলেও শীতের চিত্রও তার বিপরীত নয়। কনকনে শীতের সকালে কম্বল-কাঁথা মুড়ি দিয়ে যখন সবাই বদ্ধ ঘরে আরামের জন্য একটু উষ্ণতা খোঁজে তখন এ দেশের মেহনতি কৃষক কনকনে শীতকে চাদর বানিয়ে ছুটে যায় লাঙল-জোয়াল কাঁধে মাঠে ফসল বুনতে। নিজের সত্তার কথা চিন্তা না করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্তকে পানিতে পরিণত করে যারা জীবনের বাঁকে শ্রমের তরীর মাঝি হিসেবে তরীকে তার গন্তব্যে নিয়ে যেতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আজ সেই সকল মেহনতি মানুষের প্রতীক মহান মে দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত। মহান দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করবে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের বাঁকে ফিরে দেখি যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মহান মে দিবস সেই সকল মেহনতি শ্রমিকের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নানা বঞ্চনা আর বৈষম্যের  শিকার শ্রমিকরা তখনো জানতো না তারা কিভাবে নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে। তাদের ক্ষোভ শুধু ধুমায়িত হতে থাকে, একের পর এক লাঞ্ছনা বঞ্চনা নির্যাতনে যখন শ্রমিকসমাজের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালে প্রথম রাস্তায় নামে শ্রমিকসমাজ। কিন্তু সংগঠিত না থাকায় শ্রমিক মানুষেরা তাদের ন্যায্য অধিকারগুলো আদায় করতে পারেনি। ১৮৮১ সালে শ্রমিকরা তাদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরে এবং সে বছরেই ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে আমেরিকা ও কানাডায় গঠিত হয় দুটি শ্রমিকসংগঠন। এই দু’টি সংগঠন বিভিন্নভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৪ সালে দুই দেশের শ্রমিকসংগঠন একটি প্রস্তাবনা পাস করে, এতে বলা হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের কর্মদিবস হবে ৮ ঘণ্টা। ৮ ঘণ্টার বেশি কোন শ্রমিক কাজ করবে না। দু’টি দেশের শ্রমিকসংগঠনের এই ঘোষণায় উদ্বেলিত হয় শ্রমিকসমাজ। তারা তাদের অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করতে উৎসাহ জোগায়। কিন্তু মালিক ও সরকার পক্ষ শ্রমিকদের এই প্রস্তাবনায় সাড়া না দিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের পথ বেছে নেয়। এমতাবস্থায় ১৮৮৬ সালের ১ মে মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কতক ন্যায্য দাবি আদায়ে শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দেয়। শিকাগো শহরের ৭টি সংগঠনসহ ২২টি শ্রমিকসংগঠন এদিন মিছিলে মিছিলে ‘হে’ মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকে। শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবির সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ ঐকমত্য না হওয়ায় সমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ গুলি চালালে এতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়। কিন্তু শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তবুও তাদের ন্যায্য দাবি থেকে একচুল পরিমাণও পিছপা হতে রাজি নয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আর মরিয়াভাবের নিকট পরাজিত হয় সরকার। মেনে নেয়া হয় সকল দাবি-দাওয়া। পরবর্তীতে মার্কিন সরকার ১ মে কে ‘ল ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই মে দিবস সকলের নিকট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শুধু আমেরিকা আর কানাডা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস ।
বাংলাদেশেও সরকারিভাবে পালিত হয় মে দিবস। বাংলাদেশ লেবার ফোর্সের সার্ভে অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিকসংখ্যা ৫ কোটির কাছাকাছি, এর মধ্যে এক চতুর্থাংশ মহিলাশ্রমিক। বাংলাদেশের এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি বছরই আমাদের দেশে মে দিবস পালিত হলেও এ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা সবচেয়ে বড় অংশীদার তাদের অধিকারের কথাগুলো সরকার থেকে শুরু করে আমরা সবাই ভুলে যাই। ফলে মে দিবস আসে মে দিবস চলে যায় কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না, জীবনযাত্রার চাকা ঘোরে না এ দেশের শ্রমিক সমাজের। আমাদের দেশের শ্রমিকেরা বিভিন্ন সেক্টরে তাদের শ্রম দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও বিশাল সংখ্যক শ্রমিক জনগোষ্ঠী অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবাসী এ শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া বললে ভুল হবে তাদের চিত্র আরো ভয়াবহ। মাঠের ফসলি জমি, ঘোয়ালের গরু, পুকুরের মাছ, এমনকি নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে গ্রামের সহজ সরল যে শ্রমিকটি জীবন-জীবিকার সন্ধানে, ভাগ্য উন্নয়নে প্রবাসে পাড়ি জমায় তখন দালালদের খপ্পরে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করে কিংবা বিদেশী দূতাবাসে আশ্রয় গ্রহণ করে জীবন বাঁচানোর প্রার্থনা করে তখন আমাদের দূতাবাসের কর্তাব্যক্তিরা শ্রমিকদের এই দুর্দশায় যেই পথে শ্রমিকটি দূতাবাসে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে আবার সেই পথেই চলে যেতে বলে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। কারণ এরা তাদের জন্য বোঝা। তারা শুধু অর্থ উপার্জনকারীদের আয়েই দেশীয় রেমিট্যান্স বাড়াতে চায় মানবেতর জীবনযাপনকারী এবং বিপদগ্রস্তদের দায় তাদের ওপর বর্তায় না। অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে এসে যখন সুশৃঙ্খলভাবে মানববন্ধন করে প্রতারকচক্রের বিচার দাবি এবং ক্ষতিপূরণ চায় তখন সরকারের ভূমিকা রাখার কোন ইচ্ছে থাকে না, মহান মে দিবসের তাৎপর্যও আর স্মরণ থাকে না সরকারের। দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিদেশী বাজার অথচ সরকার শুধু মন্ত্রী-এমপিদের সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠিয়ে সেই দেশের কর্তাব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করে।
দুর্দশাগ্রস্ত প্রবাসী শ্রমিকসমাজের এই প্রতিচ্ছবির চেয়ে  কোনোভাবেই ভালো নেই দেশীয় শ্রমিকসমাজ। দেশে শিশুশ্রমের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। ঘরের ঝিয়ের কাজ থেকে শুরু করে রিরোলিং ও ইস্পাত কারখানার মতো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে শিশুশ্রমিকদের দিয়ে। কোমলমতি যেই শিশুদের হাতে থাকার কথা ছিল খাতা, কলম আর বই আজ তাদের হাতে  মেশিন তৈরির ভারী যন্ত্র, লোহার আগুনে দগ্ধ কচি হাতগুলো। অন্যান্য শিশুর মতো যে শিশুটির অধিকার ছিল মা-বাবার আদর- স্নেহে পালিত হওয়া, জীবিকার সন্ধানে সে শিশুটি আজ ফজরের আজানের শব্দে ঘুম থেকে উঠে কাজে লেগে যায়। অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও সামান্য অসচেতনতায় নেমে আসে গালি-গালাজ, নির্যাতন। যে শিশুটি দুরন্ত হওয়ার কথা ছিল, যার অধিকার ছিল অন্যান্য শিশুর মতো হেসে খেলে বড় হওয়া সেই শিশুটি যখন পরের ঘরে কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত একটি পাত্র ভেঙে ফেলে, তখন গৃহকর্ত্রী কর্তৃক অবুঝ শিশুটির ওপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। লোহার শিক গরম করে শরীরে সেক দেয়ার ঘটনা এই সমাজের শিশুশ্রমিকদের জন্য বিরল নয়। যে গৃহকর্ত্রীরা অপরের শিশুসন্তানের সাথে এমন নির্মম আচরণ করেন তাদের সন্তান কিংবা ছোট ভাইবোন যদি এমন অসাবধানতাবশত কোন পাত্র ভেঙে ফেলতো তাহলে নিশ্চয়ই তাদের সাথে আচরণ এমন জঘন্য হতো না। বাংলাদেশের ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি আয়ের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার আয় হয় তৈরী পোশাক শিল্পে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। তাদের বোনাস তো দেয়াই হয় না বরং কাজের নির্দিষ্ট বেতনও ঠিকমতো পরিশোধ করে না মালিকপক্ষ। ফলে তাদের বেছে নিতে হয় আন্দোলন। আর শ্রমিকদের এই অসন্তোষের সুযোগ নেয় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল। যারা পাশের দেশের বিদেশী বাজার চাঙ্গা রাখতে চায় তারা শ্রমিক অসন্তোষের এই সুযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে একদিকে তৈরী পোশাক শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে, অন্য দিকে শ্রমিক বঞ্চিত হন বেতনভাতা থেকে, তারা পরিণত হন স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নকে।
আমাদের এই দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কৃষকের বাস হলেও কৃষকের অধিকার আজও আমাদের সমাজে অধরাই থেকে গেছে। আজও সারের জন্য, সেচপাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়ার জন্য বিদ্যুতের দাবিতে কৃষককে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়। যে কৃষক শুধু নিজের জন্য চাষাবাদ করেন না, ঝড়, বৃষ্টি, সাইক্লোন, বন্যা, খরা মোকাবেলা করে দেশের জন্য সম্পদ তৈরিতে জমিতে ফসল বুনেন সেই কৃষক যখন দুঃখ দুর্দশায় পতিত হন তখন মহান মে দিবসের কথা আমাদের মনে থাকে না, দাঁড়াতে পারি না আমরা সেই কৃষকের পাশে। আমরা সেই কৃষকের পরিশ্রমের মূল্য দিতে জানি না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এ দেশের শ্রমিক সমাজের আয়, ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ একবেলা খেতে পারছে তো অন্য বেলা উপোস থাকছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাবার অবস্থা। বেতনভাতা বৃদ্ধির নামে শ্রমিকদের সাথে তামাশা করেছে মাত্র সরকার ও মালিক কর্তৃপক্ষ। জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং বর্তমান বাজারের ব্যয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ন্যূনতম জীবন বাঁচানোর মতো বেতন বৃদ্ধি  না হলে এবং শ্রমিকদের এভাবে মানবেতর জীবনযাপন চলতে থাকলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হতে থাকবে শ্রমিক জনগোষ্ঠী, ফলে ব্যাহত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।
কৃষক, শ্রমিক, চাষা মজুর থেকে শুরু করে হাজারো শ্রমিকের মাঝে আমাদের বসবাস। এই সকল শ্রমিক থেকে আমরা সেবা গ্রহণ করলেও আমরা তাদের পরিশ্রমের মূল্য দিতে জানি না। জানি না তাদের মর্যাদার মূল্যায়ন করতে। আমাদের সমাজের বাথরুমের ক্লিনার (মেথর) থেকে শুরু করে বাসের হেলপার কিংবা নৌকার মাঝি সকলেরই অবস্থা একই। পদে পদে অধিকারহারা লাঞ্ছনা আর নির্যাতনের শিকার তারা। অথচ আজ থেকে যদি ১৪শত বছর আগে ফিরে যাই তাহলে দেখবো মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সা) তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজব্যবস্থায় শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দাও।’ চির শাশ্বত সেই বাণী আমাদের শ্রমিকের মর্যাদা দানে আরো উৎসাহিত করে যে ‘তারা (শ্রমিক) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, তাই তোমরা যা খাবে তাদের তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদের তা পরতে দেবে।’ তা ছাড়া আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) মেষ চরাতেন। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের সময় নিজের কাঁধে পাথর বহন করে শ্রমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শ্রমিকদের প্রতি মর্যাদাবোধ ও অধিকার প্রদানে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আমাদের আরো কর্তব্যপরায়ণ করে তুলেছেন মানবতার এই মহান বন্ধু। এমনকি অসংখ্য নবী এবং রাসূল ছিলেন যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। আমরা আমাদের শ্রমিকদের মর্যাদার মূল্যায়ন এখান থেকেই করতে পারি। আমরা তাদের ভাই হিসেবে তাদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হবো, বিপদে পাশে দাঁড়াব আমাদের নবী-রাসূলদের ইতিহাস এমন শিক্ষাই আমাদেরকে দেয়। দেড়শত বছর আগে থেকে মহান মে দিবস পালিত হয়ে এলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত বরং নির্যাতন আর নিষ্পেষণের জাঁতাকলে পিষ্ট তারা। শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এই প্রতীকও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারেনি। শ্রমিকসমাজ কি নির্যাতন আর নিষ্পেষণের জাঁতাকল থেকে কখনই মুক্তি পাবে না? তাদের মুক্তির অধিকার কি অধরাই থেকে যাবে? হ্যাঁ শ্রমিকসমাজ মুক্তি পেতে পারে এমন একটি কল্যাণধর্মী সমাজব্যবস্থা থেকে যে সমাজ শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়, যে সমাজ শ্রমিকদের মানবসম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করে। যে সমাজব্যবস্থা নিজে যা খাবো শ্রমিককেও তা খাওয়াতে বলে, নিজে যা পারবো শ্রমিককেও তা পরতে দিতে বলে এমন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকলে শামিল হলে শুধুমাত্র শ্রমিক সমস্যার সমাধানই নয় বরং গোটা মানবসমাজের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
লেখক : অফিস সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply