অনলাইনে লেখালেখি ব্লগ, ব্লগার ও ব্লগিং -সালেহ মো. ফয়সাল

বিশ্বের প্রতিটি মানুষের রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। তা হতে পারে সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হলো ব্লগ। ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন অথচ ব্লগের নাম শোনেননি এমন লোক পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

ব্লগ কী?
আমরা কম বেশি সবাই ব্লগ বা ওয়েব ব্লগ শব্দটির সাথে পরিচিত। আবার অনেকেই ভাবতে পারেন ‘ব্লগ’ এটা আবার কী? ব্লগ হচ্ছে বিশেষ ধরনের ওয়েবসাইট, অনেকে একে ব্যক্তিগত ডায়েরিও বলে থাকে। তবে সময়ের সাথে ব্লগিংয়ের ধারাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন ব্যক্তিগত ডায়েরির পরিবর্তে ব্লগ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছে। ওয়েবসাইট থেকে ব্লগের মৌলিক পার্থক্য হলো ওয়েবসাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিতভাবে, অপর দিকে ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিতভাবে। এমনকি কিছু কিছু ব্লগ প্রতি মিনিটে আপডেট করা হয়। ব্লগাররা নিয়মিত তাদের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট যুক্ত করেন আর ব্যবহারকারীরা সেখানে তাদের মন্তব্য করতে পারেন। এ ছাড়াও সম্প্রতি ব্লগ ফ্রিলান্স সাংবাদিকতার একটা মাধ্যম হয়ে উঠছে।
ইন্টারনেট জগতে ব্লগের বয়স আঠারো পার করেছে। Blogশব্দটির উৎপত্তি Weblog  থেকে। Weblog শব্দটি প্রথমে ব্যবহার হয় ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বরে। শব্দটির স্রষ্টা আমেরিকান নাগরিক জন বার্জার। ১৯৯৯ সালে এপ্রিল ও মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পিটার মহোলজ নামে এক ব্যক্তি Weblog শব্দটিকে আলাদা করে- ডব Weblog  হিসেবে ব্যবহার করেন। এর পর থেকে সারা বিশ্বে ব্লগ জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে এর মাঝামাঝি সময়ে ‘ওপেন ডায়েরি’ নামে একটি মাধ্যম ছিল যা এখনকার ব্লগের মতো। তবে এর জনপ্রিয়তা বেশি দিন টিকেনি।

ব্লগার
যে বা যারা ব্লগে লিখে বা পোস্ট দেন তাকে ব্লগার বলা হয়। Oxford Dictionary-তে বলা আছে- Blog is a personal record that somebody puts on their website giving an account of their activities and opinions and discussing places on the Internet they have visited.

ব্লগিং
কোন একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে কোন বিষয়কে পাঠকদের মতামত প্রদানের জন্য তুলে ধরাকে ব্লগিং বলে। মতপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে এই দীর্ঘ আঠারো বছরে ব্লগ আমাদের জীবনযাত্রায় এনেছে নতুন মাত্রা।

ব্লগের প্রকারভেদ
কোন ব্লগে কী ধরনের পোস্ট দেওয়া হয় তার ওপর ভিত্তি করে ব্লগকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি হলো :
১. ব্যক্তিগত ব্লগ
এখানে ব্যক্তি কোন একটি বিষয়ের ওপর তার মতামত পোস্ট আকারে তুলে ধরেন এবং পাঠকদের সাথে এর ওপর মতামত আদান প্রদান করেন। এই ধরনের ব্লগের সাধারণত কোনো ব্যক্তি তার প্রতিদিনের জীবনযাত্রা এবং তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে। ব্যক্তিগত ব্লগ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ধরনের ব্লগ, ব্লগার তার নিজের শখ থেকে করে থাকে। তাদের ব্লগ কেউ পড়–ক বা না পড়–ক এতে তাদের কিছু আসে যায় না। নিজের আনন্দ লাভ করা এ ধরনের ব্লগের মূল উদ্দেশ্য।

২. সামাজিক ব্লগ
সামাজিক ব্লগ হলো এমন ব্লগসাইট, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের মতামত বা মুক্তচিন্তা তুলে ধরতে পারে। একজন ব্যক্তি একটি পোস্ট দেয়ার পর উক্ত অন্যান্য ব্লগাররা তার পোস্টের ওপর মন্তব্য করতে পারেন। যেমন- সামহয়্যারইন ব্লগ, আমার ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক ব্লগের অন্তর্ভুক্ত

৩. ব্যবসায়িক ব্লগ
কোম্পানি/ প্রতিষ্ঠান তাদের কোন পণ্য বা সেবার ওপর নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেন এবং পাঠক তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন। এ ধরনের ব্লগ সাধারণত কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচার বা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে করে থাকে।
যেমন- গুগল ব্লগ, অপেরা ডেস্কটপ টিম ইত্যাদি।

৪. প্রশ্ন ব্লগ
প্রশ্ন ব্লগে ব্লগার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এই প্রশ্ন কোন ফর্ম বা ই-মেলের মাধমে ব্লগারদের কাছে পৌঁছানো হয়।
যেমন: ইয়াহু এনসার ব্লগ।

৫. খবর ব্লগ
যে সকল ব্লগে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ের খবরাখবর স্থান পায় তাকে খবর ব্লগ বা নিউজ ব্লগ বলে।
আরো কয়েক ধরনের ব্লগ বর্তমানে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যেমন- মাইক্রো ব্লগ, টুইটার এমন একটি ব্লগ। এটি ব্যক্তিগত ব্লগের ভেতরেও পড়ে। যেমন- আমার টুইটার ব্লগ।
পোস্ট করা ব্লগের ধরন অনুযায়ী ব্লগকে আবার কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো :
ক) ফটোলগ : এ ধরনের ব্লগে, ব্লগার তাদের ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে তোলা বা স্ক্যান করা ছবি আদান প্রদান করে থাকে।
খ) ভিলগ : যে ব্লগে, ব্লগার ভিডিও শেয়ার করা হয় তাকে ভিলগ বলে।
গ) লিংকলগ : বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ঠিকানা দ্বারা গঠিত ব্লগ হলো লিংকলগ।
ব্লগকে আরো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এখানে আমরা প্রধানত সামাজিক ব্লগিংয়ের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা করব।

কিভাবে ব্লগিং করবেন?
ব্লগিং করতে প্রথমেই আপনাকে নির্দিষ্ট ব্লগসাইটে একটি ব্লগ অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আপনার ই-মেইল আইডি প্রয়োজন হবে। একটি নির্দিষ্ট নামে (বাংলায়) আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে যা হবে আপনার পরিচয়। ব্লগে আপনাকে সবাই ঐ নামেই চিনবে। এই নামটি পরবর্তীতে পরিবর্তনযোগ্য নয়। এ ছাড়াও ব্লগ অ্যাকাউন্টে লগইন করার জন্য প্রয়োজন হবে একটা Username এবং Password এর। এমন একটি Username হতে হবে যা ঐ ব্লগসাইটে আর কারো দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে না। আপনার ব্লগ অ্যাকাউন্ট সফলভাবে খোলার পর আপনার দেয়া নির্দিষ্ট Username এবং Password  দিয়ে লগইন করে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে হবে। লগইন করে ঢোকার পর আপনি নতুন ব্লগ বা নতুন পোস্ট লিখতে পারবেন এবং তা ব্লগে প্রকাশ করতে পারবেন। বর্তমানে কিছু ব্লগসাইটে নতুন ব্লগারদের লেখাকে সরাসরি প্রথম পাতায় প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া হয় না। একজন নতুন ব্লগার যদি নিয়মিতভাবে ভালো ও মানসম্মত লেখা পোস্ট করেন তবে মডারেশন বোর্ড যাচাই বাছাই করে তার লেখাকে প্রথম পাতায় প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে। এ ছাড়াও নতুন ব্লগারদেরকে প্রথমেই অন্য কোনো ব্লগারের পোস্টে মন্তব্য করার অনুমতি দেয়া হয় না। এই নিয়মগুলো সাধারণত জনপ্রিয় ব্লগসাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন সামহয়্যারইন ব্লগ।
কিন্তু যে সকল ব্লগসাইট নতুন বা তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি সে সাইটগুলোতে অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ করা মাত্র উক্ত ব্লগারকে ব্লগের সকল সুবিধা প্রদান করা হয়। যেমন- আমার ব্লগ।
ব্লগে কী ধরনের লেখা লিখতে পারেন?
ব্লগে সাধারণত সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়েই বেশি লেখালেখি হয়ে থাকে। এ ছাড়াও আপনি ব্লগে ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণীয় লেখা, ছবি পোস্ট, ব্যক্তিগত অনুভূতি টিপস পোস্ট, টেকনোলজি বিষয়ক সহযোগিতামূলক পোস্টসহ বিভিন্ন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। এ ছাড়াও আপনি যদি কবি, সাহিত্যিক ও লেখক বা কলামিস্ট হন বা হতে চান তবে আপনি আপনার কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কলাম ইত্যাদি ব্লগে পোস্ট করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্লগের নীতিমালার দিকে নজর রাখতে হবে।
কিভাবে লিখবেন সফল ব্লগ?
ব্লগিংয়ে সার্থকতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ব্যতিক্রমধর্মী রচনা। নিচের কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করলে পাঠককে আবার আপনার ব্লগে আসতে আগ্রহীও করবে।
(১) ব্লগের মূল ভাষ্য
প্রতিটি ব্লগই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির পাঠককে লক্ষ্য করে লেখা উচিত। আপনার ব্লগের প্রধান পাঠক শ্রেণি চিহ্নিত করুন। কোন কোন পাঠক আপনার ব্লগটি পড়বেন এবং কেন? আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে কী অর্জন করতে চান শুধু এটাই ভাববেন না। পাঠক আপনার কাছ থেকে কী চায় সেটিও ভাবুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত এবং তারপর সেটির উপর লিখুন।
(২) দ্বিধাহীন বক্তব্য
আপনার লেখায় মনের ভাব প্রকাশে কখনই দ্বিধা করবেন না। এতে লেখাটি পাঠকের কাছে আপনার পরিচয় করিয়ে দেবে। মনে রাখবেন পাঠকের সাথে আপনার সম্পর্ক যত বেশি ঘনিষ্ঠ হবে আপনার ব্লগের সফল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে।
(৩) শুধু লিংক দিয়ে দায় মুক্ত হবেন না
ব্লগিং একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই অনেক সময় দেখা যায় অনেকে তাদের পোস্টে অন্য আরেকটি অনলাইন পোস্টের লিংক যোগ করে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চান। এই ভুলটি কখনই করবেন না। পাঠক আপনার লিংকের মাধ্যমে কোন মজার কিছু পড়তে চান না। এমনও হতে পারে পাঠক আপনার ব্লগ থেকে আপনি তাকে যেখানে পাঠাচ্ছেন সেই ব্লগটি বেশি পছন্দ করে ফেলতে পারে।
৪. উৎস সরবরাহ
কখনোই কোন অনলাইন ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে লেখা চুরি করে কপিরাইট লঙ্ঘনের চেষ্টা করবেন না। এতে যেমন আপনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন তেমনি পাঠকও হারাতে পারেন। তবে আপনি যদি কোন ওয়েবসাইটে এমন কোনো তথ্য পান যা আপনি আপনার ব্লগের আলোচনা করতে চান তাহলে ঐ ব্লগ বা ওয়েবসাইটের একটি লিংক যুক্ত করে দিন, তাহলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
৫. লেখাকে সাজান
আপনার ব্লগপোস্টের দৃষ্টিনান্দনিকতা আপনার আলোচনার বিষয়বস্তুর মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্লগপোস্টটি ছোট ছোট অনেক প্যারা করে সাজান। প্রতিটি প্যারায় সম্ভব হলে দুই বা তিনের অতিরিক্ত বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
ব্লগের শাস্তি
প্রত্যেক সামাজিক ব্লগসাইটেরই নির্দিষ্ট কিছু নিয়মনীতি থাকে যা মেনে চলে ব্লগিং করতে হয়। কোন ব্লগার যদি উক্ত নীতিমালা ভঙ্গ করেন তবে ব্লগসাইটের মডারেশন বোর্ড তাকে শাস্তি দেয়ার অধিকার রাখে। শাস্তি স্বরূপ আপনার নির্দিষ্ট পোস্ট কিংবা মন্তব্য আপনার অনুমতি ছাড়াই মুছে দিতে বা ব্লগ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়াও আপনার নীতিমালা ভঙ্গের অপরাধের মাত্রা যদি খুব বেশি হয় তবে আপনাকে ব্লগের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে, এমনকি আপনাকে পুরোপুরি ব্যান বা লগইন ব্যান করতে পারে। তাই ব্লগ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রথমেই ব্লগের নীতিমালাগুলো ভালোভাবে জেনে-বুঝে ব্লগিং করা উচিত।

ব্লগে দাওয়াতি কাজ
ব্লগে দাওয়াতি কাজ করার জন্য ব্যক্তিবিশেষে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা যেতে পারেÑ
১.    ব্লগে ইসলামী সাইট, আর্টিকেল, অডিও ভিডিও রিভিউ ও লিংক শেয়ার করা।
২.    সময়মত বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামী লেখা ও লিংক কালেকশন প্রকাশ করা। যেমন, হজের সময় হজবিষয়ক।
৩.    ইসলাম নিয়ে লিখেন, এমন লেখককে উৎসাহ দেয়া।
৪.    কোনো লেখক কোনোভাবে ইসলামকে কটাক্ষ করে থাকলে প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাকে বোঝানো।
৫.    লেখার মাধ্যমে বিদায়াত বা যে কোনো ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
৬.    বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস পোস্ট করে মানুষকে গোনাহ ও সওয়াব সম্পর্কে সচেতন করা।
৭.    লেখকদের মধ্যে ঝগড়া হতে দেখলে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে তা নিরসন করা।
৮.    বিভিন্ন ইসলামী বই নিয়ে রিভিউ লেখা এবং সত্য উন্মুক্ত হলে তার পিডিএফ আপলোড করে লিংক শেয়ার করা।
৯.    ভাষা ও শব্দচয়নে শালীনতা ও বানান শুদ্ধির দিকে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। সময় উপযোগী লেখা পোস্ট দেয়া, কাউকে ইচ্ছে করে অপমান, উপহাস বা ছোট না করা। কোনো কারণে মন খারাপ, বিরক্ত বা রাগ হলে ধৈর্য ধরা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখানো।

ব্লগার হিসেবে জনপ্রিয়তার কিছু টিপস
১.    ব্লগ লিখতে অবশ্যই সর্বজনবোধ্য ভাষারীতি ব্যবহার করতে হবে।
২.    ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অবশ্যই আত্মঘাতী কোনো লেখা প্রকাশ করা উচিত নয়।
৩.    কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন লেখা প্রকাশ করা ঠিক নয় ।
৪.    কোন টিপস লেখার আগে অবশ্যই নিজে চেষ্টা করে দেখতে হবে টিপসটি কার্যকরী কিনা।
৫.    টিউটোরিয়াল লেখার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সম্ভব হলে সচিত্র টিউটোরিয়াল লিখুন।
৬.    ব্লগে লিখার সময় কপি/ পেস্ট পদ্ধতি আপনার জনপ্রিয়তার পথে বাধা হতে পারে তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং যদি প্রকাশ করেন তবে অবশ্যই সে লেখাটির যথাযথ রেফারেন্স পোস্টের সাথে সংযুক্ত করুন।
৭.    অন্যের লেখা চুরিকে সাধারণত প্লাগিরিজম (plagirism) নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
৮.    ব্লগিংয়ের বিষয় নির্বাচনের সময় লক্ষ রাখবেন যে বিষয়টি আপনি পছন্দ করলেন সেটি সম্পর্কে আপনি প্রচুর লিখতে পারেন।
৯.    নিয়মিত ব্লগিংয়ের বিষয়ে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করুন।
১০.    আপনার নির্বাচিত বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য যারা ব্লগ বানিয়েছেন তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেয়ার করুন।
১১.    পাঠকের মন্তব্যের গঠনমূলক উত্তর দেবেন। কোনোভাবে খারাপ কথা বলবেন না।
১২.    পোস্ট লেখার সময় মনোযোগ দিয়ে লিখেন এবং লক্ষ্য রাখবেন যা লিখতে চাচ্ছেন তা যেন লেখার মাঝে ভালোভাবে প্রকাশ পায়।
১৩.    পাঠক আপনার কাছে কী কী নতুন বিষয়ের ওপর লেখা চায় তা জানতে চেষ্টা করেন এবং সে বিষয়ে লিখেন।

নিজ নামে ফ্রি ব্লগ
নিজের নামে ফ্রি ব্লগ তৈরির সুবিধাও আছে। যেমন- গুগলের ব্লগার ডট কম (www.blogger.com)   এখানে লাগবে শুধু একটা জি-মেইল অ্যাকাউন্ট। এ ছাড়াও আছে,
www.wordpress.com www.tumblir.com www.medium.com www.livejournal.com www.quora.com www.weebly.com
www.edublogs.org
www.blog.com
www.wix.com

বাংলা ভাষায় ব্লগ:
২০০৬ সালের প্রথম মাস থেকে শুরু হয় বাংলা ব্লগিংয়ের ইতিহাস। প্রথমে একটি বাংলা ব্লগিং সাইট তার যাত্রা শুরু করার পরপরই আরও একাধিক সাইট অনলাইনে বাংলা ব্লগিংয়ের সুবিধা নিয়ে উপস্থিত হয়। এখন বেশ কয়েকটি ব্লগিংসাইট বাংলাভাষী অনলাইন ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর পার হওয়ার পরও এদের কেউ কেউ তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। কেউ জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, আবার কেউবা নতুন শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে। বর্তমানে বেশ কিছু সামাজিক ব্লগ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নিচে কয়েকটি প্রসিদ্ধ সামাজিক ব্লগসাইটের ঠিকানা দেয়া হলো :
www.somewhereinblog.net/
www.amarblog.com/
www.sonarbangladesh.com/blog/
www.bishorgo.com/
www.amarbornomala.com

তথ্যসূত্র
www.wikipedia.org/
www.somewhereinblog.net/
www.tectune.com

লেখক : এমফিল গবেষক

SHARE