অনিশ্চিত গন্তব্যে গণতন্ত্র আশার আলো কোথায়?

সামছুল আরেফীন#

resent৩১ জানুয়ারি রাতে যখন এই লেখাটি লিখছি তার কিছুক্ষণ আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপতি হয়েছে। এর আগে ১৯ ঘণ্টা সেই কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এখনও ইন্টারনেট, টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, বন্ধ রয়েছে মোবাইল এর ফ্রিকোয়েন্সি। গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকেই  বেগম জিয়া তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা সঙ্কটাপন্ন তা এ ঘটনা থেকেই বুঝা যায়।
মূলত গন্তব্যহীন অনিশ্চয়তার পথে হাঁটছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচন, একে একে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পথ বন্ধ করে দেয়ায় এই সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাংবিধানিকভাবে গণতন্ত্র থাকলেও দেশ এক দলীয় শাসনের মতোই পরিচালিত হচ্ছে। ভিন্ন মত প্রকাশের স্থানটা এখন একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। অর্থবহ সংলাপই সঙ্কট উত্তরণে একমাত্র পথ। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান না করে প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করছে।
চলমান অস্থির পরস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির চাকা  পেছনের দিকে ঘুরছে। বিদেশী  ক্রেতারা ফেরত যাচ্ছে। আমদানি-রফতানিতে ভাটার টান। গণপরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। অন্যদিকে সারের ব্যাপক চাহিদার মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না। এর ফলে কৃষক যেমন উৎপাদিত ফসলের দাম পাচ্ছে না, তেমনি ভবিষ্যৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অবস্থা থেকে উত্তরণে রাজনীতিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী নেতারা, সাংবাদিক সমাজ, সুশীলসমাজসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
বস্ত্র ও পোশাক খাতের প্রধান সংগঠনসহ এ খাতে সম্পৃক্ত ৪০টি সংগঠন বুধবার দুই নেত্রীর কাছে পৃথক স্মারকলিপিতে বলেছেন,  ‘পোশাক শিল্পকে বাঁচান। আমরা বাঁচতে চাই।’
এরও আগে গত ১০ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ- এফবিসিসিআই’র শীর্ষ নেতারা দুই দলকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। একই দিন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চলমান সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ কামনা করে বলেছে, আশা করছি দেশের এমন পরিস্থিতিতে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে, সাত দিনের মধ্যে দুই নেত্রী আলোচনায় না বসলে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা: একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে মতিঝিলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। গণফোরাম, সিপিবি, বাসদ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য সঙ্কট সমাধানে দুই নেত্রীকে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে যুগপৎভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্নাও একই আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগেও রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সংলাপের প্রস্তাব এসেছে। দেশী-বিদেশী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি জাতিসংঘও সংলাপ আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়েছে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান জাতিসংঘের মহাসচিব। এ জন্য তিনি তার বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্ডেজ তারানকোকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও তাদের শরিকদের অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে আবারও রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে সব দলের অংশগ্রহণে সংলাপের দাবি উঠছে।
জানুয়ারির শেষ দিকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে আবারো আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় সকল বক্তা ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করেছেন। তারা সংকট নিরসনে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচনই বিকল্প বলে মত দিয়েছেন। এই আলোচনা সভায় বৃটিশ লর্ড সভার সদস্য, ব্যারোনাস, এমইপি ও এমপিসহ মোট ১১ জন অংশ নেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বৃটিশ এমপি লর্লি বাট।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ। গত ২২ জানুয়ারি জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সার্বিকভাবে শীর্ষে অবস্থানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী যদি নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে তাদের নিয়োগের বিষয়ের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গেও কথা এসেছে। এর আগে হিউম্যান রাইটস হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল হাইকমিশনারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেফতার ও বন্দী রাখার প্রক্রিয়া যাতে বিধিবহির্ভূত না হয় ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সব পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং তা যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মানদন্ডে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ দিকে জানুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশের চলমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভয়াবহ পেট্রোলবোমা হামলার জবাবে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে পুলিশকে দায়মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে এরই মধ্যে বিরাজমান সহিংস পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দেয়ার ঝুঁকি নিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ : এক্সেসিভ পুলিশ ফোর্স নট দি অ্যানসার টু হরিফিক পেট্রোল বম অ্যাটাকস’ অর্থাৎ ‘পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ভয়াবহ পেট্রোলবোমা হামলার জবাব নয়’ – শিরোনামে বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়।
সঙ্কট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে যেখান থেকে কোন পক্ষেরই ফিরে আসা সম্ভব নয়। অর্থবহ সংলাপ আর গ্রহনযোগ্য নির্বাচনই পারে সংকট থেকে জাতিকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে। সরকার আপাতত সেই দিকে যাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন’ সরকারি দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখ থেকে এমন বক্তব্য কী ইঙ্গিত করছে তা ভেবে দেখা দরকার।
গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৪ দল আয়োজিত হরতাল-অবরোধে নিহত ব্যক্তিদের গায়েবানা জানাজা শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। একই দিন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, প্রয়োজনে সরকার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কি সেই সাংবিধানিক বিকল্প ব্যবস্থা? সংবিধানের ১৪১(ক) ধারায় বলা আছে, অভ্যন্তরীণ গোলযোগে বাংলাদেশ বা এর যেকোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষরে রাষ্ট্রপতি অনধিক ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। এ সময় সংবিধানের ছয়টি অনুচ্ছেদের বিধান এবং মৌলিক অধিকার স্থগিত থাকে।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ বলতে ওনারা কী বুঝিয়েছেন, তা বলতে পারব না। তবে এখনকার চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে। এতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়বে।’
আসলে রাজনৈতিক অস্থিরতায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। মরছে মানুষ, পুড়ছে যানবাহন। প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গোটা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অবরোধ চলাকালে ২২ জনকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, ক্রসফায়ারের নামে পুলিশ-র‌্যাব হেফাজতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মেরে ফেলা হচ্ছে, বিভিন্ন অজুহাতে আইন শৃংখলা বাহিনী তল্লাশি চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করছে, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা দেয়া হয়েছে, পনের হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০ দলীয় জোটের আন্দোলন ক্রমেই গণআন্দোলনে রূপধারণ করছে। সরকার সংলাপ-সমঝোতার পরিবর্তে কঠোরতম পন্থা অবলম্বন করেছে। গুলি এখন আন্দোলন দমনের প্রধান হাতিয়ার। আমরা অতীতে আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখবো, দমন নিপীড়নের পরিণতি কখনই ভালো হয় না। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হয়। এর কোন বিকল্প নেই, বিকল্প থাকতে পারে না।
একটি আলোচনা সভার প্রস্তাব উল্লেখ করেই লেখাটি শেষ করতে চাই। গত ২৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে সুশীলসমাজের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভায় চলমান সঙ্কট নিরসনে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গৃহীত প্রস্তাবনায় বলা হয়, “যেহেতু, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সঙ্কট নিরসনের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং সেহেতু ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের ইচ্ছা এই সংশোধনী প্রতিফলিত হয়নি; এবং সেহেতু, জনগণের ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সমাজকে গ্রাস করেছে, তাই অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্তব্ধ হতে চলেছে। সেহেতু ১। সময় এসেছে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিসমূহ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে ‘একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করার। এই সরকারের প্রধান কাজ হবে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকান্ড যথাযথভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান। সবার অংশগ্রহণমূলক একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জাতিকে বর্তমান মহাসঙ্কট থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে পারে।
২। জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং কর্তব্য হবে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগসহ সকল সাংবিধানিক এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থবহ সংস্কারের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।”
লেখক : সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply