অন্যায্য মুনাফার লোভ গুরুতর অপরাধ

রাফিউল ইসলাম
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ উপার্জন এবং জীবিকা নির্বাহের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে ব্যবসা। যুগে যুগে যে সকল নবী ও রাসূল এ বসুন্ধরায় আগমন করেছেন। সকালেই গবাদি পশু চরিয়ে ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো- মহা আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে দিয়েছেন ভাল-মন্দের স্বাধীনতা। যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দেওয়া হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামও সকল অঙ্গনে মানুষের স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠা করেছে। আদিকালে বিশেষ করে জাহেলি যুগে যখন হাটে বাজারে মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করা হতো তখন ইসলাম এসে এ জঘন্যতম দাসপ্রথার রীতিকে চিরতরে উৎখাত করেছে। এমনকি দাসপ্রথা উচ্ছেদের লক্ষ্যেই ইসলাম বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বা জরিমানা স্বরূপ কোনো গোলাম বা দাসকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
মানুষ যত ধরনের প্রক্রিয়াতে সম্পদ আহরণ করে থাকে সেগুলোর মধ্যে ব্যবসাতে মানুষের স¡ভাবগত স্বাধীনতা বজায় থাকার কারণে ইসলাম ব্যবসাকে উপার্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম বলে ঘোষণা করেছে।
আল্লাহ পাক বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা ক্রয় বিক্রয়ে বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত : ২৭৫)
হাদিসে এসেছে, হযরত রাফে ইবনে খাদিজ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘একদা রাসূলকে (সা) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের যাবতীয় উপার্জনের মধ্যে কোন্টি সবচেয়ে পবিত্র? রাসূল (সা) বললেন, মানুষ নিজ হাতে যা কামাই করে এবং হালাল ব্যবসার মাধ্যমে যা উপার্জন করে।’ (মিশকাত)
ব্যবসার প্রসঙ্গ আসলেই সেখানে অন্ততপক্ষে বিক্রেতা, মূলধন ও ক্রেতার প্রয়োজন হয়। আর মূলধন বলতে টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য ইত্যাদিকে বুঝায়। সাধারণত কোনো বাজারে, কোনো ব্যবসায় বা কোনো ক্রয়-বিক্রয়ে পণ্যের মালিক বা বিক্রেতাই অধিক প্রভাবশালী হয়। ক্রেতারা বহুলাংশেই তার মুখাপেক্ষী থাকে। তাই বিক্রেতা ইচ্ছা করলে অনেক সময়েই প্রতারণা, সীমালঙ্ঘন বা ক্রেতাদের ঠকাতে পারে। বিক্রেতা মাপে কম দিতে পারে, অচল বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্য দিয়ে দিতে পারে, স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দাম রাখতে পারে।
বর্তমানে ক্রয়-বিক্রয় বা ব্যবসায় এ সবগুলোর উৎপাতই বিদ্যমান রয়েছে। ভেজাল বিরোধী অভিযান শুরুর পর এটা প্রমাণিত যে, সর্বত্র ভেজাল আর ভেজালের জয় জয়কার, মাপে কম দেওয়া পুরাতন কিছু নয়। আর দ্রব্যমূল্য তো গগণচুম্বি।
ইসলাম যে ব্যবসাকে বৈধ এবং উত্তম ঘোষণা করেছে তার স্বরূপ এত ভয়ঙ্কর ছিল না বা হতে পারে না। বাজারে কোনো কিছু কিনতে যাওয়ার ইচ্ছে করলে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ প্রায় সকল ক্রেতারই অনেকটা বিচলিত হতে হয়। সর্বক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় এই বুঝি কোনো ঠকবাজ ঠকিয়ে দিল। সবসময় প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা করতে হয়। অথচ ইসলাম ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েরই সন্তুষ্টি সাধনের নির্দেশ দিয়েছে। কারো কোনো ভয় থাকবে না, কেউ প্রতারণার আশঙ্কা করবে না।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সন্তুষ্টি সহকারে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত : ২৯)
এ আয়াতে “পরস্পরের সন্তুষ্টি” দ্বারা ব্যবসায় ক্রেতা ও বিক্রেতার সকল প্রকার উদ্বেগ উৎকণাকে দূর করা হয়েছে।
এছাড়া পরিমাপে কম দেওয়াকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আল্লাহ পাক বলেন, ‘ধ্বংস সে সকল পরিমাণকারীর জন্য, যারা লোকের কাছ থেকে পরিমাণে পুরোপুরি-ই গ্রহণ করে। কিন্তু তাদেরকে দেওয়ার বেলায় পরিমাণে কম দেয়।’ (সূরা আল মুতাফিফীন, আয়াত : ১-৩)
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের অবস্থান সর্বপ্রথমে। কারণ, সবার আগে মানুষের জীবন বাঁচাতে হয়। তারপরেই বাকি সকল প্রয়োজন পূরণ করার কথা আসে। আল্লাহ পাক মানুষ সৃষ্টি করার বহুকাল পূর্বেই মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করে থাকেন। এমনকি দুনিয়াতে যারা অনবরত মহান আল্লাহর সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত তাকে তাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা আহার দান করেন। আমরা পৃথিবীতে আগমনকারী অবাধ্য এমন অনেক জাতির কথা জানি যাদের সকলকেই আল্লাহ পাক রিজিক প্রদান করেছেন। ফেরাউন, নমরূদ, আবুজেহেল, আবু লাহাব এদের সকলেই রিজিকপ্রাপ্ত ছিলেন।
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সীমালঙ্ঘনের কারণে কেউ না খেয়ে থাকেনি। অথচ এরা সর্বক্ষণ আল্লাহ এবং তার প্রেরিত পুরুষগণের বিরোধিতায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতো। কিন্তু আল্লাহ পাক তার এ সকল অবাধ্যদেরও আহার প্রদানে বিরত হননি। তাই এটা প্রমাণিত যে, আজকে যারা নানা উপায়ে মানুষের খাদ্যের সংকট সৃষ্টি করে বা মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা পূরণে বাঁধা সৃষ্টি করে তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী। কারণ কোরো সঙ্গে শত্রুতা থাকলেও আহার হরণ করে তার বহিঃপ্রকাশ করা যায় না।
চাল, ডাল, পেয়াজ, রসুন, গম, আটা, তৈল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংসসহ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে মূল্যবৃদ্ধি করে এ সকল লোক মারাত্মক অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আর এ কাজের জন্য তাদেরকে পরকালে সীমাহীন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊধ্বর্গতির জন্য এ সকল মন্দ চরিত্রের ব্যক্তিরাই নেপথ্য নায়ক।
দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞগণ যে সকল কারণ উল্লেখ করেন, এর মধ্যে পণ্যদ্রব্য গুদামজাত করা অন্যতম। এর মূল লক্ষ্য থাকে, বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা। যাতে করে পণ্যের দাম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়।
রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে সে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (সহীহ মুসলিম)
অন্যত্র রাসূলে করীম (সা) উল্লেখ করেন, ‘যে ব্যক্তি চল্লিশ রাত্র গুদামজাত করল সে আল্লাহ পাকের জিম্মাহ থেকে মুক্ত হয়ে গেল।’
রাসূল (সা) আরও বলেন, ‘গুদামজাতকারী অভিশপ্ত’।
তাই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য এবং খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুদামজাত করা বন্ধ করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিভাবে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করণীয় রয়েছে।
ক্রয়-বিক্রয়ে দালালদের দৌরাত্মও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্বাভাবিক মূল্যের বৃদ্ধি ঘটায়। ক্রয়-বিক্রয়ে শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতাই বাঞ্ছনীয়। এখানে দালাল নামে কোনো তৃতীয় পক্ষ থাকা অত্যন্ত নিন্দনীয় বিষয়।
ইসলাম দালালিকে অত্যন্ত গর্হিত কাজ হিসেব ঘোষণা করেছে। হাদিসে এসেছে, ‘কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের ক্রয়-বিক্রয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে দিলে পরকালে আল্লাহ তায়ালা তাকে আগুনের হাঁড়ির ওপর বসিয়ে শাস্তি দেবেন।’
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিক্রেতাদের সর্বদা অধিক মুনাফা করার প্রবণতা অন্যতম। বিক্রেতাদের অনেকেরই প্রবণতা এমন যে, কোনো দ্রব্যে চার পাঁচগুণ লাভ করে একদিনে টাকার কুমির বনে যাওয়া। সব সময়ের জন্য যে কোন দ্রব্যের একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিরূপণ করে দেওয়া অনুচিত।
কারণ, দেশের সকল স্থানে উক্ত দ্রব্যটি বাজারজাত করণে সমান শ্রম এবং পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি সকল স্থানে এর চাহিদাও সমান থাকে না। তাই দামও ভিন্ন ভিন্ন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দামের এ সীমিতকরণ না থাকার কারণে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী কোন ধরণের বিবেকতাড়িত না হয়ে পণ্যের মূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি করে বিক্রি করে বা অসহায় ক্রেতা সাধারণ উক্ত মূল্যে কাক্সিক্ষত পণ্যটি ক্রয়ে বাধ্য হয়ে পড়েন। এ ক্ষেত্রে বিক্রেতার পক্ষ থেকে মানবতাবোধের অভাবে এমনটি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এটাকে সীমালঙ্ঘন বা ক্রেতা জনতার উপর জুলুম নামে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
আপনি ১০০ টাকার কোন একটি পণ্যে ৫-১০ টাকা লাভ করতে পারেন। কিন্তু এটি যখন ২০০ টাকা এমনকি ৩০০ টাকা লাভ করার লোভ আপনাকে পেয়ে বসবে সেখানেই আপনার মানবতাবোধ লোপ পাচ্ছে। আর আপনার এ লোভ চরিতার্থ করতে গিয়ে বাজার ব্যবস্থায় মারাত্মক ধস নামছে। নির্দিষ্ট পণ্যটি এক সময় জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সমাজে দেখা দিচ্ছে অশান্তি।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, যেভাবেই হোক কখনও কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি হয়ে গেলে তা আবার পূর্বমূল্যে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাকের সে বাণী উল্লেখ করতে পারি, যেখানে আল্লাহ পাক বলেন, ‘ধন-সম্পদের বেশি বেশি কামনা তোমাদেরকে (কল্যাণের এবং মুক্তির পথ থেকে) অমনোযোগী করে দিয়েছে। এমনকি তোমরা কবরসমূহকেও সাক্ষাৎ করেছো। (তোমরা মৃত্যুর কাছাকাছি চলে এসেও সম্পদের আধিক্যতা কামনা করছো)।’
অন্যত্র আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাক অথচ পরকালই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।’
আপনাকে আল্লাহ তায়ালা ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছেন। যার মাধ্যমে আপনি ইহকালীন এবং পরকালীন মুক্তিলাভ সর্বোপরি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভ করতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি মানব সেবার এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে মানুষের দুর্দশাকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করার পথ অবলম্বন করেন, তবে সেটা চরম অমানবিক এবং অপরাধমূলক বিষয় বলে বিবেচ্য হবে।
হাদিসে রাসূলে করীম (সা) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যে মানুষের উপকার করে।’
অনেক সময় উপকার করতে চাইলেও কীভাবে উপকার করা যায় তা খুঁজে পাওয়া যায় না। যেহেতু জনগণের সঙ্গেই ব্যবসায়ীদের নিত্য লেনদেন তাই মনে আল্লাহ প্রেম এবং পরকালীন মুক্তির লোভ থাকলেই শুধু মানুষের উপকারে আত্মনিয়োগ করা যায়। নিজেকে ক্ষতির মধ্যে না ফেলে পণ্যদ্রব্যের ন্যায্য মূল্য কামনা করাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু বুঝে হোক না বুঝে হোক একবার যদি দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে ফেলে তাহলে সব সময়ের জন্য সে মানুষের ক্ষতিসাধনে অংশ নিয়ে রাখলো।
আসলে আল্লাহ ভয় এবং পরকালকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করলে কোনো মানুষ নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং জেনে শুনে বা অজ্ঞাতসারে অন্য কারো ক্ষতিতেও লিপ্ত হয় না।
তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যাপকহারে তাকওয়া জাগ্রত করা এবং পরকালীন জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত করে জনগণের মৌলিক মানবীয় গুণাবলী জাগ্রত করতে হবে।
অনেক সময় আইন-কানুন থাকার পরও এমনকি একটি ধার্মিক সমাজেও বিভিন্ন কারণে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত এবং ফলপ্রসূ বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত খবরদারি নয়, এক্ষেত্রে কেউ যাতে এ জাতীয় অপরাধে লিপ্ত না হয় সে উদ্দেশ্যেই সবসময়ের জন্য যথাযথভাবে বাজার পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে মনিটরিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনবোধে সরকার ভর্তুকি দিয়ে নির্দিষ্ট পণ্য স্বল্পমূল্যে বা ন্যায্যমূল্যেও বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো- বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়সহ নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কৃষি প্রধান এ দেশে এ সকল দুর্যোগ অনেক সময় আবাসন এবং প্রাণের ক্ষতি সাধন করলেও সবকটিই কৃষিপণ্যের সীমাহীন ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই কাক্সিক্ষত সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের কাক্সিক্ষত উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হয়। এমনকি উৎপাদিত এবং বিক্রয়যোগ্য ফসলাদিরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। স্বভাবতই এ ক্ষেত্রে অনেক চাহিদার মুখে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায় হু হু করে। তাই প্রত্যেক বছরের এ সকল প্রায় নিশ্চিত দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সরকার এবং সাধারণ জনগণের আগে থেকেই ব্যাপকহারে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে দুর্যোগ পরবর্তী অবস্থার জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে সর্বাপেক্ষা অধিক হারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির নিয়ন্ত্রণ করতে দেশের ক্রমবর্ধমান লোডশেডিং কমিয়ে আনতে হবে। কারণ দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতির জন্য লোডশেডিংও অনেকাংশে দায়ী। বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এমনকি পরিবহনও ব্যাহত হয়। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। এ সব ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজের নীতি-নৈতিকতারও উন্নতি দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা ভুলে যাওয়া উচিত নয় কারো।

SHARE

Leave a Reply