অভিমত

shikhkhokসম্মানিত শিক্ষক জব্বার ভাইয়া
আসসালামু আলাইকুম। আপনাকে শিক্ষক বলে ফেললাম। কারণ যিনি কিছু শেখান বা আমরা যাদের কাছে কিছু শিখি, তাদেরকে তো শিক্ষকই বলা হয়। আমি আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি, অনেক কিছু শিখেছি। তাই, আপনি আমার শিক্ষক।
আমি জয়পুরহাটে থাকি। আমার আব্বু যখন ১৭ বছর বয়সে রাগ করে বাড়ি থেকে চলে আসেন তখন থেকে আব্বু পিওর শিবির। শিবিরের ম্যাচে থাকতেন। ইব্রাহিম ম্যানসনে, জয়পুরহাট জেলার প্রথম জেলা সভাপতি আব্বু। আব্বু ছোটবেলা থেকে আমাদের সময় দিতেন না। এখনও না। সারাক্ষণ বৈঠক করেন। আগে শিবির করতেন আর এখন জামায়াত করেন। আপনি হয়তো ভাবছেন, আপনাকে আব্বুর খরভব ংঃড়ৎু কেন বলছি। আব্বুর এই জামায়াত-শিবির করাকে আমি পছন্দ করতাম না। কারণ, আব্বু আমাদের সময়ই দিতেন না। আব্বুর কারণেই কোথাও বেড়াতে যাওয়া হতো না। দাদুবাড়ি, নানুবাড়িতে বছরে একবার করে সৌভাগ্যক্রমে যাওয়া হতো। বিশ্বাস করবেন না, হয়তো যে একমাত্র আব্বুর ব্যস্ততার কারণেই আমি আজ পর্যন্ত আমার খালা-ফুফুদের বাড়ি কেমন সেটা দেখিনি। জীবনে শুধু ওই নানুবাড়ি আর দাদুর বাড়িতেই গিয়েছি তা-ও সর্বমোট ১৫-১৬ বারের বেশি নয়। এই কারণে আমি জামায়াত-শিবিরের নামই শুনতে পারতাম না। বাড়িতে যদি শিবিরের অনুষ্ঠানে ভাইয়ারা কিছু চাইতে আসতো আম্মুকে আগে থেকে শাসিয়ে রাখতাম যেন আম্মু কিছুই না দেন। তবুও আমাকে না বলে আম্মু ভাইয়ারা যা চাইতে আসতো তা দিতেন। অবশ্য আমি কখনোই এটা বুঝতাম না যে আব্বু কী করেন অর্থাৎ সংগঠনের মানে কী? বা এখানে কী করা হয়। অথচ আমি ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি বৈঠকে, অর্থাৎ আম্মু আর আব্বুর সাথে ছোটবেলায় অধিকাংশ সময় বৈঠকে কাটিয়েছি। কিন্তু এই সংগঠনের পূর্ণ নামটা কী তা কখনোই শুনিনি, পাত্তা দেইনি বা প্রয়োজনবোধ করিনি। এখন ২০১৩ বা ২০১৪ সালে জানিÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর আছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুধু নামেই নয়, এখন বলতে গেলে সব কিছুই জানি। এটা জানার ক্ষেত্রে বোঝার ক্ষেত্রে আপনার অনেকটা ভূমিকা রয়েছে।
বিকেলে বাসায় যখন কেউ থাকে না অর্থাৎ বিকেলে হাসান বাবু, সাথী বাবু খেলতে যায় তখন আমি কম্পিউটার অন করি। তো একদিন বিকেলে হঠাৎ করেই গানটা প্লে করে ফেললাম। শুনতে শুনতে মনের অজান্তে চোখ দিয়ে পানি পড়ল। গানটা শুনে বুঝতে পারলাম যে মালেক নামে একজন ছিলেন, তিনি খুব পরিশ্রমী, খুবই বিনয়ী ভালো লোক ছিলেন। কী যেন একটা কারণে তিনি জীবন দিয়েছিলেন। তিনি খুব মেধাবী ছিলেন আর ঢাকা University-তে পড়তেন। আমি ভাবলাম কে এই ব্যক্তি, জানার জন্য আব্বুর শিবির টাঙ্ক খুঁজতে থাকি যে এখানে কিছু পাওয়া যায় কি না। তিনবার খোঁজার পর শুধু ‘প্রেরণার মিছিল’ বইটি পাই। এটা পড়ে আমার বলতে গেলে, চোখ খুলে যায়। তখন আমি বুঝতে পারি যে, আমি কত ভুলের মধ্যে ছিলাম আর বিনা কারণে আব্বু আর ভাইয়াদের ওপর রাগ করতাম।
আমি খুবই লজ্জিত হলাম, খুবই। ওখানে অনেক কিছু লেখা ছিল ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে, শিবিরের ইতিহাস, শহীদদের পরিচিতি- অনেক কিছু। আর ওখানে পেছনের দিকে বইয়ের ছবি ছিল। একটা গোলাপি রঙের বই, নাম ‘রক্তাক্ত জনপদ’। আমি ভাবলাম আরে এটা তো সেই বইটা যেটা নিয়ে আমি ছোটবেলায় খেলতাম। এই বইতেই মালেক ভাইকে পাই। এই বইটা পড়ে আমার অনেক অবাক লেগেছিল। শহীদের ওপর নির্যাতনের কাহিনী শুনে …। আমি ছাত্র সংবাদ পড়তাম না। আগে শুধু আব্বু পড়তেন। আমি শুধু এর ‘জানা-অজানা’, ‘বিজ্ঞান প্রযুক্তি’ এগুলো পড়তাম। এদিকে February তে যখন ছাত্র সংবাদ পাই তখন এর পেছনের পাতায় আপনাকে আর আমাদের Central President কে দেখি। তখন এতো খেয়াল করিনি। সেদিন ছিল 31st March, তো বিকেলে আব্বু বলছিলেন যে কেন্দ্রীয় সভাপতিকে নাকি গ্রেফতার করেছে। এই কথা শোনার পর ওই পাতাটা আবার পড়লাম। এই প্রথম ছাত্র সংবাদ পুরোটা পড়লাম। আপনার লেখা খুব ভালো লেগেছিল। এর আগের সংখ্যাগুলো খুঁজতে থাকি। কিন্তু সেগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে শুধু ২০১২ এর September ও December মাসের সংখ্যাটা ছিল। ওগুলো ভালো করে পড়লাম। আপনার লেখার Style  আমার খুব ভালো লাগলো। এর আগে হাজার বার বললেও আব্বু আমাকে নামাজ ধরাতে পারেননি। আমি জানতামই না যে নামাজ কেন পড়বো। আমি হিন্দি কার্টুন খুবই দেখতাম। খুব কমই সিরিয়াল দেখতাম। কিন্তু দেখতাম। এগুলো দেখে আমার বাংলাভাষা, বাংলাদেশ বা এই দেশের জিনিস বা মানুষ কিছুই ভালো লাগতো না। সবার সামনে সুযোগ পেলেই ঐ দেশের জিনিসের আর মানুষের প্রশংসা করতাম। যখন ডোরেমন বন্ধ করা হয় আমি সেদিন কী যে কেঁদেছিলাম, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে। কিন্তু যখন ছাত্র সংবাদ পড়া শুরু করলাম একে একে সব বদ অভ্যাস ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ, রাসূল (সা), ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, গাইডলাইন কুরআন- সবকিছু জানতে ও বুঝতে পারলাম। মোট কথা মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও মুসলমানের কর্তব্য বুঝতে পারলাম।
আপনার লেখা আমার খুবই ভালো লাগে। ২০১৩ এর February মাসের পর থেকে প্রত্যেক মাসে আপনার লেখার জন্য আমি ধিরঃ করি। এগুলো পড়ে আমার মধ্যে ভাষাপ্রেম, দেশপ্রেম ইত্যাদি জাগ্রত হয়েছে। অনেক কিছু বুঝতাম না, জানতাম না। আপনার কাছ থেকে শিখেছি, আমার প্রশ্নের উত্তরগুলো আপনার লেখায় পেয়েছি। আমার এখনও অনেক প্রশ্ন আছে। আমি mail করতে পারতাম। কিন্তু কম্পিউটার তুলে রেখেছি। কারণ, আমাদের বাসায় প্রায়ই পুলিশ আসে আব্বুকে ধরার জন্য। এমনি পুলিশ এলে সমস্যা ছিল না। কারণ পুলিশ আব্বুর বন্ধু; দু-একজন ছাড়া। কিন্তু এদের ওপর ভরসা না করতে পেরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেরাও আসে। আমাদের Teacher নজরুল স্যারকে গুম করার আগে পুলিশ বলেছিল বাড়িতে থাকতে, তাই উনি থাকতেন কিন্তু আব্বু ওদের কথা শোনেননি। ওদের বিশ্বাস করার ফল নজরুল স্যারকে ভোগ করতে হয়েছে।
এখন আমি আপনার থেকে যা শিখেছি তা আমার ছোট ভাই আর বোনকেও শেখাই। আগে ক্লাসে স্যারেরা বলতেন যে তোমার Aim in life কী। তখন আমি যাই বলি না কেন এখন আমার Aim একটাই যে ইসলামী আন্দোলন করবো যেন সবার কাছে আল্লাহ, ইসলাম ও কুরআনকে establish করা যায়। পরকালে যেন সফল হতে পারি। আমি আপনাদের মতো হতে চাই। ভাইয়া, February 2014 এর ৯ তারিখ থেকে আমার এসএসসি exam শুরু হবে। please, আমার জন্য দোয়া করবেন। আর সবশেষে একটা কথাই বলবো যে keep writing more and more আমাদের জন্য।
ইতি, আপনার এক Student

SHARE

Leave a Reply