অর্থনৈতিক সংস্কারে মহানবী সা. -এস এম রুহুল আমীন

মুহাম্মাদ সা. ছিলেন ইতিহাস স্বীকৃত সফল সংস্কারক, আদর্শে প্রতিষ্ঠিত অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। নির্দ্বিধায় ও নিঃসন্দেহে মহানবী সা.-এর আগমন পূর্ব মুহূর্তটা ছিল ইতিহাস ধিকৃত, আদর্শিক শূন্যতায় পরিপূর্ণ কুহেলিকায় নিমজ্জিত সর্বজনস্বীকৃত আইয়ামে জাহেলিয়াত।
এ অন্ধকারাচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত ছিলো না রাজনীতি, সমাজনীতি এমনকি অর্থনীতিও। আর সকল ক্ষেত্রে সফলতা এসেছে মহানবীর অনুপম আদর্শে ঐশী জ্ঞানের ইঙ্গিতে অজানা পরশ পাথরের কুদরতি হাতের ছোঁয়ায়। তৎকালীন কুহেলিকার অন্ধকারে নিমজ্জিত আরব বেদুঈনদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলভিত্তিগুলো ছিলো-
সুদব্যবস্থা : প্রাচীন সেই জাহেলিয়াতের যুগে আরব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধানতম উৎস ছিলো সুদব্যবস্থা। এর ফলে ধনী হতো আরো ধনী আর গরিব হতো আরো গরিব নিঃস্ব ও কপর্দকহীন। গুটিকয়েক লোকের কাছে সমুদয় অর্থ পুঞ্জীভূত হতো। যে কথার প্রতিবাদ করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন- ‘‘ওহে, তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা সুদ খেয়ো না ক্রমবর্ধমান হারে অর্থাৎ দ্বিগুণ অথবা চতুর্গুণ এবং আল্লাহকে ভয় করো। তাঁর জীবনবিধান অনুসারে জীবনযাপন করো, আশা করা যায় তোমরা সফল হবে।’’ (সূরা আলে-ইমরান : ১৩০) পবিত্র কুরআনে কারীমের সূরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘আল্লাহ ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসাকে করেছেন হালাল আর সুদকে করেছেন হারাম।’

ঘুষ, রাহাজানি, জোর-জুলুম : জাহিলিয়াতের সে সমাজে স্বীয় সম্পদকে বৃদ্ধির লক্ষ্যে একে অপরের প্রতি করতো অমানবিক জুলুম-নির্যাতন আর নিষ্পেষণ। একজনের অধিকার অপরজন হরণ করতো, চলতো গরিবের ওপর ধনীর নির্মম নির্যাতন। তার প্রতিবাদ করে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে হাকীমে সূরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন- ‘‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না এবং জনগণের সম্পদের কিছু অংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সালিস বা আদালতে বিচারকদের কাছে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করো না।’’ অন্যত্র সূরা নিসার ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘‘হে ঈমানদার লোকগণ! পরস্পরে অবৈধ উপায়ে একে অপরের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করো না। সব রকমের লেন-দেন বা ব্যবসা-বাণিজ্য হতে হবে পারস্পরিক সন্তোষ ও মর্জি অনুসারে এবং তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহশীল। যে কেউ স্বীয় কর্মসীমা লঙ্ঘন করে জুলুম সহকারে এরূপ কাজ করবে, তাকেই আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর এ কাজ করা আল্লাহর জন্য একেবারেই সহজ কাজ।’’
দেহ ব্যবসা : প্রাচীন আরব সমাজে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উৎস ছিলো নারীসমাজকে ভোগ্যপণ্য সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করতো জাহিল লোকেরা। মহান আল্লাহ এ জঘন্য কাজের প্রতিবাদ করে পবিত্র কুরআনে কারীমের সূরা নূরের ৩৩ নম্বর আয়াতাংশে এরশাদ করেন- ‘‘তোমরা দাস-দাসীদেরকে সম্পদের লোভে পার্থিব সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যভিচারে বাধ্য করো না।’’

মদ, জুয়া, লটারি ও ভাগ্যগণনা : আরব সমাজে ব্যবসার উপকরণ হিসেবে মদ, জুয়া, লটারিকে ব্যবহার করা হতো আর সে কথার প্রতিধ্বনি করে মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদার ৯০ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন- ‘‘হে মু‘মিনগণ! এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমার আস্তানা এবং ভাগ্যনির্ধারক বস্তুসমূহ বা তীর এসবই শয়তানের নোংরা ও অবৈধ কাজ ব্যতীত আর কিছুই নয়। ইহা থেকে তোমরা বেঁচে থাকো, আশা করা যায় তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হতে পারবে।’’
উপর্যুক্ত ঘৃণিত সব উপার্জনকে নিষিদ্ধ ঘোষণাপূর্বক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা. ঐশী ইলমের মাধ্যমে-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিম্নরূপে ঢেলে সাজান :
জাকাতব্যবস্থা : অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা. ঐশী ইলমের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাকাতব্যবস্থার প্রচলন করেন, যা ধনী লোকদের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গরিব লোকদেরকে প্রদান করা হয়ে থাকে। এটা ধনীদের পক্ষ থেকে গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো করুণা নয় বরং গরিবদের অধিকার বা পাওনা। পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘‘হে রাসূল! আপনি তাদের ধন সম্পদ হতে সাদাকাহ বা জাকাত আদায় করুন এবং এরই সাহায্যে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে তুলুন।’’ আর জাকাত পাওয়ার অধিকারী কারা সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টতই বলেন- ‘জাকাত পাবে মূলত ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, মন জয় (ধর্মের জন্য) করার উদ্দেশ্যে, গোলাম বা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে এবং বিপদগ্রস্ত পথিক। এটা আল্লাহর দেয়া মনোনীত জীবনবিধান। মহান আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও অসীম প্রজ্ঞাবান।’ (সূরা তওবা : ৬০) মহানবী সা. বলেছেন- ‘‘তোমরা এটা (জাকাত) ধনীদের থেকে আদায় করো এবং গরিবদের মধ্যে বণ্টন করো।’’ (বুখারি)

গনিমত : ইসলামী সমাজব্যবস্থায় ইসলামী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম উপায় গনিমত বা বিজিত সম্পদ। এটা বণ্টননীতি সম্পর্কে মহান আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে- ‘‘জেনে রেখো, তোমরা গনিমতের বা যুদ্ধলব্ধ যে মাল হস্তগত বা লাভ করেছো এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহর, রাসূলের, রাসূলের নিকটাত্মীয়ের, ইয়াতিম, মিসকিন ও অসহায় পথিকদের জন্য নির্দিষ্ট।’’ (সূরা আনফাল : ৪১)
ব্যবসা : মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুদের মতো জঘন্য ব্যবসাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ব্যবসার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামে ব্যবসার মূলনীতি হচ্ছে:
ক. মাপে কম দেয়া যাবে না : এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে মহান আল্লাহ সূরা মুতাফফিফিনে এরশাদ করেন- ‘‘যারা মাপে কম করে তাদের জন্য ধ্বংস বা দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পূর্ণমাত্রায় নেয়, এবং লোকদেরকে যখন মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, প্রতারণাপূর্বক তখন কম করে দেয়।’ (সূরা মুতাফফিফিন : ১-৩)
খ. মজুদদারি করা যাবে না : মওজুদদারি না করা সম্পর্কে মহানবী সা. এরশাদ করেন- লা’য়ানা মুহতাকিরু “মজুদকারী অভিশপ্ত।”(ইবনে মাজাহ) মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এরশাদ করেন- ‘‘যারা আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহে সম্পদের মালিক হয়ে আল্লাহর পথে ব্যয়ে কৃপণতা করে, তারা যেনো এই কথা মনে না করে যে- তাদের এই কাজ তাদের পক্ষে খুব মঙ্গলজনক হবে কিন্তু না, প্রকৃতপক্ষে তাদের পক্ষে খুব খারাপ ও অমঙ্গলজনক হবে।” (সূরা আলে ইমরান : ১৮০) অন্যত্র এরশাদ হয়েছে- ‘যারা স্বর্ণ-রৌপ্য বা সম্পদ সঞ্চয় করে রাখে, এগুলোকে আল্লাহর পথে খরচ করে না (মানে জাকাতও দেয় না), হে রাসূল! আপনি তাদেরকে বেদনা ও ভয়াবহ কষ্টদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন।’ (সূরা তওবা : ৩৪)
৪. ব্যয় করার নির্দেশ : মানবতার কল্যাণ ও মুক্তির সনদ ইসলাম চায় সকলের সুযোগ সুবিধা সমানভাবে। তাই সম্পদ সঞ্চয়ের যেমন নিষেধ করেছেন তেমনি আবার ব্যয় করারও তাকিদ দিয়েছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত কল্যাণ লাভ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় তাঁরই পথে প্রিয় ও ভালোবাসার বস্তুটি দান করতে না পারবে।’’ (সূরা আলে ইমরান : ৯২)
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে- ‘‘লোকেরা তোমার নিকট জিজ্ঞাসা করে জানতে চায়, তারা কি খরচ করবে? তুমি বলে দাও যে, যা কিছু প্রয়োজনাতিরিক্ত বা উদ্ধৃত্ত তা ব্যয় করো আল্লাহর রাহে বা জনকল্যাণে।’’ (সূরা বাকারা : ২১৯)

সূরা বাকারার ২৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘‘আল্লাহর পথে ব্যয় করলে শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্য ও অভাবের ভয় দেখায়, কৃপণতা ও ফাহেশা বা ভোগ বিলাস ও লজ্জাকর কাজের নির্দেশ দেয় বা প্ররোচিত করে, কিন্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করলে মহান আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহ এবং অতিরিক্ত দানের ওয়াদা করছেন।’’ একই সূরার ২৭২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘‘আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের জন্য নেক কাজে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তা তোমাদেরকে পরকালে পূর্ণ প্রতিদানসহ পুরোপুরিই ফিরিয়ে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তোমাদের ওপর কখনোই কোনো প্রকার জুলুম করা হবে না।’’ সূরা বাকারার ২৬৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কিছু শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করেছো, আর যা কিছু আমি তোমাদের জন্য জমিন থেকে উৎপন্ন করে দিয়েছি তা হতে উত্তম জিনিস আল্লাহর রাহে ব্যয় করো। বেছে বেছে নিকৃষ্ট জিনিস হতে ব্যয় করো না এবং এ ধরনের বাজে চিন্তাও তোমরা করো না।’
সূরা যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘আল্লাহভীরু বা মুত্তাকিগণ জানতো তাদের ধন সম্পদে প্রার্থী ও অভাবী লোকদের অধিকার বা পাওনা রয়েছে।’’
অপব্যয়ের নিষেধ : আল্লাহ ব্যয় করার নির্দেশ যেমন দিয়েছেন তেমনি এ ব্যাপারে কৃপণতার ফলাফলের ব্যপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এবং অপব্যয়েরও নিষেধ করেছেন তারই সাথে সাথে। কারণ ইসলাম কোনো ব্যাপারেই বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না বরং সর্ব অবস্থায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তোমার হাত কৃপণতাবশত দান না করার জন্য গলার সাথে বেঁধে রাখিও না, তেমনি দানের হাত একেবারে উন্মুক্ত ও অবারিত করে দিও না, কেননা তা করলে পরে অনুতপ্ত ও হতাশাগ্রস্ত এবং নিঃস্ব হয়ে বসে থাকতে বাধ্য হবে। সুতরাং দানের ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে। (সূরা বনি ইসরাঈল : ২৯)

অন্যত্র এরশাদ করা হয়েছে- ‘আল্লাহর নেকবান্দাহ তারা, যারা অর্থব্যয়ের ব্যাপারে না অপচয় ও বেহুদা খরচ করে, না কোনোরূপ কৃপণতা করে বরং তারা এই উভয় দিকের মাঝখানে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে মজবুত হয়ে চলে। (সূরা ফুরকান : ৬৭)
এ সম্পর্কে সূরা বনি ইসরাঈলের ২৬ ও ২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তোমরা নিকটাত্মীয়কে তার অধিকার পৌঁছে দাও, মিসকিন ও মুসাফিরকেও। ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনোরকম অনর্থক খরচ করোনা, অনর্থক খরচকারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার স্বভাব ও প্রকৃতিগতভাবে রব এর নাফরমান ও অতিশয় অকৃতজ্ঞ।’
অপচয় প্রতিরোধের নামে যাতে কৃপণতা না আসে সে ব্যাপারে মহানবী সা.-এর হুঁশিয়ারি হচ্ছে- “কৃপণ ব্যক্তি কখনো জান্নাতে যাবে না।” (তিরমিজি)
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সা.-এর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ছিলো সুসামঞ্জস্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। নৈতিকতাসহ সর্বোপরি কল্যাণময়, যেখানে ছিলো সকল মানুষের প্রাপ্যতা সুনিশ্চিত। তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিলো পরনির্ভরশীল না হয়ে আত্ম বা স্বনির্ভরশীল হওয়া। কবির কবিতায় এসেছে-
“নবীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা মেহনত করো সবে।”
মানুষকে কর্মবিমুখ না হয়ে কর্ম তৎপর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা নি¤েœাক্ত ঘোষণার মাধ্যমে।

“সালাতের শেষান্তে তোমরা জমিনে বেরিয়ে পড়ো, আল্লাহর প্রদত্ত জীবনোপকরণ রিজিক বা অনুগ্রহ সন্ধানের নিমিত্তে কিংবা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের অশায়।” (সূরা জুমআ : ১০)
মহানবী সা.-এর ঘোষণা হচ্ছে- “ফরজ ইবাদাতের পর হালাল রুজি অর্জন করা ফরজ।” (মিশকাত) তাই আমরা পরিশেষে উপসংহারের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে এ ঘোষণা দিতে পারি যে, মহানবী সা. ছিলেন মানবজীবনের সকল দিক ও বিভাগের ন্যায় অর্থনৈতিক দিকেরও একজন ইতিহাস স্বীকৃত সফল অর্থনৈতিক সংস্কারক বা ঊপড়হড়সরপধষ জবভড়ৎসবৎ।
আর আমরা আত্মনির্ভরশীল সুখী সমৃদ্ধশালী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনালি সমাজ সুপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাকেই অনুসরণ ও অনুকরণ করবো। এর বিকল্প কোনো মডেল বা আদর্শ পৃথিবীতে অতীতে ছিলো না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও আর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মহান আল্লাহ আমাদেকে এই মডেলের আলোকেই জীবনযাপন করার তাওফিক দিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply