অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য: মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের সঙ্কট । হারুন ইবনে শাহাদাত

অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য: মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের সঙ্কট । হারুন ইবনে শাহাদাতমধ্যপ্রাচ্য শান্ত হচ্ছেই না। ইসরাইল নামের বিষফোঁড়া গোটা আরব-বিশ্বকে তুষের আগুনের মতো জ্বালাচ্ছে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু এই সঙ্কট সৃষ্টির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশ্লেষকদের সামনে চলে আসে ১০৯৫-১২৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলমান পশ্চিমা বিশ্বের হিংসাত্মক ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের ইতিহাস। ক্রুসেড শেষে ধর্মযুদ্ধের আবরণ খুলে তার ওপর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের চাদর পরিয়ে নতুন নামে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদেরকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার নীলনকশা এঁকেছে তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্য দুনিয়া। এই নীলনকশা বাস্তবায়নে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের কাজে লাগিয়ে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার যে কূটকৌশল তারা গ্রহণ করেছে তারই খেসারত আজ দিচ্ছে গোটা মুসলিমবিশ্ব। মুসলিম দুনিয়ার তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল নেতারা পাশ্চাত্য দুনিয়ার এই কূটকৌশল বুঝতে তো পারছেনই না, বরং তাদের ক্রীড়নক হিসেবে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেরা নিজেরাই ধ্বংস হচ্ছেন।
এ বছরের গত ১৭ জুন মিসরের জালেম স্বৈরাচারী শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে শাহাদাত বরণ করলেন মধ্যপ্রাচ্যের সিংহপুরুষ ড. মুহাম্মদ মুরসি। তিনি ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অন্যতম ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিসরের প্রথম রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের অন্যতম চিন্তক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক ফরহাদ মজহার মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি মুসলিম বিশ্বের এই চলমান সঙ্কটের একটি কারণ তুলে ধরেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ইন্তেকাল করলেন। নির্জন কারাবাসে তাঁকে অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের অসুখের চিকিৎসা তিনি পাননি। না পেয়ে আদালতে শুনানির সময় অসুস্থ হয়ে আদালতেই ইন্তেকাল করেছেন। ধন্য আদালত! ধন্য বিচারব্যবস্থা! এই খবরটি, বিশেষত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, মনকে ভয়ানক বিষণ্ন ও বিষাক্ত করল। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। আরব বসন্তের পরে ২০১২ সালে তিনিই হচ্ছেন মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এরপর ২০১৩ সালের জুলাইয়ে পাল্টা গণআন্দোলন এবং তার সুযোগে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আদালতে তাঁকে কাচের খাঁচায় রাখা হোত। তাঁর ইন্তেকাল মিসরের আদালত ও শাসনব্যবস্থার জন্য কলঙ্ক হয়ে রইল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বিধিবিধান অনুযায়ী এটা মুরসির স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। বরং সরকারি বা পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা। তিনি বিচার পেলেন না। যেভাবে অত্যাচার করে তাঁকে মারা হয়েছে তার চেয়ে সম্ভবত তাঁকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা অনেক সদয় কাজ হতো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই হত্যাকাণ্ডকে বলেছে ‘ভয়াবহ’, কিন্তু ‘একদম এটাই ঘটবে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল।’ তাদের দাবি, মিসরের কর্তৃপক্ষকেই মুরসির মৃত্যুর দায় বহন করতে হবে। বলাবাহুল্য মিসরে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হবে। মিসরের রাজনীতি দেশের ভেতরে এবং বাইরে সরকারি হেফাজতে মুরসির হত্যায় কতটা আলোড়িত হবে পরবর্তী ঘটনাঘটনে সেটা বোঝা যাবে। আমাদের নজর রাখতে হবে। মিসরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে। বিশেষত ইসলামপন্থী রাজনীতির সীমাবদ্ধতা বোঝার জন্য মুহাম্মদ মুরসির নেতৃত্বাধীন ব্রাদারহুডের রাজনীতির পর্যালোচনা বাংলাদেশে আমাদের খুবই দরকার। এ নিয়ে ২০১৩ সালেই আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। সেখানে লিখেছি: “মিসরের অভিজ্ঞতা থেকে এই সংশয় আরও প্রবল হবে যে ইসলামপন্থী রাজনীতি এখনও পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক ফলাফল ও রাষ্ট্রগঠনের মর্ম ও কাঠামোর অসম্পূর্ণতা ও স্ববিরোধিতার কোনো সমাধান দেবার যোগ্য হয়ে ওঠেনি। পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও রূপের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে অস্বীকার করে সেটা সম্ভব নয়। বরং তাকে অতিক্রম করে যাবার সংকল্পের মধ্যেই একালের ইসলামপন্থী রাজনীতিসহ যে কোন ইতিহাস-সচেতন রাজনীতির সম্ভাব্য বিশ্ব-ঐতিহাসিক ভূমিকা নিহিত রয়েছে। এখন অবধি দেখা যাচ্ছে প্রচলিত ইসলামী রাজনীতি অন্য সম্প্রদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়ে শুধু মুসলমানদের জন্য বড়জোর শরিয়া আইন ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কায়েম করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদের এই কালে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের অসম্পূর্ণ ও স্ববিরোধী রাষ্ট্রের ধরনে ও মর্মে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটানোর দার্শনিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এই রাজনীতি এখনও অর্জন করেনি। এই ক্ষেত্রে আদৌ কোন সমাধান দিতে পারে কিনা তার ওপর নির্ভর করবে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ। যেমন, পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের পর্যালোচনা ও তাকে অতিক্রম করে যাবার পথ অনুসন্ধানের জন্য ইসলামের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের ধারণার বিকাশ, ব্যবহার ও প্রয়োগ। সে কাজ হচ্ছে না, তা নয়। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তাগিদেই এই ধারণাগুলোর বিকাশ ঘটবে। আর ঠিক এই ধারণার বিকাশ ঘটানোর জন্য যেমন, ঠিক তেমনি জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইকে আরও তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলার জন্যই ‘গণতন্ত্র’ দরকার। গণতন্ত্রই রাজনীতির শেষ মঞ্জিল নয়। তবে মিসরে দেখা যাচ্ছে ব্রাদারহুড মিসরের জনগণের জন্য যে গঠনতন্ত্র বা সংবিধান উপহার দিয়েছে ব্রাদারহুড সমর্থক ছাড়া মিসরের জনগণ তা গ্রহণ করেনি। অথচ তাদের ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তার এটাই ছিল সর্বোচ্চ রূপ। মিসরে একটা পর্বের অবসান হলো। কিন্তু ইসলামপন্থী রাজনীতি এই তিক্ত ও করুণ অভিজ্ঞতা থেকে আদৌ কিছু শিখবে কিনা সেটা আগামীতেই বোঝা যাবে।’
চোখ বন্ধ করে অন্ধের মতো ফরহাদ মজহারের উল্লিখিত বিশ্লেষণ বিশ্বাস করতে হবে এ কথা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু এ কথা অস্বীকার করারও উপায় নেই- ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী যারা কাজ করছেন, তাদেরকে অবশ্যই সবাইকে সাথে নিয়ে পথচলার বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। তা শুধু বক্তৃতা বিবৃতিতে নয়, বাস্তবায়ন করেও দেখাতে হবে। এ কাজটা খুব সহজ নয়। কারণ পাশ্চাত্য দুনিয়ার মুসলিমবিদ্বেষীরা ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠার শক্তি হিসেবে এমন কিছু চরিত্র ইতোমধ্যেই বিশ্বের নাট্যমঞ্চে উপস্থাপন করেছে যার সাথে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন অতি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ইসলামিক স্টেট ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া বা আইএসআইএস। যারা নির্যাতিত মুসলিম বিশ্বের সংবেদনশীল তরুণকে বিভ্রান্ত করে ইসলামের ভাবমর্যাদা ধ্বংস ও মুসলিম বিশ্বের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করছে। এর মোকাবেলায় মুসলিম স্বৈরশাসকরা পাশ্চাত্যের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে সঙ্কটকে আরো জটিল করে তুলছে। এর মধ্য দিয়ে ইসলামের দুশমনরা তাদের চারটি স্বার্থসিদ্ধি করছে: ১. একদল মেধাবী মুসলিম তরুণকে বুদ্ধিভিত্তিক গবেষণামূলক কাজ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে। ২. ইসলামের শান্তি ও ইনসাফের দর্শনকে জঙ্গিবাদ বলে উপস্থাপন করছে। ৩. ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করে এক একটা সমৃদ্ধ মুসলিম জনপদকে ধ্বংস করছে। ৪. মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর বাহানা করে পাশ্চাত্যের দেশগুলো অস্ত্র ব্যবসা করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটে নিচ্ছে।

আইএস নাটকের অবস্থানের আগেই নতুন নাটক রেডি
ইরান-ইরাক ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ (১৯৮০-১৯৮৮), ১৯৯০-এ কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসন, সিরিয়ার স্বৈরাচারী শাসকের বিরোধী দলের ওপর আগ্রাসন এবং সেই অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগে আইএসআইএসের (ইসলামিক স্টেট ও ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া) সৃষ্টি। আইএস নির্মূলের অজুহাতে সিরিয়ায় আমেরিকান সামরিক বাহিনী প্রেরণ করে। তারপর ত্রিমুখী যুদ্ধে আরব বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ সিরিয়া এখন ধ্বংসস্তূপ। ইয়েমেনে চলছে সরকার ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবও। মুসলমান শাসকরা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে নীতি নৈতিকতা ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার তোয়াক্কা না করার কারণে একের পর এক সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের এই অনৈক্যের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন ক্রুসেডের মন্ত্রে দীক্ষিত অস্ত্রব্যবসায়ী পাশ্চাত্য দুনিয়া।
সিরিয়ায় আইএসের পতনের আভাস পাওয়ার পর পরই আমেরিকার পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে উসকানি। গত ১৮ জুন বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১,০০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরো ১,০০০ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান বলেছেন, ইরানি বাহিনীর শত্রুতামূলক আচরণের পাল্টা জবাব হিসেবে তারা সেনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন নৌবাহিনী আরো কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, সেগুলো ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে ইরানি হামলার ছবি। নতুন ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন ইরান ঘোষণা করেছে যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তারা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩০০ কেজি পর্যন্ত স্বল্প মানের ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করার পর তারা ইউরেনিয়াম উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে ইরানকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে চীন এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। অতিরিক্ত সেনা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে? সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান। একটি বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে লড়াই চায় না। তবে ওই অঞ্চলে আমাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা আর কল্যাণের জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সৈন্যদের সংখ্যা বাড়াবে বা কমাবে। এর আগে গত মাসেই ১,৫০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর। তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র, তবে সব বিকল্প বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ২০১৫ সালে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলোর সঙ্গে একটি চুক্তি করে ইরান। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দেশটি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত রাখবে, যা পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি হিসেবে যেমন ব্যবহার করা হয়, তেমনি অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হতে পারে। এর বদলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। তবে গত বছর ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই পদক্ষেপের কারণে বিপর্যয়ে পড়ে ইরানের অর্থনীতি, যা মূলত দেশটির তেল বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। এরই অংশ হিসেবে ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, ২৭ জুন নাগাদ তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ চুক্তি সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ইরান বলছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানকে রক্ষা করতে এখনো ইউরোপীয় দেশগুলোর হাতে ‘যথেষ্ট সময়’ আছে। একে ‘পারমাণবিক চাঁদাবাজি’ বলে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।’ এই উত্তেজনার শেষ কোথায় তা বলা কঠিন। কারণ গত ২০ জুন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কটের সমাধান না হলেও আরব দুনিয়ায় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সাথে সাথে শিয়া-সুন্নির যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তার সুরাহা না হলে উত্তেজনা বন্ধ হবে না। মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরকে এই সহজ বুঝটি বুঝতে হবে। কোরআন সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে সমাধান খোঁজতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: কার সামরিক শক্তি কেমন
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যুদ্ধ বাধাতে চাইলে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। জবাবে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলে কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। চলছে দেশ দুটির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি। বিশ্বের দুই অঞ্চলের ক্ষমতাধর এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে বলে শঙ্কা অনেকের।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল হোসাইন সালামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল পতনের দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সব অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না বলে একই দিনে জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই উত্তেজনা নিরসনে জরুরি বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। ৩০ মে মক্কায় ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা গেছে।

অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য: মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের সঙ্কট । হারুন ইবনে শাহাদাতযেভাবে শুরু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি ২০১৫ সালের একটি পারমাণবিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে। সে বছর ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি করে। ওই চুক্তির পর ইরান সংবেদনশীল পরমাণু কর্মকাণ্ড সীমিত করতে রাজি হয়। বিনিময়ে দেশটির বিরুদ্ধে আনা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার শর্ত দেয়া হয়। পাশাপাশি ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে অনুমতি দেয়। তবে ওই চুক্তি লঙ্ঘন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম ইরান ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে এমন অভিযোগ এনে গত বছর চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। চলতি মাসে ইরানও পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় যুদ্ধের উত্তেজনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি
কোনো ধরনের বিতর্ক ছাড়াই বিশ্বে সামরিক শক্তিতে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। জলে, স্থলে, আকাশে মার্কিনিদের টেক্কা দিতে পারার মতো সক্ষমতা এখন পর্যন্ত কোনো দেশেরই নেই। এর কারণও আছে। মার্কিনিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশাল এক বাজেট রাখে, যার পরিমাণ ৭১৬ বিলিয়ন ডলার। তবে নিজ দেশ থেকে বহুদূরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মুখোমুখি হতে হলে দেশটিকে বেশ বেগ পেতে হবে। এক নজরে দেখে নেয়া যাক যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি-
সেনাবাহিনী: মার্কিন সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন। এ ছাড়া সংরক্ষিত রয়েছে আরও ৮ লাখ ১১ হাজার জন। সেনাবাহিনীতে ট্যাংক রয়েছে ৬ হাজার ৩৯৩টি। সাঁজোয়া যানের (আর্মরড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৬০টি। সেনাসদস্যের ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কামান রয়েছে ৩ হাজার ২৬৯টি। পাশাপাশি ৯৫০টি স্বয়ংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও ১ হাজার ১৯৭টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে।
বিমানবাহিনী: যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ক্ষমতা বিশ্বে প্রথম স্থানে। দেশটির বিমানবাহিনীর মোট আকাশযানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০৪টি। এর মধ্যে রয়েছে-ফাইটার বিমান ২ হাজার ৩৬২টি, অ্যাটাক বিমান ২ হাজার ৮৩১টি, হেলিকপ্টার ৫ হাজার ৭৬০টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে ৯৭১টি। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সেরা স্টেলথ ফাইটার (রাডারে ধরা না পড়ে আক্রমণ করতে সক্ষম) এফ-২২ ও এফ-৩৬। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরিবহনের জন্য উড়োজাহাজ রয়েছে বাহিনীটির।
নৌবাহিনী: যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে মোট যানের সংখ্যা ৪১৫টি। এর মধ্যে এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার রয়েছে ২৪টি, ফ্রিগেট রয়েছে ২২টি, ডেস্ট্রয়ার রয়েছে ৬৮টি, করভেট রয়েছে ১৫টি ও সাবমেরিন রয়েছে ৬৮টি। এ ছাড়া পেট্রোল বোট ১৩টি ও মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে ১১টি।

ইরানের সামরিক শক্তি
সামরিক শক্তিতে ইরানের অবস্থান ১৪তম। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অবস্থান খুবই শক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে একহাত নেয়ার ক্ষমতা আছে ইরানের। ইরানের ডিফেন্স বাজেট ৬৩০ কোটি ডলার। এক নজরে দেখে নেয়া যাক দেশটির বর্তমান সামরিক শক্তি-
সেনাবাহিনী: ইরানের বর্তমান সক্রিয় সেনাসদস্য ৫ লাখ ২৩ হাজার। এ ছাড়া সংরক্ষিত সদস্য রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার জন। দেশটির ট্যাংকের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩৪টি। সাঁজোয়াযানের (আর্মরড ফাইটিং ভেহিকল) সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৫টি। সেনাসদস্যের ব্যবহারের জন্য কামান (টোয়েড আর্টিলারি) রয়েছে ২ হাজার ১২৮টি। পাশাপাশি ৫৭০টি সংক্রিয় কামান (সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি) ও ১ হাজার ৯০০টি রকেটচালিত কামান (রকেট আর্টিলারি) রয়েছে।
বিমানবাহিনী: ইরানের বিমানবাহিনীর মোট আকাশযানের সংখ্যা ৫০৯টি। এর মধ্যে রয়েছে-ফাইটার বিমান ১৪২টি, অ্যাটাক বিমান ১৬৫টি, হেলিকপ্টার ১২৬টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ১২টি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য ১০৪টি ও পরিবহনের জন্য ৯৮টি উড়োজাহাজ রয়েছে বাহিনীটির। ইরানের হাতে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো স্টেলথ ফাইটার বিমান নেই।
নৌবাহিনী: ইরানের নৌবাহিনীতে এখন পর্যন্ত যোগ হয়নি কোনো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। বাহিনীটিতে ফ্রিগেট রয়েছে ছয়টি, করভেট রয়েছে তিনটি এবং সাবমেরিন রয়েছে ৩৪টি। নেই কোনো ডেস্ট্রয়ার। তবে ইরানের ৮৮টি পেট্রোলবোট ও তিনটি মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তির তুলনা: যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হলেও এখন পর্যন্ত ইরানের বোমা নেই বলে ধারণা করা হয়। মার্কিনিদের হাতে ৭ হাজার ২০০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। তাই পারমাণবিক শক্তির দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। (সূত্র : বিবিসি, ফক্স নিউজ, গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ডটকম)

অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য: মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের সঙ্কট । হারুন ইবনে শাহাদাতযুদ্ধ মানে ধ্বংস
যুদ্ধ হত্যা আর ধ্বংস। এ ছাড়া অন্য কোন সমাধান যুদ্ধ দেয় না। ১৯৯০ সালে ২ আগস্টের ইরাকের কুয়েত আক্রমণের ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী তা জেনেছেন, যা তারা কোন দিন ভুলবে না। ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ইরাক তার তেলসমৃদ্ধ প্রতিবেশী দেশ কুয়েতে আক্রমণ করে। হঠাৎ এই হামলার ফলে কুয়েতের সেনাবাহিনী হতচকিত হয়ে যায় এবং যেসব সেনা বেঁচে যায় তারা কোনোক্রমে সৌদি আরবে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। কুয়েতের আমির তার পরিবার সমেত সৌদি আরবে পালিয়ে যান। হামলা শুরুর দুই দিনের মধ্যে কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইন কুয়েতকে ইরাকের ঊনিশতম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। ইরাকের এই আগ্রাসন স্থায়ী ছিল সাত মাস। ইরাক কেন হঠাৎ করে কুয়েত আক্রমণ করে বসলো সেই সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে আমাদের কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে হবে। ১৯৮০-৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাক তার অপর প্রতিবেশী দেশ ইরানের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। যুদ্ধের প্রথম দুই বছর কুয়েত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করেনি। তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল। তবে ইরানের মদদে নিজ দেশেও ইসলামী বিপ্লবের আশঙ্কা কুয়েতকে বেশিদিন নিরপেক্ষ থাকতে দেয়নি। দ্রুতই তারা ইরাকের পক্ষাবলম্বন করে। ১৯৮২ সাল থেকে কুয়েত ইরাককে আর্থিকভাবে সহায়তা করা শুরু করে। সমগ্র যুদ্ধজুড়ে ইরাককে কুয়েত সর্বমোট ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণসহায়তা দেয়। যখন বসরাতে অবস্থিত ইরাকের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত হয়, তখন কুয়েত তাদের সমুদ্রবন্দর ইরাককে ব্যবহার করতে দেয়।
আট বছরব্যাপী চলা ইরাক-ইরান যুদ্ধ শেষ হলে এই বিশাল ঋণের বোঝা ইরাকের অর্থনীতির ওপর চেপে বসে। ঋণ শোধ করার জন্য ইরাক বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য তারা কুয়েতকে বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার অনুরোধ করে। অনুরোধ উপেক্ষা করে কুয়েত তেল উত্তোলন বাড়িয়ে দেয়, ফলে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম বৃদ্ধি পাবার পরিবর্তে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। কুয়েতের এই ধরনের আচরণ ইরাক ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। এরই মধ্যে ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইন দাবি করেন, কুয়েত উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরাকের রুমালিয়া তেল ক্ষেত্র থেকে অবৈধভাবে তেল উত্তোলন করছে। এতে করে ইরাক ২.৪ বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সাথে তার দেশ যে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, তার ফলে কুয়েত এবং সৌদি আরব যথেষ্ট লাভবান হয়েছে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি ইরানের হাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যকে রক্ষা করেছেন। তাই কুয়েত এবং সৌদি আরবের কাছে ইরাকের যে ঋণ আছে তা মওকুফ করা উচিত। তবে কুয়েত অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং ঋণ মওকুফ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কুয়েত-ইরাক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়।’
বিবিসির অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার জন্য ইরান দায়ী বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছে ইরান তাকে ভিত্তিহীন এবং উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছে। যেখানে এই ঘটনাগুলো ঘটছে, সেটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এই পথটি হরমুজ প্রণালী হিসেবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তেল রফতানি করা হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল যায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অন্যান্য জায়গায়। হরমুজ প্রণালীর একদিকে আছে আরব দেশগুলো। এসব দেশের মধ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলো রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর অন্য পাশে রয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ যে অংশ সেখানে ইরান এবং ওমানের দূরত্ব মাত্র ২১ মাইল। এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত। হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানি তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য হরমুজ প্রণালী যথেষ্ট গভীর এবং চওড়া। পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়।
মালাক্কা প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রফতানি হয় এক কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল এবং সুয়েজ খাল দিয়ে প্রতিদিন ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়। হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান রুট। ইরানের অর্থনীতির জন্য এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের মোট রফতানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে জ্বালানি তেল রফতানির মাধ্যমে। ২০১৭ সালে ইরান ৬৬০০ কোটি ডলারের তেল রফতানি করেছে। ইরানের ওপর আমেরিকা নতুন করে যে অবরোধ দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়। ইরান বলেছে, তাদের তেল রফতানিতে আমেরিকা যদি বাধা দেয়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোন তেল রফতানি করা যাবে না। ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যত তেল পরিবহন করা হবে সেটি তারা বন্ধ করে দেবে। ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ইরাক এবং ইরান পরস্পরের তেল রফতানি বন্ধ করতে চেয়েছিল। তখন জ্বালানি তেল বহনকারী ২৪০টি তেলের ট্যাংকার আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৫৫টি ডুবে গিয়েছিল। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে চায় তাহলে সেটির কিছু নেতিবাচক দিক আছে। হরমুজ প্রণালী অশান্ত হয়ে উঠলে পৃথিবীজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে।’
১৯৯০ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম হুসাইন সরাসরি কুয়েতে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। একইসাথে কুয়েতের সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ শুরু করেন। ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে ইরাক-কুয়েত সীমান্তে ইরাক ৩০,০০০ সেনা মোতায়ন করে। ইরাকের এ ধরনের শত্রুভাবাপন্ন আচরণ দেখে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে ৩১ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দায় আরব লিগের বৈঠক বসে। তবে কোনো ধরনের মীমাংসা ছাড়াই ঐ আলোচনা শেষ হয় এবং পরবর্তীতে ২ আগস্ট সাদ্দাম হুসাইন তার সেনাবাহিনীকে কুয়েত আক্রমণের নির্দেশ দেন।
১৯৯০ সালের ২ আগস্ট রাত দুটোর দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ইরাকি বাহিনী বর্ডার পার হয়ে কুয়েতে ঢুকে পড়ে। কুয়েতি আর্মি মধ্যরাতের এই তীব্র আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেই সুযোগে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ইরাকি সেনারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং কুয়েতের আমিরের বাসভবন দখল করে নেয়, যদিও আমির সপরিবারে বিমানে করে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। যেসব কুয়েতি নাগরিক এই হামলার প্রতিবাদ করেছিল তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। অনেককে হত্যা করা হয়। ১২ ঘণ্টার মধ্যে কুয়েতের যাবতীয় প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে যায় এবং সাদ্দাম হুসাইন কুয়েতকে ইরাকের ১৯তম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন।
ইরাকের এরূপ একরোখা মনোভাব দেখে জাতিসংঘ ইরাককে কুয়েত থেকে সেনা অপসারণের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়। ২৯ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে ‘রেজল্যুশন ৬৭৮’ পাস হয় এবং এতে বলা হয়, ইরাককে ১৫ জানুয়ারি, ১৯৯১ তারিখের মধ্যেই কুয়েত থেকে সকল সৈন্য অপসারণ করতে হবে। তা না হলে জাতিসংঘ ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হবে। আমেরিকা এই সময়ের মধ্যে ইরাকের বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনী দাঁড় করিয়ে ফেলে। ৩৪টি দেশ নিয়ে মিত্রবাহিনী গঠিত হয়, যাদের মধ্যে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, মিসর, তুরস্ক ইত্যাদি দেশ উল্লেখযোগ্য। সর্বমোট ছয় লক্ষ ষাট হাজার সৈন্যের মিত্রবাহিনীর মধ্যে আমেরিকার সৈন্যই ছিল ৭৪ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে ইরাক এবং পশ্চিমা মোড়লদের মধ্যে শান্তি আলোচনাও চলতে থাকে। আমেরিকার ভাষ্য ছিল, শান্তি প্রক্রিয়া তখনই শুরু হবে যখন ইরাক সম্পূর্ণভাবে কুয়েত থেকে সৈন্য অপসারণ করবে। আর ইরাক বলছিলো, তারা তখনই কুয়েত থেকে সৈন্য অপসারণ করবে যখন সিরিয়া লেবানন থেকে এবং ইসরাইল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি থেকে সেনাবাহিনী অপসারণ করে নেবে। দুই দেশের এই অনড় মনোভাবের কারণে কোনো আলোচনাই শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি।
নিরাপত্তা পরিষদের বেঁধে দেয়া সময়সীমা অতিক্রমের একদিন পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মিত্রবাহিনী ইরাকের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ শুরু করার মাধ্যমে সূচনা করে পার্সিয়ান গালফ যুদ্ধের। ঐদিন সকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী দিনগুলোতে ইরাকের মাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ এর বেশি বিমান হামলা শুরু হয়। মিত্রবাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরাকের বিমানবাহিনীর ধ্বংস নিশ্চিত করা, যা তারা খুব দ্রুতই অর্জন করে ফেলে। মিত্রবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর সামনে ইরাকের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রথমদিন ইরাক মাত্র একটি মিত্রবাহিনীর বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। মিত্রবাহিনীর বিমান এবং মিসাইল হামলাগুলোর অধিকাংশই পরিচালিত হয় সৌদি আরবের মাটি থেকে। মিত্রবাহিনীর দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল ইরাকের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া, যাতে করে সাদ্দাম হুসাইন এবং তার সরকারের কোনো নির্দেশ যুদ্ধরত সৈন্যদের কাছে না পৌঁছে। মিত্রবাহিনীর কমান্ডোরা আশা করছিলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারলে ইরাকের প্রতিরোধ খুব দ্রুতই গুঁড়িয়ে যাবে। এক্ষেত্রেও মিত্রবাহিনী খুব দ্রুতই সফলতা অর্জন করে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে ইরাকের ৩৮টি মিগ বিমান ভূপাতিত করা হয়। ইরাকের বিমানবাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের পর মিত্রবাহিনী ইরাক এবং কুয়েতে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে নজর দেয়। একের পর এক বিমান হামলায় ইরাকের সামরিক স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হতে থাকে। মিত্রবাহিনী একইসাথে বিমান হামলা চালাতে থাকে ইরাকের পাওয়ার প্ল্যান্ট, নৌবন্দর, তেল শোধনাগার, রেলওয়ে স্টেশন, ব্রিজ ইত্যাদি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানের ওপর। মিত্রবাহিনীর একের পর এক হামলার মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনী যে হাত গুটিয়ে বসে ছিল তা-ও না। তবে তারা সৌদি আরব এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যেসব মিসাইল হামলা করছিল তা সহজেই মিত্রবাহিনী রুখে দিতে সক্ষম ছিল। ফলে ইরাক মিত্রবাহিনীর তেমন কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারেনি। এরই মধ্যে ইরাক পার্শ্ববর্তী দেশ ইসরাইলে মিসাইল হামলা চালায় এই আশায় যে, এর ফলে হয়তো ইসরাইলকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা যাবে। ফলে অন্যান্য আরব দেশগুলোর সহানুভূতি পাওয়া যাবে। তবে ইরাকের এই কৌশলও ব্যর্থ হয়। ইসরাইল মিত্রবাহিনীতে যোগ দেয়নি এবং জর্ডান ব্যতীত অন্যান্য আরব রাষ্ট্র অর্থনৈতিক এবং সামরিকভাবে মিত্রবাহিনীকেই সমর্থন দিয়ে যায়।
চারদিক থেকে পর্যুদস্ত ইরাক এই যুদ্ধ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিলো। অবশেষে ২২ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের দেয়া অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে ইরাক সম্মত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাক কুয়েত থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করে। ইরাকে ফিরে আসার পূর্বে এসব সৈন্য কুয়েতের বেশ কিছু তেলক্ষেত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি কুয়েত-ইরাক হাইওয়ে দিয়ে ফেরতরত ইরাকি সৈন্যের বিশাল বহর লক্ষ্য করে মিত্রবাহিনী পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে। এই বিমান হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে তাতে বিপুল পরিমাণ ইরাকির প্রাণহানি ঘটে এবং তারপর থেকে ঐ রাস্তা মানুষের কাছে ‘হাইওয়ে অব ডেথ’ নামে পরিচিত হয়। ঐ দিনই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ কুয়েতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইরাকের ওপর চালানো মিত্রবাহিনীর প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী অভিযান। ১৫ মার্চ কুয়েতের আমির সপরিবারে দেশে ফিরে আসেন, যিনি সমগ্র যুদ্ধজুড়ে সৌদি আরবে নির্বাসিত ছিলেন। এই যুদ্ধে ১৪৮ জন মার্কিন সেনা, ১০০ জন মিত্রবাহিনীর সেনা এবং ২৫,০০০ ইরাকি সৈন্য মৃত্যুবরণ করে। মিত্রবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ডেজার্ট স্টর্মের ফলে প্রায় ১,০০,০০০ ইরাকি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে সাদ্দাম হুসাইন ইরাকের কুয়েত আগ্রাসনকে বড় ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে ইরাকের ইরান আক্রমণ এবং কুয়েত আক্রমণ প্রায় একই ধাঁচের ছিল। অথচ বিশ্ব মোড়লরা ইরান আক্রমণকে সমর্থন করলেও কুয়েত আক্রমণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। এর কারণ ছিল কুয়েতে প্রাপ্ত ইরাকের বিশাল সাফল্য তাদেরকে সৌদি আরবে হামলা করার মতো কাছাকাছি দূরত্বে নিয়ে যায়। বিশেষ করে সৌদি আরবের হামা তেলক্ষেত্র, যা কি না তাদের অন্যতম প্রধান তেলক্ষেত্র, তা ইরাকের নাগালের মধ্যে চলে আসে। আর তা যদি ইরাক দখল করে নিতো তাহলে তারা হয়ে যেত পৃথিবীর তেল সম্পদের প্রধান নিয়ন্ত্রক। তেলের ওপর ইরাকের এই একক নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর শিল্পোন্নত রাষ্ট্র, বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ এবং জাপানের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই তারা সর্বশক্তি দিয়ে একসময়ের মিত্র ইরাকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে তারা আরও একবার প্রমাণ করে দেয় যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দিন শেষে স্বার্থই সব। স্বার্থই আপনকে করে পর এবং পরকে করে আপন।

প্রয়োজন মুসলিম বিশ্বের ঐক্য
মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদেরকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার দিকে ফিরে আসতে হবে। ইসলাম একটি কালজয়ী আদর্শ। সকল, ধর্ম-বর্ণের মানুষকে শান্তি ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয় ইসলাম। এই সত্যের অনুশীলন মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রনায়ক, ওলামা ও নেতাদের মাঝে বাড়ালে মুসলিম তরুণরা সঠিক পথ খুঁজে পাবে। তারা বিভ্রান্ত হয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়াবে না। শ্রীলংকা, ভারত, কাশ্মির, মিয়ানমার, চীনের উইঘুর এবং বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যালঘিষ্ঠ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরকে পরিষ্কার অবস্থান নিতে হবে। উল্লিখিত দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। ভালোবাসার বন্ধনে গোটা বিশ্বমানবতাকে বুকে টেনে নিতে না পারলে কোনো সঙ্কটেরই সমাধান হবে না।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

SHARE

Leave a Reply