অসম্ভব লক্ষ্য অর্জনের বাজেট

ষ ছাত্র সংবাদ ডেস্ক

গত ৬ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বেশ বিশাল একটি বাজেট দিয়েছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার রয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রস্তাবিত বাজেটটি চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, ঠিক তেমনি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও ধরা হয়েছে বিশাল। যাকে ইতোমধ্যে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘অর্জনযোগ্য’ নয় বলে অর্থনীতিবিদেরা মন্তব্য করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) যা ছিল এক লাখ ১৬ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায়ই আদায় করতে হবে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। চলতি বছরে যা ছিল এক লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে এবার চলতি বছরের চেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। কিন্তু তা কি সম্ভব হবে, সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার আগে আমাদের রাজস্ব আদায়ের খাতগুলো দিকে একটু নজর দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা এনবিআর রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগই আদায় করতে হবে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে। আদায় লক্ষ্যমাত্রা ৪৯ হাজার ৯৫৬ কেটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৪০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এরপর আয়কর খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছে। এ খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের জন্য আমদানি শুল্ক থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। চলতি বছরে যা ছিল ১৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। রফতানি শুল্ক থেকে আদায় করা হবে ৪৫ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৪০ কোটি টাকা। আবগারি শুল্ক থেকে টার্গেট এক হাজার ৩১০ কোটি টাকা। চলতি বছরে যা ছিল ৯৯৭ কোটি টাকা। সম্পূরক শুল্ক বা সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি থেকে এবারের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। আর অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে আদায় ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৯৫৯ কোটি টাকা।
এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনযোগ্য কি না? এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেনÑ প্রশ্ন হচ্ছে, বাজেটের যে আকার ধরা হচ্ছে সে আকারের জন্য অর্থায়ন কিভাবে হবে সেটির নির্দেশ সরকার দিয়েছেন, কিন্তু যেসব সূত্র থেকে তা হবে বলে ধরা হয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এর মধ্যে একটি হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর-রাজস্ব, এর টার্গেট যেমন ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের টার্গেটের চেয়ে এটি প্রায় ২০ শতাংশের মতো বেশি। চলমান অর্থবছরে চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হচ্ছে। যেহেতু সার্বিক অর্থনীতি, রাজনৈতিক পরিবেশ ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের অবস্থার তেমন উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না তাতে এ টার্গেট পূরণ সম্ভব নয়।’
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও (সিপিডি) বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ এবং এটি একটি ‘পরাবাস্তব’ বাজেট। চলতি বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাও আদায় করা যাবে না। এখন পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে তাতে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি থাকবে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা।
অন্য দিকে বাজেটে বিদেশী সহায়তা পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২০ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। কিন্তু গত মার্চ মাস পর্যন্ত বিদেশী সহায়তা পাওয়া গেছে মাত্র ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যেখানে এবারই বিদেশী সাহায্য অর্ধেকটা আসবে কি না সন্দেহ রয়েছে সেখানে কিভাবে আগামী অর্থবছরের জন্য তিন বিলিয়ন ডলারের একটি নির্ধারণ করা হলো, তা বোধগম্য নয়।
ব্যাংক ঋণ
ঘাটতি মোকাবেলার আরেকটি উৎস হচ্ছে অভ্যন্তরীণ ঋণ। এর একটি অংশ আসে ব্যাংক-বহির্ভূত ঋণ থেকে। এ ঋণের বড় অংশ আবার আসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে। এ বিক্রির টার্গেট ছিল গত অর্থবছরে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত নেট বিক্রি ছিল ৭০০ কোটি টাকারও নিচে; মানে মাত্র এক-দশমাংশেরও কম অর্জিত হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এটি পাঁচ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এটিও অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে যদি বেশি ঋণ নেয়া হয় বেসরকারি খাত আগামীতে ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে।
ভালো সাথে মন্দের আপস
এক দিকে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং দমনের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি, অন্য দিকে ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া’ এই দুই বিপরীতধর্মী মানসিকতার পরিচয় দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবারের বাজেটটি ঘোষণা করেছেন। এক দিকে তিনি ব্যক্তি শ্রেণীর আয়করমুক্ত সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন, আবার পরক্ষণেই ঘোষণা দিয়েছেন, ‘কিন্তু এখনো আমি নতুন করদাতার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছি ৫০ লাখ’, অর্থাৎ নতুন করে অর্ধকোটি লোককে কর জালের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিভাবে বা কবে নাগাদ এদের করের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, তারও কোনো নির্দেশনা বাজেটে দেয়া হয়নি। আগেই বলা হয়েছে, আগামী বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতিই রয়েছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা; যা কিনা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতি বাজেটের বেশির ভাগই পূরণ করা হবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ফলে ধরেই নেয়া যায়, সরকারের বেশি করে ঋণ নেয়ার কারণে, বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি বিনিয়োগ কমে যাওয়া ও কর্মসংস্থান হ্রাস। সামনে নির্বাচন, বিশালসংখ্যক ভোটারকে নিজেদের বাগে নিয়ে আসতে হবে। আনার চেষ্টা করেছেন তিনি, অনেক পণ্যের শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছেন। জনতুষ্টির অংশ হিসেবে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত হারের সীমা বিদ্যমান দুই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঠিক তেমনি ছোট ছোট দোকানদার থেকে শুরু করে ‘বিড়ি খাওয়া’ কৃষকদের ওপরও করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। কারণ বাজেটে বিড়ির ওপর করের হার বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিশুদের দুধ খাওয়াবেন, তাতে স্বস্তি পাবেন না আগামীতে। কারণ আমদানিকৃত গুঁড়োর দুধের শুল্কও বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কর কাঠামোর পরিবর্তন
প্রস্তাবিত বাজেটে কর কাঠামোর পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা রয়েছে দুই লাখ টাকা অর্থাৎ বার্ষিক দুই লাখ টাকা কারো আয় হলে তাকে বর্তমানে আয়কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করে দুই লাখ ২০ হাজার করা হয়েছে। একইভাবে মহিলা ও ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব সিনিয়র সিটিজেনের ক্ষেত্রে দুই লাখ ২৫ হাজার থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী করদাতারে আয়করমুক্ত সীমা বিদ্যমান দুই লাখ ৭৫ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে সিটি করপোরেশন কেন্দ্রিক করদাতাদের ন্যূনতম আয়কর তিন হাজার টাকা বহাল রেখে জেলাভিত্তিক পৌর এলাকার করদাতাদের জন্য ন্যূনতম দুই হাজার টাকা এবং জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত অন্যান্য এলাকা বা গ্রামীণ এলাকার করদাতাদের ন্যূনতম আয়কর এক হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
হাউজিং ব্যবসায়ী খুশি হবেন
প্রস্তাবিত বাজেটে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের খুশি করার অনেক পদক্ষেপই রাখা হয়েছে। হয়তো এর একটি কারণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের মালিকদের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি সরকার দলীয় সংসদ সদস্য। ফলে এ খাতে ঢালাওভাবে কালো টাকা সাদার করার সুযোগ দেয়া হয়েছে আগামী বাজেটে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যের ১৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ‘আবাসনে গত বছরের বিপর্যয়ের বিবেচনায় করে ফ্ল্যাট অথবা জমি খরিদের জন্য বিশেষ সুযোগ এ বাজেটে রাখা হয়েছে’। ফলে কালো টাকায় (অপ্রদর্শিত অর্থ) যে করহার প্রযোজ্য তার সাথে ১০ শতাংশ অর্থাৎ আয়ের আড়াই শতাংশ জরিমানা দিয়ে ওই আয় বিনিয়োগ করা যাবে।
এ ছাড়া ঢালাওভাবে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের জন্য যে কর রেয়াতি দেয়া হয়, তা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আয়ের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করলে এখন থেকে আয় বা করপোরেট করের ওপর ১৫ শতাংশ হারে রেয়াত পাওয়া যাবে।
ক্ষুদ্র ও খুচরা দোকানদারেরা স্বস্তিতে থাকবেন না
অর্থমন্ত্রীর বাজেটে খুচরা ও ক্ষুদ্র দোকানদারেরা যে খুশি হতে পারবে না, তা নির্দ্বিধায়ই বলা যায়। বর্তমানে এসব ব্যবসায়ীর এলাকাভিত্তিক মূল্য সংযোজন কর বা মূসক দেয়া লাগে বার্ষিক দুই হাজার ৭০০, পাঁচ হাজার ৪০০, সাত হাজার ২০০ ও ৯ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে যথাক্রমে তিন হাজার, ছয় হাজার, ৯ হাজার ও ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর কে না জানে খুচরা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত এ করের অর্থ জনগণের ‘পকেট কেটেই’ দেবেন!
উন্নয়নের চার বছর : স্বপ্ন পূরণের পথে বাংলাদেশ
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার নামকরণ করা হয়েছে এভাবে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি রেখেছেন বলেও দাবি করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বমন্দা মোকাবেলা করে প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখা। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল করে জনগণের জন্য সহনীয় পর্যায়ে তা বজায় রাখা; বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি, তখনকার স্থবির ২৪ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। সে জন্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব, বৈদেশিক সহায়তা বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ছিল প্রধান কৌশল; ২০১৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে ও ২০১৭ সালে ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। কিন্তু বাস্তবে এ প্রতিশ্রুতি সত্যি সত্যিই কতটুকু পূরণ হয়েছে, তা কিন্তু ব্যাখ্যা দাবি রাখে। যেমন চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রায় হয়নি। আর দুর্নীতি দমন সেটি কেমন হয়েছে তা পদ্মা সেতু দুর্নীতির চিত্র ও হলমার্কের দিকে তাকালেই মোটা দাগে ধরা পড়বে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর ইঙ্গিত
বাজেটে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বলেছেন, জ্বালানি ভর্তুকি বাবদ সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ বোঝায় যাচ্ছে আগামী যেকোনো মাসে আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে সরকার। ইতোমধ্যে তারা পাঁচবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে।
বিশাল এডিপি
আগামী অর্থবছরের জন্য ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে যা ছিল ৫৫ হাজার টাকা। সামনে নির্বাচন, ভোটারদের খুশি রাখতেই এবার একটি মেগা এডিপি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেন নেয়া হয়েছে এ ধরনের এডিবি? ওই যে সামনে নির্বাচন। ভোটারদের দেখানো হবে তাদের জন্য অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন করা যাক বা না যাক; তা আর কে দেখবে?
মূল্যস্ফীতি
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বেশ আশাবাদই ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাস শেষে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সাথে আপস করে মূল্যস্ফীতি যে কমিয়ে আনা হয়েছে, তা স্বীকার করেননি অর্থমন্ত্রী। কারণ টাকার প্রবাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে বেসরকারি খাত।
জেলা বাজেট
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আব্দুল মুহিত ‘জেলা বাজেট’ প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি, এবার দিতে পেরেছেন। বলেছেন, ‘অবশেষে জেলা বাজেট এবার সম্ভবপর হলো। এবার টাঙ্গাইল জেলার জন্য একটি পরীক্ষামূলক ‘জেলা বাজেট’ পেশ করছি। এই ‘জেলা বাজেটে’ থাকছে টাঙ্গাইল জেলায় সরকারের বিভিন্ন দফতর যেসব কাজকর্ম রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের অধীনে পরিচালনা করছে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিবৃতি (কিন্তু একেবারে বিশুদ্ধ নয়)। এখানে জেলায় সরকারের বাজেটমাফিক কী ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে ও কত খরচ হচ্ছে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে।
নির্বাচনী বাজেট
সামনে জাতীয় নির্বাচন। বর্তমান সরকার চাইছে সবাইকে খুশি করতে। তাই বাজেটকে জনতুষ্টির বাজেটও বলা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করছেন, প্রস্তাবিত বাজেট অবশ্যই জনতুষ্টির এবং উচ্চাভিলাষী। কিন্তু তিনি এটি বলেননি যে, এ বাজেট যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তবে দেশের অবস্থা কী হবে। অর্থনীতির সামষ্টিক সূচকগুলো কী স্থিতিশীল রাখা যাবে। কারণ বাজেটে ব্যয় হিসাব যেভাবে দেখানো হয়েছে, আয়ের হিসাব কিন্তু সেভাবে আসেনি। যদি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে বাজেটের বিশাল ঘাটতির কী হবে। সরকারের ব্যাংক ঋণ কি আরো বৃদ্ধি পাবে। তা হলেও তো মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁঁবে। বিএনপি নেতা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী তো বলেছেন, পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ রেখে পরের সরকারের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়েছে। বাজেট কোনো হালখাতার খেরো বই নয়।
অর্থমন্ত্রীর ‘অশোভনীয়’ আশাবাদ
‘আমি আশিতে পদার্পণ করেছি, জীবনে হতাশা ও সাফল্যের দোলাচলে বার বার নিক্ষিপ্ত হয়েছি। তবে সর্বদাই আমি ঘনঘটার মধ্যে শান্তি দেখেছি। মেঘের আড়ালে রুপালি নয়, সোনালি রেখা দেখেছি। আমি আসলেই কর্মশক্তি পাই আমার প্রবল তথা অশোভনীয় আশাবাদে।’ এভাবে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যের ইতি টেনেছেন। অর্থমন্ত্রীর এই ‘অশোভনীয়’ আশাবাদ আসলেই পূরণ হবে কি না তা আগামীই বলে দেবে।
বাড়ছে বাজেট :
কমছে উন্নয়ন বরাদ্দের হার
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জুন তাজউদ্দিন আহমেদ যে বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তার আকার ছিলো মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে মোট বরাদ্দের মধ্যে ৫০১ কোটি টাকা ছিলো উন্নয়ন বরাদ্দ বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ বরাদ্দ।
আগামী ৬ জুন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, যার আকার হচ্ছে ২ লাখ ২২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। টাকার অংকে বিশাল বাজেট হলেও পার্থক্য হলো দেশ স্বাধীন হবার পর মোট বাজেটের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকতো কিন্তু আসছে বাজেটে ৬৬ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ থাকলেও তা মোট বাজেটের মাত্র ২৯ শতাংশ।
বিগত বাজেটগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালের পর থেকেই বাজেটের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫০ ভাগের নিচে নেমে আসে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়ম রক্ষার বাজেটে তা সর্বনিম্ন ২৩ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-৮৩ ও ৮৩-৮৪ অর্থবছরের বাজেটেও প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ বরাদ্দ রেখেছিলেন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয়ের জন্য। তবে আশার কথা হলো বিগত ৪টি বাজেটের তুলনায় আসছে অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
মূলত সরকারের অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বাজেটের আকার বিশাল হচ্ছে। সরকারের বিশাল আকারের ঋণ পরিশোধ, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি আর সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বাড়ানোর ফলে বছর বছর বাজেটের আকার বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ। বিশাল ব্যয় নির্বাহ করার জন্য বাজেটে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। তবে অনুদান নির্ভরতা পূর্বের চেয়ে অনেক কমেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যানুযায়ী, ১৯৯১-১৯৯২ সালে দেশের মোট বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের অংশ ছিলো ৯০ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ঋণের পরিমাণ ছিলো সাড়ে ৯ শতাংশ। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে মোট সহায়তার মাত্র ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ অনুদান এবং ঋণ রয়েছে ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাজেটে ঘাটতি : অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাজেটের আকার বাড়ানোর সাথে সাথে ঋণের আকারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বিশাল ব্যায়ের এ বাজেট বাস্তবায়ন করার জন্য ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরেও ঘাটতি থেকে যাবে প্রায় ৫৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা আকারে ২৪ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা পাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরেও বিশাল আকারের ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলো থেকে ২৫ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটের আকার অনুযায়ী এ ঘাটতি মোটেই বিশাল আকারের নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই ঘাটতির আকার মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে।

বরাদ্দের বিভাজন
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ থাকছে ২২ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা, গত অর্থবছর ছিল ২২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। বাজেটে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ থাকছে ৫ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এক হাজার ২শ’ কোটি টাকা। চর জীবিকায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকছে ১৫৭ কোটি টাকা। কৃষি উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ তিন হাজার ৭২১ কোটি টাকা।
উন্নয়ন বাজেটে মোট প্রকল্পসংখ্যা ১১৭৬টি। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প মাত্র ৫০টি, যা গত বছরের উন্নয়ন বাজেটের সবুজ পাতায় বরাদ্দবিহীনভাবে ছিল। সে হিসেবে বলা যায়, নির্বাচনের বছর বলে অপরিকল্পিতভাবে বাজেটের আকার বাড়ানো হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পদ্মা সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় এডিপিতে পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দসহ পরিবহন খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা যা মোট এডিপি’র প্রায় ২৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এডিপিতে তুলনামূলক অধিক বরাদ্দ প্রাপ্ত অন্যান্য খাত হলো, শিক্ষা ও ধর্ম-আট হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ ৫ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৩ হাজার ৭২১ কোটি টাকা থাকছে।
বিভিন্ন অর্থবছরের বাজেট আকারের
তালিকা তুলে ধরা হলো-

১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সালে অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করেন ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার।

১৯৭২-’৭৩ তাজউদ্দিন আহমেদ ৭৮৬ কোটি টাকা
১৯৭৩-’৭৪ তাজউদ্দিন আহমেদ ৯৯৫ কোটি টাকা
১৯৭৪-’৭৫ তাজউদ্দিন আহমেদ ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকা
১৯৭৫-’৭৬ ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকা
১৯৭৬-’৭৭ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা
১৯৭৭-’৭৮ লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান ২১৮৪ কোটি টাকা
১৯৭৮-’৭৯ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৪৯৯ কোটি টাকা
১৯৭৯-’৮০ ড. এম এন হুদা ৩৩১৭ কোটি টাকা
১৯৮০-’৮১ এম সাইফুর রহমান ৪১০৮ কোটি টাকা
১৯৮১-’৮২ এম সাইফুর রহমান ৪৬৭৭ কোটি টাকা
১৯৮২-’৮৩ এ এম এ মুহিত ৪৭৩৮ কোটি টাকা
১৯৮৩-’৮৪ এ এম এ মুহিত ৫৮৯৬ কোটি টাকা
১৮৪-’৮৫ এম সায়েদুজ্জামান ৬৬৯৯ কোটি টাকা
১৯৮৫-’৮৬ এম সায়েদুজ্জামান ৭১৩৮ কোটি টাকা
১৯৮৬-’৮৭ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫০৪ কোটি টাকা
১৯৮৭-’৮৮ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫২৭ কোটি টাকা
১৯৮৮-’৮৯ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১০৫৬৫ কোটি টাকা
১৯৮৯-’৯০ ড. ওয়াহিদুল হক ১২৭০৩ কোটি টাকা
১৯৯০-’৯১ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১২৯৬০ কোটি টাকা
১৯৯১-’৯২ এম সাইফুর রহমান ১৫৫৮৪ কোটি টাকা
১৯৯২-’৯৩ এম সাইফুর রহমান ১৭৬০৭ কোটি টাকা
১৯৯৩-’৯৪ এম সাইফুর রহমান ১৯০৫০ কোটি টাকা
১৯৯৪-’৯৫ এম সাইফুর রহমান ২০৯৪৮ কোটি টাকা
১৯৯৫-’৯৬ এম সাইফুর রহমান ২৩১৭০ কোটি টাকা
১৯৯৬-’৯৭ এসএএমএস কিবরিয়া ২৪৬০৩ কোটি টাকা
১৯৯৭-’৯৮ এসএএমএস কিবরিয়া ২৭৭৮৬ কোটি টাকা
১৯৯৮-’৯৯ এসএএমএস কিবরিয়া ২৯৫৩৭ কোটি টাকা
১৯৯৯-’০০ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৪২৫২ কোটি টাকা
২০০০-’০১ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৮৫২৪ কোটি টাকা
২০০১-’০২ এসএএমএস কিবরিয়া ৪২৩০৬ কোটি টাকা
২০০২-’০৩ এম সাইফুর রহমান ৪৪৮৫৪ কোটি টাকা
২০০৩-’০৪ এম সাইফুর রহমান ৫১৯৮০ কোটি টাকা
২০০৪-’০৫ এম সাইফুর রহমান ৫৭২৪৮ কোটি টাকা
২০০৫-’০৬ এম সাইফুর রহমান ৬১০৫৮ কোটি টাকা
২০০৬-’০৭ এম সাইফুর রহমান ৬৯৭৪০ কোটি টাকা
২০০৭-’০৮ মির্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা
২০০৮-’০৯ মির্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা
২০০৯-১০ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১১৩,৮১৫ কোটি টাকা
২০১০-১১ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৩২,১৭০ কোটি টাকা
২০১১-১২ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৬৫,০০০ কোটি টাকা
২০১২-১৩ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ১৯১,৭৩৮ কোটি টাকা
২০১৩-১৪ আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২২২, ৪৯১ কোটি টাকা।

স্বাধীনতা পরবর্তী ৪২ বাজেট
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সামরিক থেকে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এসময়ের মধ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে কয়েকবার। এ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে ১৫ জন অর্থমন্ত্রী (অর্থ উপদেষ্টা) ৪২টি বাজেট জাতির জন্য উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান সবচেয়ে বেশি ১২ বার বাজেট পেশ করেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার ৭ম বারের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।
ছবি : ইন্টারনেট

SHARE

Leave a Reply