অসাম্প্রদায়িকতার মোড়কে সাম্প্রদায়িক মিশন! -মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। সহজ সরল। অল্পে তুষ্ট। ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক। এমন একটি শান্তিপ্রিয় দেশ পৃথিবীতে বিরল। কিন্তু ভিনদেশীরা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এদেশের কিছু সংখ্যক নয়া মিরজাফরকে হাত করে এর স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সস্তা বুলি দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যে কোন দেশ সে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চিন্তা-চেতনাকে পুঁজি করে এর শিক্ষাব্যবস্থা, দেশ পরিচালনা বিধিসহ বিভিন্ন দিক ও বিভাগ পরিচালনা করে। এক এক দেশে এক এক তরিকায় রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হয়। তবে বিশ্বায়নের এ সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের কল্যাণধর্মী দিকগুলো অন্য রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে গ্রহণ করছে। জনগণের জন্য অকল্যাণধর্মী কোনো বিষয় জনপ্রিয় রীতি হতে পারে না। তাই তা যে কোন জনপদে অগ্রহণযোগ্য। সাময়িক চমক লাগানো বক্তব্য এক স্তরের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারলেও সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃত সত্য মানুষ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় এবং মুখরোচক অপলাপ মুখ থুবড়ে পড়ে। কোন কোন মহল দেশে জনগণের চিন্তা-চেতনা, রুচি-অভিরুচির বিপরীতে কথিত অসাম্প্রদায়িকতার নামে সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে তা কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাদের এই ঘৃণ্য মিশন এতকাল লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও এখন তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। যারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অপব্যবহার করে মানুষের জীবনবোধকে পাল্টিয়ে দিতে চায়, তারা মানবতাবিরোধী কর্মযজ্ঞে লিপ্ত। এসব চক্র সুশৃঙ্খল জনগোষ্ঠীর সাজানো সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে-চুরে খান খান করে দিতে চায়। তাদের মুখোশ জনসমক্ষে উন্মোচিত করা এখন সময়ের দাবি।

এক. ক’বছর ধরে অসাম্প্রদায়িক শব্দটি সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী ও বাম রাজনীতিবিদদের মুখে মুখে খই ফুটছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটন করতে কথিত বুদ্ধিজীবী, সেক্যুলার ও বাম নেতাদের বক্তব্য বিবৃতির অন্ত নেই। যারা এমন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের একপক্ষীয় নির্লজ্জতা দেখে শয়তানও লজ্জা পায়। মূলত ইসলাম ও ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুনই এদের মূল অ্যালার্জি। এরা বহুল প্রচলিত আরবি ও স্বদেশীয় শব্দ সংস্কৃতিকে লোকমুখ থেকে মুছে দিতে চায়। কারণ এর মধ্যে এরা ইসলামের গন্ধ পায়। বিশেষ করে ইসলামের রীতি-নীতি পালনকে মানবজীবনের অন্তরায় হিসেবে এরাই উপস্থাপন করছে। মানবজীবনে ধর্মচর্চাই এদের কাছে সাম্প্রদায়িকতা! ধর্মনির- পেক্ষতার নামে মানুষকে ধর্মহীন করাই এদের টার্গেট! বিশেষ করে মুসলমানদের জীবনাচরণের মধ্যে এরা সাম্প্রদায়িকতা খুঁজে পায়। এটাকে চরম বাড়াবাড়ি আর শঠতা বৈ কী বলা চলে? যারা সাম্প্রদায়িক চেতনাকে কায়েম করতে অসাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ শ্লোগান দেয় তাদের ইশারায় সরকারি হস্তক্ষেপে কুরআনের তাফসির মাহফিল ও আলোচনা সভা নানা অভিযোগে বন্ধ করে দেয়ার মতো দুঃসাহস দেখানো হয়, মসজিদ ভেঙে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুড়ে! আবার ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আচার-অনুষ্ঠান সরবে পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থ্যা করা হয়! সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে এমন হাল-হকিকত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার নামে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো ছাড়া কী বা হতে পারে?

দুই. কেউ কেউ বাংলাদেশ সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই ’৭১ সালে স্বাধীন হয়েছে বলে দাবি তুলছেন! আবার কেউ বা বাংলাদেশকে সাংবিধানিক-ভাবে সেক্যুলার রাষ্ট্র বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। এমন কথা যারা বলেন তারাই কিন্তু দফায় দফায় সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। তাদের কেউ কেউ নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য হাতে তসবিহ ঝুলিয়েছিলেন, মাথায় হিজাব পরেছেন! আবার কেউবা নামধারী লোভী ধর্মব্যবসায়ী কথিত আলেমদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন। আমাদের দেশে বহুকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। হঠাৎ করে নতুনভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে যারা বাগাড়ম্বর করছেন তারা নির্ঘাত নতুন কোনো ফন্দি ফিকির করে ঝামেলা পাকাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তা প্রতিনিয়ত দিবালোকের মত স্পষ্ট হচ্ছে। এতে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে বেশ কিছু মিডিয়া। তারা থার্টি ফার্স্ট নাইট, পয়লা বৈশাখসহ ক’বছর ধরে আমাদের দেশে চালু হওয়া হোলি উৎসবকে বাঙালির উৎসব বা এদেশীয় উৎসব বলে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। এর হেতু কী? এসব উৎসবে কত শতাংশ মানুষ অংশগ্রহণ করে? কেনই বা এসব বিজাতীয় কালচারকে আমাদের দেশের জনগণের সামনে রঙ-চঙ লাগিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে! অসাম্প্রদায়িকতার নামে দেশের জনগণের মাঝে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য নয় কি?

তিন. দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বারোটা বেজেছে বহু আগে। পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা বলতে একটু-আধটু যা শেখানো হতো তাও আবার কাট-ছাঁট করা হয়েছে। চলতি বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠ্যক্রম সাজিয়ে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে তির্যকভাবে উপস্থাপন করেছে। যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ঈমান-আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক। দেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও আলেম-ওলামার প্রতিবাদের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উল্লিখিত বিষয়গুলোতে যৎ সামান্য সংশোধন করেছে। এতে কথিত বুদ্ধিজীবীদের সরকারের উপর নাখোশ হতে দেখা গেছে। এহেন অবস্থায় কোন কোন কথিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (!) ভাষার মাসে একুশের বইমেলাতে ভূতের বাচ্চা সোলায়মান! নামে বইও প্রকাশ করেছে! এটি কি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়? আল্লাহ তা’য়ালা প্রেরিত একজন সম্মানিত নবীর নাম হযরত সোলায়মান (আ)। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে নবীর নামে ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ এমন ব্যঙ্গাত্মক বইয়ের (বইয়ের প্রচ্ছদে পাগড়ি-জুব্বা পরা একজন মানুষের ছবিও দেয়া হয়েছে) নাম রাখা কি সাম্প্রদায়িকতা নয়? পাঠ্যবইয়ে ও-তে ওড়না, ও-তে ওজু শব্দেও তারা সাম্প্রদায়িকতা খুঁজে। ও-তে ওলকপির মতো নিরর্থক শব্দ নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। যত্ত সব সমস্যা ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুন নিয়ে! শিক্ষালয়ে কোমলমতি মুসলিম শিশুদেরকেও আল্লাহর পরিবর্তে গড, সালামের পরিবর্তে হাই! হ্যালো! শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বাজারে নতুন ছাপানো কুরআন শরিফে ভুলভাল প্রিন্ট করা হচ্ছে বলেও খবরে প্রকাশিত হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা সমমানের শিক্ষা হলেও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও প্রথম ক্যাটাগরির সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব কিছু প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এসব একপক্ষীয় নেকামিকে আমরা কি কথিত অসাম্প্রদায়িকতার নামে সাম্প্রদায়িক অনাচার বৈ কী বলতে পারি?  ২৮ জানুয়ারি, ২০১৭ দৈনিক প্রথম আলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি মতামত বিভাগে ‘পাঠ্যপুস্তকেও সাম্প্রদায়িকতার ভূত’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। তার প্রবন্ধ পড়ে মনে হলো তিনি নামে মুসলিম হলেও ইসলাম শব্দও তার কাছে সাংঘাতিকভাবে অসহ্য। তার নিবন্ধের শেষাংশে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে তিনি লিখেছেন, ‘একদম প্রথম শ্রেণি থেকেই যদি আমাদের ছেলেমেয়েদের ধর্মের বাঁধনে আটকে ফেলা যায়, তাহলে পাকিস্তানের দেখানো পথে তর তর করে এগিয়ে যেতে আমাদের খুব বেগ পেতে হবে না।’ এসব লোকেরা পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের দোহাই দিয়ে ইসলামকে মানুষের সামনে এক ভয়ঙ্কর বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করছে। এসব সাম্প্রদায়িকতা ছাড়া কী হতে পারে?

চার. বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় কর্তৃক কুরআন অবমাননা, অনলাইনে উসকানিমূলক ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার ছড়াছড়ি চলছে। নাস্তিক্যবাদী শক্তি এক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক পুরো শক্তিকে  বিনিয়োগ করেছে। নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ এনে এরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে। রামু, বি-বাড়িয়ার নাসির নগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত বছরে লোমহর্ষক অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। এসব ঘটনা তদন্তে সরকারি বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অন্তরালের রাঘববোয়ালরা সরকারি দলের বলে এসব রিপোর্ট জনসম্মুখে আলোর মুখ দেখেনি। এরা কখনো ক্ষমতার দাপট, কখনো জমিজমা দখল, আর কখনো বা ভোটের রাজনীতিতে হিরু বানাতে চেয়েছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে প্রকাশ করেছেন। অনেক গবেষণায় দেখা গেছেÑ এদেশে ধর্মীয় কারণে কখনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। এই পক্ষটি নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বললেও নারীদের সম্পত্তি থেকে শুরু করে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এরাই সবচেয়ে বেশি নারী অধিকারকে খর্ব করছে। এসব কি সাম্প্রদায়িকতা নয়?

পাঁচ. গত ক’বছর ধরে জঙ্গিপনা হু হু করে বেড়ে চলছে। হোলি আর্টিজান হামলার পর দেশের মানুষ নড়ে চড়ে বসেছে। দেশী-বিদেশী মহল দেশের এমন অবস্থা নিয়ে চরমভাবে উদ্বিগ্ন। দেশে বিনোয়োগ কমে যাচ্ছে। সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। হঠাৎ করে এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি কারণ অনেকে অনুসন্ধান করে কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না। অনেকে মনে করেন সরকারের দমন-পীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না দেয়ায় জনগণের মধ্যে কোন পক্ষ মিলিট্যান্ট হয়ে উঠছে। দিন-দুপুরে গোলাগুলিতে ডজন ডজন জঙ্গি নিহত হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অক্ষত থাকাকে সরকারের সাজানো নাটক বলেও অনেকে মনে করছেন। আমজনতার ভাষ্যমতে, অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিদেশীদের মদদ পেতে জঙ্গি দমনের নাটক উপস্থাপন করা হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো ধৃত কথিত জঙ্গিদেরকে ইসলামিস্ট বলা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে দা, ছুরি, রামদা, ভারী অস্ত্র, গোলা-বারুদসহ জিহাদি বই পাওয়া যাচ্ছে বলেও মিডিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থাপন করছেন। এর মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপারে মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে। সব বয়সের মানুষের কাছে ইসলাম মানে ভয়ঙ্কর বিষয় বলে উপস্থাপিত হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য মতে দেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই, তবে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমসহ বেশ ক’টি নিষিদ্ধ সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত নৃশংসতা পরিচালনা করছে। অন্যদিকে আইএস দেশের বিভিন্ন হামলার দায় স্বীকার করে তাদের মুখপাত্র আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানাচ্ছে জঙ্গিকার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স! তাই প্রকৃত সত্য বিষয়ে সমগ্র জাতি অন্ধকারেই রয়ে গেছে। কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা? কেনইবা সরকার প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরছে না? তাহলে কি সরকার নিজেই এর খলনায়ক? নাকি বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের যে সম্ভাবনা রয়েছে সে সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করে দেয়ার লক্ষ্যে কোনো চক্র ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করছে?

ছয়. নতুন করে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন শুরু হয়েছেÑ এর নাম হোলি। মুসলিম তরুণ-তরুণীদের মাঝে যাদের জ্ঞান ইসলাম সম্পর্কে শূন্যের কোটায় তারা এটাকে নিছক আনন্দ হিসেবে লুফে নিচ্ছে! আর এটাকে কথিত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সহায়ক বলে বেশ কিছু মিডিয়া ঢাকঢোল পেটাচ্ছে। এবারের হোলিতে কিভাবে পথচারী নারীদের সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছে বখাটে আয়োজকরা তা জাতি নির্লজ্জভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। অবশ্য এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কথিত কোনো প্রগতিবাদী নারী নেত্রীদের সরব হতে দেখা যায়নি! এসব বন্ধ হওয়া উচিত। নচেৎ আমাদের সমাজব্যবস্থায় আরো ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে।

সাত. দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপনের এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতা চলছে। বিজাতীয় সংস্কৃতির কারণে অনেকের অজান্তে নিজেদের হৃদয় মন্দিরে মূর্তি স্থাপন করে ফেলেছে। তারা শাসকগোষ্ঠীর এসব কীর্তি-কাণ্ড দেখেও না দেখার ভান করছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোটি টাকা খরচ করে এমন কর্মযজ্ঞ চলছে। এটার মাধ্যমে নাকি অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টি হয়! বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণেও এমন একটি মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে দেশের আপামর মুসলিম জনগণ বিশেষভাবে সকল পর্যায়ের ওলামায়েকেরাম এ মূর্তি সরানোর জন্য ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীনদের কাছে জোরালো দাবি পেশ করেছেন এবং এ দাবির স্বপক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দেশের জনগণ আশা করেছিল এ ধরনের একটি অন্যায্য, অগ্রহণযোগ্য, অপ্রাসঙ্গিক এবং অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড থেকে সরকার সরে আসবে এবং মূর্তি অপসারণ করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় দেশের আপামর জনগণ বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দারুণভাবে বিক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। এতে সহজে অনুমিত হয় যে দেশে মানুষের ইসলামী চেতনাকে ধ্বংস করে ফেলতে ক্ষমতাসীনরা আদাজল খেয়ে লেগেছে।
অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায় তারা সবসময় ইসলামবিদ্বেষী চেতনা লালন করে। বিভিন্নভাবে ইসলামের প্রচার-প্রসারকে কিভাবে ঠেকানো যায় তার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। জনগণ ইসলামের দীক্ষা পেলে দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান হয়ে যাবে এমন আজগুবি অপপ্রচার নির্লজ্জভাবে চালায়। এরা প্রকৃত পক্ষে অসাম্প্রদায়িকতার মোড়কে সাম্প্রদায়িক মিশন নিয়ে নেমেছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এমন সাম্প্রদায়িক মিশনকে আজ শক্ত হাতে রুখতে হবে। কারণ তারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ইসলামী তাহজিব-তমদ্দুনের শিক্ষা-দীক্ষা থেকে দেশবাসীকে নিবৃত্ত করতে চায়। দেশবাসীর কাছে তাদের গুমর ফাঁস করে দিতে হবে। এদেশ অসাম্প্রদায়িক। এখানে যে যার ধর্ম পালন করবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। এখানে হুজুগে জিগির তোলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করে যারা হট্টগোল করে তারা দেশ, জাতি ও মানবতার শত্রু।
লেখক : কলামিস্ট, গবেষক

SHARE