অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ অ্যাজেন্ট অব ডেথ

গোলাপ মুনীর

হার্বিসাইড হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক অ্যাজেন্ট, যা গাছপালা ও লতাপাতা বিনাশের কাজে, কিংবা আগাছা বেড়ে ওঠা রোধ করার কাজে ব্যবহার হয়। অপর দিকে ডেফোলিয়েন্ট হচ্ছে আরেক ধরনের অ্যাজেন্ট, যা গাছপালার পাতা ঝরানোর কাজে লাগানো হয়। আর অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ হলো এক ধরনের হার্বিসাইড ও ডেফোলিয়েন্টের কোড নেম, যা যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ভিয়েতনামের মাটিতে বনে-জঙ্গলে ও ক্ষেত-খামারে ছড়িয়ে দিয়েছিল। আর এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে এই হার্বিসাইড উৎপাদন করেছে অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় ডায়োক্সিন বিষ মিশিয়ে। আর তা ভিয়েতনামে রফতানি করে দেশটিতে এখানে-সেখানে বিমান দিয়ে ছিটিয়েছে গোটা এক দশক ধরে : ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে। এতে যেমনি বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে ভিয়েতনামের সাধারণ মানুষ, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরাও। আর জেনেশুনে মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের বিষ প্রয়োগের অপরাধে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত অপরাধী। ভিয়েতনাম যুদ্ধে এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ প্রয়োগের যুদ্ধ কর্মসূচির নাম ছিল ‘অপারেশন রেঞ্চ হ্যান্ড’। এর ফলে অনুমিত হিসাবে ৪ লাখ মানুষ নিহত কিংবা পঙ্গু হয়। আর ৫ লাখ শিশু জন্ম নেয় বিকৃত অঙ্গ বা দেহ নিয়ে। সে জন্য এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের আরেক সুপরিচিত নাম ‘অ্যাজেন্ট অব ডেথ’। ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই অ্যাজ্ন্টে অরেঞ্জের অমানবিক প্রয়োগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৭-১০ আগস্ট হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এ সম্মেলনে এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের বিষক্রিয়ার শিকার মানুষের প্রতি সুবিচার দাবি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নয়-এগারোর বোমা হামলার দৃশ্য আমরা সেদিন টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা নিশ্চয় আজো তারা ভুলে যাননি। তেমনি বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষদিকে ও সত্তরের দশকের প্রথম দিকে যারা প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা তরুণ ছিলেন, তারা সংবাদপত্র ও রেডিওর মাধ্যমে ভয়াবহ ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও সে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ব্যবহারের কথা জেনেছেন। তারাও সেই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের কথাও হয়তো আজো ভুলে যাননি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে এই ভয়াবহ রাসায়নিক যুদ্ধ তখন চালিয়ে যাচ্ছিল, তার খবর খুব কমই আসত সংবাদপত্রে। তখন কমপক্ষে শতাধিক বার লোকক্ষয় ও সম্পদের ক্ষতি বিবেচনায় নয়-এগারোর চেয়ে আরো ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে। কিন্তু এর পর ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ মানবিক অপরাধটি কারো নজরে আসেনি, আর এর জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখিও করা হয়নি। আর যারা এই বিষক্রিয়ার ভয়াবহ শিকার, তারাও কোনো ধরনের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ভিয়েতনামে এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ছিটানোর মতো জঘন্য অপরাধটির সূচনা করে, ঠিক তার ষোল বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের সিদ্ধান্তে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্টে যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ফেলে। সেখানেও লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। সেই সাথে পঙ্গু করা হয় আরো অসংখ্য মানুষকে। সে কথা পৃথিবীর মানুষের কারো অজানা নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আজো এ ধরনের অপরাধ করে চলছে অবাধে ও সদর্পে বিশ্বের নানা দেশে। যুক্তরাষ্ট্রই আজো দেশে দেশে তাদের সেনাবাহিনী পাঠিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এরাই মানবাধিকারের বুলি ফেরি করে বেড়ায় বিশ্বজুড়ে, বিতরণ করে মানবাধিকারের সনদ।
অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ নামের এই হার্বিসাইডে আছে সামান্য পরিমাণের একটি উপজাত, যার নাম টিসিডিডি (ডায়োক্সিন)। মানুষের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর যে কয়টি বিষাক্ত রাসায়নিক আছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই ডায়োক্সিন। মানবদেহে এর ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কম পক্ষে ৮ কোটি লিটার হার্বিসাইড ছিটানো হয়েছে ভিয়েতনামে। এর ফলে ৩০ লাখ হেক্টর বন, কাদাপানির এলাকা এবং কৃষিজমি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে শুধু ভিয়েতনামেই ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। আর এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ এতটাই এলোমেলোভাবে ছিটানো হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সৈন্যরাও এর বিষক্রিয়ার শিকার হয়। এমনো দেখা গেছে, যেসব জাপানি ভিয়েতনামের কোনো মহিলাকে বিয়ে করেছে, তাদের সন্তানেরাও অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে।
২, ৪, ৫-টি এবং ২, ৪-ডি-এর একটি ৫০:৫০ মিশ্রণ প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য। আর এ মিশ্রণ তৈরি করে মনসান্তো করপোরেশন ও ডাউ কেমিক্যাল। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় ২, ৪, ৫-টি। আর এর সাথে মেশানো হয় ২,৩,৭,৮-টেট্রাক্লোরোডাইবেঞ্জোডায়োক্সিন, যা একটি চরম বিষাক্ত ডায়োক্সিন কম্পাউন্ড। এর নাম অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ দেয়ার কারণ এর ৫৫ গ্যালনের ব্যারেলের রং ছিল কমলা। এই ব্যারেলে করে তা জাহাজে করে পাঠানো হতো। যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে এই হার্বিসাইড ফসলের ক্ষেতে ছিটাতে শুরু করে ১৯৬১ সালে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যবহার করা হয় অ্যাজেন্ট ব্লু । ১৯৬৫ সালের দিকে এসে ৪২ শতাংশ হার্বিসাইড ছিটানো হয় ফসলের জমিতে।
প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি সর্বপ্রথম এই হার্বিসাইড ব্যবহারের অনুমতি দেন। তবে এটুকু জানা যায়নি, এই হার্বিসাইডে ভয়াবহ বিষাক্ত রাসায়নিক ডায়োক্সিনের উপস্থিতি ও এর বিষাক্ততা সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না। সরকারি রিপোর্টে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, তখন ভিয়েতনামে যে হার্বিসাইড ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়, তা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যবহার হতো। অন্য কথায়, এসব হার্বিসাইড যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে উৎপাদিত ও ব্যবহার হতো। তবে এর মধ্যে একটা বিশেষ পার্থক্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হার্বিসাইডের তুলনায় ভিয়েতনামে পাঠানো অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ নামের হার্বিসাইড অনেক বেশি পরিমাণে ডায়োক্সিন থাকত। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরি হার্বিসাইডে ডায়োক্সিনের পরিমাণ ছিল ০.০৫ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। সোজা কথায় এক্ষেত্রে প্রতি ১ কোটি ভাগ হার্বিসাইডে আধা ভাগ ডায়োক্সিন যোগ করা হতো। অপরদিকে ভিয়েতনামে পাঠানো হার্বিসাইডে ডায়োক্সিনের পরিমাণ ছিল ৫০ পিপিএম। এর অর্থ ভিয়েতনামে ব্যবহারের হার্বিসাইডে বিষাক্ততার পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহারের হার্বিসাইডের তুলনায় ১০০০ গুণ বেশি ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ০.০৫ পিপিএম মাত্রার অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ বিক্রিকে নিরাপদ মাত্রা বলে বিবেচনা করা হতো। সেখানে এই হার্বিসাইড উৎপাদনকারী ডাউ কেমিক্যাল, মনসান্তো করপোরেশন ও অন্য পাঁচটি কোম্পানি আর যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জেনেশুনে অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় ডায়োক্সিনযুক্ত অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ উৎপাদন করে ভিয়েতনামে পাঠাত। যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যেরা তা ভিয়েতনামে ব্যবহার করত। এরা ভালো করেই জানত- এই অ্যাজেন্ট ব্যবহারের ফলে ভিয়েতনামের মানুষ অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হবে। আর এর প্রভাব হবে ব্যাপক। এর ক্ষতিকর প্রভাব শুধু জানমালের ওপরই সীমিত থাকবে না, তা বিনষ্ট করবে পরিবেশের ভারসাম্যকেও। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এর জন্য অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার, এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ উৎপাদক কোম্পানিগুলোর একটি ডাউ কেমিক্যাল এর পুরো দায়ভার শুধু যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ওপর চাপাতে চাইছে। এরা বলছে, একটি যুদ্ধরত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ডিফেন্স প্রডাকশন অ্যাক্টের আওতায় কয়েকটি কোম্পানিকে বাধ্য করা হয়েছে তাদের ফর্মুলা অনুযায়ী অতিমাত্রিক ডায়োক্সিনযুক্ত অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ উৎপাদন করতে। অপরদিকে মনসান্তো করপোরেশন বলছে : ‘অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের ক্ষতিকর প্রভাবের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়টির সমাধান করা উচিত সে সময়ে যুদ্ধরত দেশ দু’টির সরকারের মাধ্যমে।’
শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বিভিন্ন মহলই নয়, ভেতরেও ডায়োক্সিন-ভিত্তিক হার্বিসাইড ব্যবহারের ব্যাপারে প্রবল আপত্তি উঠেছে। অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশেন অব অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স (এএএএস) কঠোরভাবে ডায়োক্সিন-ভিত্তিক হার্বিসাইড ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এর ফলে ১৯৭০ সালের ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, স্বরাষ্ট্র, কৃষি মন্ত্রণালয় অনিয়ন্ত্রিতভাবে সেদেশে এমন হার্বিসাইড ব্যবহার নিষিদ্ধ করে, যাতে রয়েছে ২,৪,৫-টি। একই দিনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও সামরিক কাজে অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ব্যবহারও বাতিল ঘোষণা করে।
ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের ১০৫,০০০ যোদ্ধা অ্যাজেন্ট অরেঞ্জের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকারে পরিণত হয়। এদের মধে ৫২ হাজার সৈন্যকে এ জন্য ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। জনপ্রতি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৩,৮০০ ডলার করে। অপরদিকে নষ্ট হয়ে যাওয়া বিরান কৃষিজমি পুনরুদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য দশ বছরে ৩০ কোটি ডলার ভিয়েতনামকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৭৯ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ও হার্বিসাইড-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আর্থার গ্যালস্টোন টিসিডিডির তথা ডায়োক্সিনের বিষাক্ততা সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দেখান, প্রায় অদৃশ্য অতি সামান্য পরিমাণ ডায়োক্সিন খাবারের সাথে পেটে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনে। এর ফলে মানব দেহে নানা জটিলতা দেখা দেয়। শিশুদের লিউকেমিয়া সৃষ্টি করে এই ডায়োক্সিন। অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ ২,৪-ডি এবং ২,৪,৫-টি স্বল্প সময়ের জন্য বিষাক্ত থাকেÑ কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে এর বিষক্রিয়া। এর পর দ্রুত এর বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। ২,৪,৫-টির প্রভাবে বিকৃত শিশুর জন্ম হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৪৩ সাল থেকে আর্থার গ্যালস্টোন এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে বছর যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী চিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে ২,৪-ডি এবং ২,৪,৫-টি ফসলের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। সেই সূত্রেই যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ফসল ও বন-জঙ্গল ধ্বংস করায় বিষাক্ত এ হার্বিসাইড ব্যবহারের সূচনা করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী এর বাস্তব প্রয়োগ করে মানবতা-বিরোধী এক ঘৃণ্য উদাহরণ সৃষ্টি করে। বিশ্বের আর কোনো দেশ যুদ্ধের সময় শত্রুদেশে এই বিষাক্ত অ্যাজেন্ট ব্যবহার করেছে বলে জানা নেই।
ভিয়েতনামে এই অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ প্রয়োগের অর্ধশত বছর উপলক্ষে আয়েজিত হ্যানয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, এর মিত্রদেশগুলো, মার্কিন সেনাবাহিনী ও অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ উৎপাদনকারী কোম্পানি ডাউ কেমিক্যাল ও মনসান্তো করপোরেশনের কাছে আহবান জানানো হয়, এর বিষক্রিয়ার দায় স্বীকার করে এর নির্মম শিকার ভিয়েতনামের সাধারণ মানুষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য। সেই সাথে এ অপরাধের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আবেদনও জানানোও হয়। তবে এ ব্যাপারে দায়ী পক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া মিলবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার করার ক্ষমতা যেমনি জাতিসঙ্ঘের নেই, তেমনি নেই বিশ্ববাসীর।

SHARE

Leave a Reply