আইটিতে ক্যারিয়ার -সালেহ মো: ফয়সাল

পেশাগত বা ব্যক্তিগত, যে কাজই করতে হোক না কেন, এ যুগে প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। দিন দিন উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছে এই প্রযুক্তি। অনেক কিছুই বদলাচ্ছে এর সাথে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলেও এ বিষয়ে দক্ষতা থাকা দরকার। এক সময় কম্পিউটার চালানোকেই যারা ভাগ্য মনে করেছেন সেই তারাই এখন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে ভাবতে শুরু করছেন। তাই প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে গড়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ার।
এই ক্যারিয়ার গঠনে শুধুই যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট থাকা প্রয়োজন, তা কিন্তু নয়। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ও  ঝোঁক থাকলে যেকোনো বিষয়ে পড়াশুনা করে তরুণ প্রজন্মের যে কেউ সহজেই প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন। আইটি মানুষের জীবনের নতুন গতি এনে দিয়েছে। ফলে ইচ্ছে করে হোক কিংবা বাধ্য হয়েই হোক- আমরা আইটির ওপর খুব নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এখন প্রয়োজন এই সেক্টরে কাজ করা বা ক্যারিয়ার তৈরির জন্য সময় উপযোগী প্রশিক্ষণের। কারণ এর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে নিজেকে তুলে ধরা যায়। অনেকেই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার  তৈরি করতে চাচ্ছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এর পরেও থেমে নেই এ পথের পথিকের সংখ্যা। এই বিষয় নিয়েই আজকের আলোচনা।
প্রযুক্তিতে দক্ষ হলে মার্কেটপ্লেস বা কোথায় কাজ করবেন সেটা কখনো বিষয় না। কারণ আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস বা প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেস বা দুটোতেই কাজ করতে পারবেন। তবে প্রোডাক্ট মার্কেটপ্লেস এ কাজ করা তুলনামূলক কঠিন। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার বা প্রোডাক্ট ডেভেলপার হতে নিচের তথ্য আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে।

স্বপ্নের ক্যারিয়ার আইটি
বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান সেক্টর আইটি সেক্টর। চাইলে আপনিও পারেন এই স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়তে। এর জন্য আপনাকে  CSE তেই পড়তে হবে তার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আইটি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনার যা লাগবে সেটা হলো  ধৈর্য, প্রবল ইচ্ছা আর ইংরেজি ও গণিতের মোটামুটি জ্ঞান।

কেন ক্যারিয়ার গড়বেন আইটিতে?
এই সেক্টর চাকরির জন্য কখনও মামা-চাচা বা উৎকোচের প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা থাকলে চাকরিই আপনাকে খুঁজে নেবে। এই সেক্টরে নিজেই নিজের আয়/বেতন এর সীমা নির্ধারণকারী। বন্ধুসুলভ পরিবেশে কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পেশা হলো আইটি। কেউ চাইলে অফিসে গিয়ে বা নিজের ঘরে বসেও কাজ করতে পারেন।

আইটিতে ক্যারিয়ার এর ক্ষেত্র সমূহ
ক্স    কম্পিউটার অপারেটর
ক্স    সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজার
ক্স    অনলাইন মার্কেটার
ক্স    গ্রাফিকস ডিজাইনার
ক্স    ওয়েব ডিজাইনার
ক্স    ওয়েব ডেভেলপার
ক্স    সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
ক্স    ড্যাটাবেজ আডমিনিস্ট্রেটর
ক্স    নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার

কিভাবে গড়বেন আইটি ক্যারিয়ার?
অপারেটিং সিস্টেম তৈরি থেকে শুরু করে অনলাইন মার্কেটিং পর্যন্ত যেকোনো বিষয়ের ওপর নিজেকে দক্ষ করার জন্য পর্যাপ্ত রিসোর্স অনলাইনে পাওয়া যায়। এ জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো YouTube। এ ছাড়াও কিছু অনলাইন প্রশিক্ষণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে। যাদের মাঝে Lynda, Tutsplus  অন্যতম। কিন্তু অনলাইন প্রশিক্ষণ সবার জন্য বন্ধুসুলভ হয় না। সকল প্রশ্নের উত্তর অনলাইন প্রশিক্ষণে না-ও পেতে পারেন। অনলাইন প্রশিক্ষণে সবসময় অনেক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনাও পাওয়া যায় না। চাহিদা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায় না বললেও চলে। সে ক্ষেত্রে  নির্ভরযোগ্য স্থানীয় কোন প্রশিক্ষণ  কেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেয়াই উত্তম।

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আইটি ক্যারিয়ারের সুযোগ
দেশের মেধাবী ও অসচ্ছলদের আইটিতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ‘আগে আয় পরে কোর্স ফি’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ক্রিয়েটিভ আইটি। প্রাথমিক অবস্থায় ১৫০ জন অসচ্ছল ও মেধাবী তরুণকে নিশ্চিত আয়ের লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ এই প্রশিক্ষণে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা কোর্স সম্পন্ন করে আয় করার পর তাদের কোর্স ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এই প্রকল্পে আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের ন্যূনতম এসএসসি পাস ও কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। কোর্সগুলোর মধ্যে থাকবে  গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট এবং এসইও। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে ফোন কলের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার জন্য জানানো হবে এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে  চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
যোগাযোগ : মমতাজ প্লাজা, হাউজ-৭ (৪র্থ তলা) রোড-৪, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন : +৮৮০১৭৯৯৩৮৩৯৭৬,www.creativeit-ltd.com

কোন বিষয়ে কোথায় প্রশিক্ষণ?
বিষয় :  Database Administration
যদি Database Administration এর উপর আগ্রহ থাকে তাহলে Oracle Database Administration  এর ওপর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। Oracle Database Administration প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকাতে বেশ কিছু সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে ও IBCS Primax, .IT Bangla Ltd, IAC Bangladesh Korea Information Access Center এগুলো অন্যতম।

১.  IBCS Primax : ওরাকল ইউনিভার্সিটি স্বীকৃত (ওরাকল ট্রেইনিং এর জন্য) বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে IBCS Primax একটি। সুবিন্যস্ত ল্যাব, পর্যাপ্ত রিসোর্স এবং সর্বোপরি দক্ষ প্রশিক্ষকের কারণে  Oracle Database Administrator এর উপর প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে IBCS Primax কে পছন্দের শীর্ষে রাখা যায়।
ঠিকানা : # বাড়ি নং : ৫১, রোড : ১০-অ, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।
# ৫০০ আল-মাদানী রোড, সোলাক বহর, বাদুরতলা, চট্টগ্রাম-৪০০০।
ওয়েব : http://ibcs-primax.com
কোর্স ডিটেইলস : http://ibcs-primax.com/education/course/oracle-certified-professional-ocp-11g-dba

প্রশিক্ষণকালীন ব্যয় : ৬০,০০০ টাকা।
প্রশিক্ষণ ব্যাপ্তিকাল : ১২০ ঘণ্টা।
মোবাইল :+৮৮০১৭১৩৩৯৭৫৬৭

2. IT Bangla : ওরাকল ইউনিভার্সিটি স্বীকৃত (ওরাকল ট্রেইনিং এর জন্য) বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে IT Bangla একটি। আপনি চাইলে এখানেও প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, এখানেও ল্যাব সুবিধাসহ অন্যান্য সকল সুবিধা পাবেন। সেই সাথে পাবেন বিশ্বমানের শিক্ষকমন্ডলী।
ঠিকানা : # ৩২ তোপখানা রোড, চট্টগ্রাম ভবন, তৃতীয় তলা, ঢাকা -১০০০।
# ১৫৮ লেক সার্কাস রোড (দ্বিতীয় তলা) কলাবাগান, ঢাকা -১২০৫।
ওয়েব  : http://www.itbangla.net
কোর্স ডিটেইলস :http://www.itbangla.net/training_oracle.php
প্রশিক্ষণকালীন ব্যয় : ৫০,০০০ টাকা।
প্রশিক্ষণ ব্যাপ্তিকাল : ১২০ ঘণ্টা।
মোবাইল ঃ ০১৭৩৩৯৯০৫৪১,০১৭৪৭৬৮৫৫৭৮
3. IAC Bangladesh Korea Information Access Centert IAC ওঅঈ মূলত BUET নিয়ন্ত্রিত ট্রেইনিং সেন্টার। এখানে BUET এর অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। সুতরাং মানের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। খরচও অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম, রয়েছে অত্যাধুনিক ল্যাব সুবিধা। তবে এখানে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আগে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে, পরে বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দিতে হবে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর হবে প্রশিক্ষণ।
ঠিকানা : Bangladesh-Korea Information Access Center (IAC)
ECE Building (Ground Floor)
Bangladesh University of Engineering and Technology (BUET)
Dhaka-1000
I‡qe :
https://cse.buet.ac.bd/iac/index.php
কোর্স ডিটেইলস : https://cse.buet.ac.bd/iac/dma.php
মোবাইল : ০১৫৫২-০১৫৫৯৬

বেতন কেমন হবে?
Database Administration এর উপর যদি আপনি Certified হতে পারেন, তাহলে আপনার বেতন/ ইনকাম 6 digit হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শিক্ষাবৃত্তি (আইডিবি স্কলারশিপ)
বাংলাদেশ সরকার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জেদ্দা, সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ) বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী মুসলমান যুবকদের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রজেক্টের অধীনে সুবিধাবঞ্চিত মুসলিম প্রার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রফেশনাল ডিপ্লোমা দেয়া হয়।
কোর্সের বিষয়বস্তু
আইটি স্কলারশিপ প্রজেক্টের ৩০তম রাউন্ডে মোট সাতটি বিষয়ের ওপর ১২ থেকে ১৪ মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা দেয়া হয়। বিষয়গুলো হলো আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড, কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যানিমেশন, ডেটাবেইস ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমস অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইন, নেটওয়ার্কিং টেকনোলজিস এবং ওয়েব প্রেজেন্স সল্যুসন অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশনস বিষয়ে।
আবেদনের যোগ্যতা : আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউর আইটি স্কলারশিপ প্রজেক্টে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে স্নাতক অথবা ফাজিল অথবা সিভিল/আর্কিটেকচার/সার্ভে/কনস্ট্রাকশন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হতে হবে। তবে আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড কোর্সে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ডিপ্লোমা ইন সিভিল অথবা ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচার পাস হতে হবে। এ ছাড়াও যে কোনো বিষয়ে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ অর্থাৎ জিপিএ-২.৫০ থাকতে হবে। তবে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাগ্রিকালচার, কম্পিউটারে স্নাতক এবং চাকরিরত প্রার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
কোর্সে আবেদনের জন্য কম্পিউটারবিষয়ক পূর্ব ধারণা না থাকলেও আবেদন করা যাবে। এমনকি কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবেদন করা যাবে।
আবেদনের প্রক্রিয়া : এই স্কলারশিপ প্রজেক্টে দুইভাবে আবেদন করা যাবে। সরাসরি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যেকোনো শাখা থেকে ১০০ টাকা দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে তা যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে অথবা অনলাইনে গিয়ে নির্দেশনা মেনে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ১০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসারে বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বরে প্রেরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনীপ্রক্রিয়া : আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধানুসারে প্রার্থী যাচাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর গণিত ও ইংরেজির সাধারণ দক্ষতা যাচাই করা হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে, তবে মৌখিক পরীক্ষা শুধু ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
সুযোগ-সুবিধা : আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউর আইটি স্কলারশিপ প্রজেক্টের আওতায় প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ বাবদ ১.২৫ লাখ টাকা এবং অনলাইন ভেন্ডর সার্টিফিকেশন পরীক্ষা ফি বাবদ ২০ হাজার টাকাসহ সব ব্যয় কর্তৃপক্ষ বহন করে। এ ছাড়াও প্রতি প্রশিক্ষণার্থীকে মাসে দুই হাজার টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য কর্তৃপক্ষের প্লেসমেন্ট কল থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়।
কোর্সসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে:
আইডিবি ভবন, পঞ্চম তলা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭
ফোন : ৯১৮৩০০৬।
বিস্তারিত- www.idb-bisew.org

ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি
এনসিসি এডুকেশন, ইউকে এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচের  অধীনে বিএসসি (অনার্স) ইন বিজনেস ইনফরমেশন টেকনোলজি (বিআইটি) প্রোগ্রামটি দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালনা করে আসছে ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি।
শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ালেখা শেষ করে সহসাই কাজের সুযোগ  তৈরি করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তবে যাদের বাস্তবমুখী কাজের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, এমন বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছে, তারা সহজেই চাকরি বা কাজ খুঁজে পেতে পারেন। এনসিসি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি (অনার্স) ইন বিজনেস ইনফরমেশন টেকনোলজি বা বিএসসি (অনার্স) ইন আইটি বিষয় দুটিও এমন।
আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানির মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি অর্জন। তবে পড়ালেখার খরচ বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষেই সেটা সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে দেশে বসেই বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে ডিআইআইটির এই প্রোগ্রামে। ৯১১৭২০৫, ০১৭১৩৪৯৩১৬৩ নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
শিক্ষাপদ্ধতি : এ শিক্ষাব্যবস্থায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র পরীক্ষিত হয় যুক্তরাজ্যে। এর যাবতীয় ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় ডিআইআইটিতে এবং  যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বিএসসি (অনার্স) ইন বিজনেস ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
ক্রেডিট  ট্রান্সফার : যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের সহস্রাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে এখানে। ইতোমধ্যে ডিআইআইটি থেকে ২ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ক্রেডিট ট্রান্সফার করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
ভর্তি যোগ্যতা : যেকোনো গ্রুপে এইচএসসি/এ লেভেল অথবা সমমান পাস। তা ছাড়া ৪ বছর মেয়াদি কম্পিউটার ডিপ্লোমাধারীরা দুই বছরে বিএসসি (অনার্স) ইন ইনফরমেশন টেকনোলজি প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করতে পারবেন ।
খরচ : ৪.৫ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, যা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়।
চাকরির সুবিধা : এখান থেকে উত্তীর্ণদের দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়ে যায়। ডিআইআইটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফোডিল গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানে এবং বিভিন্ন ব্যাংক, সরকারি, বেসরকারি ও ম্যাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। ডিআইআইটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সফটওয়্যার ফার্মে কাজ করার সুযোগের পাশাপাশি শিক্ষাকালীন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছেন।
ক্যাম্পাস সুবিধা : ডিআইআইটিতে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার বই সংবলিত আধুনিক লাইব্রেরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ক্যাম্পাস জোন। এ ছাড়াও রয়েছে শতাধিক কম্পিউটার সংবলিত আধুনিক ল্যাব।
স্কলারশিপ সুবিধা : মেধাবী ও অসচ্ছলদের জন্য রয়েছে ১০%-১০০% পর্যন্ত ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্কলারশিপের সুবিধা। মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল শিক্ষকের সন্তান ও মেয়েদের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপের সুবিধা।
সেশন : ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটিতে বছরে ৪টি সেশনে (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর) ধানমন্ডি, কলাবাগান, উত্তরা ও চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে এবং ২টি শিফটে (সকাল ও সন্ধ্যা) ভর্তি নেয়া হয়। চাকরিজীবীরা সান্ধ্যকালীন শিফটে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
যোগাযোগ : বাড়ি-০৭, রোড-১৪ (নতুন), ২৯ (পুরাতন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।www.diit.info

দেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস সংক্ষেপে ‘বেসিস‘ বাংলাদেশের সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি সংস্থা যা জাতীয়ভাবে সফটওয়্যার এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর সদস্য ছিলো মাত্র ১৭। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার।
কার্যক্রম
বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও আইটি খাতকে আরও প্রসারিত করাই এর মূল লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

‘ওয়ান বাংলাদেশ’ ভিশন
বেসিস ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ ভিশনের অন্যতম লক্ষ্যে ২০১৮ সাল নাগাদ ১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরির কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসিসের দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে। এই লক্ষ্যে ঢাকার পাশাপাশি দেশের সব বিভাগে বেসিসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধুমাত্র আগামী ৩ বছরে বিনা খরচে ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বেসিস। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কিল ফর অ্যাপয়েন্টমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্পের অধীনে এই জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বেসিস। এ লক্ষ্যে  তৈরি হয়েছে ‘বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম’। এই ফোরামের মাধ্যমে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেলবন্ধন ঘটবে। আইটি সেক্টরের জন্য দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনশক্তি  তৈরি করাই এ ফোরামের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণদের প্রস্তুত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সরাসরি পরিচয় এবং শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে প্রযুক্তিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্থনীতির মূল স্রোত থেকে দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতার সনদও পাবেন। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোরামের কাঠামো হবে একজন মেন্টর, একজন অর্গানাইজার ও ২ জন ছাত্রীসহ ৭ জন নির্বাহী সদস্য। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিভাগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে সংযুক্ত শিক্ষার্থীসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে আগ্রহী  শিক্ষার্থীরাও এই ফোরামে যুক্ত হতে পারবেন।
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম’ গঠিত হয়েছে। এই ফোরামে যুক্ত হতে পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অনলাইনে নিবন্ধন করছেন।
আগ্রহীরা এই http://studentsforum.basis.org.bd পেইজেwww.fb.com/BASISStudentsForum  বিস্তারিত জানতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন।

সূত্র :
www.basis.org.bd
www.idb-bisew.org
www.techtunes.com.bd
www.diit.info
www.creativeit-ltd.com
Times of India

লেখক : এমফিল গবেষক

SHARE

Leave a Reply