আইন পেশার বৈচিত্র্য এবং পরিসর -তারিক আদনান

বাংলাদেশে যতগুলো আত্মনির্ভরকেন্দ্রিক পেশা রয়েছে তার মধ্যে আইন পেশা হলো সবার পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর বাংলাদেশে আইন পেশার পরিধি বেড়েছে। আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তো আছেই। এ ছাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিতে পারেন নিম্ন আদালতে। বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিভিন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, বহুজাতিক কোম্পানি ও এনজিওতে আছে আইন কর্মকর্তা বা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ।

নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়া
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন
ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণোৎসর্গ, দুই লক্ষেরও অধিক নারীর লাঞ্ছনা, এক কোটি মানুষের উদ্বার্থ জীবনসহ সাড়ে সাত কোটি মানুষের অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব মানচিত্রে আমরা প্রিয় মাতৃভূমি ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্র পেয়েছি। চূড়ান্ত বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই আমরা পেয়েছি আমাদের পবিত্র সংবিধান যার প্রস্তাবনায় সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এটি অনস্বীকার্য যে, আইনের শাসন সর্বতোভাবে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূিমকা পালনকারী নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রদানের গুরুদায়িত্ব বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওপর ন্যস্ত। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশপদ অর্থাৎ সহকারী জজ পদে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগণকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করা। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশপদে নিয়োগ বা তদ্সংক্রান্ত অন্য কোন বিষয় কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব সংক্রান্ত অন্য যে কোন বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হলে, সে সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উপদেশ প্রদান করা। শিক্ষানবিস সহকারী জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের বিভাগীয় পরীক্ষা আয়োজন করাসহ প্রচলিত আইন বা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৫ বা ১৩৩ অনুছেদের অধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা ২০০৭ এর বিধি ৪ এ কমিশনের একটি নিজস্ব সচিবালয় এবং তা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদানুসারে গত ১০ জানুয়ারি, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচারকের সম্মান ও পদমর্যাদা অসীম। বিচারকরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য মর্যাদাপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। উচ্চ আদালত বাদে অধস্তন আদালতে বিচারক পদে নিয়োগ পেতে হলে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রবেশপদে অর্থাৎ সহকারী জজ পদে পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উক্ত কমিশনের কার্যক্রম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (সার্ভিস গঠন, সার্ভিস পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরণ, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা’ ২০০৭ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রার্থীদের অনুসরণীয় নির্দেশাবলি এবং জ্ঞাতব্য বিষয়সমূহ
১. আবেদনপত্র
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ছাপানো কমিশনের মনোগ্রাম, সিল ও স্বাক্ষর সংবলিত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট ফরমেই শুধু আবেদন করা যাবে। আবেদনপত্র প্রার্থীকে স্বহস্তে পূরণ করতে হবে। উক্তরূপ আবেদনপত্র ব্যতীত কোন আবেদনপত্রের ফটোকপি, অন্য কোনোভাবে প্রস্তুতকৃত ফরমের অনুলিপি বা সাদা কাগজে করা কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
২. শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা
ক.    কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আইন বিষয়ে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির এলএলএম ডিগ্রি।
খ.    অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সিজিপিএ-এর ক্ষেত্রে
১.    বিশ্ববিদ্যালয়ে যেই স্কেলে (যেমন-৪ বা ৫) সিজিপিএ প্রদান করে থাকে সেই সিজিপিএ স্কেলকে ৮০% এর সমান নম্বর ধরতে হবে;
২.    উক্ত নম্বরের অনুপাতে অর্জিত সিজিপিএ-এর নম্বরকে শতকরা নম্বরে রূপান্তর করতে হবে;
৩.    উল্লিখিত পদ্ধতিতে রূপান্তরিত শতকরা নম্বরের ভিত্তিতে নিম্নরূপ বিভাগ/শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে :
নিরূপিত নম্বর ব্যাপ্তি (শতকরা হারে) সমতুল্য শ্রেণি/বিভাগ ৬০% বা তদূর্ধ্ব প্রথম শ্রেণি/বিভাগ ৪৫% বা ততোধিক কিন্তু ৬০% এর কম দ্বিতীয় শ্রেণি/বিভাগ ৩৩% বা ততোধিক কিন্তু ৪৫% এর কম তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ
গ. বিদেশি ডিগ্রি
বিদেশ হতে অর্জিত আইনবিষয়ক ডিগ্রিকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশপদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমানের বলে কোনো প্রার্থী দাবি করলে তিনি তার অর্জিত ডিগ্রির সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্তকরণপূর্বক পরীক্ষার আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। তবে মৌখিক পরীক্ষার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃত ইক্যুইভ্যালেন্স কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত মূল ইক্যুইভ্যালেন্স সার্টিফিকেট ও মার্কশিট প্রদর্শন এবং সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে। উক্ত ইক্যুইভ্যালেন্স সনদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ঘ. পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থী
আইন বিষয়ে স্নাতক অথবা স্নাতক (সম্মান) অথবা এলএলএম পরীক্ষায় অবতীর্ণ কোন প্রার্থী আবেদনপত্র দাখিল করতে পারবেন এবং তাদের আবেদনপত্র নিম্নরূপ শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে গৃহীত হবে:
১.    উক্ত পরীক্ষা আবেদনপত্র দাখিলের শেষ তারিখে বা তৎপূর্বে শেষ হতে হবে।
২.    প্রার্থী উক্ত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক/বিভাগীয় প্রধান/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। বিজেএস-এর মৌখিক পরীক্ষার সময় আইন বিষয়ে উক্ত পরীক্ষায় ন্যূনতম ২য় শ্রেণি/সমমানের গ্রেড অর্জনের প্রমাণস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল/সাময়িক সনদপত্র এবং মার্কশিটের মূলকপি প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়া এগুলোর সত্যায়িত ফটোকপিও কমিশনে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না এবং প্রার্থিতাও বাতিল হবে।
৩.    (১) বা (২) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তের যে কোনটি পালন করা না হলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩. বয়স
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখে অনধিক ৩২ বছর। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট অথবা সমমানের পরীক্ষার মূল সনদপত্র অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হবে; কোন অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. জাতীয়তা ও বিদেশি নাগরিকের সাথে বিবাহ সংক্রান্ত
প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা অথবা বাংলাদেশের ডমিসাইল্ড হতে হবে। তবে প্রার্থী যদি এমন কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করেন অথবা বিবাহ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন, তা হলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৫. কোটা সংরক্ষণ
কমিশনের বিধি অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও অন্যান্য কোটা সংরক্ষিত থাকিবে।
৬. অপসারণ আদেশ/ইস্তফাপত্র/ অনাপত্তিপত্র/ ছাড়পত্র
ক.    সরকারি অফিস বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদেরকে অবশ্যই তাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ/যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ মন্ত্রণালয়/উক্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে দরখাস্ত করতে হবে। এইরূপ প্রার্থীদের মধ্যে যারা প্রিলিমিনারি টেস্ট/লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (ঘঙঈ) জমা দিতে হবে, অন্যথায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না।
খ.    চাকরি হতে অপসারিত (জবসড়াব) হয়েছেন অথবা চাকরি হতে ইস্তফা দিয়েছেন এমন প্রার্থীরাও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে এসব প্রার্থীকে চাকরি হতে অপসারণের আদেশের বা ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে মর্মে আদেশের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে।
গ.    কোন প্রার্থী আবেদনপত্র জমাদানের পর, কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার পূর্বে কোন চাকরিতে যোগদান করলে বা চাকরি হতে ইস্তফাদান করলে বা চাকরি হতে অপসারিত হলে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে উক্ত প্রার্থীকে অবশ্যই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনাপত্তিপত্র (NOC)/ছাড়পত্র/ ইস্তফাপত্র গ্রহণ/অপসারণ আদেশের কপি দাখিল করতে হবে। অন্যথায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না।
৭. স্বহস্তে আবেদনপত্র ও অন্যান্য ফরম পূরণ
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে সংগৃহীত কমিশনের নির্ধারিত আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র, পরিচিতি প্রতিপাদনপত্র ও পত্র যোগাযোগের ঠিকানা সংক্রান্ত ফরমসমূহ প্রার্থী নিজ হাতে পূরণ করবেন এবং আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করবেন।
৮. আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল
ক.    কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্র ভাঁজ না করে একটি যথাযথ মাপের শক্ত কাগজের খামে কমিশন সচিবালয়ে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে হবে। আবেদনপত্র গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের পর কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না;
খ.    আবেদনপত্র সরাসরি/ডাকযোগে/ কুরিয়ার সার্ভিসযোগে পৌঁছানো যাবে;
গ.    সরাসরি দাখিলকৃত বা ডাকযোগে/কুরিয়ার সার্ভিসযোগে প্রেরিত আবেদনপত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শেষ তারিখ ও সময়ের মধ্যে এতে উল্লিখিত ঠিকানায় না পৌঁছাইলে তা গৃহীত হবে না;
ঘ.    যেকোনো পর্যায়ে আবেদনপত্রে কোন ভুল-ভ্রান্তি ধরা পড়লে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হবে;
ঙ.    আবেদনপত্রের সাথে নিম্নলিখিত কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি অ৪ সাইজের অফসেট কাগজে নিম্নবর্ণিত ক্রমানুসারেই দাখিল করতে হবে :
১.    এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের মূল সনদ ও নম্বরপত্র।
২.    আইন বিষয়ে স্নাতক/সম্মান/এলএলএম পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থীর ক্ষেত্রে অবতীর্ণ সনদ।
৩.    আইন বিষয়ে স্নাতক/সম্মান/এলএলএম পরীক্ষা পাসের মূল/সাময়িক সনদ এবং মূল নম্বরপত্র।
৪.    স্নাতক ও তদূর্ধ্ব ডিগ্রি থাকলে এর মূল/সাময়িক সনদ ও মূল নম্বরপত্র।
৫.    প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্র।
৬.    আবেদনপত্রে উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা যেই এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব/জাতীয়তা সনদপত্র।
৭.    জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট।
৮.    অপসারণ আদেশ/ইস্তফাপত্র/ অনাপত্তিপত্র/ ছাড়পত্র (ক্ষেত্রমতে)।
৯.    (অ) প্রার্থী উপজাতীয় সম্প্রদায়ভুক্ত (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট হতে প্রাপ্ত সনদপত্র।
(আ) প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ২৬-০২-০২ তারিখের মুঃ বিঃ মঃ/সনদ-১/প্র-১/২০০২/০২ নং প্রজ্ঞাপন মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইস্যুকৃত সনদপত্র; অথবা ১৯৯৭ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র। এতদ্ভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীর জন্মতারিখ সংবলিত এসএসসি বা সমমানের সনদ/এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাস না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সার্টিফিকেট বা জন্মতারিখ সংবলিত প্রামাণিক দলিল (যেমন-জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি) এবং মুক্তিবার্তা/গেজেট।

আবেদনপত্রের সাথে আরও যাহা
জমা দিতে হবে
১.    প্রবেশপত্র, পরিচিতি প্রতিপাদনপত্র, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও পত্র যোগাযোগের ঠিকানা সংক্রান্তে পূরণকৃত ফরমসমূহ।
২.    আবেদনপত্র দাখিলের অব্যবহিত পূর্বের তিন মাসের মধ্যে তোলা পাঁচ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত রঙিন ছবি (পূরণকৃত আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র ও পরিচিতি প্রতিপাদনপত্র ফরমে চিহ্নিত স্থানে সংযুক্ত করতে হবে)।
৩.    সচিব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অনুকূলে নির্ধারিত কোডে পরীক্ষার ফি জমা করার প্রমাণস্বরূপ চালানের মূল কপি (পূরণকৃত আবেদনপত্র ফরমে চিহ্নিত স্থানে সংযুক্ত করতে হবে)।
বি: দ্র:
ক.    পূর্বে বর্ণিত যেই সকল ক্ষেত্রে সত্যায়িত কাগজপত্র দাখিলের শর্ত আছে সেই সকল কাগজপত্র ১ম শ্রেণির সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।
খ.    পূর্বে বর্ণিত যেই সকল কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে, সেগুলোর মূল কপি মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রদর্শন করতে হবে এবং একসেট সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; অন্যথায় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না এবং প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
গ.    সংযুক্ত যে-কোনো সনদ/নম্বরপত্র-এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
ঘ.    সরবরাহকৃত প্রবেশপত্র এবং পরিচিতি প্রতিপাদনপত্রের ফরমসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে;
ঙ.    প্রার্থীকে আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করতে হবে, নতুবা আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে;
চ.    আবেদনপত্রের কোন ঘর পূরণ না করলে বা নির্দিষ্ট ফি জমা না দিলে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না করলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। আবেদনপত্রের কোন ঘর প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলে উক্ত স্থানে ‘প্রযোজ্য নহে’ লিখতে হবে;
ছ.    আবেদনপত্র এবং অন্যান্য চিঠিপত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ‘সচিব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, ১৫, কলেজ রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০’ ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
৯. ঠিকানা
ক.    আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট ফরমে প্রার্থীর পত্র যোগাযোগের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ঠিকানা পরিবর্তিত হলে নতুন ঠিকানা তৎক্ষণাৎ কমিশন সচিবালয়ের সচিবকে অবগত করাতে হবে;
খ.    প্রার্থী কর্তৃক আবেদনপত্রে উল্লিখিত প্রদত্ত স্থায়ী ঠিকানা যদি ইতঃপূর্বে সার্টিফিকেটে বা অন্যত্র উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা হতে ভিন্ন হয় কিংবা মহিলা প্রার্থীগণের ক্ষেত্রে যদি স্বামীর ঠিকানা ব্যবহার করা হয় সেই ক্ষেত্রে প্রার্থীকে পরিবর্তিত স্থায়ী ঠিকানার স্বপক্ষে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/ওয়ার্ড কমিশনার প্রদত্ত জাতীয়তার সনদপত্র জমা দিতে হবে।
১০. পরীক্ষার ফি
‘সচিব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়’-এর অনুকূলে এতদ্সংক্রান্ত নির্ধারিত কোড নম্বরে ‘পরীক্ষার ফি’ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা এর দায়িত্ব পালনকারী ব্যাংকের যে কোন শাখায় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে মূল চালান আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। চালান ছাড়া অন্য কোন উপায়ে ফি জমা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। মূল চালানটি আবেনদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠার নির্দেশিত জায়গায় সংযোজিত করতে হবে। চালানের মূলকপি পাওয়া না গেলে ও আবেদনপত্রের যথাস্থানে চালান নম্বর উল্লেখ না করলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। এই ফি কোন পরীক্ষার্থীকে ফেরত দেয়া হবে না। আবেদনপত্র ও এর সংযুক্ত ফরমসমূহ এবং লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাসসহ প্রাথমিক, লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার আনুষঙ্গিক তথ্য ও নির্দেশনা সংবলিত পুস্তিকার মূল্য বাবদ একজন প্রার্থীকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত মূল্য প্রদান করতে হবে।
১১. প্রার্থীর ছবি
প্রত্যেক প্রার্থী দরখাস্তের সাথে তার পাঁচ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সংযুক্ত করবেন এবং এই ছবি দরখাস্ত দাখিলের অব্যবহিত পূর্বের তিন মাসের মধ্যে তোলা এবং কোন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। এক কপি প্রবেশপত্রে, এক কপি পরিচিতি প্রতিপাদনপত্রে এবং তিন কপি আবেদনপত্রের যথাযথ স্থানে নির্দেশিতরূপে লাগাতে হবে। ছবি ও যথাস্থানে সত্যায়ন না থাকলে আবেদনপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
১২. প্রবেশপত্র
কমিশন সচিবালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রার্থীর ছবি সংবলিত প্রবেশপত্র ব্যতীত কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। প্রবেশপত্র ডাকযোগে প্রার্থীর নিকট প্রেরণ করা হবে। কোন প্রার্থীর প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে উক্ত প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্রের সাথে যেই ছবি যুক্ত করেছিলেন তার অনুরূপ ছবিসহ একখানা দরখাস্ত সচিব, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, ১৫, কলেজ রোড, রমনা, ঢাকা বরাবর দাখিল করলে তাকে বিধি মোতাবেক একটি ডুপ্লিকেট প্রবেশপত্র প্রদান করা যেতে পারে।
(চলবে)

SHARE