আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম
সরকারের মেয়াদ যত ফুরোচ্ছে অস্থিরতা তত বাড়ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে বর্তমান সংবিধান থেকে একচুল না নড়ার ঘোষণা দেন। একই দিনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি স্পষ্ট জানিয়েছে দিয়েছে, বর্তমান সংবিধানের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে তারা অংশ নেবে না। এতে জনমনে দারুণ আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তাহলে কি সঙ্ঘাত অনিবার্য? জাতীয় পার্টিও বলছে, তারা বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘কোলাবরেটর’ হতে চায় না। যদিও এরশাদ সাহেব নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করতে পারেন কি না এই নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তা ছাড়া নিকট অতীতে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যা, একটি লাশের পরিবর্তে দশটি লাশের ঘোষণা শেখ হাসিনাই দিয়েছেন। এ তো পুরনো কথা। এবার তারই ডিজিটাল সোনালি শাসনামল শুরু হয়েছে বিডিআর বিদ্রোহের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দিয়ে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, খুন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসবের মধ্যে দিয়েই চলেছে আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামল। সর্বশেষ রাজপথে পুলিশ দিয়ে পাখির মতো গণহত্যা, রানা প্লাজার মর্মান্তিকভাবে শ্রমিক প্রাণহানি, আর শাপলা চত্বরের রাতের অন্ধকারে এ দেশের নিরীহ নিরস্ত্র আলেম-উলামাদের রক্তে প্রধানমন্ত্রী নিজের হাত রঞ্জিত করেছেন। সুতরাং বলা যায় সংঘাত, দুর্নীতি, হত্যা, গুম আর খুনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শীর্ষে এবং নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আগের তুলনায় অনেক বেশি পটু এতে সন্দেহ নেই।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পাঁচ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দমতো নেতা নির্বাচন করবে এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু গদিনশিনরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে যত রকম কূটকৈৗশল আছে তার কোনটা করতে দ্বিধা করেন না। সেটি যতই নির্লজ্জ ও জনগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য হোক না কেন। এটা যেন রীতিমতো এখন আমাদের রাজনৈতিক কালচার। বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে এই সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয় সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর। দেশের সকল দল, সুশীলসমাজ! বুদ্ধিজীবী সবাই বলছেনÑ দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট দিনদিন ঘনীভূত হচ্ছে। অনিশ্চয়তার ঘোর অমানিশা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে অক্টোপাসের মতো, যা ১/১১ থেকে ভিন্ন আঙ্গিকের আরেক দানব!! কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক এই সঙ্কটের জন্য দায়ী কেÑ এ কথা সবাই জানে। এ আলোচনা এখন ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। কারণ রাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবের জন্য ২০১০ সালের জুন মাসে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি’ গঠন করা হয়। সেই কমিটি দেশের ‘বিশিষ্ট নাগরিকদের’ সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় করেন, যেখানে প্রায় সকলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান অক্ষত রাখার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত এমনকি সংসদীয় কমিটির লীগ সদস্যরাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে, ২০১০ সালের ৩১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা উল্টে দেন। (নিউ এইজ ১ জুন, ২০১১) পরবর্তীকালে, ২০১১ সালের ৩০ জুন, সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান উপড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় সংবিধান পরিবর্তন করা হয়। এই বিধানটি উপড়ে ফেলার প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা দেশের সকল বিরোধী দল, ক্ষমতাসীন জোটভুক্ত প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, তার আপন দলের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ, সমাজের ‘বিশিষ্ট’ নাগরিকবৃন্দ এবং সর্বোপরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আপন মত প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই জন্য অধ্যাপক লিকক স্বৈরতন্ত্র ও গণতন্ত্রে ভাগ করেছেন। তার মতে সরকার যখন জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং জনকল্যাণকর কাজ করে তখন তাকে গণতান্ত্রিক শাসন বলা হয়। কিন্তু যখন সমগ্র জনসাধারণের কথা না ভেবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য দেশ শাসন এবং জনমতকে উপেক্ষা করে তখন স্বৈরতন্ত্র বলা হয়। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক ছদ্মাবরণে এখন সেই স্বৈরতান্ত্রিকতারই আরেক রূপ।
কিন্তু গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এমন ভয়ঙ্কর দানবীয় রূপ অনেক পুরনো। বরং দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একক দাবিদার এই দলটি ক্ষমতার পালাবদলে দ্রুতগামী গাড়ির মতো ব্যালেন্স হারিয়েছে অনেকবার। ক্ষমতা হাতে পেলেই এই দলটি একক কর্তৃত্ব কায়েম করতে গিয়ে ‘ওয়ানম্যান ও ওয়ানপার্টি’ এই সূত্রটির প্রয়োগ করেছে বেশি। ফলে দেশ হয়েছে গণতন্ত্রহীন আর দলের মধ্যে ব্যক্তি হয়ে পড়েন ক্ষমতার একক নায়ক তথা স্বৈরাচারী। তার মধ্য দিয়ে জাতির কাঁধে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল একদলীয় বাকশাল। ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের মতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয় নেতাকে নামিয়ে আনল মানুষের ভালোবাসার শূন্যের কোটায়। ‘শেখ মুজিব যখন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন তখন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে পিটার গিল লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দেশ থেকে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকু লাথি মেরে ফেলে দিয়েছেন। মাত্র এক ঘণ্টা স্থায়ী অধিবেশনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে শেখ মুজিবকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অনেকটা নিঃশব্দে গণতন্ত্রের কবর দেয়া হয়েছে। বিরোধীদল দাবি করেছিল, এ ধরনের ব্যাপক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের ব্যাপারে আলোচনার জন্য তিন দিন সময় দেয়া উচিত। জবাবে সরকার এক প্রস্তাব পাস করল যে, এ ব্যাপারে কোনো বিতর্ক চলবে না। … শেখ মুজিব এমপিদের বললেন, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র ছিল ‘ঔপনিবেশিক শাসনের অবদান’। তিনি দেশের স্বাধীন আদালতকে ‘ঔপনিবেশিক ও দ্রুত বিচার ব্যাহতকারী’ বলে অভিযুক্ত করলেন। আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের দাবি যে কতটা মেকি, সেটির প্রমাণ তারা এভাবেই সেদিন দিয়েছিল। দলটির নেতাকর্মীরা সেদিন দলে দলে বাকশালে যোগ দিয়েছিল, এরকম একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের বিবেকে সামান্যতম দংশনও হয়নি। বিদ্যমান ‘নৈর্বাচনিক স্বৈরতন্ত্র’ কিংবা ‘সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র’ কিভাবে একজন শীর্ষস্থানীয় নির্বাচিত রাজনীতিককে চরম অগণতান্ত্রিক আচরণ করার জন্য এমনকি আইনসিদ্ধ পথ উন্মুক্ত রাখে, তার একটি জ্বলজ্বলে উদাহরণ হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সিদ্ধান্তে, দেশের পুরো জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করার সাংবিধানিক বিধান বাতিল করা। (সূত্র : নৈর্বাচনিক স্বৈরতন্ত্র গণতন্ত্রেও সংগ্রাম, নূরুল কবীর)
কিন্তু, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভেতর দিয়ে ক্ষমতা লাভের পর শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। কিন্তু জাতীয়তাবাদী দলসহ দেশের সকল ক্ষমতাবহির্ভূত সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ওই দিকে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটি অগণতান্ত্রিক, কিন্তু দেশে বিদ্যমান প্রতিকূল রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে আরো দু’টি সাধারণ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। তা ছাড়া ক্ষমতাসীন জোটের প্রায় সকল দলগুলোও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চান। উল্লেখ্য এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তক জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম নিজেই। এই বিধান প্রবর্তনের জন্য জামায়াত আওয়ামী লীগের সাথে আন্দোলন করে বিএনপি থেকে এই দাবি আদায় করে। এখন আবার সেই দাবি আদায়ে বিএনপির সাথে রাজপথে আন্দোলন করছে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোট। ভাগ্যের নির্মমতা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার জোরে কেয়ারটেকার সরকারের রূপকার অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে, আর জামায়াতকে রাজনীতির ময়দান থেকে ঝেড়ে ফেলতে বাতিল করেছে তাদের নিবন্ধন। আর কেয়ারটেকার দাবিতে জামায়াতকে সব সময় থাকতে হচ্ছে রাজপথের আন্দোলনে কখনো এই জোট আর কখনো ঐ জোটে। কিন্তু সরকারের দমন-নিপীড়ন আর গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলনে রাজপথে প্রাণপণ লড়াই করে জামায়াত চলে এসেছে রাজনীতির প্রথম কাতারে। তারা হয়ে উঠছে জনপ্রিয় ও গণমানুষের সংগঠনে।
কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অটল মনোভাব যে নতুন সঙ্কট তৈরি করেছে, তা অদূর ভবিষ্যতে গোটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করে দুলতে পারে। দেশের অর্থনীতিকে করে তুলতে পারে বিপর্যস্ত। ক্ষমতা চলে যেতে পারে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতে। আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতা-পরববর্তী এ দেশের গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে অনেকবার। গণতন্ত্রের বিপরীত শাসন একনায়কতন্ত্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভিউম্যানের মতে, ‘একজন বা কতিপয় ব্যক্তি যখন দেশের সকল প্রকার শাসন ক্ষমতা অধিকার এবং তা প্রতিরোধহীন ব্যবহার করে তখন তাকে একনায়কতন্ত্র বলে অভিহিত করা যায়।’ তাই বিশেষ কোন দলের একনায়কতান্ত্রিক শাসনও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এ সরকার স্বেচ্ছাচারী এবং জনমতের কোনো গুরুত্ব প্রদান করা হয় না। এটি একদেশ, একনেতা এবং এক দলে (ঙহব ংঃধঃব, ড়হব ষবধফবৎ ধহফ ড়হব ঢ়ধৎঃু) বিশ্বাসী। বিরোধী দলের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগ এই দলটি তার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই চেতনাকে লালন করে আসছে।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে গলাবাজি করে আসছে অত্যন্ত জোরেশোরে। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের জন্য জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোকে দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ‘গ্যারান্টিপত্র’ দেয়ার জোর তদবির চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বাংন কি মুন দুই নেত্রীর সাথে টেলিফোনে আলাপও করেছেন। জানা যাচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন, এই তদবিরে নেপথ্যে ভূমিকা রাখছে আমাদের প্রতিবেশী একটি প্রভাবশালী দেশ। আওয়ামী লীগের কয়েকজন উপদেষ্টা আর বিরোধী দলের সংস্কারপন্থী এবং বঞ্চিতদের কেউ কেউ। তাদেরকে ভয়ভীতি আর লোভ দেখিয়ে কাজ করাতে চায় সরকার। তাদের বড় দায়িত্ব হচ্ছে বিরোধী দল যাতে সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলনে না যায় তার জন্য শত-সহস্র পরামর্শ দেয়া। বিএনপি আন্দোলন না করেই যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তাহলে খামাখা শক্তি ক্ষয় করে লাভ কী এই কথা বোঝানো। কিন্তু আন্দোলন নয়, বরং নির্বাচন আর সরকার গঠন, এই এজেন্ডা বিরোধী জোটের হাতে তুলে দেয়া। সরকারের এই বড়ি যদি বিরোধী দল সত্যিই একবার গিলে বসে, তাহলে তা হবে ১৮ দলীয় জোটের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
অনেকেই আওয়ামী লীগকে ১৯৯৬ সালে বিএনপির ১৫ ফেব্রুয়ারির ওই নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন বিরোধী দলবিহীন এবং সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন হলে তা কোনো মানদণ্ডই-ই ঘরে-বাইরে কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমার মনে হয় এই কথা বিএনপির ক্ষেত্রে সত্য হলেও আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে তা হবে ‘কামারের দোকানে কুরআন তেলাওয়াত’ ছাড়া অন্য কিছু নয়। কারণ আওয়ামী লীগ এমনই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল যারা দেশী-বিদেশী, নিজ দল-কিংবা বিরোধী দল, মিডিয়া, সুশীল কিংবা মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্বের প্রভাবশালী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কাউকেই তোয়াক্কা করে না, যদি তা আওয়ামী লীগের ইচ্ছার বাইরে যায়। বিগত সাড়ে চার বছর সবার সমালোচনাকে শেখ হাসিনা এবং তার দলবাজ মন্ত্রীরা শুধু উপেক্ষাই করেনি, বরং সমালোচনাকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও দেশকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ভাষায় তাচ্ছিল্যপূর্ণভাবে অপমান করতে দ্বিধা করেননি। অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে মামলা-হামলা, আদালত, আর মহান সংসদের অত্যন্ত তির্যক আলোচনা করছে আওয়ামী লীগ। ফলে যিনি একবার আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেছেন তিনি দ্বিতীয়বার সমালোচনা করার সাহস হিম্মত দুটোই হারিয়েছেন। এই হলো আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগ যদি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের চেয়ে আরো কম ভোটার নিয়ে কোনো দলের অংশগ্রহণ ছাড়াও একটি নির্বাচন করতে পারে তাহলে তার দলীয় ক্যাডার, আর রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকবে যেকোনোভাবেই হোক। আসলে আওয়ামী লীগের তুলনা আওয়ামী লীগ নিজেই। সুতরাং ১৮ দলীয় জোট বাকি গণতন্ত্রমনা দলগুলোকে সাথে নিয়ে এই ফ্যাসিস্ট, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, গণতন্ত্রবিরোধী, সরকারের হাত থেকে দেশমাতৃকা রক্ষার একদফার লড়াইয়ে বিজয় অর্জন ছাড়া জনগণের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা আছে কি?
লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply