আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা । ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান

আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা । ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানছাত্ররাজনীতির ভূমিকা

ছাত্রজীবন প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে একজন ছাত্র নিজেকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। একজন কৃষক ভালো বীজ বপন করলেই ভালো ফসল আশা করতে পারে। তেমনি একটি আদর্শিক শিক্ষাব্যবস্থা একটি নৈতিকতাসম্পন্ন জাতিগঠনে ভূমিকা রাখবে। ঠিক তেমনিভাবে যে ছাত্র ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে যথার্থ করে তৈরি করতে পারবে, কর্মজীবনে সেই কেবল সফলতা অর্জন করতে পারে। একজন মেধাবী ছাত্র আগামী দিনের সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে পারে। একেক জন ছাত্রের একেক রকমের ইচ্ছা থাকতে পারে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে কর্মজীবনে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তবে যারা দেশের সমৃদ্ধির জন্য মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চায়, তাদেরকে ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার ফলে একজন ছাত্র ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি- বেসরকারি চাকরি যেখানেই কর্মজীবন শুরু করুক না কেন সেখান থেকেই অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে দেশের সমৃদ্ধির জন্য জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেন। এ জন্যই ছাত্রজীবনে প্রত্যেকটা ছাত্রের আদর্শিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। একটা সময় ছিল যখন ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ করত দেশের সকল মেধাবী ছাত্র, দেশ ও জনগণের সেবার প্রত্যয়ে সেই সকল তরুণ মেধাবী ছাত্র ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতেন। সেই জন্যই বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক গোলাম আযমের সূচনা অবিস্মরণীয়, এ আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছিলেন আমাদের সবার প্রিয় রফিক, জব্বার, শফিক ও বরকতের মত ছাত্র নেতারা। ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন। পরবর্তীতে ’৯১-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এদেশের ছাত্ররাজনীতির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ভূমিকা। বর্তমানেও বাংলাদেশের মূল রাজনীতি সাবেক ছাত্রনেতারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ছাত্ররাজনীতি আমাদের দেশ ও জনগণের সামনে দেখা দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। জনগণ এখন আর ছাত্র নেতাদেরকে আগের মতো সম্মান করেন না। ছাত্ররাজনীতিকেও জনগণ সহজভাবে ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে না। জনগণ ছাত্ররাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। এর কারণ কী? এর প্রধান কারণ হলো নৈতিকতাবিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থা। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন কারণ। অছাত্রের দ্বারা ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণ কিছু ছাত্রসংগঠনের অযোগ্য, মেধাহীন, বিবেকহীন নামধারী ছাত্র নেতাদের অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ টেন্ডারবাজি, মাদক সেবন, ধর্ষণ ইত্যাদি। এসব অপকর্ম বন্ধ করতে পারলে এবং ইসলামী নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে ছাত্ররাজনীতির সোনালি অতীত ফিরে আসবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির অবস্থা

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে একজন ছাত্র নিজের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ, নিজেকে সন্ত্রাসী বা চোরাকারবারির বা অন্যের হাতের ক্রীড়নক হিসেবে গড়ে তোলে। বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছাত্রদের সাধারণ মানুষ আদর্শহীন, চরিত্রহীন, অর্থলোভী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, মূর্খ সর্বোপরি সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ মনে করেন। কিন্তু এ কথা সত্য এবং ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত যে, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রাথমিক ভিত তৈরি হয়েছে এবং আদর্শবান ছাত্র নেতারাই রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তথাপি সাধারণ মানুষ ছাত্ররাজনীতিকে পছন্দ তো দূরের কথা রীতিমতো ঘৃণার চোখে দেখেন। বর্তমানে যে সংগঠনগুলো ইসলামী ভাবধারা লালন করে। আদর্শ রয়েছে একমাত্র সেই সংগঠনগুলোর প্রতি। এ ভাবধারার প্রতি সাধারণ মেধাবী তরুণ ছাত্রদেরকে আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না, এর মূল কারণ রাষ্ট্রীয় শক্তির ভয়ভীতি ও পশ্চিমা সংস্কৃতি। এ ছাড়াও অযোগ্য নীতিহীন প্রতারক মূর্খ ছাত্রনেতাদের অনৈতিক কার্যকলাপের ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে কিছু ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এমন কিছু দুর্বৃত্তের হাতে যাদের বিবেকবোধ বলতে কিছুই নেই। ন্যূনতম আদর্শের ধারে কাছেও নেই। বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি মানেই রাজনৈতিক কিছু কুলাঙ্গার দলীয় লেজুড়ভিত্তি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, কালো টাকার ছড়াছড়ি, নারী নির্যাতন মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, বড় ভাইদের নেতৃত্বে হল দখলের পাঁয়তারা। এই যদি হয় ছাত্ররাজনীতির অবস্থা তাহলে কিভাবে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি সাধারণ ছাত্রদের আকৃষ্ট করা যাবে। জনগণই বা কিভাবে ছাত্ররাজনীতিকে সহজভাবে গ্রহণ করবে। আজকে যারা ছাত্ররাজনীতি করেছে বা নেতৃত্ব দিচ্ছে ইতিহাস সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই নেই, কারণ দীর্ঘ সময় এদেশের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা হয়নি। পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষক বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

বিশ্বরাজনীতিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা

বিশ্বরাজনীতিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকাও অপরিহার্য। অথচ পাঠ্যপুস্তকে এখন ছাত্ররাজনীতির এ ইতিহাসও একমুখী করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে উপমহাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে আমাদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশে শতকরা ৮০ জন মুসলিম জনসংখ্যা বাস করে। সেখানে উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রবক্তা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী (রহ), শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহ), অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা আবুল কালামের মতো মানুষের ইতিহাস পড়ানো হয় না। আমাদের দেশে পড়ানো হয় সমাজতন্ত্রের নেতৃত্ব সম্পর্কে যেমন রাশিয়ার লেনিন, চীনের মাও সেতুং, চিলির আলেন্দে, ভিয়েতনামের হু চি মিন, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, তুরস্কের কামাল আতার্তুক, কিউবার ফিদেল ক্যাস্ট্রো, আফ্রিকার মেন্ডেলা, ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাতের ইতিহাস কাহিনী ও রাজনৈতিক ইতিহাস পড়ে। যার কারণে নির্লোভ নেতৃত্ব এখন আর গড়ে উঠছে না। বর্তমান ছাত্ররা বিশ্ব নেতা হজরত মুহাম্মদ সা:-এর মাদানি ও মক্কি জীবন সম্পর্কে অবগত নয়। অথচ বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সা) কিভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন তথা আইয়ামে জাহেলিয়াতপূর্ণ একটি সমাজকে মাত্র ২৩ বছরে একটি শান্তির আবহতে পরিণত করেছিলেন। উনি এমন কিছু মানুষ তৈরি করেছিলেন সে মানুষগুলো আজও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত। এ মানুষগুলোই পরবর্তীতে একটি সোনালি সমাজ তথা রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এ শ্রেষ্ঠ মানুষের ইতিহাস আমাদের ছাত্রসমাজের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। তাই আজও বিশ্ব তাঁদের কাঙ্ক্ষিত পৃথিবী গড়তে পারেনি।

’৭১-এর পরবর্তী ছাত্রসমাজের অবস্থান

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কেও ছাত্ররা জানে না সঠিক ইতিহাস। ’৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধে বামগোষ্ঠী যে ভারতের গোলামি করার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ধ্বংসের কাজ করেছেন। আর সেজন্য এ প্রজন্মের ছাত্রসমাজ জানে না কে দেশের শত্রু, কে দেশপ্রেমিক, কাকে কতটা সম্মান দেয়া উচিত। সুতরাং ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অশনিসঙ্কেত কোনো অস্বাভাবিক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমাদের দেশের তথাকথিত রাজনীতি বিরোধের বিবেকহীন অনৈতিক কার্যকলাপের ধারাবাহিক ফল হিসেবেই বর্তমান ছাত্ররাজনীতির এই সঙ্কটাপন্ন অবস্থা। তবে আশার কথা হলো এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও দেশপ্রেমিক ছাত্রসংগঠন ইসলামী ধারা লালন করে একটি বৃহৎ গোষ্ঠী রয়েছেন। যদিও তারা সংখ্যায় কম তথাপি তাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণ মেধাবী ছাত্রসমাজ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের রক্তচক্ষু, ইতিহাস বিকৃতকারীদের হুঙ্কার, জঙ্গিবাদের উত্থান ইত্যাদি উপেক্ষা করে অনৈতিক কার্যকলাপ ত্যাগ করে ইসলামী ধারার এ জনগোষ্ঠী পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। হবে এটাই জাতির প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। রাতের আঁধার যতই গভীর হোক না কেন সকালের সূর্য তো অবশ্যই উদিত হবে। আমাদের বিশ্বাস নির্লোভ, আপসহীন ত্যাগের মানসিকতাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্ব অচিরেই ছাত্ররাজনীতি সুষ্ঠু ও সঠিক ধারায় ফিরে আসবে আর তখনই ছাত্ররাজনীতির প্রতি জনগণ আস্থাশীল হবে। ছাত্ররাজনীতি দেশের সমৃদ্ধি, জনগণ ও ছাত্রসমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে এবং অতীতের মতোই বিশ্বমানের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা

ইন্দো-মার্কিন তথা পরাশক্তির মোকাবেলা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের ছাত্রসমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বিশেষ করে আবারো স্মরণ করতে হয় ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি আন্দোলনেই ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজও ছাত্রসমাজের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রসমাজের কাছে আহবান- ছাত্রসমাজ জেগো উঠো। তোমাদের বোন ফেলানীর কাঁটাতারে ঝুলন্ত মৃতদেহের প্রতিশোধ নাও, পিলখানায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারে হত্যার বদলা নাও, দেশের নিমতলী, রানা প্লাজা, চকবাজারের ট্র্যাজেডির মত দুর্ঘটনা রোধ কর। দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোকে চাঁদাবাজ, অশ্লীলতা, মাদকমুক্ত কর। তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা তোমরা আমাদের মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, অশ্লীলতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বিভাজনমুক্ত, ধর্ষণমুক্ত, সুজলা সুফলা সুখীসমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলো।
সর্বোপরি বলতে চাই- আমাদের ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অস্তমিত হতে পারে না। সেই কুসুমকুমারী দাসের কবিতা আর্দশ ছেলে কবিতা থেকে বলতে চাই- আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। মুখে হাসি বুকে বল তেজে ভরা মন/ মানুষ হইতে হবে এই যার পণ/ বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান। নাই কি শরীরে তবে রক্ত মাংস প্রাণ/ হাত পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়/ চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয়?
সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচনের (ডাকসু) মাধ্যমে বর্তমান সরকারি দল যে অপরাজনীতির খেলা দেখালো। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রসমাজকে বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ নিয়ে আরো অনেক ভাবতে হবে। অপরাজনীতির কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ছাত্রসমাজকেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করা চলবে না। ছাত্রসমাজের কার্যকর ভূমিকাই এ জাতিকে গোলামির জিঞ্জির থেকে মুক্ত করতে পারে। এ দেশের মজলুম জনগণ ফিরে পেতে পারে তাদের সোনালি ইতিহাস।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, প্রেরণা

SHARE

Leave a Reply