আপনার উপশাখা কেমন আছে? -রাহাত বিন সায়েফ চৌধুরী

“সংগঠনকে যদি একটি দেহের সাথে তুলনা করা হয়, তবে উপশাখা হচ্ছে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যদি বলেন দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে ব্রেইন বা মগজ, তবে উপশাখা হচ্ছে সেই ব্রেইন। যদি বলেন, দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট, তবে উপশাখা হচ্ছে হার্ট। আপনি ফুসফুস, কিডনি বা লিভার যাই বলেন, সংগঠনের জন্য উপশাখা তাই।”
– আমীরে জামায়াত

আমাদের দাওয়াতি কাজের মূল ক্ষেত্রই উপশাখা। সাধারণ ছাত্র ও কর্মীদের নিয়ে সব মৌলিক প্রোগ্রাম উপশাখায় হয়। আদর্শ শাখার জন্য যেমন আদর্শ থানা প্রয়োজন, আদর্শ থানার জন্য প্রয়োজন আদর্শ ওয়ার্ড, আর একটি আদর্শ ওয়ার্ডের জন্য চাই আদর্শ উপশাখা। একটি শাখার মজবুতি, সক্রিয়তা, গণভিত্তি ইত্যাদি নির্ভর করে তার উপশাখার উপর। যে শাখার উপশাখাগুলো যত বেশি সক্রিয়, সে শাখা তত বেশি মজবুত। সংগঠন যদি একটি চারতলা বিল্ডিং হয়, তবে উপশাখা হচ্ছে এর নিচতলা বা ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে সে বিল্ডিং কি কখন মজবুতি অর্জন করতে পারবে?

উপশাখা ফাংশন না করলে কী হয়?
উপশাখা ফাংশন না করলে অনেকগুলো সমস্যা হতে পারে, যা আমরা অনেক আলোচনায় শুনেছি ও পড়েছি। এখানে প্রধান তিনটি সমস্যা নিয়ে সংক্ষেপে (আকলমান্দসে ইশারা কাফি হে) আলোচনা করা হলো।
নিচের কাজ উপরে চলে আসে : একটা ওয়ার্ডের উপশাখা যদি ফাংশন না করে, তবে সেই ওয়ার্ডকে উপশাখার কাজ বাস্তবায়ন করতে হয়। তখন থানাকে আঞ্জাম দিতে হয় ওয়ার্ডের কাজ, তাহলে থানার কাজ তখন কে করবে? তখন আসলে কেউই তার কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। দশটা উপশাখার কাজ একটা থানা কখনোই করতে পারে না (দশের লাঠি একের বোঝা)। যে কাজ যেখানে হওয়ার কথা সে কাজ সেখানে না হলে, সেটা অন্যের জন্য বোঝা হয়ে যায়। এ জন্য যে কাজ করে, তাকে অনেক বেশি চাপ নিতে হয় এবং নিজের দায়িত্বের বাহিরে গিয়ে জবাবদিহিতা করতে হয়। তখন কেউই যথাযথভাবে নিজের কাজ আঞ্জাম দিতে পারে না। একটা উপশাখা যদি সক্রিয় না থাকে, তবে উপশাখার মৌলিক চারটি প্রোগ্রাম, বন্ধু বৃদ্ধি, সমর্থক বৃদ্ধি, কর্মী বৃদ্ধিসহ সকল কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আর এসকল কাজ বাধাগ্রস্ত হলে বাধাগ্রস্ত হয় মানোন্নয়ন, মান সংরক্ষণ এবং যোগ্য দায়িত্বশীল তৈরি। সংগঠনকে যদি আমরা একটি গাড়ির সাথে তুলনা করি, তবে উপশাখা হচ্ছে এর চাকা। গাড়ির চাকা যদি পাঙ্চার হয়, তবে ধাক্কাধাক্কি করে কখনোই গাড়িকে তার প্রকৃত গতিতে চালানো সম্ভব না। ঠিক তেমনি উপশাখাকে গতিশীল না করে, সংগঠনকে গতিশীল করা অসম্ভব। ২০২০ সালে থানা দায়িত্বশীলদের একটা প্রোগ্রামে আমীরে জামায়াত আফসোস করে বলেছেন, “জীবনের সব চাকা ঘুরে, শুধু উপশাখার চাকা ঘুরে না!”

জনশক্তির কাক্সিক্ষত মান নিশ্চিত হয় না : একজন কর্মী বা সাথী যদি তার উপশাখায় দাওয়াতি কাজ, সামষ্টিক পাঠ, সাধারণ সভা, কুরআন তালিম, আলোচনাচক্র, কর্মী বৈঠকে নিজে অংশগ্রহণ করে বা অন্যদের করায়। এর পাশাপাশি তার উপশাখা দায়িত্বশীল বৈঠকের রিপোর্ট পেশ করে সাথী বা ওয়ার্ড দায়িত্বশীল হয়, তবে সেই সাথীর মান, আর এসব ছাড়া যে মান হবে, সেটা কখনোই সমান হতে পারে না। যে সকল বিষয় একজন জনশক্তির হাতে কলমে শেখার কথা, সেটা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে শিখিয়ে সেই মান আশা করা অবান্তর। আমাদের জনশক্তির মান কমা এবং নিষ্ক্রিয়তার অন্যতম একটি কারণ উপশাখার নিষ্ক্রিয়তা। একজন দায়িত্বশীল উপশাখার কাজ না শিখলে, ওয়ার্ডের কাজ কিভাবে করবেন? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না পড়ে কেউ কি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভালো করতে পারে? উপশাখা সংগঠনের প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনশক্তির কাজ শেখার ক্ষেত্র। যার যেখানে যা শেখার কথা, তাকে সেটা সেখানেই শিখতে দিতে হবে। যদি কেউ সেটা শেখারই সুযোগ না পায়, তবে সে দায় কার?
জনে জনে দাওয়াত পৌঁছাবে না : তাছাড়া শুধু ওয়ার্ড-কেন্দ্রিক মানোন্নয়ন হলে দেখা যায়, এক জায়গা থেকে (এক এলাকা বা একই ডিপার্টমেন্ট) সকল মানোন্নয়ন হয়ে যায়। মানোন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হয় না, বিধায় সংগঠনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মানোন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি উপশাখা থেকে মানোন্নয়ন করতে হবে। সব উপশাখা থেকে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করলে সব গ্রাম, পাড়া বা মহল্লা, শ্রেণী ও ডিপার্টমেন্টে মানোন্নয়ন হবে। সংগঠনের বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ভিত্তি মজবুত হবে এবং সাধারণ ছাত্রের কাছে দাওয়াত পৌঁছাবে। যে কাজ একটা থানার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়।
এতক্ষণে হয়তো আপনারা বুঝে গেছেন উপশাখাকে সংগঠনের রিক্রুটিং ইউনিট, সংগঠনের বিল্ডিং ব্লক, সংগঠনের ভিত্তি বা সংগঠনের প্রাণ কেন বলা হয়। গত কয়েক বছর ধরে কেনইবা কেন্দ্রীয় সংগঠন তার স্লোগানে ‘উপশাখা মজবুতীকরণ’কে গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। আসলে উপশাখা ছাড়া সংগঠনের স্ট্রাকচার (শাখা>থানা>ওয়ার্ড) এবং জনশক্তির মান (সদস্য>সাথী>কর্মী) কোনোটাই ঠিক রাখা সম্ভব নয়। উপশাখা হচ্ছে সংগঠনের শেকড়। শেকড় দেখা যায় না কিন্তু ছোট ছোট শেকড়ের উপর ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে বিশাল বিশাল গাছ। যদি এই শেকড় দুর্বল হয়ে যায়, তবে বিশাল গাছও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। উপশাখার গুরুত্ব এখনই উপলব্ধিতে না নিলে, সামনে আমাদের ‘বিল্ডিং’ ধসের অথবা গাছ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

উপশাখা সক্রিয় করা যায় কিভাবে?
উপশাখা সক্রিয় করার জন্য আমাদের প্রথমে বিশ্বাস করতে হবে যে, চাইলেই সকল উপশাখা সক্রিয় করা সম্ভব। যেখানে আমাদের উপশাখা ছিলো, সেই জায়গাটাতো এখনো আছে। শুধু সেখানে আবার নতুন করে ঘর বাঁধতে হবে, ভাঙাকেল্লায় আবার নিশান উড়াতে হবে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ওভ ুড়ঁ ভধরষ ঃড় ঢ়ষধহ, ুড়ঁ ঢ়ষধহ ঃড় ভধরষ! আমরা বলি, ওভ ুড়ঁ ভধরষ ঃড় ফৎবধস, ুড়ঁ ফৎবধস ঃড় ভধরষ “আপনি যদি স্বপ্ন দেখতেই ব্যর্থ হন, তাহলে আপনি ব্যর্থ হওয়ারই স্বপ্ন দেখছেন।” অর্থাৎ উপশাখাকে নিয়ে প্রথমে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। তার পরে একটা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা আমাদের উপশাখা সক্রিয় করবোই (ইনশাআল্লাহ)। এরপর ছয় মাস-ছয় মাস করে, এক বছরের একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রয়োজনে উপশাখা মজবুতীকরণের বছর ঘোষণা করা যেতে পারে (এখন আর সপ্তাহ বা মাসের কর্মসূচিতে সকল উপশাখা সক্রিয় করা কঠিন)। এজন্য আমাদের যে সকল উদ্যোগ নিতে হবে-

তত্ত্বাবধান : উপশাখাকে দ্বিমুখী তত্ত্বাবধানের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা সব উপশাখায় দায়িত্বশীল দিতে না পারলেও মোটামুটি সব ওয়ার্ডে আমরা দায়িত্বশীল দিতে পারছি (আলহামদুলিল্লাহ)। ধরি, একটা ওয়ার্ডে চারটি উপশাখা আছে। এখন সেই ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে ছয় মাসের জন্য দুইটি উপশাখা সক্রিয় করার দায়িত্ব নিতে হবে (যদি উপশাখা পরিচালনা করার মতো আর কোনো সাথী/কর্মী না থাকে)। এর পাশাপাশি শাখার একজন সদস্যকে ঐ দুটি উপশাখা তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিতে হবে। সদস্য বৈঠকে যার যার তত্ত্বাবধানকৃত উপশাখা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। আসলে কেউ যদি উপর থেকে নিচে পড়ে যায়, তবে আমাদেরকে একটু নিচে নেমে তাকে হাত বাড়িয়ে উঠিয়ে আনতে হয়, তাই না? উপশাখাকে উঠিয়ে আনার জন্য তাই আমাদেরকেও একটু নিচে নামতে হবে।

যে কাজ করতে হবে: উপশাখা দায়িত্বশীলদের (যারা উপশাখাকে সক্রিয় করার কাজ করবেন) কাজ থাকবে নির্দিষ্ট এবং কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত প্রতি মাসে তাদের কাজ হবে, চার সপ্তাহে উপশাখার চারটি মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা। প্রতি সোমবার উপশাখা থেকে গ্রুপ বের করা এবং মাসে অন্তত একজন কর্মী, একজন সুধী (এক্ষেত্রে ওয়ার্ডের কিছু সুধী উপশাখায় ভাগ করে দেয়া যেতে পারে) ও দুই-তিনজন সমর্থক বৃদ্ধি করা। দ্বিতীয়ত অবশ্যই একটা উপশাখা-খাতা (কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত) মেন্টেইন করা। তৃতীয়ত ছয় মাসে একজন সাথী প্রার্থী ও একজন সাথী বৃদ্ধি করা এর পাশাপাশি অন্তত ১০-১৫টি বই নিয়ে একটা পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। আর এভাবে করতে পারলে, ছয় মাস পরে একটা উপশাখায় ১২-১৮ জন সমর্থক, ৬ জন ভালো মানের কর্মী, একজন সাথী প্রার্থী ও একজন সাথী, একটি পাঠাগার এবং ৪-৫ জন সুধী হয়ে যাবে (কাজ অনেক বেশি মনে হচ্ছে? অ্যাকশন প্ল্যান দেখলে ইনশাআল্লাহ, সহজ হয়ে যাবে)। মনে রাখবেন উপশাখার কর্মীদের সক্রিয় রাখতে ও মানোন্নয়ন করতে প্রতি সোমবার তাদেরকে নিয়ে দাওয়াতি কাজে বের হওয়ার বিকল্প নেই। সর্বোপরি মাত্র ছয় মাসে একটা সক্রিয় উপশাখা পাওয়া যাবে। তার পরের ছয় মাস ঐ ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিকে অন্য দুইটি উপশাখা সক্রিয় করার দায়িত্ব নিতে হবে এবং সদস্যদের মধ্যে নতুন করে তত্ত্বাবধান ঠিক করে দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন সক্রিয় হওয়া উপশাখা দুটিও নিজেদের মতো কাজ করবে। এভাবে যদি করা যায় তবে, এক বছরেই ৪টি উপশাখা সক্রিয় হয়ে যাবে। তাহলে বছর শেষে একটা ওয়ার্ডে আমরা ৬ জন সাথী (প্রথম ছয় মাসে দুইজন এবং পরের ছয় মাসে চারজন), ৬ জন সাথী প্রার্থী, ১৮ জন কর্মী, ১০-১২ জন সুধী, ৪টি পাঠাগার ও ৩৬-৫৪ জন সমর্থক বৃদ্ধি করতে পারবো। এর পাশাপাশি অনেকগুলো মৌলিক প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন হয়ে যাবে (ইনশাআল্লাহ)।
যদি আমরা প্রতিটি থানার সবগুলো উপশাখা সক্রিয় করতে পারি, তবে আমাদের শাখার বার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো সমস্যাই হবে না। ওয়ার্ড ও থানাগুলো তখন নিজেদের কাজে মনোযোগ দিতে পারবে, জনশক্তি তখন হাতে কলমে কাজ শিখতে পারবে এবং মান নিশ্চিত করে মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। গাড়ি তার নিজের চাকার উপর ভর করে চলবে, কেউ ধাক্কাতে হবে না। তখন যোগ্য দায়িত্বশীল তৈরি হবে সহজেই। উপশাখার কাজে কিন্তু প্রশাসনিক বাধাও তেমন আসে না। তাই একটা নীরব বিপ্লব হয়ে যাবে কেউ টেরও পাবে না। “ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল।”
উপশাখা সক্রিয় করার এক্সিকিউটিভ পরিকল্পনা:
বিঃ দ্রঃ ষাণ¥াসিক পরবর্তী মাসে ১, ২ ও ৩ নং কাজ আবার করা।
মনে রাখবেন বিপ্লব যদি করতে হয়, সেটা সূচনা করতে হবে উপশাখা থেকেই। যেমন একটা বিশাল বটবৃক্ষের সূচনা হয় একটা ছোট্ট বীজ থেকে। সেই বীজ হয়তো বহন করে নিয়ে এসেছে কোন এক ছোট্ট পাখি।

মাত্র কয়েক বছর পরে সেই বটবৃক্ষেই আশ্রয় নেয় শত শত ছোট্ট পাখি, আবার সেই পাখিগুলোই বহন করবে আরো হাজার হাজার বীজ! আমরা কি সেই পাখি হতে রাজি আছি, যে পাখি তার ঠোঁটে বহন করে নিয়ে আসবে একটি ছোট্ট উপশাখা, যেখানে আশ্রয় নেবে ভবিষ্যতের কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান আর মীর কাসেম আলী। আমাদেরকে আমাদের উপশাখা নিয়ে ভাবতে হবে। উপশাখা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে, জনশক্তিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন “মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়” আবার এপিজে কালামের মতে, “স্বপ্ন সেটা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।” তাই আজই আমাদের উপশাখা সক্রিয় করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে। জনশক্তিকে উপশাখার গুরুত্ব বুঝাতে হবে, উপশাখার প্রোগ্রামের জন্য বিশেষভাবে জবাবদিহি করতে হবে। দেখা হলেই জিজ্ঞেস করতে হবে, “আপনার উপশাখা কেমন আছে?”
লেখক : শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply