আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি -প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ

Chhatrasangbadছাত্র সংবাদ : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিভাবে দেখছেন?
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটময়। আমার মনে হয় যে, বাংলাদেশের এই তেতাল্লিশ বছরের মধ্যে এমন অনিশ্চয়তা আর সৃষ্টি হয়নি। সব মহলেই একটা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং একটা অনিশ্চয়তার অন্ধকার যেন চারদিক থেকে গ্রাস করে ফেলেছে। ক্ষমতাসীন দলের চিন্তাভাবনাটাই হলো এমন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে এদের খুব নিকট সম্পর্ক দেখি না। অতীতেও দেখিনি এবং এখনও দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র যেন একসাথে চলতে পারে না।
ছাত্র সংবাদ : আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেশ একটা সঙ্ঘাতের দিকে এগিয়ে চলেছে। আপনি কী মনে করেন?
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : আপাত দৃষ্টিতে কেন, সঙ্ঘাত যে অনিবার্য এটা বোঝায় যাচ্ছে। আর এর জন্য প্রধানত বা একমাত্র দায়ী ক্ষমতাসীন দলের একগুঁয়েমী ও জেদ।
ছাত্র সংবাদ : ক্ষমতাসীনেরা বলছেন, বিরোধীদল আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। আপনি কী মনের করেন?
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : সময় আসুক, বিরোধী দল আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে কি না তা বোঝা যাবে। আমি এটা বিশ্বাস করি না। বিএনপি এই মুহূর্তে দেশের সর্ববৃহৎ দল। সুতরাং এই পর্যায়ে তারা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার না।
ছাত্র সংবাদ : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ২৮ অক্টোবরের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : ২৮ অক্টোবর যে ঘটনা ঘটেছিল তা হঠাৎ করে কোন ঘটনা নয়, এটা সুদূরপ্রসারী একটা পরিকল্পিত ঘটনা। সেই চক্রান্তের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র ও পরনির্ভরশীল একটা রাষ্ট্রে পরিণত করা। সুতরাং বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি সেদিনের ঘটনাটাই ছিল আওয়ামী ক্ষমতায় যাওয়ার সূত্রপাত।
ছাত্র সংবাদ : বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী মনে করেন?
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : একটা রাজনৈতিক দল অত সহজে নিষিদ্ধ হয় না। অত সহজে নিঃশেষ হয় না। দমন-পীড়নের মাধ্যমে কোনো দলকে নিঃশেষ করা যায় না। বরং আরো শক্তিশালী হয়। এজন্য জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে সামনের দিকে আমি অত অন্ধকার দেখিনে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, জামায়াত তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
ছাত্র সংবাদ : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ছাত্র ও যুবসমাজের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন।
প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ : সভ্যতার সকল সময় ছাত্র ও যুবকেরাই কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের নেয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ভাষা আন্দোলন ’৬৯ গণ-অভ্যত্থান, ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ছাত্র যুবসমাজেই তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা বর্তমান সময়ে সেই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এই ঘাটতির মূল কারণ সমাজের অবক্ষয়গুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ছাত্র যুবসমাজ সঠিক দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা যদি ছাত্র যুবসমাজকে দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারি তবে তারা নিশ্চয়ই দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করবে। তাদের নেতৃত্ব আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এবং আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করছি।
লেখক : সাবেক ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply