আমাদের সংস্কৃৃতি ভাবনা । শাহাদাত হোসেন

আমাদের সংস্কৃৃতি ভাবনা‘সংস্কৃতি’ শব্দের ইংরেজি ‘কালচার’। কালচার শব্দটি নিয়ে ইউরোপে হয়েছে অনেক আলোচনা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো একটি সংজ্ঞাও সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠেনি। সুদূরে পাশ্চত্যের পণ্ডিতরা যেমন কালচারের সংজ্ঞা, প্রকৃতি ও বিস্তার নিয়ে একমত হতে পারেননি তেমনিভাবে প্রাচ্যে এমনকি বাংলাদেশের কোনো বুদ্ধিজীবীও সংস্কৃতির বিষয়ে একক কোনো সংজ্ঞাকে গ্রহণ করতে নারাজ। সংস্কৃতি নিয়ে অতীতে যেমন আলোচনা হয়েছে বর্তমানেও সে ধারা চলমান, ভবিষ্যতেও থাকবে হয়তো। এই আলোচনার গতিপ্রকৃতি সময় নির্ভর। দেশ, জাতি এমনকি সম্প্রদায় নির্ভরও বটে।
সমাজবিজ্ঞানী ‘ম্যাক ভেবার’ সংস্কৃতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি। তিনি তার এই সংজ্ঞা নির্ধারণে যে উদার মনোভাবের পরিচয় দিয়েছিলেন। তা পরবর্তীতে গ্রহণীয় হয়ে ওঠেনি। কেননা, ‘সংস্কৃতি’ শব্দটি যেমন আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে পাশাপাশি ‘অপসংস্কৃতি’ শব্দটিও বিদ্যমান। ফলে আমাদের সামনে যখন অপসংস্কৃতি শব্দটি চলে আসে তখন আর আমরা ম্যাক ভেবারের সংজ্ঞায় আস্থা রাখতে পারি না। কারণ অপসংস্কৃতি তাই যা মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। আর সংষ্কৃতি তাই যা মানুষের তথা মানবসমাজের জন্য কল্যাণকর, মঙ্গলময়, সুখকর ও আনন্দদায়ক। কিন্তু সেই কল্যাণকর বিষয়টিকে নিয়েও রয়েছে প্রজ্ঞাবানদের মধ্যে বিরোধ। তবে প্রাচ্যের বিগত শতাব্দীর অন্যতম বুদ্ধিজীবী মোতাহের হোসেন চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ে যে ধারণা দেন তা অনেকটা গ্রহণীয়। তিনি সংস্কৃৃতি বলতে মনে করেন-
‘ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম। কালচার মানে উন্নত জীবন সম্বন্ধে চেতনা, সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি। সাধারণ লোকেরা ধর্মের মারফতেই তা পেয়ে থাকে। তাই তাদের ধর্ম থেকে বঞ্চিত করা আর কালচার থেকে বঞ্চিত করা এক কথা।
ধর্ম মানে জীবনের নিয়ন্ত্রণ। মার্জিত আলোকপ্রাপ্তরা কালচারের মারফতেই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত করে। বাইরের আদেশ নয়, ভেতরের সূক্ষ্ম চেতনাই তাদের চালক, তাই তাদের জন্য ধর্মেও ততটা দরকার হয় না। এবং তাদের ওপর ধর্ম তথা বাইরের নীতি চাপাতে গেলে ক্ষতি হয়। কেননা, তাতে তাদের সূক্ষ্মচেতনাটি নষ্ট হয়ে যায়। আর সূক্ষচেতনার অপর নাম আত্মা।’
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর আলোচনা পড়ে অনেকের মনে এই ধারণা আসতে পারে যে, তিনি হয়তো ধর্মকে উপেক্ষা করছেন। কিছুটা সেরকমই। তবে তিনি ধর্মের যে মর্মবাণী তাকে অন্তরে লালনের কথাই জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এমন করছেন কিনা? সেটা নিবিড় পাঠের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করার দরকার। আর সংস্কৃতিবান হওয়ার আরেকটি প্রয়োজনীয় দিক হলো নিজের আত্মার তাগিদ। কেননা, কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত; আয়াত : ৪৫)। এখন যদি কেউ নামাজ পড়ে আবার ঘুষ খায় বা অন্য কোনো অন্যায় কাজ করে তাহলে এখানে ধর্ম কী করতে পারে? এখানে সেই নামাজি ব্যক্তির আত্মার জাগরণ যদি নিজে থেকেই না ঘটে। অর্থাৎ ধর্মের প্রভাব রয়েছে সংস্কৃতিতে। সে বিষয়ে আবুল মনসুর আহমদের মতটিও দেখতে পারি, “ধর্ম ও কৃষ্টির সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়; কিন্তু তা হইলেও দুইটা এক বস্তু নয়। এক কথায় বলা যায় ধর্ম কালচারের নির্যাস।” যাকে ম্যালিনস্কি বলছেন, “মাস্টার ফোর্স অব হিউম্যান কালচার।” তবে মনে রাখা দরকার যে, “ধর্মের সবটুকুই কালচার, কিন্তু কালচারের সবটুকুই ধর্ম নয়।” যেমন- আমরা প্রাচীনকাল থেকে মাছ ভাত খাই। এটি কোন ধর্ম দ্বারা স্বীকৃত বিষয় নয়। কিন্তু কী ধরনের মাছ খাবো সেক্ষেত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রয়োজন রয়েছে। ধর্মের প্রভাব ছাড়াও অঞ্চলগত বা ভৌগোলিক প্রভাবেও সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটে। যেমন ইউরোপের লোক ব্যাগে সর্বক্ষণ ছাতা রাখে। কিন্তু আমরা রাখি না। ইউরোপ শীতপ্রধান হওয়ার কারণে তাদের সারা বছর গরম কাপড় ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা করতে হয় না। সংস্কৃতির এই সূক্ষ্মতম পার্থক্য আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে আমাদের সামনে, আমরা মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংজ্ঞার পাশাপাশি ষাটের দশকের প্রখ্যাত কবি ও সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর সংস্কৃতি বিষয় যে প্রতীতি; তাতে একবার নজর বুলালে। তার বিশ্লেষণ পাঠে আমাদের সামনে একটি স্বচ্ছ ধারণা জন্মাতে পারে এ বিষয়ে। আবদুল মান্নান সৈয়দ সংস্কৃতির ব্যাপ্তি ও পরিধি নির্ধারণ করে দিলেন এই ভাবে-
‘সংস্কৃতি কি দেশনিরপেক্ষ? না, সংস্কৃতি দেশনিরপেক্ষ নয়। বাঙালি-মুসলমানের সংস্কৃতি মূলত বাংলাদেশকে আশ্রয় করেই সৃষ্টি হয়ে চলেছে। সংস্কৃতি কি কালনিরপেক্ষ? না, দশম শতাব্দীর বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সংস্কৃতি এক নয়। সংস্কৃতি কি ভাষানিরপেক্ষ? না, সংস্কৃতি ভাষানিরপেক্ষ নয়। বাঙালি-মুসলমানের সংস্কৃতির এক প্রধান নিয়ামকশক্তি বাংলা ভাষা। সংস্কৃতি কি ধর্মনিরপেক্ষ? না, একটি খ্রিস্টান প্রধান দেশের আর একটি মুসলমান প্রধান দেশের সংস্কৃতি এক হতে পারে না। ধর্মের প্রভাব সংস্কৃতির উপরে প্রবল। শতকরা ছিয়াশিভাগ মুসলমান যেদেশে, সে দেশের সংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব থাকবেই। বাংলাদেশ প্রধানত বাঙালি-মুসলমানের রাষ্ট্র। সুতরাং এদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও বিভিন্ন উপজাতি-আদিবাসীর যে-প্রভাবধারা তা প্রধান স্রোত নয়- এদেশের মূলধারা ইসলামের। যেমন, ভারতে হিন্দুত্বের। এই স্বাভাবিকতাকে চোখঠার দিয়ে লাভ নেই।
– আবদুল মান্নান সৈয়দ, বাংলা সাহিত্যে মুসলমান।
তাঁর এই আলোচনাতে দেখি ভাষার একটি বড় প্রভাব রয়েছে সংস্কৃতির ওপর। তবে ভাষা এক হলেও সংস্কৃতির দিক থেকে যে সবাই এক হবে এমনটি নয়। ইউরোপের অনেকগুলো দেশের ভাষা এক হলেও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তারা এক নয়। খোদ আমেরিকা ও ব্রিটেনের ভাষা এক হলেও তাদের সকল কার্যক্রম এক নয়। এমনকি ভাষার ক্ষেত্রের তারা স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে সচেষ্ট। এমনকি প্রাচীন কাল থেকে স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তি নিয়ে পূর্ব বাংলার শাসনকার্য পরিচালিত হয়েছে। ফলে যে সংস্কৃতির ভূখণ্ডের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। অনেকেই ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধুয়া তুলে দুই বাংলা এক হওয়ার শ্লোগান আওড়ান। যা তাদের এই সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যতাবোধের অভাবের কারণেই তৈরি হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনা কাজ করেছে তাও অকপটে অস্বীকার করেন। এমনকি তারা চিন্তা করেন যদি মুসলিম জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাহলে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য তা হবে বিপর্যয়কর। এ দ্বারা মূলত বাংলার সুলতানি, মুঘল ও নবাবী আমলের যে উদারতাবাদ তাকে যেমন খাটো করে দেখান, তার সাথে সমাজবাদী চিন্তার বীজ বপনের যে চেষ্টা করেন, তা যে নামান্তরে উগ্ররাশিয়াপন্থী চেতনারই প্রচার তা ভুলে যান। আর রাশিয়ার সেই উগ্রতার চিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর তা মানুষের কাছে পানির মতো স্বচ্ছ। কিন্তু ইসলামী চেতনার প্রকাশ মানে হলো মানবতাবাদের উত্থান। প্রগতির গতির বেগবান হওয়া। কারণ কোরআনে বলা হয়েছে, আমি কোরআনকে নাযিল করেছে মানবমণ্ডলীর পথপ্রদর্শক রূপে। পাশাপাশি রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।’ ফলে মুসলিম জাতীয়তাবাদের যে ধারা তা মানবতার ধারা। আর এই মানবতার সংস্কৃতিই পারে আগামীর বাংলাদেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে। তবে এখন দেখার বিষয় হলো যে, যারা মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণ করছেন তারা কতটা মানবতাবাদী সংস্কৃতির ধারক হয়ে উঠছেন।
বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে যে সবল অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবে অবদান রাখে তার অন্যতম পহেলা বৈশাখ। চৈত্র মাসের শেষে নতুন বছরের আগমন স্বাগত জানাতে বাংলাদেশের সকল মানুষ নানা অনুষ্ঠান করে থাকে। এই দিনটা পান্তা ভাত দিয়ে শুরু করেন অনেকে। বাংলা নববর্ষের উদ্ভব হয়েছিল মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনকালে। এই সাল গণনার কারণ হলো রাষ্ট্রীয় কাজে খাজনা আদায়ের সুবিধা। তবে নববর্ষকে কেন্দ্র করে ক্রমান্বয়ে নানা আয়োজন যোগ হতে থাকে। এখন তা কর্পোরেট রূপ লাভ করেছে। যেখানে ছিল আন্তরিক আয়োজন সেখানে এসে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক চিন্তা। আগের দিনে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রামে বসতো মেলা। কোথাও কোথাও সেই মেলা চলতো সারা মাসজুড়ে। দোকানে দোকানে হতো হালখাতার আয়োজন। বসতো নাটক ও গানের আসর। চলতো বিভিন্ন খেলা। এমনকি এখন থেকে প্রায় পঞ্চাশ ষাট বছর আগে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে চলতো সাহিত্য সভার আয়োজনও। মেলাগুলোতে লোকজন যে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতো। এখনও মেলার আয়োজন হয়। তবে সেই লাঠি খেলা বা নাটক ও গানের আসর তেমন দেখা যায় না। যা দেখা যায় তা যাত্রাপালা নামক নিম্নমানের কিছু বাজে কার্যকলাপ। আর বৈশাখকে নিয়ে আমাদের দেশেও চলে এক বিশেষ ধরনের রাজনীতি। একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী এই বৈশাখী অনুষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িক বানানোর চেষ্টায় উঠে পড়ে লাগেন। তারা অসাম্প্রদায়িকতার নামে এই অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দেয় বলে বাংলাদেশের সচেতন মহল মনে করেন। কেননা, অনেক সময় ব্যানারগুলোতে দেখা যায় পেঁচা বা হাতির মুখের চিত্র। যা বাংলাদেশের একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতীক। ফলে আমাদের সামনে যে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলা হচ্ছে তা বিশেষ সম্প্রদায়কেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এতে অসাম্প্রদায়িকতার নামে সাম্প্রদায়িকতার নব বিস্তার ঘটছে। যারা এই ধুয়া তুলছেন তাদের বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস পুনঃপাঠ নেয়া দরকার। কেননা, বরাবরই মুসলিম জাতীয়তাবাদ বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে লালন করেই এই দেশের স্বাধীনতা লাভ ঘটেছিল। আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে অনেকেই দুই বাংলা এক হওয়ার কথা আওড়ান। কিন্তু তাদের বোধ হয় মনে নেই ‘একটি স্বাধীন দেশ আর একটি প্রদেশ কিভাবে এক হতে পারে?’ এই কথার মধ্য দিয়ে তারা পক্ষান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বকে খাটো করা ছাড়া অন্য কিছু করেন না। তবে যারা এই ধারণার বাইরের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের পহেলা বৈশাখ পালনে খুব বেশি তৎপরতা দেখা যায় না। এছাড়াও যে কৃষকের খাজনা আদায়ের জন্য বাংলা সনের প্রচলন হয়েছিল সেসকল কৃষক বঞ্চিত থেকে যায় এই সব আয়োজন থেকে। এখন দেখা যায় মোবাইল কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নববর্ষ উদ্যাপনের আয়োজন করে থাকে। এমনকি পাশাপাশি একই ক্যাম্পাসে দশ থেকে পনেরোটি অনুষ্ঠান হয়। এতে উপভোগের চেয়ে শব্দদূষণ বেশি পরিমাণে হয়। যা আমাদের স্বাস্থ্যহানির কারণও বটে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাই দায়িত্ব নিয়ে এসকল অনুষ্ঠান করতে পারে। তাতে সাধারণ জনগণের যে ট্যাক্স তার অপচয় কম ঘটবে। কারণ হলো বিভিন্ন বিভাগে আলাদা আলাদা করে বাজেট দানে খরচ বাড়ে বৈ কমে না। নাগরিক জুলুসে শহর কেন্দ্রিক যে ধরনের আয়োজন থাকে গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের লোকের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। এমনকি সাধারণ কৃষককে সেই দিনটি পালন করতে হয় ক্ষেত-খামারে; মজুরদের অন্যের কাজ করে। অথচ যারা নগর জীবনযাপন করছে তারা এই বিশেষ দিনে লাভ করে বিশেষ সুবিধা। বৈশাখকে সাধারণ মানুষের মিলনমেলাতে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া উচিত হবে নতুন প্রজন্মের। আর ইলিশ পান্তার মেকি আয়োজন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সারা বছরে একদিনও যাদের পান্তা ভাত খেতে হয় না। সেসকল লোক পান্তা ইলিশের নামে প্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই করে না। কারণ অনেক লোক আছে যারা পান্তা ইলিশ তো দূরে থাক দু’বেলা ভাতের আয়োজনও করতে পারে না। সেই সকল লোকের কথা চিন্তা করা হবে শ্রেয়। যারা বৈশাখী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করে থাকেন তাদের দায়িত্ব হবে এই বিশেষ শ্রেণির লোককে গুরুত্ব দেয়া। নিজের আনন্দের নামে অর্থ অপচয় না করে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। বৈশাখ যেমন কাল-বৈশাখীর তাণ্ডবে সকল জীর্ণতাকে, পুরাতনকে, হতাশাকে পিছনে রেখে নতুন করে বাঁচতে শেখায়, তেমনি সামাজিক ন্যায়-নীতি ও মূল্যবোধ তৈরিতেও এই কালবৈশাখীর ঝড় দরকার, যা আমাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করবে।

লেখক : কবি ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply