আলেম-উলামার সাথে শত্র“তা মানে আল্লাহর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া

জাফর আহমাদ

হযরত মু’আয ইবনে জাবল (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি, সামান্যতম রিয়া প্রদর্শন (লোক দেখানো কাজ করা) শিরক। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর ওলির সাথে শত্র“তা পোষণ করল, সে যেন আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করার জন্য মাঠে নামল। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ বান্দাদেরকে বন্ধু হিসেবে গণ্য করেন (সংক্ষেপিত)। (ইবনে মাযাহ, বায়হাকী)

ওলি অর্থ বন্ধু। আলেম-উলামাগণ আল্লাহর বন্ধু। তাঁরা রাসূল (সা)-এর স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি, তাঁরা রাসূলের ওয়ারিশদার। তাই কোন আলেমের সাথে শত্র“তা পোষণ করা মানে নিজের ধ্বংস ও বিপদ ডেকে আনার পূর্বলক্ষণ। আমরা প্রত্যেকেই নিজ বন্ধুদের শত্র“কে নিজের শত্র“ বলে গণ্য করে থাকি। এবং সেই শত্র“কে প্রতিহত করার জন্য বন্ধুর সাথে বন্ধু কাঁধে কাঁধ মিলায়। আল্লাহ তা’আলাও নিজের বন্ধুদের সাথে শত্র“তা পোষণকারীদেরকে নিজের প্রতিপক্ষ সাব্যস্ত করেন এবং এ ধরনের লোকদেরকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনিয়ে দেন। মহাপরাক্রমশালী, রাজাধিরাজ, প্রত্যেক জিনিসের ওপর যিনি শক্তিশালী, আসমান ও জমিনে অসংখ্য বাহিনী যাঁর নিয়ন্ত্রণে, যেই বাহিনীর একটি মাত্র সদস্যের সাথে পৃথিবীর তাবৎ শক্তি তাদের সকল অত্যাধুনিক উপায় ও অবলম্বন নিয়েও পেরে ওঠা সম্ভব নয়। অতীত ইতিহাস তো তাই বলে। হযরত ইব্রাহিম (আ)-এর শত্র“ দুর্দণ্ড প্রতাপশালী নমরুদ পারেনি, ফিরাউন পারেনি হযরত মূসার (আ) প্রভুর সাথে, হযরত সালেহ ও হযরত লুত (আ)-এর দাম্ভিক জাতি পেরে উঠতে পারেনি। এদের ধ্বংসের করুণ পরিণতি ইতিহাসের পাতাকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলে। আবরাহার হস্তিবাহিনীকে আল্লাহর প্রেরিত আবাবিল নামক সৈন্যবাহিনী এমনভাবে নাস্তাবুদ ও ধ্বংস করে দেয় যে, এরা পশু খড় চিবিয়ে খেয়ে যেই তোষ ফেলে দেয় তার মতো হয়ে গেলো। ফলে আবরাহার চক্রান্ত তথা কা’বাকে ভেঙ্গে দিয়ে এর প্রভাবকে বিলুপ্ত করে নিজে একটি নতুন কা’বা তৈয়ার করার হীন চক্রান্ত আল্লাহ ব্যর্থ করে দেন। এভাবে মক্কার সম্মিলিত কুফুরি শক্তি বদর প্রান্তরে একটি ছোট্ট বাহিনী যারা ছিল আল্লাহর বন্ধু আর তাদের নেপথ্যে ছিল আল্লাহর অদৃশ্য সৈন্যবাহিনী, যাদেরকে কাফেররা দেখছিল, কিন্তু মুসলমানগণ দেখেনি। কাফেরদের বিশাল বাহিনী পর্যুদস্ত হয়েছিল। মক্কার জাঁদরেল নেতা আবু জেহেল এ যুদ্ধে নিহত হন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহর বন্ধু মুহাম্মদ (সা)-এর কালিমাখচিত বিজয় কেতনই পত্ পত করে উড়ছে। যারা রাসূলের (সা) নাম-নিশানা দুনিয়া থেকে মুছে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল তাদের নাম-নিশানাই আল্লাহ চিরদিনের জন্য মুছে দেন। আবু জেহেল, আবু লাহাব, ওতবা ও শাইবারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। আর রাসূলের (সা) আলোচনার স্রোতধারা চলছে যে চলছেই। নিকট ইতিহাসেও এ ধরনের ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। আমরা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক (রহ)-এর সাথে তৎকালীন জালিম বাদশাদের বৈরী আচরণের কথা জানি এবং এ সমস্ত জালিমের করুণ ইতিহাসও জানি।

যুগে যুগে যারাই আল্লাহর রাসূলের (সা) উত্তরাধিকার এ আলেম সমাজের সাথে বৈরী আচরণ করেছে এবং তাঁদেরকে অপমানিত করেছে, তাঁদের ওপর জুলুমের স্টিম রোলার চালিয়েছে, সেই সমস্ত জালেমের করুণ পরিণতির দৃষ্টান্তও আমরা দেখেছি। মিসরের জালেম জামাল নাসের ইখওয়ানের আলেমদের সাথে বেয়াদবি ও তার উত্তরসূরি দীর্ঘদিনের শাহানশাহ মোবারকের বৈরী আচরণ এবং তাদের করুণ পরিণতি আমাদের সামনে আছে। এ উপমহাদেশেও বিভিন্ন সময়ে যারা আলেমদের সাথে শত্র“তা পোষণ করেছে এবং তাঁদেরকে নির্যাতন ও জুলুম করেছে, তাদের করুণ পরিণতির ইতিহাসও আমরা জানি।

বিশেষভাবে আলেমদের ওপর এ জুলুম ও নির্যাতনের কারণ কী? যুগে যুগে তাঁরা কেন সরকারের আক্রমণের টার্গেটে পরিণত হন? প্রশ্নদ্বয়ের উত্তর খুব সহজ। আল্লাহতা’আলা আল কুরআনে বলেছেন, “ঐ ঈমানদারদের সাথে তাদের শত্র“তার এ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না যে, তারা সেই আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিল যিনি পরাক্রমশালী এবং নিজের সত্তায় নিজেই প্রশংসিত, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্বের অধিকারী। আর সে আল্লাহ সব কিছুই দেখছেন। যারা মু’মিন পুরুষ-নারীদের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে, তারপর তা থেকে তওবা করেনি, নিশ্চিতভাবেই তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব ও জ্বালা-পোড়ার শাস্তি।” (সূরা বুরুজ : ৯-১০)

অর্থাৎ তাদের কোন দোষ নেই। জালেমদের দৃষ্টিতে তাঁদের একমাত্র দোষ হলো, তারা আল্লাহ তা’আলাকে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী বলে বিশ্বাস করে। তারা মানুষদেরকে অসংখ্য মিথ্যা খোদার নাগপাশ থেকে মুক্ত করে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাঁরা কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনের প্রতিটি কর্ম সম্পাদন করার জন্য মানুষকে আহবান জানায়। তাঁরা আরো আহবান জানায় যে, সকল পর্যায়ে তাগুত অস্বীকার করো। এই হলো আলেম-উলামাদের দোষ।

এই দোষের কারণে যারা আলেম-উলামাদের জুলুম-নির্যাতন করে, তারা মূলত তাগুতের অনুসারী। তাগুত হলো সীমালংঘনকারী। তাগুত কোন সময় আল্লাহর সার্বভৌমকে স্বীকার করে না। এরা সব সময় আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত থাকে। ঈমানদার, মুসলমান, ইসলাম, কুরআন ও হাদিস হলো তাদের আজন্মের শুত্র“। মূলত শয়তান এদেরকে এমনভাবে মোহাবিষ্ট করে দিয়েছে যে, কুরআন-হাদিস কথা শুনলে এদের গাত্রদাহ শুরু হয়। তাছাড়া যা সত্য যা সঠিক সেটি তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়। কারণ তাদের জীবনাচরণ মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মিথ্যার ওপর তাদের চকচকে সৌধটি নির্মিত হয়। ইসলাম সত্য, তাই এর অনুসারীরা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামের শ্রেষ্ঠ সন্তান আলেম-উলামাগণ যে কখনো মিথ্যার সাথে আপস করে না, তা তাগুত ভালো করেই জানে। তাই তাঁদের প্রতি অত্যধিক ক্ষুব্ধ থাকে এবং হেন অস্ত্র নেই যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে না। আর এই অস্ত্র ব্যবহারের জন্য পৃথিবীতে সে সাধারণত তার অনুসারী স্বৈরাচারী শাসকদের বাছাই করে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ও রাজা বাদশাহরা যখন কোন জনবসতির ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে তখন তারা সেই জনবসতিকে ধ্বংস করে এবং সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে। তাদের এরূপ কাজ চিরন্তন।” (সূরা নামল : ৪৩) আল কুরআনের এ বাণীটি শাশ্বত, ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সাথে পূর্ণ সামঞ্জ্যশীল। স্বৈরশাসকদের চিরন্তন এ বৈশিষ্ট্য ইতিহাসের কোন পর্যায়ে এর ব্যত্যয় ঘটেছে বলে প্রমাণ নেই। ভবিষ্যৎ ইতিহাসে এর ব্যতিক্রম ঘটবে এমন সম্ভাবনা নেই। আজকের পৃথিবীর বাস্তব অবস্থা আয়াতটির পরম সত্যতা ও বাস্তবতাকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছে।

আল কুরআন স্বৈরশাসকদের মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। সাইয়েদ কতুব শহীদ বলেছেন, ‘স্বৈরতান্ত্রিক শাসক শক্তির প্রকৃতিই হচ্ছে এই যে, তা যে দেশেই প্রতিষ্ঠা পায়, সেই দেশেই ব্যাপক বিপর্যয় প্রচণ্ড করে তোলে। সে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। সে দেশের মানমর্যাদা পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে। সে দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। সেখানকার সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে। কেননা এই ব্যক্তিরাই হয়ে থাকে সে দেশের প্রকৃত প্রতিরোধ শক্তি। বস্তুত এটাই হচ্ছে এই শাসক শক্তির স্থায়ী চরিত্র। এর ব্যতিক্রম কখনই হতে পারে না।”

মিসরীয় ইতিহাসে ফিরাউনী শাসন, রোমান ইতিহাসে কাইজারের শাসন এবং পারস্য ইতিহাসে কিসরা শাসন ছিল স্বৈরশাসনের অন্তর্ভুক্ত। তাদের শাসনব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ ছিল চরমভাবে অসহায়, মানবিক অধিকারবঞ্চিত দাসানুদাস। রাজতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদী শাসনের তা ছিল নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত। তারা জনগণের ওপর কী মর্মস্পর্র্শী স্বৈরচারী শাসন পরিচালনা করেছে তার মর্মবিদারি কাহিনী বিশ্ব ইতিহাসের পৃষ্ঠায় এখনো জ্বলজ্বল করছে। স্বৈরশাসন আল্লাহর বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে। তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে আল্লাহর নাম উচ্চরিত হয়, সেগুলো উৎখাত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। স্বৈরশাসক সাধারণত চরম অহঙ্ককারী ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়। সে যা চিন্তা করে, তার যৌক্তিকতা সকলকেই মেনে নিতে হবে। স্বৈরশাসক যখন বলে দিয়েছে, তখন আর সে বিষয়ে জনগণের কিছু বলার সুযোগ কোথায়। স্বৈরশাসকের কথাই হবে আইন, জনগণ তা অকুণ্ঠিত মনে ও নির্বাকচিত্তে মেনে নিতে হবে।

স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে জনগণ এক সময় নির্বোধ বনে যায়। ফলে তারা স্বাধীন বিমুক্ত চিন্তা-বিবেচনা শক্তিও হারিয়ে ফেলে। তখন স্বৈরতন্ত্রী শাসন জনগণকে নিজের দাসানুদাসে পরিণত করে নেয়। আল কুরআনে স্বৈরশাসক ফিরাউনের সেই বৈশিষ্ট্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ফিরাউন তার অধীনে বসবাসকারী জনগণকে নির্বোধ বানিয়ে গুমরাহির দিকে পরিচালিত করেছিল। আর সেই জনগণ তাকে  মেনে নিয়েছিল। কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।” (সূরা যখরুফ : ৫৪) ফলে এক সময় সে নিজেকে প্রভু দাবি করে বসে। সে চায় জনগণ তাকেই একমাত্র প্রভু মেনে পূজা-অর্চনা করুক। ফিরাউন সে কাজটি করেছিল। সে বলেছিল, “হে জনগণ! আমি ছাড়া তোমাদের আর কেউ ইলাহ্ আছে বলে আমি জানি না।” (সূরা কাছাছ : ৩৮) ফিরাউন জনগণকে জড়ো করে বলল, ‘আমি-ই হচ্ছি তোমাদের সর্বোচ্চ রব।’ (সূরা নাযিয়াত : ২৩-২৪) সে মূসা (আ) কে ধমক দিয়ে বলল, “হে মূসা তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করো, তাহলে আমি তোমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দী করে  দেবো।” (সূরা সুআরা : ২৯)

বস্তুত এরূপ স্বৈরশাসন মানবজীবনে কত যে লাঞ্ছনা, দুঃখ, অশান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বিশ্ব মানবের ইতিহাসে এ ধরনের দুঃখময় কাহিনীতে ভরপুর রয়েছে। যুগে যুগে এ ধরনের স্বৈরচারীর নির্মম কশাঘাতে কত যে বনি আদম হারিয়ে গেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। বর্তমান পৃথিবীতে স্বৈরতন্ত্র বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে বাঁকা পথে ক্ষমতারোহী কিছু শাসক রয়েছে যারা স্বৈরাচারী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরা সাধারণত আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারের দোসর অথবা দালাল অথবা উচ্ছিষ্টভোগী হয়ে থাকে। কোন কোন দেশের শাসক পার্শ্ববর্তী দেশের সমর্থন ও সহগোগিতা নিয়ে জনগণের ওপর শাসন চালায়। দেশের সম্মানিত লোকদের অপমানিত করে। পরবর্তী ক্ষমতারোহণের পথে যারা হুমকি, তাদেও জেল-জরিমানা, জুলুম-নির্যাতন এমনকি দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক্ষমতাকে অব্যাহত রাখার জন্য বা স্বৈরতন্ত্রকে পাকাপোক্ত করার জন্য এরাই আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারকে নিজ দেশে ডেকে আনে এবং জনগণের ওপর অত্যাচার চালায়।

দেশীয় কি আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারীর একটি বৈশিষ্ট্যে গভীর মিল রয়েছে, তাহলো ইসলামের সাথে বৈরিতা পোষণ করা। এরা ইসলামকে খুবই ভয় পায়। কারণ অন্যান্য শ্রেণী-গোষ্ঠীর লোক হয়ত এক সময় স্বৈরতন্ত্রের সাথে মিশে যেতে পারে। কিন্তু ইসলাম, ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী কখনো স্বৈরতন্ত্রের সাথে হাত মিলাতে পারে। বরং ইসলাম স্বৈরতন্ত্রকে উৎখাত করে সেখানে ন্যায়-ইনসাফ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এ জন্য স্বৈরাচারদের পথে প্রথম ও প্রধান বাধা হলো ইসলাম। এ জন্য ইসলামকে উৎখাত করতে চায়। নানা অজুহাত সৃষ্টি করে এদের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালায়।

আল কুরআনে স্বৈরশাসনের পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফিরাউনের শাসনব্যবস্থাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল কুরআনের ইতিহাসে ফেরাউনকে একজন গর্বিত, অহঙ্কারী, সীমালংঘনকারী ও বাড়াবাড়িকারী শাসকরূপে চিহ্নিত করেছে। বলা হয়েছে সে নিজেকে সকল মানুষের তুলনায় শ্রেষ্ঠ, উন্নত ও উত্তম বলে দাবি করছে। সকলের ইচ্ছার ওপর তার ইচ্ছা বিজয়ী, প্রধান ও প্রভাবশালী বলে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন,“অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারুনকে আমার নিদর্শনাদী ও সুস্পষ্ট দলিলসহ ফিরাউন ও তার দলবলের নিকট পাঠিয়েছিলাম। তখন তারা অহঙ্কার-গর্ব প্রকাশ করলো। আর আসলে তারা নিজদিগকে সর্বোচ্চ স্থানীয় মনে করতো।” (সূরা মুমিনুন : ৪৫-৪৬) আয়াতে স্বৈরাচারী ফিরাউনের একটি চিত্র স্পষ্ট তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সে ছিল বড় অহঙ্কারী, নিজেকে ও নিজেদের সভাসদকে সর্বোচ্চ ও সকল মানুষের ওপর প্রবল পরাক্রান্ত জ্ঞান করল। তার শাসনাধীন মানুষকে অপমানকর আজাবের মধ্যে নিমজ্জিত করে দিয়েছিল। আল্লাহতা’আলা মজলুম মানবতাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য হযরত মূসা ও হযরত হারুন (আ) কে প্রেরণ করলেন। কিন্তু দুর্ভাগা ফিরাউন ও তার সভাসদেরা তাদেরকে গর্বভরে অস্বীকার করলো। শুধু কি তাই এর কারণে ফেরাউনের জুলুম ও নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে গেল। ফলে আল্লাহর কঠিন ফয়সালা তথা করুণ পরিণতির মুষ্ঠীবদ্ধ হাত তাদের ওপর আছড়ে পড়ল। স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অনিবার্য ফল যা হবার তাই হলো। আল্লাহ বলেন, “বনি ইসরাইলদের আমি সমুদ্র অতিক্রম করালাম। তখন ফিরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী তাদের অনুসরণে সমুদ্রে নেমে পড়ল। তারা বাড়াবাড়ি ও জুলুমের উদ্দেশ্যেই তা করেছিল। শেষ পর্যন্ত ফিরাউন যখন ডুবে যেতে লাগল, তখন সে বলল, আমি বিশ্বাস করি যে, বনি ইসরাইলিরা যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে সে ব্যতীত ইলাহ্ আর কেউ নেই। আমি অনুগত লোকদের একজন। তখন বলা হলো, তুমি এখন ঈমান আনছো, অথচ এর পূর্ব পর্যন্ত তুমি আল্লাহর নাফরমানি করছিলে, আর তুমি ছিলে একজন বিপর্যয়কারী ব্যক্তি।”(সূরা ইউনুস : ৯০-৯১)

আসলে আল্লাহর সামনে পৃথিবীর তাবৎ রণকৌশল ও শক্তি অতি নগণ্য ব্যাপারমাত্র। এই অসম শক্তি নিয়ে তাঁর মোকাবেলা করা মানে বোকার স্বর্গে হাতরানো ছাড়া আর কিছু নয়। তাই পৃথিবীর সকল স্বৈরাচারী ও আলেম-উলামাদের নির্যাতনকারীদের সাবধানবাণী শুনাচ্ছি যে, আলেম-উলামাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ থেকে বিরত হোন।

SHARE

Leave a Reply