আলোয় তালবেতাল -আব্দুল জলিল আকন্দ

সভ্যতার যুগ কবে থেকে শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী বা শাসকবর্গের নামের ওপর ভিত্তি করে অনেক সভ্যতার যুগের নামকরণ করা হয়েছে। যেমন: মিসরীয় সভ্যতা, রোমান সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা ইত্যাদি। সভ্যতা আসলে কী, এ নিয়ে অনেকেই অনেক সংজ্ঞা দিয়েছেন।
Dictionary of Oxford Abymv‡i, “Civilization is the opposite of barbarism and chaos. Civilization is an advanced stage of human society, where people live with a reasonable degree of organization and comfort and can think about things like art and education.”
(তথা বর্বরতা, অশান্তির বিপরীতে হলো সভ্যতা। সভ্যতা মানব সমাজের একটি উন্নত পর্যায়, যেখানে লোকেরা যুক্তিসঙ্গতভাবে বসবাস করে এবং শিল্প ও শিক্ষার মতো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারে।) একবিংশ শতাব্দীতে এসেও সভ্যতার গাড়ি চলছে। মানুষের অসৎ প্রবৃত্তিকে নিযন্ত্রণের জন্য নিত্যনতুন নিয়ম-কানুন, আইন তৈরি হচ্ছে। আবার সেই আইন ভঙ্গও হচ্ছে অল্প সময়ের ব্যবধানে।
মানুষের সভ্যতার অন্যতম মাপকাঠি হলো শিক্ষা। একটি সমাজের মানুষের ধন-সম্পদ, সামাজিক সকল অবকাঠামো এবং সকল চাহিদা ঠিক থাকলেও শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে গেলে সে সমাজকে সভ্য সমাজ বলা যায় না। কেননা একজন মানুষের আচরণ শিক্ষাই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে সে শিক্ষা অনানুষ্ঠানিকও হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সমগ্র দেশেই শিক্ষা খাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। “যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত”- এই মন্ত্রকে সামনে নিয়েই শিক্ষার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা।
আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতা তার কোমলমতি শিশুকে সভ্য মানুষ গড়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রমের কষ্টার্জিত সকল অর্থ ব্যয় করেন। পিতা-মাতার স্বপ্নই থাকে একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো। পিতা-মাতার স্বপ্ন সাধনা থাকে তার সন্তান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মত মানুষ হবে। তাদের ভালবাসার ধন বুকে আগলে রেখে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অতিবাহিত করবে। স্কুল-কলেজের বেতন পরিশোধ করতে মা তার নাকের নোলক বিক্রিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সন্তান বড় করার জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রমের সব উজাড় করতেও দ্বিধা করেন না। পিতা-মাতার জীবনের পরম চাওয়া থাকে সন্তান সভ্য হোক।
কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে! আসলেই কি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশু-কিশোর সভ্যতার সিঁড়িতে উঠছে? পিতা-মাতা জীবনের সবটুকু উজাড় করেও কি তার সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিয়ে নিশ্চিন্তে কাক্সিক্ষত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারছেন?
না না না। সব প্রশ্নের উত্তরেই না।
দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর বৃদ্ধাশ্রমে বয়োবৃদ্ধ নারী- পুরুষের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। শিল্পপতি সন্তান প্রিয় পিতার লাশ নিতে অস্বীকার করছে। আদরের কন্যা তার পিতা-মাতাকে হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষক তার জনম দুঃখিনী মাকে ঘর থেকে বের করে বৃদ্ধাশ্রমে রাখছেন। ডাক্তার ছেলে পিতা-মাতার সাথে কাজের লোকের চেয়েও খারাপ আচরণ করছেন। পুলিশ অফিসারের মা চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন দিনের পর দিন। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য সহপাঠীকে মেরে ফেলতেও হাত কাঁপে না। সামান্য কারণে আদরের সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করতেও দ্বিধা করেন না। পত্রিকার পাতায় প্রতিনিয়ত এরকম অসংখ্য ঘটনার নায়ক বা খলনায়ক যারা থাকেন, তারা সবাই কোন না কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে বা করেছেন।
Knowledge is power- জ্ঞানই শক্তি। হ্যাঁ, কথাটি চরম সত্য। ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা হ্যাকিং করে লুট নিশ্চয়ই অশিক্ষিত মূর্খ, চাষিদের মাধ্যমে সম্ভব না। মৃত রোগীকে আইসিইউতে ঢুকিয়ে গরিবের টাকা ডাকাতি করেন ডাক্তাররাই। মাদকের চালান আসে কথিত জনপ্রতিনিধের সহায়তায়। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাই ইয়াবা, ফেনসিডিলের বড় ক্রেতা। স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরেরা পাড়া-মহলায় গ্যাং তৈরি করে বিভিন্ন অপরাধ করছে। ছিনতাই, মাদক, ইভটিজিং, ধর্ষণসহ অসংখ্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া ছাত্ররা। অথচ তারাই আবার ক্লাসে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করছে। কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষকরা দিনের পর দিন পরীক্ষায় নম্বর দেয়ার লোভ দেখিয়ে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সহপাঠীর মোবাইল, ল্যাপটপ চুরি করছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষকদের বেদম পিটিয়ে তুলোধোনু করছে ছাত্ররা। সহপাঠী বা সিনিয়র/জুনিয়র ছেলেমেয়েরা একে অপরের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা ছাত্রের হাত ধরে উধাও। পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে সবার হাতে হাতে। কোমলমতি শিশুদের মনে দুর্নীতির বীজ বপন করা হচ্ছে শুরুতেই। যেহেতু সকল অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষিতদের হাতেই পরিচালিত হয়, তাই সকল অপরাধ অন্যায়ের ভার শিক্ষিতদের নেয়া প্রয়োজন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষার হার ছিল ১৬%। বর্তমানে শিক্ষিতের হার ৭০%। সভ্য হওয়ার অন্যতম মাধ্যম শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে অপরাধের হারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র মতে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ জন মানুষ খুন হচ্ছে। পারিবারিক কলহ, শিশু নির্যাতন, অর্থলোভে হত্যা, অনৈতিক সম্পর্কেও কারণে খুন, শ্রমিক নিধন, সাইবার ক্রাইম, পর্নোগ্রাফি তৈরি ইত্যাদি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েই চলছে।
তাহলে সভ্যতার গতি কোন পথে
পৃথিবীর সব অর্জন, সকল অন্ধকারে আলোকবর্তিকার মূলে ছিলেন জ্ঞানীরা। মহান আলাহ পৃথিবীতে প্রথম মানব আদি পিতা আদমকে দুনিয়াতে পাঠানোর আগে শিক্ষিত মানুষ করেছেন (অতঃপর মহান আলাহ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন, সূরা বাকারাহ : ৩১)। মানুষকে সভ্যতার পথে পরিচলিত করার জন্য যত নবী-রাসূল, মনীষী দুনিয়াতে এসেছেন সবাই জ্ঞানের বাহক ছিলেন। জাযিরাতুল আরব যখন অন্যায়, অত্যাচার, পাপাচারের বিষবৃক্ষ হয়ে দুনিয়াতে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল তখন তাদের আলোর দিশা দিতে মহামানব নবী মোহাম্মদ (সা)-এর ওপর প্রথম ঐশী বাণী নাজিল হলো ‘পড়, তোমার প্রভুর নামে।’ তথা মোহম্মদ ইবনে আবদুলাহ (সা) মক্কার অসভ্য, বর্বর জাতিকে সভ্য সমাজগঠনে যখন চিন্তিত তখন বার্তাবাহক জিবরাইল (আ) এসে বললেন যে, পড় তোমার প্রভুর নামে। অর্থাৎ সমাজের অন্যায় অত্যাচার, নিপীড়ন, লুণ্ঠন বন্ধ করতে হলে অবশ্যই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে।
আধুনিক বিশ্বের টেকনোলজি, উন্নত কমিউনিকেশন সিস্টেম, তথ্যপ্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার এবং শাসকগোষ্ঠীর হাজার হাজার কোটি টাকা ইনভেস্টের মাধ্যমে মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে। ‘শিক্ষার মাধ্যমে খাদ্য’ কর্মসূচির কারণে গরিব মানুষেরাও শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য মেধার প্রতিযোগিতায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে। জাতিকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা করে য়াচ্ছে। কিন্তু মেধার সাথে নৈতিকতার সমন্বয় না হলে সেই মেধার মাধ্যমে জাতিকে ভালো কিছু দেয়া সম্ভব না। শিক্ষার মাধ্যমে আলোর মশালের অধিকারী হওয়া যাবে। কিন্তু মশাল দিয়ে মানুষের ঘরে আগুন না দিয়ে আলোকবর্তিকা হয়ে পথহারা মানুষকে পথ দেখাতে হলে শিক্ষার সাথে নৈতিকতা প্রয়োজন। পৃথিবীর ইতিহাসে মক্কার আবু জাহেল নামে যাকে আমরা চিনি, তাকে আইয়ামে জাহিলিয়্যাতে আবুল হাকাম নামে অনেকে চিনত। তথা তার মেধা ছিল, কিন্তু নৈতিকতা ছিল না। বলা হয়ে থাকে ঊফঁপধঃরড়হ রং ঃযব সড়ংঃ ঢ়ড়বিৎভঁষ বিধঢ়ড়হ. তথা জ্ঞান হলো শক্তিশালী অস্ত্র। সেই অস্ত্রকে সৎ পথে, কল্যাণের পথে ব্যবহারের জন্য নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। যেই সভ্য সমাজের স্বপ্ন আমরা দেখি, সে সমাজ গড়তে হলে মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয় ছাড়া হতে পারে না। আর নৈতিক শিক্ষার জন্য অবশ্যই ধর্মের কাছে আসতে হবে। যিনি জগৎ বানালেন, মানুষ বানালেন, তিনিইতো জানবেন কোন পথে মানুষের কল্যাণ আছে। তাই জগৎস্রষ্টার দেখিয়ে দেয়া সেই ধর্মীয় শিক্ষাই কেবল একজন মানুষকে সততার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ করতে পারে।
পিতা-মাতা সব উজাড় করে সন্তানকে মানুষ করার জন্য স্কুল কলেজে ভর্তি করান। সন্তান বড় হয়, অনেক বড় বড় ডিগ্রি নেয়। কিন্তু তাকে কোথাও শিখানো হয় না পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করতে হবে, বৃদ্ধাবস্থায় ভরণ-পোষণ দিতে হবে। সে শিক্ষা কেবল ধর্ম থেকেই পাওয়া যায়। (তোমরা তোমাদের পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ কর, আল কুরআন, ১৭:২৩)। কলেজ ভার্সিটি থেকে ডিগ্রি নিয়ে যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ অফিসার হওয়া যায়, কিন্তু কারো প্রতি জুলুম করা যাবে না, সে শিক্ষা ধর্ম থেকেই নিতে হবে। কলেজ-ভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে শিক্ষকদের বেতন দেই, কিন্তু এরপরেও শিক্ষককে কেন সম্মান করতে হবে? ধর্মীয় বিধানে আছে, শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। পৃথিবীর যে কোন আইনে কাউকে বিচার করতে হলে অপরাধটি কোন না কোন ভাবে দৃশ্যমান হতে হবে, সাক্ষী লাগবে। কিন্তু অগোচরে, রাতের আঁধারে কারো মাল লুণ্ঠন করা থেকে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে কেবল ধর্মীয় শিক্ষা।
পৃথিবীতে যত অন্যায়, অনাচার সব কিছুর মূলে হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন প্রবৃত্তি। আর মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সৃষ্টিকর্তার বিচারিক আদালতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ছাড়া সম্ভব নয়। কিছুদিন পূর্বে দেশের জনৈক মন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন, ঘরে ঘরে পুলিশ দিয়ে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। হ্যাঁ! সত্যিই সম্ভব নয়। কিন্তু সকল কর্মকাণ্ডের রেকর্ড মহান আলাহ তায়ালা রেখেছেন, এবং সকল কাজের হিসাব দিতে হবে- এই মানসিকতা থাকলে অবশ্যই ব্যক্তিকে পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই। শুধু শিক্ষার মাধ্যমেই ভালো-মন্দ যাচাই করার জ্ঞান অর্জন হয় না। এ জন্য প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষা। অথচ আমাদের শিক্ষা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। যতুটুকু আছে, তাও কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

আমাদের করণীয়
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও একটি স্থায়ী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা যায়নি। সরকারব্যবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষানীতিও পরিবর্তন হয়। তাই আমাদের প্রজন্মকে গড়ার জন্য আমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। আগামীর প্রজন্মকে সভ্য, সুন্দর দেখতে হলে একজন শিশুকে আগামী দিনের ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করার জন্য অভিভাবকসহ সচেতন মানুষদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।
পারিবারিক শিক্ষা : একজন শিশুর জ্ঞানের হাতে খড়ি হয় পরিবার থেকেই। পরিবারে যদি ভালো, ইতিবাচক কিছু শিখতে পারে, তাহলে সে শিক্ষাই তার বুনিয়াদ হিসেবে কাজে দিবে।
ধর্মীয় শিক্ষা : সকল ধর্মই মানবতার শিক্ষা দেয়, নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। সুতরাং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে হলে ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। সন্তানের মেধার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে গুরুত্ব দেয়া হয়, সেভাবে নৈতিকতার শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বন্ধু নির্বাচন : আপনার সন্তান কার সাথে সারাদিন ঘুরে, সময় কাটায়, সে বিষয়ে অবশ্যই খোঁজ রাখা উচিত। ভালো বন্ধু নির্বাচনের কথা ধর্মেও আছে। (তোমরা সৎ লোকের সঙ্গী হও। আল কুরআন, ৯:১১৯)
প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ : তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধের হার বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা নেতিবাচক আচরণ করছে। জঙ্গিবাদ, হত্যা, ধর্ষণ, ব্যাকমেইল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের আসক্তিই অন্যতম কারণ।
অপসংস্কৃতি রোধ : আমাদের নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য, তরুণ সমাজকে নৈতিকতাহীন করার জন্য অপসংস্কৃতির আগ্রাসন কম দায়ী নয়। তাই দেশীয় এবং মার্জিত সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। এ ছাড়া মেধার প্রতিযোগিতায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য পড়ার টেবিলে, লাইব্রেরিতে, ক্লাসে অন্যান্য বিষয়ের সাথে নৈতিক শিক্ষার জন্য ধর্মীয় শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে এবং একটি সুন্দর, সভ্য, সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকতামুক্ত সমাজ গড়তে নিজের নিয়ন্ত্রণহীন প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply