আল্লাহর পছন্দনীয় মানবিক গুণাবলি – আলী আহমাদ মাবরুর

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তিনি তখন ফেরেশতা জিবরাইলকে (আ) ডেকে পাঠান এবং বলেন, “আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি তাই তুমিও তাকে ভালোবেসো।” এরপর থেকে জিবরাইলও (আ) সেই বান্দাকে ভালোবাসতে শুরু করে। তারপর হযরত জিবরাইল (আ) যখন অন্য সব ফেরেশতাকে জানিয়ে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন সব ফেরেশতাই সেই বান্দাকে ভালোবাসতে শুরু করে। পৃথিবীর মানুষদের মাঝেও উক্ত বান্দার জন্য ভালোবাসা তৈরি করে দেয়া হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
প্রকৃত বাস্তবতা হলো, জান্নাত পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তো আছেই, সেই সাথে আমরা ভয়, ভালোবাসা, তাকওয়া এবং আশার জায়গা থেকেও আল্লাহর ইবাদত করি। আমরা আল্লাহর অসন্তোষ এবং রাগকে ভয় পাই। বরং আমরা তাঁর করুণা, রহমত এবং ক্ষমা পাওয়ার প্রত্যাশা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যে অগণিত নেয়ামত দিয়ে ভরিয়ে রেখেছেন তার জন্যও আমরা তাঁকে ভালোবাসি। আল্লাহকে ভালোবাসা আমাদের ঈমানের দাবি। শুধু তাই নয়, আমরা তাই ভালোবাসি যা আল্লাহ ভালোবাসেন। আর তিনি যা অপছন্দ করেন, আমরা তাই অপছন্দ করি। আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টা করি। এমন সব গুণাবলিকে আমরা ধারণ করার চেষ্টা করি বা করা উচিত, যেগুলো আল্লাহ ভালোবাসেন। কেননা তাঁর ভালোবাসার বদৌলতেই আমরা সফলতা ও নেয়ামত লাভ করতে পারব।
আলোচনার এই পর্যায়ে আমরা সংক্ষেপে কিছু মানবিক গুণাবলিকে নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো আল্লাহ তাআলা নিজেও অত্যধিক ভালোবাসেন।

অনুতপ্ত হওয়া ও তওবাহ করা

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।” (সূরা আল বাকারা: ২২২)
আল্লাহ সবসময় সেই বান্দাদেরকে ভালোবাসেন যারা অনুশোচনায় ভোগে এবং যারা নিয়মিত তওবাহ করে। ভুল করেও যারা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করে তারাই আল্লাহর পছন্দের বান্দা। কেননা, আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল এবং তিনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। কে কতবার অন্যায় করলো, তার পাপের গভীরতা কতটুকু আল্লাহ তা বিবেচনা করেন না। বান্দা যদি গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠতার সাথে ফিরে আসে, তাহলেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, যদি কেউ একটি গুনাহ করে এবং তারপর আল্লাহর কাছে বলে, হে আমার খোদা, আমি পাপ করেছি, আমায় মাফ করে দাও। তাহলে আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা এতটুকু অন্তত জানে যে, একজন খোদা আছে যে গুনাহ মাফ করে আর মাফ না চাইলে গুনাহের জন্য শাস্তি দেয়। যেহেতু সে তার রবের কাছে ক্ষমাই চেয়েছে, তাই আমি তাকে মাফ করে দিলাম।” তারপর সেই বান্দা কিছু সময় গুনাহ থেকে বিরত থাকার পর এরপর আবার গুনাহ করে। তারপর আবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে, “হে আমার রব, আমি আবারও একটি গুনাহ করে ফেলেছি। দয়া করে আমায় মাফ করে দিন।” আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা যেহেতু জানে যে, একজন খোদা আছে যে গুনাহ মাফ করে আর মাফ না চাইলে গুনাহের জন্য শাস্তি দেয়। যেহেতু সে তার রবের কাছে ক্ষমাই চেয়েছে, তাই আমি তাকে মাফ করে দিলাম।” তারপর সেই বান্দা কিছু সময় গুনাহ থেকে বিরত থাকার পর এরপর আবার গুনাহ করে। তারপর আবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে, “হে আমার রব, আমি আবারও একটি গুনাহ করে ফেলেছি। দয়া করে আমায় মাফ করে দিন।” আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা জানে যে, তার গুনাহ মাফ করার জন্য একজন খোদা আছে। তাই সে তার রবের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, তাই আমি তাকে মাফ করে দিলাম। তার যা পছন্দ সে তাই করতে পারে।” (বুখারী)
স্বাভাবিকভাবে, একজন মানুষ গুনাহ করতেই পারে। এরপর তার উচিত হলো আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া এবং নেক আমলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। কেননা, নেক আমল দিয়েই তার যাবতীয় পাপাচার ধুয়ে মুছে যাবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে কেউ যেন ক্লান্ত না হয়ে যায়। মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর দরবারে ক্ষমার আবেদন করতে হবে।
হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “প্রতিটি আদম সন্তান মাত্রই ভুল করে। তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে একটি গুনাহ করার পর আবার অনুশোচনা ও তওবাহ করে।” (ইবনে মাজাহ)
মানুষ ভুল করবেই। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো সে ভুল করবে এবং গুনাহর কাজ করবে। ইসলাম হলো মানবতার জন্য একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামও আমাদেরকে জানিয়েছে যে, এই পৃথিবীতে কোনো মানুষই নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত নয়। প্রতি বছর রামাদান মাসের রোজা আমাদেরকে একটি মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দেয় যাতে আমাদের চরিত্র উন্নত হয় এবং আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে এবং তওবাহ করতে আরো বেশি সক্রিয় হই।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাহকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা আল বাকারা : ২২২)
তওবাহ করলে একজন ঈমানদার ব্যক্তি মূলত একসাথে আমলের সওয়াব পান। যদি তার ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর হয় তাহলে শুধু তিনি অসৎ কাজের দায় থেকে মুক্তিই পাবেন না বরং তওবাহটাই একটি ইবাদত হিসেবে তার আমলনামায় যুক্ত হবে। সকল মানুষের মধ্যে যিনি সর্বোত্তম মানুষ, যিনি রাহমাতুল্লিল আলামিন, সেই নবী মুহাম্মাদ সা. নিজেও প্রতিদিন ৭০ বার তওবাহ করতেন। তাই আমরা যারা গুনাহের সাগরে বসবাস করি, আমাদেরকে তওবাহ করার প্রক্রিয়ায় আরো সিদ্ধহস্ত ও তৎপর হতে হবে। আমাদেরকে নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে। আমরা প্রকাশ্যে ও গোপনে যে গুনাহগুলো করি, সেগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেই হবে।
আজকের সময়ে, প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে, আমরা অনেকেই সচেতনভাবে বা অজান্তে নানা ধরনের গুনাহতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছি। একনিষ্ঠ অনুশোচনা ও তওবাহর মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অনাকাক্সিক্ষত অতীতকে ভুলতে পারি, নতুন একটি পথে বলিষ্ঠ পায়ে পদার্পণ করতে পারি। সর্বোপরি, আমরা তওবাহর মাধ্যমে একজন নিষ্কলুষ ও গুনাহমুক্ত বান্দায় পরিণত হতে পারি। যারা নিয়মিত তওবাহ করবে, আল্লাহ তাদের সফলতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।
“মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (সূরা আন নূর: ৩১)
একজন তওবাহকারী তার অনুশোচনা ও তওবাহর দ্বারা অনেকগুলো উপকার পেতে পারে। তওবাহ করলে তার অপরাধবোধ কমে যায় এবং অন্তর স্বস্তিতে ভরে যায়। তা ছাড়া তওবাহকারী ব্যক্তি আল্লাহর কাছাকাছি চলে যেতে পারে এবং চিরন্তন সফলতার দেখা পায়। যারা বিভিন্ন অনাচারের ভিকটিম হচ্ছেন, তারাও সংশ্লিষ্ট পাপী ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা ও নেয়ামত পাওয়ার নিশ্চয়তা আদায় করতে পারেন।
ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা মুসলিম ও অমুসলিম, ধনী-গরিব, নারী বা পুরুষসহ সকলের সমঅধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। ইসলাম সমাজে শান্তি ও বহুমতের সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করে। একজন মানুষ বিপথে চলে যাওয়ার পরও আল্লাহ তওবাহর মাধ্যমে তাকে সুপথে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহ মুমিন বান্দাদেরকে যে কয়টি মৌলিক নেয়ামত দিয়েছেন তার মধ্যে একটি হলো তওবাহ করার সুযোগ। যারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাদের জন্য আল্লাহ সবসময় তাঁর দুয়ার উন্মুুক্ত রেখেছেন। তবে এক্ষেত্রে ক্ষমাপ্রার্থীকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ক) নিজের পাপ ও ভুলকে স্বীকার করতে হবে।
খ) আল্লাহর প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়ার জন্য লজ্জিত হতে হবে। এবং
গ) একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

বিশুদ্ধতা

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে বেশি ভালোবাসেন যারা নিয়মিতভাবে তওবাহ করে এবং নিজেদেরকে বিশুদ্ধ রাখার চেষ্টা করে।” (সূরা আল বাকারা: ২২২)
আল্লাহ তাআলা সেই বান্দাকে বেশি পছন্দ করেন যিনি অপবিত্র বা খারাপ কোনো বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। যিনি বড় ও ছোট সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখেন। নিজেকে শুদ্ধ রাখার আরেকটি উপায় হলো শিরক ও অন্যন্য পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

ন্যায়নিষ্ঠতা ও তাকওয়া

অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের ও ন্যায়নিষ্ঠ বান্দাদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা তওবাহ: ৪) এই গুণটিকে আমরা কখনো খোদাভীরুতা, কখনো পুণ্যময় কাজ হিসেবেও অভিহিত করি। তাকওয়া হলো সেই মানবিক গুণাবলি যা বান্দাকে আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ করতে এবং অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। তাকওয়া এভাবেই মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকেও হেফাজত করে।

সততা এবং নিজের ভালো কাজগুলোকে নিখুঁত করার চেষ্টা করা

“যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। বস্তুত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)
এই আয়াতে আমরা চারটি কাজের সন্ধান পাই, যেগুলো আল্লাহ পাক খুবই পছন্দ করেন। এগুলো হলো-
ক) অনুকূল সময়ে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা
খ) প্রতিকূল অবস্থাতেও আল্লাহর পথে ব্যয় করা
গ) রাগকে দমন করা। একবার হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ আল সাকাফি (রা) রাসূলকে সা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন কিছু বলুন যার দ্বারা আমি উপকৃত হবো। যা আমাকে আরো বেশি কার্যকর ও শক্তিশালী করবে। রাসূল সা. উত্তর দিলেন, রেগে যেও না। তাহলেই তুমি জান্নাতে যাওয়ার পথ খুঁজে পাবে। (আল তাবারানি)।
ঘ) মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া। আমরা মানুষের ভুল ত্রুটিগুলোকে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে মানুষকে ক্ষমা করতে পারি। এই ক্ষমা করার বিষয়টাও পরোক্ষভাবে রাগ দমনের সাথে সম্পর্কিত। রাগ সংযত করা উত্তম। তার চেয়েও উত্তম হলো মানুষকে ক্ষমা করা দেওয়া এবং তার জন্য কল্যাণ কামনা করা। রাসূল সা. বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম হলো তারাই যারা মানুষের জন্য উপকারী ও কল্যাণকামী। (তথ্য সূত্র: আল মুজাম আল আওসাত, শায়খ আল বানী)
আমরা সবসময় অপরের কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট হবো। কেননা, এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন করা সহজ। ইসলামের আওতায় ভালো কাজের যে ব্যাপকতা, তাকে উপরোক্ত চারটি ভাগেই সীমাবদ্ধ করে রাখা ঠিক হবে না। ভালো ও নেক আমল করার আরো অনেক উপায় আছে। আমাদেরকে সেই আমলগুলো করার জন্যও আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাতে হবে।

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা

“অতঃপর যখন কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা’আলার ওপর ভরসা করুন। আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯)
হযরত উমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “তোমরা যদি আল্লাহর উপর সঠিকভাবে ভরসা রাখতে পারো তাহলে তিনি তোমাদেরকে সেভাবেই তার প্রতিদান দেবেন যেভাবে তিনি সেই পাখিটিকে প্রদান করেন। যে সকাল বেলা খালি মুখে বেরিয়ে যায় আর সন্ধ্যায় ভরা খাবার নিয়ে নীড়ে ফিরে আসে। (আত তিরমিজি)।
আমরা অলসতা কাটিয়ে আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সবটুকু একনিষ্ঠভাবেই করার চেষ্টা করব। ফলাফল নিয়ে মাথা ঘামাব না। আল্লাহ তাআলা সব কিছুর কারণ ও ফলাফল সৃষ্টি করে রেখেছেন। তাই আমাদের উচিত চেষ্টা করে যাওয়া, ফলাফলের জন্য আমরা আল্লাহর ওপরই ভরসা করব।
হযরত আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, একবার একজন ব্যক্তি রাসূলকে সা. বললেন, হে রাসূল, আমি কী আমার উটটিকে খুঁটির সাথে বেঁধে আল্লাহর উপর ভরসা করব নাকি আল্লাহর উপর ভরসা করে উটটিকে ছেড়ে দিব? নবীজি সা. উত্তর দিলেন, খুঁটির সাথে বেঁধে তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে। (তিরমিজি)

ন্যায়বিচার

যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায়নিষ্ঠভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আল মায়েদাহ : আয়াত ৪২)
ইসলাম সবার প্রতি সুবিচার করার তাগিদ দিয়েছে। মুসলিম ও অমুসলিম কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, ইসলাম তা নিশ্চিত করেছে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, জাত নির্বিশেষে সকলেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ধৈর্য

আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত ১৪৬) ধৈর্যের অনেকগুলো রূপ বা প্রকৃতি রয়েছে।

ক. প্রতিকূল অবস্থায় ধৈর্যধারণ করা: কোনো ব্যক্তি কোনো বাজে অবস্থায় পড়লেই তার অভিযোগ করা বা হতাশ হওয়া উচিত নয়। বরং তার উচিত আল্লাহর ফায়সালাকে মেনে নেওয়া এবং কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সবরের মাধ্যমে মোকাবেলা করা। উদাহরণ হিসেবে আমরা হযরত আইউব (আ) এর কথা বলতে পারি। আল্লাহ তাকে স্বাস্থ্য, সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি সবই দিয়েছিলেন এবং অনেক বেশি পরিমাণে। তারপর তিনি একসাথেই সব হারান। সবাই তাকে ছেড়ে চলেও যায়। অথচ, এরপরও তিনি ধৈর্যহারা হননি। তেমনিভাবে হযরত ইয়াকুব (আ) তার প্রিয় দুই সন্তানকে হারানোর পরও ভেঙে পড়েননি। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছিলেন।
খ. আল্লাহর হুকুম পালনে ধৈর্যধারণ করা: নামাজ পড়ার সময়, রোজা পালনের সময় তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। অস্থিরতাও কাম্য নয়। ঠিক একইভাবে জাকাত আদায় করা বা হজ পালনের সময়ও মাথা ঠাণ্ডা রাখা খুব প্রয়োজন। এভাবে প্রতিটি ইবাদতের সময়ই অস্থিরতা, উত্তেজনা ও তাড়াহুড়োকে পরিহার করে বরং ধৈর্য ধারণে তৎপর হওয়া দরকার।
গ. আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকতেও ধৈর্য প্রয়োজন: মদ, জুয়া, শূকরের গোস্ত খাওয়া কিংবা অন্যান্য অনেক খারাপ ও নিষিদ্ধ কাজ করার সুযোগ আমাদের সামনে আসবে। এগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্যও ধৈর্য বা সবরের প্রয়োজন।
এই লেখনীতে আমি সংক্ষেপে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কিছু পছন্দনীয় মানবিক গুণাবলিকে তুলে ধরলাম। এরকম আরো অনেক গুণাবলি আছে যা ঈমানদার হিসেবে আমাদের অর্জন করার জন্য প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই গুণাবলিসমূহ অর্জনের মাধ্যমে তাঁর পছন্দনীয় বান্দা হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও অনুবাদক

SHARE

Leave a Reply