আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূরণে মুমিনের করণীয় -প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী

কুরআনের বাণী ‘আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে তিনি ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যে দ্বীনটি আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন, তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা যেন শুধু আমার ইবাদত করে এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করে।’ (সূরা আন নূর ৫৫)
এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের মালিক আল্লাহতায়ালা। তিনি যাকে খুশি রাজত্ব দান করেন এবং যাকে খুশি রাজত্ব থেকে হঠিয়ে দেন। কারণ তিনিই সার্বভৌম। তবে তা করেন তাঁর একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে। আদম (আ)-কে দুনিয়ায় প্রেরণের সময় আল্লাহ বলে দেন, ‘আমার পক্ষ থেকে যে হেদায়েত যাবে যারা তা অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয়ের কারণ নেই।’ তাঁরই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অসংখ্য নবী-রাসূল তিনি প্রেরণ করেছেন এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মদ (সা)। তাঁর প্রেরণের উদ্দেশ্য তিনি এভাবে ব্যক্ত করেছেন, ‘তিনি আপন রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ (জীবনব্যবস্থা) প্রেরণ করেছেন যাতে সকল দ্বীনের ওপর একে বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, যদিও শিরকবাদীগণ মোটেই বরদাশ্ত করবে না।’ শয়তান আল্লাহতায়ালার আদেশ পালনে অস্বীকার করে তাঁর বিরাগভাজন হয়ে অভিশপ্ত অবস্থায় বেহেশ্ত থেকে বিতাড়িত হয়। যে মানুষের কারণে সে অভিশপ্ত হয় সেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সে আল্লাহর কাছে সুযোগ ও কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চায়। আল্লাহ তার প্রার্থনা মঞ্জুর করে জানিয়ে দেন, ‘যারা তাকে অনুসরণ করবে তাকেসহ অনুসরণকারীদেরকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবেন।’ আদম (আ)-এর এ দুনিয়ায় আগমনের পর থেকেই হক ও বাতিলের দ্বন্দ্ব-সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা চলবে। মানুষকে তিনি স্বাধীন সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। ফলে ভালো ও মন্দ যে কোন পথ বাছাই করার ব্যাপারে মানুষকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। মানুষের অন্তরে ভালো ও মন্দের অনুভূতি এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার মত বিবেকও দান করেছেন। মিথ্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, শঠতা, ধোঁকা-প্রতারণাসহ সকল অপকর্ম বিবেকবিরুদ্ধ। সকল অন্যায়-অপকর্মের হোতা শয়তান এবং শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ তা করে থাকে (শয়তান মানুষকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়)। পক্ষান্তরে শয়তানের খপ্পর থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য বিবেকের সাথে সাথে আল্লাহ নবী-রাসূল ও কিতাব দিয়েছেন। আদম (আ)-কে যে বেহেশতে রেখেছিলেন সেই বেহেশ্তই মানুষের ঠিকানা যদি সে আল্লাহর দেয়া হেদায়েত অনুসরণ করে। অসংখ্য নেয়ামতে ভরা এ বেহেশ্ত অত্যন্ত দামি এবং দাম দিয়েই তা সংগ্রহ করতে হবে। আর তার বিপরীত হলো ভয়াবহ আজাব ও যন্ত্রণার স্থান জাহান্নাম যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে শয়তানের অনুসারীদের জন্য। সমাজের কর্তৃত্ব শয়তানের অনুসারীদের হাতে থাকলে এ পৃথিবীটা অশান্তিতে ভরে ওঠে; বিশেষ করে সে অবস্থায় ঈমানদারদের জীবন হয়ে পড়ে বিপন্ন। একটি ঈমানদার জনগোষ্ঠী যদি নেক আমলে ভূষিত হয় এবং সেই জনপদে যদি তাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে তাহলে আল্লাহর নিয়ম হলো তাদেরকে সমাজে কর্তৃত্ব (খিলাফত) দান করা। একটি সমাজে খিলাফত প্রতিষ্ঠা আল্লাহতায়ালার বড় নেয়ামত। ঈমানদারদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি সেই লোকালয়ের অধিকাংশ মানুষের ইসলামকে গ্রহণ করার মত মনমানসিকতা না থাকে তাহলে আল্লাহ তা দান করেন না। যেমন মক্কায় স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সা) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মক্কার অধিবাসীদের সক্রিয় বিরোধিতার কারণে সেখানে দ্বীন বিজয়ী হতে পারেনি।
দ্বীনকে বিজয়ী করার দায়িত্ব ও ক্ষমতা আল্লাহর। এতে স্বয়ং রাসূল (সা)-এরও কোন কৃতিত্ব নেই। তাই কুরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এলো, তখন দেখলে লোকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে শামিল হচ্ছে।’ দ্বীনকে বিজয়ী করার উদ্দেশ্যে যারা চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালায় আল্লাহ তাদেরকে গুনাফ মাফ ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। সাথে সাথে এও বলেছেন, ‘তোমরা যা চাও, আল্লাহর সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। হে নবী, এ সুসংবাদও মুমিনদেরকে দাও’। সব নবী-রাসূলের পক্ষে দুনিয়ায় বিজয় অর্জন সম্ভব হয়নি, তবে সবাই যে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জান্নাতে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা শুরু করেছি সূরা আন নূরের ৫৫ নম্বর আয়াত দিয়ে যাতে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন খিলাফত দানের, দ্বীনকে দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমান ভীতিজনক অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দিতে। ঈমানদারদের উচিত আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূরণের উপযোগী হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তোলা। এখানে আমরা সেটাই আলোচনা করবো।
কুরআনের আয়াতÑ ঈমান আনবে ও নেক কাজ করবে। আল্লাহ, ফেরেশতা, রাসূল, আখিরাত, কিতাব ও তকদিরের ওপর সন্দেহমুক্ত ঈমান। কুরআন মজিদে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সূরা ইখলাস, আয়াতুল কুরসি ও সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াতে আল্লাহ নিজেই তাঁর পরিচয় পেশ করেছেন। আল্লাহ নিজে তাঁকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, একজন ব্যক্তি সেভাবে যদি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ও অন্তরে আল্লাহকে অনুভব করে তাহলে তার জীবনে পরিবর্তন না এসে পারে না। আমরা মুখে মুখে ঈমানের দাবি করলেও আমাদের অন্তরে আসলে ঈমান প্রবেশ করেনি। আখিরাতে বিশ্বাসী একজন ব্যক্তি যদি বিশ্বাস করে যে আল্লাহর নাফরমানি করলে অনন্তকাল তাকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হতে হবে, তাহলে কী করে তার পক্ষে সম্ভব মানুষের প্রতি জুলুম ও আল্লাহর নাফরমানি করা । এক গ্লাস দুধে এন্ড্রিন মিশ্রিত করে যদি বলা যায় যে, এ দুধ খাওয়ার সাথে সাথে একজন ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে এবং তা সে বিশ্বাস করলে কস্মিনকালেও তাকে সেই দুধ খাওয়ানো যাবে না। সে তার আচরণ দিয়ে প্রমাণ করবে যে, এ কথায় তার বিশ্বাস রয়েছে। কুরআন মজিদে প্রতিদান দানের ক্ষেত্রে ঈমান ও নেক আমলের কথা পাশাপাশি বলা হয়েছে। এ দুয়ের সম্পর্ক বীজ ও বৃক্ষের মত। জমিনে বীজ বপন করলে তাতে চারা গজাবে। যদি চারা না গজায় তবে বুঝতে হবে বীজ পচে গেছে বা মাটির তলায় চাপা পড়েছে। ঈমান ও নেক আমলও তাই। কেউ যদি যথার্থই ঈমানদার হয়ে থাকে তাহলে তার থেকে শুধু নেক আমলই পাওয়া যাবে। কারও আমল যদি সহিহ-শুদ্ধ না হয় তাহলে বুঝতে হবে তার ঈমানদার দাবি ধোঁকা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
নেক আমল অত্যন্ত বিস্তৃত। নামাজ-রোজা, হজ, জাকাত, জিকির-আজগার, তাসবিহ-তাহলিল বা নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে নেক আমল সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনের ব্যাপকতা যতখানি নেক আমলের পরিধিও ততখানি। আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের মধ্যে এসব নেক আমলের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনটাকে সুখী-সমৃদ্ধ ও আরামদায়ক করতে চান। সাথে সাথে ঈমানসমৃদ্ধ নেক আমল দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগৎকে কল্যাণময় করতে চান। নেক আমল সবই বিবেকসম্মত। যেমন সত্যবলা, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালন, আমানত রক্ষা, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, কাজে-কর্মে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন ইত্যাদি। কেউ যদি বিশ্বাসবিবর্জিত হয়ে এসব ভালো কাজ করে তাহলে ব্যক্তি ও জাতি হিসেবে তারা সুফল পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু আখিরাতে তারা প্রতিদান থেকে বঞ্চিত হবে। ইসলামে যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে তা ঈমানের সাথে নেক আমলের। ঈমানের দাবিই হলো নেক আমল করা। কুরআন মজিদে নানাভাবে আল্লাহর বান্দাহদেরকে নেক আমলে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এক কথায় আল্লাহর মন জুগিয়ে চলাকেই নেক আমল বলে। অর্থাৎ যে কাজ করলে আল্লাহ খুশি হন সেটা করা এবং যে কাজ করলে আল্লাহ বেজার হন তা পরিহার করে চলা। উদাহরণস্বরূপ আমরা এখানে কিছু নেক আমল উল্লেখ করতে পারি।
১. আনুষ্ঠানিক ইবাদত-বন্দেগি (নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতের মত আনুষ্ঠানিক ফরজ ইবাদত এবং জিকির-আজগার, তাসবিহ-তাহলিলসহ রাসূল (সা) প্রদর্শিত নফল ইবাদতসমূহ)।
২. হালাল উপার্জন-উপার্জনের ক্ষেত্রে সকল হারাম পথ বর্জন করা। ওজনে কম-বেশি, ভেজাল প্রদান, ধোঁকা-প্রতারণা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আমানতে খেয়ানত, দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও মানুষকে হয়রানি, ঘুষের আদান-প্রদান, সুদের লেন-দেন, অশ্লীলতা প্রসারসহ সব ধরনের অনৈতিক পথ ও পন্থা পরিহার। হালাল উপার্জন ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত।
৩. সদাচরণের সবচেয়ে বড় হকদার হলেন পিতা-মাতা, তারপর নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনসহ সমস্ত মানুষ এবং আল্লাহর সকল সৃষ্টি। কুরআন ও হাদিসে সদাচরণের তাগিদ এসেছে বারবার। সূরা বনি ইসরাইলে আল্লাহর গোলামির সাথে সাথেই পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার এবং আত্মীয়-স্বজন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকে তাদের পাওনা আদায়ের কথা বলা হয়েছে। মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানোর সর্বোত্তম পন্থা হলো উত্তম আচরণ। উত্তম আচরণকারী ব্যক্তি খুব সহজেই মানুষকে বন্ধু করে নিতে পারে। দাওয়াতে দ্বীনের খাতিরেই একজন ঈমানদারকে মিষ্টভাষী ও সদালাপী হতে হবে। আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসূল (সা)-এর প্রশংসা করেছেন যে তুমি অত্যন্ত ন¤্র হৃদয়ের, কঠিন হৃদয়ের হলে মানুষ তোমার থেকে ছিটকে পড়তো। সদাচরণের ব্যাপারে রাসূল (সা) তাঁর উম্মতদের প্রতি বারবার তাগিদ দিয়েছেন-‘ভূপৃষ্ঠে যারা রয়েছে তাদের সাথে ভালো আচরণ করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনিও তোমাদের সাথে ভালো আচরণ করবেন।’ এই ভালো আচরণ সবার সাথে-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশী, অধীনস্থ লোকজন, অমুসলিম নাগরিক এক কথায় আল্লাহর সকল বান্দাহর প্রতি। তাঁর বাণী-‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম’; ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে তার অধীনস্থদের নিকট উত্তম। দৈনিক সত্তর বার হলেও অধীনস্থদের অপরাধ ক্ষমা করে দাও’। আমাদের বুঝতে হবে মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ তো আল্লাহরই সঙ্গে অসদাচরণ। আল্লাহর বাণী-‘নিশ্চিত ধ্বংস তাদের জন্য যারা মানুষকে সামনা-সামনি গালাগাল করে ও পেছনে দোষ প্রচার করে।’ অর্থাৎ যারা মানুষকে হেয় করে, সম্মানহানি করে, কষ্ট দেয় ওরা আল্লাহর দুশমন; ওদের জন্য রয়েছে আল্লাহর আগুন। রাসূল (সা)-এর বাণী-‘ঐ ব্যক্তি মু’মিন নয়, মু’মিন নয়, মু’মিন নয়, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্যরা নিরাপদ নয়’। আমরা তো মুমিন এ অর্থে যে, আমাদের দ্বারা মানুষসহ সকল সৃষ্টি নিরাপদ। একজন অমুসলিম ও ইসলামের দুশমনও একজন মুমিনের কাছে নিরাপদ। রাসূল (সা)-এর বাণী-‘আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত একজন মুজাহিদকে হত্যা করা এবং একজন অমুসলিমকে হত্যা করা সম অপরাধ।’ এমনকি ইসলামের যে দুশমন প্রতিনিয়ত মুমিনদেরকে গালি দেয়, কষ্ট দেয় এবং নিপীড়ন-নির্যাতনের কোন সুযোগই হাতছাড়া করে না-সেই জালেমের সাথে আচরণটা কেমন হবে আল্লাহর ভাষায় আমরা জেনে নিই, ‘হে নবী, ভালো ও মন্দ কখনই এক নয়, তুমি মন্দের জবাব দাও সেই ভালো দ্বারা যা অতীবও উত্তম; তাহলে দেখবে তোমার জানের দুশমনরা প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে।’ কাজটি খুবই কঠিন। আল্লাহ বলেন, ‘এ গুণ কেবল তারাই লাভ করতে পারে যারা অতিশয় ধৈর্যশীল ও ভাগ্যবান’। শুধুই কি তাই? জালেম কর্তৃক নিহত হয়ে যাওয়া ব্যক্তির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে, ‘হায়! আমার জাতির লোকেরা যদি বুঝতো কিসের বদৌলতে আমার রব আমাকে ক্ষমা করলেন ও সম্মানিত লোকদের মধ্যে গণ্য করলেন।’ এমতাবস্থায়ও কোন অভিশাপ নয়, কোনো অকল্যাণ কামনা নয়। আল্লাহ এভাবেই মুমিনদেরকে তাঁর কিতাবে উপস্থাপন করেছেন, যারা সর্বক্ষণ ও সর্বাবস্থায় তাঁর সৃষ্টির কল্যাণ কামনায় নিয়োজিত এবং এ সমস্ত মুমিনদের জন্যই সাজিয়েছেন চির সুখের জান্নাত। আর বারবার বলেছেন মুমিনদের অভিভাবক হলেন আল্লাহ এবং মুমিনদের উচিত কেবল তাঁরই ওপর ভরসা করা। যেহেতু মুমিনরা আল্লাহর সাহায্যকারী ও প্রতিনিধি। তাই আল্লাহর ওপর নিজেকে সোপর্দ করে সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে কেবল ইতিবাচক দায়িত্ব পালনের তাগিদই বিভিন্ন ভঙ্গিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) পেশ করেছেন। মুমিনদের মডেল হলেন রাসূল (সা)। উত্তম আচরণের কারণেই তাঁর দাওয়াতে প্রথমে সাড়া দেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা (রা), তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হযরত আবু বকর (রা)সহ তাঁর একান্ত পরিচিত জনরা। কাফির-মুশরিকদের থেকে নিজেকে আড়াল করে তিনি গোপনে দাওয়াত দিয়েছেন, প্রকাশ্যে দিয়েছেন, নির্যাতিত ও রক্তাক্ত হয়েছেন, সাথীদের শহীদ হওয়া দেখেছেন, আবিসিনিয়ায় তাঁর সাথীরা হিজরত করেছেন, এক সময়ে তিনি নিজেও অত্যন্ত সন্তর্পণে মক্কাভূমি ত্যাগ করে মদিনায় চলে গেছেন। সেখানে এক অনুকূল পরিবেশে আল্লাহর ইচ্ছায় দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছেন। ঠিক সে সময়ে শুরু হয় বদলা গ্রহণের পালা। আল্লাহ নিজে ও মুমিনদের দ্বারা তাঁর দুশমনদের দর্প খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চূর্ণ করে দিয়েছেন। দ্বীনকে বিজয়ী করার টার্গেট নিয়ে মুমিনরা উত্তম চরিত্রের সাহায্যে দাওয়াতি দ্বীনের দায়িত্ব পালন করে যাবে। নেক আমলে ভূষিত হয়ে এ দায়িত্ব পালন করলে অবশ্যম্ভাবী আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক খিলাফত দান করবেন।
লেখক : উপাধ্যক্ষ (অবসর),
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ

SHARE

Leave a Reply