আল্লাহর সাথে বান্দার চুক্তি – আব্দুল আলীম

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, পালনকর্তা, আইনদাতা, বিধানদাতা, হেফাজতকারী, পরিচালক। আমরা যদি আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেই তাহলে এসব বিষয়গুলো অকপটে স্বীকার করতে হবে। পবিত্র কুরআনে অসংখ্য জায়গায় মহান আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিনি ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা, ইলাহ তথা রব যে নাই তা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- “তিনিই তো আল্লাহ, এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি ঘুমান না, তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না।”
সূরা হাশরের শেষ আয়াতে তাঁর স্বরূপ তুুলে ধরা হয়েছে। সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াতে মহান প্রভুর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সূরা ইখলাসে একত্ববাদের পরম পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কুরআনের উল্লিখিত আয়াতগুলো যে কেউ পড়লে আল্লাহকে ইলাহ এবং রব হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য এবং একত্ববাদের ঘোষণা দিতে নিজমনকে সাব্যস্ত করবে। যে মহান সত্তাকে আমরা প্রভু বা স্রষ্টা হিসেবে মেনে নিলাম তাঁর সকল হুকুম আহকাম মেনে চলা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। যৌক্তিকতার নিরিখে বলা যায় যে, কোন ব্যক্তি যদি কাউকে বা কোন সংস্থা অথবা প্রতিষ্ঠানকে তার মনিব বা মালিক হিসেবে মেনে নেয় তাহলে সেই মনিবের সকল হুকুম সে তার জীবনে মেনে চলতে বাধ্য। তেমনিভাবে আমরা এই দুনিয়ার ইলাহ এবং রব হিসেবে যেই সত্তাকে মেনে নিতে চাই সেই সত্তার নিয়ম-কানুনগুলো অবশ্যই মেনে নিতে হবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।
আবার অন্যভাবেও বলা যায়- যিনি যেই মেশিন বা যন্ত্র আবিষ্কার করবেন তিনি সেটা পরিচালনার ম্যানুয়াল বা নিয়ম কানুন তৈরি করবেন। সেটার আলোকেই সেই মেশিন পরিচালনা করতে হবে, অন্যথায় এটা দিয়ে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন তো হবেই না বরং বিপদ ঘটতে পারে। মানব নামক যন্ত্রটা যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা তৈরি করেছেন সেহেতু ম্যানুয়ালও তিনি দিয়েছেন; যেটার নাম আল-কুরআন। এটা মেনেই মানব যন্ত্রটি পরিচালিত করতে হবে। তা নাহলে মানবজীবন তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না এমনকি তার অনেক বিপদ ঘটতে পারে। তাইতো মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনের সূরা হাশরের ৭ নং আয়াতে বলেছেন- “রাসূল সা. যা কিছু তোমাদের দেন তা গ্রহণ কর এবং যে জিনিস থেকে তোমাদের বিরত রাখেন তা থেকে বিরত থাকো।”
মহান আল্লাহ তায়ালা রূহের জগতে মানুষকে সৃষ্টি করা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দুইটি চুক্তি করেছেন। একটি রুহের জগতে আর অন্যটি দুনিয়ার জগতে। মহান আল্লাহর সাথে বান্দাহর চুক্তি কতই না সুন্দর। কত তাৎপর্যময়, কত অর্থবহ তা দেখলেই বুঝা যায়।

প্রথম চুক্তি
আল্লাহ তায়ালার সাথে বান্দাহর চুক্তি প্রথম সম্পাদিত হয় রূহের জগতে। আলমে আরওয়াহে আল্লাহ তায়ালা সকল আত্মাকে তৈরি করার পরে তাদের সামনে প্রশ্ন রেখেছিলেন- “আমি কি তোমাদের প্রভু নই?” সকল আত্মা তথা আমরা সবাই বলেছিলাম হ্যাঁ, (আপনি আমাদের প্রভু) আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। সূরা আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- “আর যখন তোমার পালনকর্তা বনি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদের এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন এই বলে -“আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার কেয়ামতের দিন তোমরা বলতে শুরু না কর যে, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।”
আল্লাহ তায়ালার সাথে উপরোক্ত চুক্তির মাধ্যমে আমরা মেনে নিয়েছি যে, তিনি আমাদের প্রভু। এ স্বীকারোক্তির অর্থই হলো এই দুনিয়ার সকল বিষয়ে সব জায়গায় তার সিদ্ধান্তই মানতে হবে। জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে তার নিয়মের বাইরে আর কোন নিয়ম অনুসরণ করা যাবে না।
এই চুক্তির আলোকেই মহান প্রভু সূরা জারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে বলেন- “জিন ও মানুষকে আমি শুধুমাত্র এই জন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমরা দাসত্ব করবে।” সূরা হাশরের ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “রাসূল যা কিছু তোমাদের দেন তা গ্রহণ কর এবং যে জিনিস থেকে তোমাদের বিরত রাখেন তা থেকে বিরত থাক।” সূরা ইয়াসিনের ২২ নং আয়াতে বলা আছে, “আমি কেন এমন সত্তার দাসত্ব করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের সবাইকে তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে।”
আমরা যে সত্তাকে মাবুদ হিসেবে মেনে নিলাম সেই সত্তার আজীবন ইবাদত করাই হলো আমাদের আসল দায়িত্ব। তিনি ছাড়া আর কারও বা কোন মতবাদের অনুসরণ করলে বা ইবাদত করলে এই চুক্তি বা ওয়াদা লঙ্ঘন হবে। আর আল্লাহর সাথে করা চুক্তি লংঘন হলে জাহান্নাম অবধারিত। যেমন, সূরা আলে ইমরানের ৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন জীবনবিধান অনুসন্ধান করবে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখেরাতে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

দ্বিতীয় চুক্তি
মহান আল্লাহর সাথে বান্দাহর দ্বিতীয় চুক্তিটি হয়েছে এই ইহজগতে এসে। সূরা তওবার ১১১ নং আয়াতে তিনি বলেন- “নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নিকট হতে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। যাতে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে। তারা মরে এবং মারে।” এই চুক্তি দ্বারা একটা অকাট্য সত্য কথা প্রমাণিত হয়, যে জান বা জীবন নিয়ে আমরা চলাফেরা করি এটা মূলত আমাদের না। আবার যে সম্পদ নিয়ে আমরা বাহাদুরি করি, গর্ববোধ করি এগুলোও আমাদের না। এগুলো আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। আমাদের যা রয়েছে তা হলো জান্নাত। সেটা আমাদের স্থায়ী নিবাস। সেহেতু এই জীবন ও সম্পদ নিয়ে বাহাদুরি না করে সেই জান্নাত পানে ছুটে চলা উচিত। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে আমরা এই জান ও মাল নিয়ে বেশি চিন্তা করি, পেরেশান থাকি। এটার পেছনেই আমরা বেশি দৌড়াই। অথচ এটা আমাদেরই না। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা সূরা মুনাফিকুনের ৯ নং আয়াতে বলেন- “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যাতে তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ফিরিয়ে না রাখে।”
কিন্তু বড় একটা প্রশ্ন হলো, এই মাল সম্পদ এবং আমাদের জীবন আল্লাহ তায়ালা ক্রয় করে নেয়ার পর আবার কেন আমাদের কাছে রেখেছেন? পৃথিবীর কোথাও কি কোন ক্রেতা কোন বস্তু কিনে নেয়ার পরে আবারও বিক্রেতাকে ফেরত দিয়েছে অথবা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে? কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এটা করেছেন। মানুষের জানমাল কিনে নিয়ে আবারও একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু কেন? এর মাহাত্ম্য বা আসল রহস্য কী?
এর উত্তর জানতে হলে আমাদেরকে সূরা মুলকের ২ নং আয়াতে যেতে হবে। সেখানে তিনি বলেন, “তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে তিনি পরীক্ষা করে নিতে পারেন কে কত উত্তম আমল করে?” এর মানে হলো- Allah wants to justify or verify us as a human being who do the best task, or who will be the best/perfect man.
আল্লাহ তায়ালা দেখে নিতে চান স্বাধীনতা পেয়েও কে কত ভালো আমল করে। আমার দেয়া আমানত জীবন ও সম্পদ পেয়ে কে যথাযথ ব্যবহার করে আবার কে এটার খেয়ানত করে। এই দুনিয়াতে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি কারও কাছে কিছু আমানত রাখলে সেটার ব্যবহার তার মালিকের অনুমতি এবং মর্জি মতই করে। তাঁর মর্জির বাইরে গিয়ে তার রেখে যাওয়া আমানতের কোনরূপ ব্যবহার বা খেয়ানত করতে পারে না। এটা মানুষের স্বভাবসিদ্ধ হতে পারে না। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি- আল্লাহ তায়ালা যেভাবে বলেছেন সেভাবে আমরা আমাদের জীবন এবং সম্পদকে কাজে লাগাতে পারি না বহু ক্ষেত্রেই আল্লাহর দেয়া আমানতের খেয়ানত আমরা করে ফেলি ।
আবার কেউ কেউ আছেন, যারা কিছু অংশ মানেন আর কিছু অংশ মানেন না। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ৮৫ নং আয়াতে বলেন, “তোমরা কি কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ মানবে না বা কুফরি করবে? এ রকম কাজ যারা করবে তাদের জন্য রয়েছে এই দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং পরকালীন কঠিন শাস্তি।”
মহান প্রভুর সাথে যেহেতু আমাদের উপরোক্ত দু’টি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় তিনি আমাদের প্রভু এবং আমাদের জান-মাল মূলত তাঁরই। সুতরাং চুক্তির সংজ্ঞানুযায়ী জীবন পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে সর্বজনীন এবং সার্বজনীনভাবে আল্লাহর হুকুম ও বিধান মেনে চলা একান্ত কর্তব্য। এই দাবি থেকে আল্লাহ তায়ালা সূরা বালাদের ৮-১০ নং আয়াতে বলেছেন- আমি কি তোমাদের দু’টি চক্ষু দেইনি? একটি জিহ্বা এবং দু’টি ঠোঁট দেইনি? তোমাদের দু’টি পথ প্রদর্শন করলাম।”
মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে করা আমাদের চুক্তি সার্বিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা চিন্তা করতে হবে। এই চুক্তি ভালোভাবে আমরা যেন পালন করতে পারি এবং ভুলে না যাই সেজন্য আল্লাহ তায়ালা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করবেন। তিনি কুরআনে বলেন, “আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ভীতি, অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি করে।” (সূরা বাকারা-১৫৫) অন্যত্র বলেন- “লোকেরা কি মনে করেছে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই ছেড়ে দেয়া হবে, পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি। আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন কে সত্যবাদী, কে মিথ্যাবাদী।” (সূরা আনকাবুত : ২-৩)
দুনিয়ার জীবনকে আকর্ষণীয় করে মানুষের সামনে তুলে ধরে পরীক্ষা করা হবে তারা ঠিক আছে কিনা? দুনিয়ার মোহে সম্পাদিত চুক্তি ভুলে যায় কিনা সে বিষয়ে মাঝে মাঝে টেস্ট করা হবে। যেমন বলা হয়েছে- “মানুষের জন্য নারী, সন্তান, সোনা-রূপার স্তূপ, সেরা ঘোড়া, গবাদি পশু ও কৃষি ক্ষেতের প্রতি আসক্তিকে বড়ই সুসজ্জিত ও সুশোভিত করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো তো দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সমাগ্রীমাত্র। প্রকৃতপক্ষে উত্তম আবাস তো রয়েছে আল্লাহর কাছে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৪)
সম্পদের মোহের কথা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ তায়ালা সূরা হুমাযায় বলেন- “সে অর্থ জমায় এবং গুনে রাখে। সে মনে করে তার অর্থ সম্পদ চিরকাল থাকবে।” সূরা তওবার ১১১ নং আয়াত দ্বারা সম্পাদিত চুক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ২১৪ নং আয়াতে বলেন, “তোমরা কি মনে করেছো এমনিতেই তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে? সূরা আলে ইমরানের ১৪২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা কি মনে করেছ এমনিতেই তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে? অথচ তিনি জেনে নেবেন না তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করে এবং কারা ধৈর্য ধারণ করে।”
সঠিকভাবে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, “তোমরা দৌড়াও তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান।” (সূরা আলে ইমরান : ১৩) সূরা হাদীদের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা একইভাবে প্রতিযোগিতা করার কথা বলেছেন।
জীবন চলার মাপকাঠি কী হবে সে সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে প্রভু, ইসলামকে জীবনবিধান এবং মুহাম্মদ সা.-কে রাসূল হিসেবে গ্রহণ করল সে তার ঈমানকে পূর্ণ করে নিলো। অন্যত্র তিনি বলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি এবং সকল মানুষ অপেক্ষা রাসূল সা.কে বেশি না ভালোবাসবে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা তওবার ২৩ ও ২৪ নং আয়াতে মানুষকে চুক্তি লঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন- “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের বাপ ও ভাইয়েরা যদি ঈমানের ওপর কুফরিকে প্রাধান্য দেয় তাহলে তাদেরকেও নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে গ্রহণ করবে তারাই জালেম। হে নবী বলে দাও- তোমাদের মধ্যে পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, তোমাদের নিকট আত্মীয়স্বজন, উপার্জিত সম্পদ, যে ব্যবসায়ে মন্দা হওয়ার ভয় থাকে, যে বাসস্থান তোমরা খুবই পছন্দ কর; এসব যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং তার পথে জিহাদ করার চেয়ে তোমাদের কাছে বেশি প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর ফয়সালা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আল্লাহ কাফেরদের কখনো সত্য পথের সন্ধান দেন না।”
সুতরাং আল্লাহর সাথে কৃত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই রয়েছে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি। এ জন্য সবসময় এই জীবন ও সম্পদ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে এর যথাযথ ব্যবহার করা একান্ত আবশ্যক। কারণ এগুলো আমাদের নিজেদের সম্পদ নয়। এগুলো আল্লাহর দেয়া আমানত। আল্লাহ তায়ালা সূরা তাকাসুরের শেষ আয়াতে বলেন, “তারপর অবশ্যই সেদিন তোমাদের এই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

লেখক : কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply