সর্বশেষঃ
post

আল মাহমুদের ভাষাসংগ্রামে অংশগ্রহণ তাঁর ভাষা ও সাহিত্য ভাবনা

সরদার আবদুর রহমান

১৫ জানুয়ারি ২০২২

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আল মাহমুদ একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় তাঁর ছিল স্বচ্ছন্দ বিচরণ। একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধকার, গীতিকার ও সাংবাদিক আল মাহমুদ এক মৌলিক প্রতিভা হিসেবে বিরাজমান। ষাটের দশক থেকেই সাহিত্যের অঙ্গনে পরিচিত হতে থাকেন কবি আল মাহমুদ। তবে সত্তরের দশকে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আশির দশকে তা যেন তুঙ্গে ওঠে। নব্বইয়ে তিনি একেবারে মধ্য গগনের জ¦লজ¦লে নক্ষত্র। আর আশির দশক থেকে রীতিমতো কর্তৃত্ব ও দাপটের সঙ্গে বক্তব্য দিতে থাকেন পত্র-পত্রিকায়। বায়ান্নর ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে যেমন অবদান রেখে বেড়ে উঠেছেন, আবার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারাকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে চলেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, এই সৌভাগ্য আর কোনো লেখকের পক্ষে সেভাবে সম্ভব হয়নি। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

ভাষা আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করেন। ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা, দেশ, জাতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর পরিধি আন্তর্জাতিক বলয়েও পরিব্যাপ্ত হচ্ছে। এই ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি নিজে ভাষা আন্দোলনের একজন কর্মী। ভাষা আন্দোলনের জন্য আমার প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াই আর হয়নি। এ বিষয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সনে প্রকাশিত আমার ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ বইয়ে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণের ওপর আলোকপাত করেছি। এতে বর্ণিত আছে, এ সময়ে আমার জীবনের প্রধান ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন, যা আমার জীবনের স্বাভাবিক গতিধারাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা বিদ্রোহ ও রক্তপাত হঠাৎ সারা দেশে বিদ্যুৎপ্রবাহের মতো ছড়িয়ে পড়লে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও এর স্পর্শ লাগে। সারাটা শহর যেন মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে। ছাত্র ও শিল্পীরা মিছিল করে রাস্তায় নেমে আসে। আমরা কয়েকজন ছাত্র স্টেশনে ঢাকার খবরের জন্য অধীর অপেক্ষায় কাল কাটাতে থাকি। সে সময় আমার অন্তরঙ্গ বন্ধুদের মধ্যে দু’জনের নাম খুব মনে পড়ে। একজন তাজুল ইসলাম ও অন্যজন মুহম্মদ মুসা। আমরা তখন নিয়াজ মোহাম্মদ হাইস্কুলের ছাত্র। এই আন্দোলনে বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাষা আন্দোলন কমিটিতে তাজুলের যোগদান ছিল অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা। আমার এই বন্ধুটি জন্মসূত্রে বাঙালি নয়- বিহারি।

বিহার প্রদেশেরই কোনো অঞ্চলে যেন আদি বাড়ি। কিন্তু এরা প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল যাবৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই প্রবাসী। এদের ছিল লেপ-তোশকের ব্যবসা। দক্ষ ধুনকর পরিবার, অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আদব কায়দার জন্য এরা সারা শহরের মানুষের প্রিয়পাত্র ছিল। যদিও এদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান মূলত উর্দুতেই চলতো, তবুও বাংলাভাষা শেখার জন্য এদের ব্যাকুলতার শেষ ছিল না। তাজুল এই পরিবারের একমাত্র ছেলে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উর্দুর বদলে বাংলাকে তার পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিল। ক্লাসে সে বাংলায় আমার ও মুসার সমকক্ষ নম্বর পেতো। কখনো আমাদের ছাড়িয়ে যেতেও দেখেছি। বাংলাভাষার আধুনিক লেখকদের প্রতি ছিল তাজুলের অগাধ শ্রদ্ধা। বায়ান্ন সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনকারী ঢাকার ছাত্র-মিছিলের ওপর গুলি চলার ঘটনাটি যখন সারা দেশকে উত্তপ্ত করে তুললো তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও এর জের বইতে লাগলো। আমি, তাজুল ও মুসা শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একপ্রকার নেতৃত্বের স্থানে অধিষ্ঠিত। গান-বাজনা বা কবিতার আসর আমাদের ছাড়া কেউ চিন্তাও করতে পারতো না। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো জায়গায়- যা এককালে উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

সেখানে আমাদের মতো পুচকে ছোকরাদের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোন যোগ্যতাই ছিল না। তবুও কেন জানি আমরা মনে করতাম এ শহরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নাক গলাবার মতো অধিকার আমাদের আছে। আমাদের অন্য সঙ্গীটির একটু পরিচয় দেওয়া দরকার। মুহম্মদ মুসা আমাদের গ্রামেরই এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে। তাদের বাড়ির নাম মুন্সীবাড়ি। মুসার দাদা জনাব আবদুল কাদির মুন্সী শহরের একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন সমাজসেবক ছিলেন। মুসার পিতা জনাব আবু ইউসুফ ও চাচা আবুল কাশেম উভয়েই ছিলেন আমার বাপের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সুহৃদ। সে সূত্রে মোহাম্মদ মুসা আমার আত্মীয়ের মতো। তাছাড়া মুসা লালমোহন স্মৃতি পাঠাগারের একজন নিয়মিত পাঠক হওয়ায় আমার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। আমি, তাজুল ও মুসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাষা আন্দোলন কমিটির ডাকে সর্বান্তকরণে আন্দোলনে যোগ দিলাম। যেখানে সেখানে ঢাকার কেন্দ্রীয় আন্দোলনকে সহায়তা অর্থাৎ অর্থ সংগ্রহ করার জন্য বক্তৃতা করে বেড়াতে লাগলাম। ভাষা আন্দোলন কমিটির যে লিফলেট ছাপার জন্য প্রেসে গেল এর শিরোনামের ওপর ছাপার জন্য মুহম্মদ মুসা আমার খাতা থেকে লাগিয়ে দিলো আমার চার লাইন কবিতা। যদিও এই দীর্ঘকাল পরে এক কিশোর কবির চার লাইন কবিতার কি অর্থ ছিল, কবিতার পঙক্তিগুলোই বা কি, তা একদম বিস্মৃত হয়েছি। তবুও এই চারটি লাইন আমার জীবনে যে দুঃখ বহন করে এনেছিল তার কোনো তুলনা নেই।”

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভাষা আন্দোলন কমিটির একটি লিফলেটে আমার চার লাইন কবিতা যেদিন ছাপা হয়ে মুহম্মদ মুসার কাছে আসে ঠিক সেদিন আমাদের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। লিফলেটগুলো তখনও বিলি হয়নি। ছাপা ও বিতরণের দায়িত্ব সম্ভবত মুসাকেই দেয়া হয়েছিল, আমার ঠিক মনে নেই, শুধু মনে আছে লিফলেটগুলো যে প্রেসে ছাপা হচ্ছিল আমরা সারাটা সকাল সেখানে কাটিয়ে বাড়ি ফিরছি। আমি আমাদের বাড়ির গেটে এসে পৌঁছামাত্রই পুতুল নামের আমার এক বোন যে ছিল একদা শোভার সহপাঠিনী শিক্ষক ও সাংবাদিক গফুর মাস্টারের মেয়ে- কোথা থেকে যেন দৌড়ে এসে বললো, ‘পালাও। তোমাদের ঘরবাড়ি পুলিশ সার্চ করছে। তোমাকে খুঁজছে। বইপত্র সব তছনছ করে কি যেন খুঁজছে।’ আমি একেবারে হতভম্ব হয়ে গেলাম। যেন একটা বাজপড়া মানুষ। পরক্ষণেই সম্বিত ঠিক হয়ে গেল। আমি পুতুলকে একটু ঠেলে সরিয়ে অন্দরের দিকে পা বাড়ালাম। কিন্তু পুতুল বাঁকা হয়ে দাঁড়ালো, না যাবে না। বাহাদুরি? খালুর অবস্থা জানো না? একশো তিন ডিগ্রি জ্বর এখন। খালা মাথায় পানির ধারা দিচ্ছে। তোমাকে এ অবস্থায় ধরে নিয়ে গেলে খালু হার্টফেল করবে? পালাও।”

পুতুল আব্বার অসুখের কথা বলে আমাকে একদম নরম করে দিলো। আমি বললাম, ‘পুতুল তুমি কি বলছো, এখন আমি কোথায় পালাবো?’ পুতুল ততক্ষণে ঠেলতে ঠেলতে আমাকে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, ‘কেন তোমার বিপ্লবী বন্ধু-বান্ধবদের কাছে যাও। তারা অন্তত আজকের দিনটা তোমাকে আড়াল করে রাখুক। পরে দেখা যাবে। আমি খালাকে বলবো আমি তোমাকে পথ থেকে ভাগিয়ে দিয়েছি।’ আমি পুতুলকে পেছনে রেখে পূর্বদিকের কলেজের মাঠ পেরিয়ে তিতাস পাড়ের শ্মশান ঘাটের দিকে হাঁটা দিলাম। হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়দের বাড়িতে হানা না দিয়ে পুলিশ আমাদের বাড়িতেই কেন প্রথম সার্চ শুরু করেছে? পরে অবশ্য জেনেছিলাম প্রেস থেকে লিফলেটের কপি আইবির লোকদের হস্তগত হলে তারা লিফলেটের মাথায় আমার নামসহ চার লাইন কবিতা দেখতে পায়। লিফলেটটিতে যেহেতু অন্য কারো নাম ধাম ছিল না ছিল শুধু ভাষা আন্দোলন কমিটি শব্দটি। সে কারণে এই আন্দোলনে কারা কারা জড়িত আছে এই তথ্য বের করার জন্য তারা আমাদের বাড়িতে হানা দিয়েছে। যেহেতু চার পঙক্তি কবিতা রচয়িতার নাম সেখানে আছে সে সূত্র ধরেই তারা সার্চ শুরু করেছে- যদি বাকি লিফলেট উদ্ধার করা যায়। এরপর নিয়াজ মোহাম্মদ স্কুল ত্যাগ করে আমার চাচা আবদুল হক মীর (থানা অ্যাগ্রিকালচার অফিসার) এর সাথে চলে যাই এবং দাউদকান্দি থানার জগৎপুর গ্রামে জগৎপুর স্কুলে ক্লাস সেভেনে বা এইটে ভর্তি হই। পরবর্তীতে আমার চাচা সীতাকুন্ডে বদলি হয়ে গেলে আমি সীতাকুন্ড স্কুলে ভর্তি হই এবং মেট্রিকুলেশন পর্যন্ত পড়ি। আগে থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেছিলাম। ভাষা আন্দোলনের লিফলেটে চার লাইনের কবিতা ছাপাই হলো আমার প্রথম মুদ্রিত কবিতা।”১

আল মাহমুদের ভাষা-চিন্তা

আল মাহমুদ ব্যক্তিগতভাবে কেবল ভাষাসংগ্রামীই ছিলেন না- তাঁর যাবতীয় কর্মেও এই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেছেন। এরই প্রভাবে দেখা যায় তাঁর ভাষা-চিন্তার ক্ষেত্রেও তিনি একান্ত নিজস্বতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তাঁর কবিতায় আঞ্চলিক বা গ্রামীণ ভাষা ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এসব ভাষা মানেই হলো জীবন্ত ভাষা। তাঁর মতে, যদি আধুনিক বাংলা ভাষার স্ট্রাকচারের মধ্যে প্রচুর আঞ্চলিক শব্দ উপযুক্ত মর্যাদায় ব্যবহার করা যায় তাতে আমাদের সাহিত্য গতিময় হয়ে উঠবে। যারা তার এ প্রচেষ্টাকে ‘ম্যানারিজম’২ বলছেন তাদের জানা উচিত যে আধুনিক বাংলা ভাষাও সাধু ভাষার জীর্ণাবস্থায় আঞ্চলিক ভাষারূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এ প্রচেষ্টার জন্য টেকচাঁদ ঠাকুর থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরীকেও বহু গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। প্রসঙ্গত তিনি ‘পল্লীকবি’ খ্যাত জসীম উদদীনকে একই কারণে আধুনিক কবি বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, “অকস্মাৎ আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বাংলা ভাষার সাহিত্যে ব্যবহৃত শব্দরাজি বহু কবির বিচিত্র ব্যবহার ও যথেচ্ছ আচরণে তিরিশ দশকে বিস্বাদ, এমনকি পরবর্তী কবিদের জন্য গন্ধহীন পুষ্পের পচাস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দৈনন্দিন ব্যবহৃত আঞ্চলিক শব্দের যে অক্ষয় ভাণ্ডার রয়েছে সেখান থেকে ব্যাপকভাবে শব্দ আহরণ করে সাহিত্য রচনা করতে না পারলে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একঘেয়েমি কাটবে না। এই আহরণ নির্বিচার হলে চলবে না। প্রতিভাবান কবি ও কথাশিল্পীর অন্তর্দৃষ্টি সেখানে একান্ত দরকার।”

সাহিত্যের আধুনিকতা বা আধুনিক সাহিত্য- এই পদবাচ্যে তেমন একটা আস্থা নেই বলেই মনে হয় আল মাহমুদের। তাঁর বিবেচনায় একেক সময়ে একেক কালে আধুনিক সাহিত্যের সংজ্ঞা নানা রকম হয়। তবে তার মৌলিক যে প্রবাহ তা ঠিকই থাকে। মাইকেলের সময় যেটাকে আধুনিক সাহিত্য বলা হতো, কী কী বিষয় যোগ করলে আধুনিক সাহিত্য হয় তা মাইকেল যা মনে করতেন, রবীন্দ্রনাথ তার থেকে একটি ভিন্ন জায়গায় উত্তীর্ণ ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সময় আধুনিক কবিরা এক ধরনের বিবেচিত হয়েছেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্র-উত্তর লেখকরা, কল্লোলকালের কবিরা প্রায় রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করে আধুনিক সাহিত্যের একটি তরঙ্গ তুলেছিলেন, যাতে কাজী নজরুল ইসলাম, কবি জসীম উদদীন এবং তিরিশ-পরবর্তী কবিরা যেমন বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তী প্রমুখ এসে হাজির হলেন। এরা আধুনিক কবিতার একটি নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করলেন এবং পরবর্তীকালে এই কবিদের ইচ্ছায়, বাসনায় আধুনিকতার যে লক্ষণ ছিল তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সবার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাঁর মতে, সব কালের মানুষ যে সাহিত্যকে গ্রহণ করে নিয়েছে তাই-ই আধুনিক।

বাংলাদেশ বনাম পশ্চিমবঙ্গের ভাষা ও সাহিত্যের পার্থক্যের বিষয়ে সমাজে কিছু আলোচনা আছে। এ বিষয়ে কবি আল মাহমুদ তাঁর বক্তব্য সুস্পষ্ট করেছেন সাক্ষাৎকারগুলোতে। তিনি ঢাকাকেই বাংলা ভাষার রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করে থাকেন। সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি অভিমত জানান এভাবে: ঢাকায় একটা নতুন ‘ভাষাচক্র’ তৈরি হচ্ছে। মানে এটা একটা Turning point, ঢাকায় এখন এটা একটা সম্পূর্ণ Shape গ্রহণ করেছে। কলকাতার ভাষা যেমন একটা স্থিতিশীল... জব চার্নকের কলকাতায় যেমন ব্রিটিশ ও বাবু কালচার মিশে একটা ভাষা তৈরি হয়েছে এবং এটা ছিল খুবই সাম্প্রদায়িক, মুসলমানদের শব্দ বাদ দেবার জন্য এটা করেছে। রামরাম বসু পর্যন্ত চেষ্টাটা ছিল না, পরে এই চেষ্টাটা হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতার কারণে বাংলা ভাষা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেছে। এটা এখন পশ্চিমবঙ্গের ভাষা হয়ে গেছে। কিন্তু ঢাকায় কি তা হয়েছে? ঢাকায় কিন্তু আমিও লিখছি, জোর লিখছি, অবলীলায় লিখছি, কিন্তু আমার মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা নেই। এখানেই হলো আমাদের ভাষার জোরটা। তাছাড়া, ওদের দরজা বন্ধ সব দিক থেকে। আমাদের দরজা খোলা। সারা ইউরোপ খোলা, আমেরিকা খোলা। তাছাড়া ইসলামী দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের যে আত্মীয়-ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে, সে রকম একটা ব্যাপার, নতুন নতুন ব্যাপার নিয়ে আসছে। অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। আমাদের ছেলেরা সেখানে চাকরি করছে। সারা পৃথিবীর যেখানেই যাবেন, দেখবেন বাঙালিরা আছে। এরা প্রত্যেক দিন কিছু না কিছু দেশে নিয়ে আসছে। শুধু টাকা নিয়ে আসছে তা নয়, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। সাহিত্যিক মিথ নিয়ে আসছে। পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নিয়ে আসছে। এটা কলকাতার জন্য সম্ভব না। কলকাতার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।

ঢাকাকেন্দ্রিক বাংলাচর্চাকে দুর্বল করার জন্য একটা পরিকল্পনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন আল মাহমুদ। তাঁর মতে, আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে সাহিত্যের অগ্রগতি যতটুকু হয়েছিল তা দেশ বিভাগের পরেই হয়েছে। এই উপমহাদেশ বিভক্তির পরেই এখানে, ঢাকায় বাংলা ভাষার যে একটা বিকাশ, একটা স্বাতন্ত্র্য নিয়ে সাহিত্য রচনা শুরু হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তীকালে সেটি একটা স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করতে প্রায় সক্ষম হয়ে উঠেছিল। এটা যাতে না হয়, এটা যাতে ঢাকার বা বাংলাদেশের কবিরা না করতে পারে, সে জন্য একেবারে পরিকল্পনা মাফিক আমাদের সাহিত্যে বিভক্তি তৈরি করা হয়েছে। আমাদের শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক হিংসা, প্রতিহিংসা, দলাদলি এসব তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঢাকা বাংলা কাব্য বা বাংলা সাহিত্যের মূল কেন্দ্র হয়ে না দাঁড়ায়।৩

ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা

বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গেও আল মাহমুদ নানা কথা বলেছেন। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে আল মাহমুদ বলেন, পাকিস্তান আমলে উর্দুকে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে চালু করার ভুল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তিযুক্ত প্রতিবাদ উত্থাপন করে তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুসলিম তরুণ-সাংস্কৃতিক সংগঠন তমদ্দুন মজলিস। এ দেশের তরুণ মুসলিম ছাত্ররাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে যে, বাংলা ভাষা এককভাবে কোনো সম্প্রদায়ের ভাষা নয়। বরং বাংলা ভাষার প্রাথমিক উত্থানকালে মুসলিম জনগণের যে পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থ ও শ্রম রয়েছে তা না থাকলে এই ভাষার বর্তমান সমৃদ্ধি কিছুতেই সম্ভব ছিল না। বাংলা ভাষা, বিশ্বের মুসলিম জনগণ যে কয়টি ভাষায় কথা বলে তার মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধিশালী ভাষা। পৃথিবীর প্রায় দশ কোটি মুসলমান এ ভাষায় কথা বলে। দৈনন্দিন সামাজিক কাজকর্ম পরিচালনা করে এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনা করে।৪

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত অপর একটি প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পেছনে যেসব ভাষা আন্দোলনকারী শহীদের তাজা রক্তে ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ কি জানেন তারা কোন মহৎ আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিলেন? এই আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেছিল তমদ্দুন মজলিসের একদল দুঃসাহসী যুবক। এরা দেশে ইসলামী সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠার জন্যই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। তাদের রক্তের মূল্যেই আজ বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেই সব একুশের বীরেরা যারা এখনও জীবিত আছে, শুনেছি তারা এখন বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রবেশও করতে পারে না। যে কোনো ছুঁতোনাতায় তাদের অবজ্ঞা করা হয়। আজ এসব অন্যায়েরই যুগোপযোগী পরিণাম শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে, বাংলা ভাষার এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের রাজধানী হিসেবে ঢাকার একাধিপত্যের সম্ভাবনাকে বিনাশের জন্য।৫

সাহিত্য ও সংস্কৃতি ভাবনা

আল মাহমুদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আঙ্গিক, দিক-বদলসহ সাহিত্যের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ অভিমত প্রকাশ করেছেন তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও বক্তৃতায়। বাংলাদেশে বহুল আলোচিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তার প্রসঙ্গে ১৯৮৯ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি কলামে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে এখন একটা সাংস্কৃতিক বিপর্যয় চলছে। আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক তৎপরতা আমাদের প্রতিটি প্রকাশ মাধ্যমকে কব্জা করে ফেলতে চাচ্ছে। এ অবস্থায় ইসলামী ধারার সাংস্কৃতিক কর্মী ও কবি-সাহিত্যিকদের সংগঠনকে সতর্কতার সাথে এগোতে হবে বলে পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এর প্রত্যেক সদস্যকে হতে হবে কঠোর আদর্শবাদী এবং জাগতিক মোহ সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন। এ সচেতনতার জন্য ইসলামী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আন্দোলনের সমমর্মিতা একান্ত দরকার।৬

তিনি উল্লেখ করেন, যারা তথাকথিত প্রগতিবাদী লেখক ও কবি ছাড়া বাংলাদেশে অন্য কোনো আদর্শবাদী লেখকের আগমন ঘটছে না বলে একদা আফসোস করতেন, এদের আগমন ও ভাবনার নতুন তরঙ্গে তারা অভিভূত হবেন। আমরা মনে করি, আমাদের ঐতিহ্যবাদী লেখক-কবিদের প্রতি এখন আমাদের পাঠকদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা এবং বস্তুগত সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আসা একান্ত দরকার। কারণ ইসলামী ঐতিহ্যের দৃঢ়মূল ভিত্তি নির্মাণ করতে হলে আদর্শের সাংস্কৃতিক লড়াইকে জয়যুক্ত করতে হবে। এদেশের ইসলামী রাজনীতি ক্রমাগত আত্মত্যাগ ও মানবিক তিতিক্ষার মধ্যে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এখন দরকার এই আস্থার ওপর সাংস্কৃতিক বিজয়ের আস্তর লাগানো।৭

একই কলামে তিনি এও অভিমত প্রকাশ করেন যে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না- শুধু হাততালি আর মারহাবাতে কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পী বাঁচে না। তাদের জন্য দরকার জাগতিক প্রতিষ্ঠা অর্জনের জন্য বস্তুগত সহায়তা। আবার শুধু বস্তুগত সহায়তা দিলেই যে লেখক-শিল্পী সৃজনক্ষমতা অব্যাহত থাকে এমন নয়। তাদের জন্য আধ্যাত্মিক সমর্থন ও বিশ্বাসী মানুষের দোয়ারও একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান ইসলামী ধারার জন্য এটা অত্যন্ত শ্লাঘার বিষয় যে, তারা তাদের আদর্শের সমর্থনে একদল তরুণ সাহিত্যিককে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন। আগে যেমন দেশের বামপন্থী প্রগতিবাদীরাই সাংস্কৃতিক মঞ্চের সবটুকু নিজেদের দখলে রাখার প্রয়াসে অগ্রগামী ছিলেন। এখন আর সেই অবস্থা নেই। আগে দেখতাম দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে যেসব বুলেটিন বা সাহিত্য সাময়িকী ইত্যাদি নানান উপলক্ষে বেরুতো এর সবগুলোর উদ্যোক্তাই থাকতেন তথাকথিত বামপন্থী ছাত্র-অধ্যাপকগণ। স্বীকার না করে উপায় ছিল না, ঐসব পত্র-পত্রিকার মুদ্রণসৌকর্য ও সাজসজ্জার আকর্ষণ তরুণ লেখক গোষ্ঠীর কাছে দুর্দমনীয় বলে বোধ হতো। এখন অবস্থা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। আজকাল আমাদের তরুণ লেখক-শিল্পী ও ছাত্র-অধ্যাপকগণও সুরুচিপূর্ণ সাময়িকী প্রকাশ করে বিরোধী পক্ষকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। ফলে উদীয়মান কবি, কথাশিল্পী যারা এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র অবস্থায় আছেন এবং এক ধরনের নিরপেক্ষতায় ভুগছেন তাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হচ্ছে আমাদের উদ্ভাবনীশক্তি, সৃজনক্ষমতা এবং সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর। এখন দায়িত্বশীল নেতৃস্থানীয়দের উচিত ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সর্বপ্রকার পৃষ্ঠপোষকতা দান করা।৮

ভাষা ও সাহিত্যের প্রধান পৃষ্ঠপোষক যে দেশের প্রকাশনা সংস্থাসমূহ সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তৎকালীন পরিস্থিতির আলোকে আল মাহমুদ প্রশ্ন রাখেন, আমরা আমাদের প্রকাশনা শিল্প ও উঠতি সাহিত্যবাজারকে ধ্বংসের জন্য কাকে দায়ী করবো? যে দেশে একটা গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও শিল্প-সাহিত্য ও সৃজনশীল মানুষের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। নেই দেশের সাহিত্যের কোনো কদর বা প্রোটেকশন। যে দেশের বইয়ের বাজারে প্রতিবেশী আধিপত্যবাদীরা দৌরাত্ম্য করে, সে দেশে কবি বা কোনো মৌলিক উদ্ভাবক জন্মায় না। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বহু কিসিমের শাসকদের তেলেসমাত গেছে। এদের কেউ স্বৈরাচারী, কেউ ভারত পূজারি। কিন্তু কারো আমলেই দেশের সৃজনশীল সাহিত্যকে এ সময়ের মতো উপেক্ষা করা হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার জাতীয় সাহিত্যকে পাত্তা দেয়ার কোনো প্রয়োজনই বোধ করেন না। উন্নয়নের কথা যত্রতত্র বললেই যে উন্নয়নের গালগল্প মানুষ বিশ্বাস করবে এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। যতক্ষণ উন্নয়নের প্রভাব সাহিত্য-শিল্পে প্রতিফলিত না হবে ততক্ষণ তা ইতিহাস হবে না।৯

উপরের আলোচনা থেকে একথা প্রতীয়মান হয় যে, মৌলিক প্রতিভার একজন লব্ধ প্রতিষ্ঠ সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে আল মাহমুদ বরাবর একটি স্বাধীন সত্তাসম্পন্ন ভূখণ্ডের গণমানুষের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি করে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষের আপন ভাষার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে কৈশোরে যে সংগ্রামের সূচনা তিনি করেছিলেন, যৌবনের শক্তিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করে তিনি তার পূর্ণরূপ অর্জন করেন। আর পরবর্তী পরিপূর্ণ বয়সকালকে তিনি একটি সমৃদ্ধ ও পরিপুষ্ট চিন্তাধারাসম্পন্ন এবং একইসঙ্গে স্পষ্টবাদী সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষাভাষীদের উপহার প্রদান করেন। ফলে দেখা যায়, তাঁর পুরো জীবনই কাটে এক অখণ্ড লড়াই-সংগ্রামে। জীবনের ক্রমবিকাশমান ধারায় তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়চেতনাসম্পন্ন মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধকে বিকশিত ও লালন করতে বিরামহীন কলম চালিয়ে গেছেন। যা আজ বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক আবহকে সমৃদ্ধতর করেছে।

তথ্যনির্দেশ:

১. ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছরপূর্তি স্মারক (১৯৫২-২০০২), জুলাই-২০০২, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সম্পাদিত। প্রকাশক: ঢাকা সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র, সুহৃদ প্রকাশন, বাংলা বাজার, ঢাকা। ২. ম্যানারিজমের অর্থ বিশেষ রীতিনীতি। ইতালিয়ান শব্দ ম্যানিয়েরা হতে ম্যানারিজমের উৎপত্তি। ইতালিয়ান শিল্পী ভাসারি প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালীতে বিশেষ বৈশিষ্ট্যধর্মী শিল্পরীতির চর্চা চলে- যা ‘ম্যানারিজম’ নামে পরিচিত। আনুমানিক ১৫২০ খ্রি: হতে ১৬০০ খ্রি: পর্যন্ত এর সময়কাল। -tanveerbd.blogspot.com/2010/03. ৩. সরদার আবদুর রহমান: আল মাহমুদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ (পাণ্ডুলিপি), ২০২১। ৪. আল মাহমুদ প্রবন্ধ সমগ্র: নিউ শিখা প্রকাশনী, সেপ্টেম্বর ২০০১ পৃ. ১০৭। ৫. প্রাগুক্ত, পৃ. ১০৬। ৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৫ ৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৩ ৮. প্রাগুক্ত, পৃ. ৯৪। ৯. প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩০।

আপনার মন্তব্য লিখুন

কপিরাইট © বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির