আয়াসোফিয়া এবং তুরস্কের রাজনীতি -হাফিজুর রহমান

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের যেকোনো জটিল কিংবা সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আমার একটি পর্যালোচনা হলো, এরকম বিষয়গুলোতে তাৎক্ষণিক কোন সিদ্ধান্ত তিনি নেননা বরং সময় নিয়ে এটার পক্ষে জনমত তৈরি এবং পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ক্রমান্বয়ে সবাই যখন এ ব্যাপারে সহনশীল হয় কিংবা বিরোধিতা বন্ধ করে তখন সিদ্ধান্ত নেন। যেমন : হিজাব ইস্যু। এটা তুরস্কের ডানপন্থীদের সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যুর একটি ছিল। এমন পরিবার খুবই কম পাওয়া যাবে যারা কিনা হিজাব ইস্যুতে মজলুম হননি। অনেক ছাত্রীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে, নির্যাতিতা হয়েছেন এবং অনেক মহিলার চাকরি চলে গিয়েছে কিংবা সরকারি চাকরি করতে পারেননি শুধু এই হিজাবের কারণে।
নির্যাতিতার এই সংখ্যাটা শতশত নয় বরং হাজার হাজার তথা অগণিত। স্বভাবতই এরদোগান ক্ষমতায় এসে সাথে সাথেই আইন পাস করিয়ে নিতে পারতেন কারণ তখন একে পার্টির সংবিধান পরিবর্তন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি ছিল। কিন্তু তা করেননি। ধীরে ধীরে হিজাব পরার ক্ষেত্রে যে আইনগত বাধাগুলো ছিল সেগুলো দূর করেছেন। ধরুন, এ বছর হয়তো শিক্ষকদের হিজাব পরা নিয়ে আইনগত বাধা দূর করেছেন, পরের বছর তা করেছেন ডাক্তারদের ক্ষেত্রে। একইভাবে এক বছরে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরে ঢুকা যাবে এমন আইন করেছেন পরের বছর হয়তো স্কুলে হিজাব পরে ঢুকার ব্যবস্থা করেছেন। এভাবে ধীরে ধীরে যখন সব বাধা দূর হয়েছে তখন প্রথমবারের মতো চারজন এমপি পার্লামেন্টে ঢুকেছিলেন হিজাব পরে। সেক্যুলার সিএইচপিসহ কেউ টুঁ শব্দ পর্যন্ত করতে পারেনি কারণ ততদিনে সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।
এই চারজনের এমপির মধ্যে একজনের সাথে আমি আঙ্কারায় একটি সিভিল সোসাইটিতে একসাথে কাজ করি। উনাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। উনি বলেছিলেন, এটা যে কত কষ্টকর একটি স্মৃতি তা বলে বুঝানো যাবে না! পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিধান সব বাদ দিয়ে যখন পার্লোমেন্টে ঢুকতাম তখন হিজাব খুলে ঢুকতে হতো। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে ফজিলত পার্টির এমপি মেরভে কাভাকচিকে শপথ পড়তে দেয়া হয়নি এবং পার্লামেন্ট থেকে অপমান করে বের করে দেয়া শুধু এই হিজাবের কারণে। পরে তার নাগরিকত্বও বাতিল করেছিল তৎকালীন সরকার। এ হিজাবের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে এমনকি তার মাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। এরদোগানের নেতৃত্বে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর তার নাগরিকত্বই শুধু ফিরিয়ে দেয়া হয়নি বরং তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়াতে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ছোট বোন রাওজা কাভাকচি একে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলের মানবাধিকার বিষয়ক ডিপুটি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এমপি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি যখন হিজাব পরে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? তিনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন, “সত্য (হক্ব) বাস্তবায়িত হয়েছে”।
এবার আসি আয়াসোফিয়ার ব্যাপারে। আয়াসোফিয়া পৃথিবীর অন্যতম একটি ঐতিহাসিক নির্মাণ যা বাইজেন্টাইনদের সময় নির্মিত হয়েছে। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (আজকের ইস্তাম্বুল) এর অন্যতম চার্জ এবং রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল এটি। ১৪৫৩ সালে উসমানী সুলতান মেহমেদ ফাতিহ যখন কনস্টান্টিনোপল বিজয় করেন তখন শহরের নাম পরিবর্তন হয়ে ইস্তাম্বুল হয়। আয়াসোফিয়াকে তিনি ওয়াকফ্ করে মসজিদে রূপান্তর করা হয়। এরপর থেকে প্রায় ৬০০ বছর এটি মসজিদ হিসেবে ইস্তাম্বুল বিজয়ের নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান ছিল। তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কামাল আতাতুর্কের সেক্যুলারিজম এবং পাশ্চাত্যকে অনুসরণ করার রাজনীতি এখানকার ইসলামী চেতনা এবং চিহ্নগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আতাতুর্কের ধর্ম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে অনেকগুলো সিদ্ধান্তের মাঝে একটি ছিল আয়াসোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কখনই মুসলিম চেতনার কেউ মেনে নেয়নি। তুরস্কে ডান এবং ইসলামপন্থীরা তাদের অস্তিত্বের (সিম্বলিক) সবচেয়ে বড় প্রতীক মনে করে এই আয়াসোফিয়াকে। আতাতুর্কের সময় থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে, এটাকে মসজিদে পুনঃরূপান্তের দাবি উঠেছে। তুরস্কে ইসলামী জাগরণের অন্যতম কবি নাজিব ফাজিল কিসাকোরেক (১৯০৪-১৯৮৩) বলেছিলেন,
“হে যুবকেরা, আয়সোফিয়া আজ হোক, কাল হোক (একদিন) খুলবে! কেননা, এই দেশ টিকে থাকবে কি থাকবে না এমন সন্দেহ যারা করে তারাই আয়াসোফিয়া খুলবে কি খুলবে না এমন সন্দেহ করে! আয়াসোফিয়া খুলবেই, আর এমনভাবে খুলবে যে….., এই জাতির যারা ভালো চায় তারা…..
আতাতুর্কের সময়ে সবচেয়ে মাজলুম হওয়া মুজাহিদ এবং চিন্তাবিদ বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসী বলেছিলেন, আয়াসোফিয়া একদিন মসজিদ হিসেবে পুনরায় চালু হবে। আমি দেখে যেতে পারবো না কিন্তু হোসনী দেখবে। উল্লেখ্য হোসনী তার ছাত্রদের মাঝে একজন ছিলেন এবং সেই বৈঠকে বসা ছিলেন।
তুরস্কের ইসলাম এবং ডানপন্থী দলগুলো সর্বদাই আয়াসোফিয়াকে মসজিদে পুনঃরূপান্তরের পক্ষে ছিল। বিশেষ করে তুরস্কের ইসলামী আন্দোলনের পুরোধা প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকানের এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন আয়াসোফিয়ার পক্ষে মানুষকে জাগিয়েছেন, দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছিলেন, “জিঞ্জিরসমূহ ভেঙে যাক, আয়াসোফিয়া খুলে যাক”।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, “আয়াসোফিয়া মুসলমানদের জন্য পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত হবে”। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও আয়াসোফিয়াকে মসজিদে পুনঃরূপান্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যদিও পূর্বে নানা সময়ে তার কাছে সাক্ষাৎকারগুলোতে জানতে চাওয়া হলে বলতেন; “এখনো ওদিকে যাওয়ার সময় হয়নি/ আমরা আপাতত ওদিকে না যাই। পাশের সুলতান আহমেদ মসজিদ আগে মুসল্লিতে পূর্ণ হোক এরপর আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের বিষয়ে ভাবা হবে”।
প্রসঙ্গত, কামালিস্ট এবং সেক্যুলার দলগুলো সর্বদাই আয়াসোফিয়াকে যাদুঘর হিসেবে রাখার পক্ষে জোরালো ছিল এমনকি পাশের সুলতান আহমেদ তথা ব্লু মসজিদকেও যাদুঘরে রূপান্তরের কথা বলেছিল। তাদের মতে, এটা সেক্যুলার তুরস্কের প্রতীক! বিশ্বের মোড়লদের কাছ থেকে ‘সেক্যুলার’ সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য আয়সোফিয়া জাদুঘর হিসেবেই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। তুরস্কের সেক্যুলারদের অন্যতম ধারক-বাহক, নোবেল বিজয়ী ওরহান পামুকের স্ট্যাটাস উল্লেখ করলেই সেক্যুলারদের আয়াসোফিয়া নিয়ে মোটিভ স্পষ্ট হবে, “এটাকে মসজিদে পুনঃরূপান্তর মানে বিশ্বকে এটা বলে দেওয়া যে; আমরা আর সেক্যুলার নই!”
একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম এ ব্যাপারে মামলা করা হয়। বেশকিছু সিভিল সোসাইটি এ মামলা পরিচালনা করে এবং মামলা পরিচালনায় সহায়তা করে। মামলার মূল বাদি ছিল Sürekli Vakýflar Tarihi Eserlere ve Çevreze Hizmet Derneði নামে একটি সিভিল সোসাইটি। মামলার গ্রাউন্ডগুলো ছিল-
১. আয়াসোফিয়া একটি ওয়াকফ সম্পত্তি। এটাকে যে কাজে ব্যবহার করার জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে সে কাজ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার আইনসঙ্গত নয়। আর ইস্তাম্বুল বিজয়ের পর এটাকে ফাহিত সুলতান মেহমেদ মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। ১৯৩৬ সালের ট্যাক্স পে করার কাগজেও আয়াসোফিয়াকে মসজিদে হিসেবে লেখা আছে।
২. যাদুঘরে রূপান্তর করার নির্বাহী আদেশটি তড়িঘড়ি করে লেখা হয়েছে যাতে ঐ বছরের আগের অধ্যাদেশের নম্বরের সাথে মিলেনা এমনকি আতাতুর্কের স্বাক্ষরটির ব্যাপারেও সন্দেহ পোষণ করা হয়। কারণ, আতাতুর্ক নামে ওখানে স্বাক্ষর করা আছে কিন্তু মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক নাম গ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৫ সালে (যাদুঘরে রূপান্তর করা হয় ১৯৩৪ সালে)।
যাক, আমি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ নই, মামলার বিষয়ে আর সামনে এগোচ্ছি না। ২০০৮ সালে উপরের মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। আতাতুর্কের স্বাক্ষর রয়েছে এমন একটি ডকুমেন্ট বাতিল করবে এমন সাহস কিংবা চেতনা বিচার বিভাগের তখনো হয়ে ওঠেনি, এমনকি বিচার বিভাগ তখনো কামালিজমকে হেফাজতের অতন্দ্র প্রহরী মনে করত! প্রসঙ্গত, ২০০৭-০৮ সালের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করলে তখনকার বিচার বিভাগকে বুঝতে সুবিধা হবে। স্ত্রী হিজাব পরেন এবং নিজেও একজন ইসলামিস্ট এই অপরাধে আব্দুল্লাহ গুলকে তখন প্রেসিডেন্ট হতে দেয়া হয়নি কিংবা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তখনকার এই বিচার বিভাগের মাধ্যমে। পরবর্তীতে এরদোগানের বলিষ্ঠতা এবং জনগণের পুরোপুরি সাপোর্টে আব্দুল্লাহ গুল প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছিলেন। আমার লেখা এরদোগান দ্য চেঞ্জ মেকার বইতে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
যাক, ২০০৮ সালে হেরে যাওয়ার পর বাদিপক্ষ থেমে থাকেনি। বারবার মামলা করেছে। আর এদিকে আয়াসোফিয়াকে মসজিদে পুনঃরূপান্তর করার ক্যাম্পেইনও অনবরত চলমান ছিল। তুরস্কের বেশ কিছু সিভিল সোসাইটি এখানে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। দীর্ঘদিনের এই ক্যাম্পেইনের ফলাফলে আয়াসোফিয়ার পক্ষে জনতার কমপক্ষে ৭০% এর পজেটিভ মতামত রয়েছে বলে পরিসংখ্যানগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে। সেক্যুলার দলগুলোও এখন আয়াসোফিয়াকে মসজিদে পরিণত করার বিরোধিতা করতে পারে না রাজনীতি রক্ষার ভয়ে। কারণ, জনসমর্থন এখন আয়াসোফিয়ার দিকে।
মজার ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসে। এবারের ইস্তাম্বুল বিজয়বার্ষিকী পালনের পর প্রেসিডেন্ট এরদোগান যখন আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন তখন তুরস্কের বিরোধী জোটের একটি ডানপন্থী দল তড়িঘড়ি করে পার্লামেন্টে একটি বিল নিয়ে এলো, যাতে সমর্থন দেয় সিএইচপিও!! বিলের বিষয় ছিল; আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করার জন্য গবেষণা করতে একটি কমিশন গঠন করা হোক। সরকারি জোট তা নাকচ করে দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, আয়াসোফিয়া মসজিদে রূপান্তরের বিষয় এখন গবেষণার ওপারে চলে গেছে, এখন বাস্তবায়নের পালা। জুলাইতে রায় হবে এরপরই এটাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
সর্বশেষ ১১ জুলাই আয়াসোফিয়াকে নিয়ে আদালত রায় প্রদান করে। তাতে আয়াসোফিয়াকে যাদুঘরে রূপান্তের সিদ্ধান্ত আইনবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর এটিকে মসজিদে রূপান্তর করতে প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশ প্রয়োজন ছিল। আদালতের রায়ের এক ঘণ্টার মাঝেই প্রেসিডেন্ট এরদোগান এটিকে মসজিদে পুনঃরূপান্তর করে অধ্যাদেশ জারি করেন। ২৪ জুলাই থেকে আয়াসোফিয়াতে নামাজ শুরু হয়।
আয়াসোফিয়া মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পর প্রায় সকল দলই এর পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে, অনেক দলই সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সিএইচপির পক্ষ থেকে এখনো অফিসিয়াল বক্তব্য চোখে না পড়লেও তাদের খুববেশি সুযোগ নেই এর বিরুদ্ধে যাওয়ার। কারণ, আয়াসোফিয়ার পক্ষে বিপুল জনমত। আর এটাকেই বলে পরিবেশ সৃষ্টি এবং চাপ। আয়াসোফিয়া সত্যিই মসজিদে পুনঃরূপান্তরিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান মসজিদে পুনঃরূপান্তরের একদিন পর সেই বদিউজ্জামান নুরসীর ছাত্র হোসনী সাহেবকে ফোন দিয়েছিলেন। বয়োবৃদ্ধ হোসনী সাহেব সত্যিই ঐতিহাসিক একটি মুহূর্তের সাক্ষী হলেন, চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আয়াসোফিয়া নিয়ে এই সময়ে এ রকম রায় বেশ ইঙ্গিত বহন করে। তুরস্কের ভূ-রাজনীতি বিশেষত সাইপ্রাস এবং ভূমধ্যসাগর ইস্যুতে গ্রিস-ইসরাইল জোটের সাথে বিরোধ, লিবিয়া এবং সিরিয়া ইস্যুতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সর্বশেষ মসজিদে আকসা-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের ভূমিকা হবে ঠিক সুলতান আব্দুল হামিদ খানদের ভূমিকার মতো। এর ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জন্য শুভ নাকি অশুভ তা সময়ই বলে দিবে কিংবা শুভ-অশুভর নির্ণয় শুধু দুনিয়ায় নয় বরং আখিরাতে। তবে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে তুরস্কের অর্থনীতিসহ নানা সেক্টরে। ইতোমধ্যে পশ্চিমা দুনিয়ায় এটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তুরস্কে জবাবে বলছে, “এটা তুরস্কের নিজস্ব বিষয়, বাইরের লোকদের এটা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগ নেই।”
যাইহোক, আগামী তুরস্কের রাজনীতি যে আরো প্রো-ইসলামিক হবে এটা খুব ভালোভাবেই বুঝা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান হয়তো চাইছেন, এখন জাগার সময়, মুসলিম চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়, জনগণকে ইসলামী চেতনায় সমুন্নত করার সময়। তুরস্ক তথা মুসলিম উম্মাহকে বাঁচাতে জাগার বিকল্প নেই। সামনে আরো কঠিন দিন আসছে হয়তো! আমার একটি জায়গায় খুব সংকট মনে হয়, আর তা হলো মুসলিম বিশ্বে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের পাশে দাঁড়ানোর মতো প্রভাবশালী আর দুয়েকজন নেতা নেই। যদি এমন আরো দু-চারজন নেতা থাকতো তবে হয়তো মুসলমানদের এতো কষ্টে থাকা লাগতো না। বিশেষত যদি মিশরে ড. মুরসির মতো একজন থাকতেন তাহলে ফিলিস্তিনসহ অনেক দেশের অবস্থা আজ ভিন্ন হতো।
(বি.দ্র.: লেখাটির কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সাইটগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে)
লেখক : পিএইচডি গবেষক, গাজী ইউনিভার্সিটি, তুরস্ক

SHARE

Leave a Reply