ইতিহাস ঐতিহ্যের আলোকে আমাদের সংবিধান -মো: মোবারক হোসাইন

যেকোনো দেশ, রাষ্ট্র্র, সমাজ, সংগঠন পরিচালনা ও নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবিধান ছাড়া কোনো রাষ্ট্র, সমাজ, সংগঠন পরিচালিত হতে পারে না। সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল। প্রতিটি রাষ্ট্র তার নিজস্ব কিছু আইনকানুন ও নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। এসকল নিয়মনীতি হলো সকল রাষ্ট্রের সংবিধান। যেকোনো দেশের সংবিধান রচিত হয় সে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলোকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটল বলেন, “সংবিধান হলো এমন একটি জীবনপদ্ধতি যা রাষ্ট্র তার নিজের জন্য বেছে নিয়েছে।”

ইতিহাস
ইতিহাস বা History শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক শব্দ Historia থেকে যার অর্থ মানুষের অতীত ঘটনা ও কার্যাবলির অধ্যয়ন।
ইতিহাস হলো জাতির দর্পণস্বরূপ। এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে বিগত দিনের সাফল্য ও ব্যর্থতার ইতিকথা। তাই মানুষ ইতিহাস পাঠে সাবধানী হয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেষ্ট, উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়। ইতিহাসকে জাতির বিবেক বলা চলে। এটা একটা জাতির দিগদর্শনযন্ত্রের মতও কাজ করে।

সংজ্ঞা
হেরোডটাস ইতিহাসকে সংজ্ঞায়িত করেন এভাবে, History is the true and agreeable delineation of the past events. অর্থাৎ ইতিহাস হচ্ছে অতীত ঘটনাসমূহের সত্য ও সহমত হওয়ার মতো বর্ণনা।
সমাজবিজ্ঞানের জনক ইবনে খালদুন (Ibn Khaldun) বলেছেন, The narrative description of human society and civilization is the history. অর্থাৎ মানবসমাজ ও সভ্যতার বর্ণনামূলক উপস্থাপনাই ইতিহাস।

ঐতিহ্য
#    ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত যে ঘটনা কালের পরিক্রমায় অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে যায় তাই ঐতিহ্য।
#    সময়ের আবর্তনে যেসব বিষয় শিক্ষণীয় হিসেবে পরিণত হয়েছে সেটাই ঐতিহ্য।

সংবিধানের (Constitution) সংজ্ঞা
সংবিধানের ইংরেজি প্রতিশব্দ Constitution,, ল্যাটিন শব্দ Constituere থেকে উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ প্রতিষ্ঠা করা। উৎপত্তিগত অর্থে সংবিধান বলতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের আদেশ প্রতিষ্ঠা করাকে বোঝায়। রাষ্ট্র, সমাজ, সংস্থা বা সংগঠন পরিচালনার জন্য যে নিয়মকানুন বা বিধিব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাই সংবিধান।
সংবিধান বলতে সেই সকল লিখিত বা অলিখিত মৌলিক নিয়মাবলিকে বোঝায় যা কোনো রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার ও বণ্টননীতি নির্ধারণ করে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সম্বন্ধ নির্ণয় করে।

সংবিধানের পরিভাষা
#    বাংলায়     গঠনতন্ত্র, শাসনতন্ত্র
#    ইংরেজি    Constitution
#    আরবি    দস্তর
#    ফার্সি    লাহমুদান
#    উর্দু    রাহনুমা
#    অধ্যাপক ফাইনারের মতে, “রাষ্ট্রীয় মৌলিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধযুক্ত সঙ্ঘবদ্ধ রূপই হচ্ছে সংবিধান।” (The system of fundamental political institution is the constitution.)
#    সি এফ স্ট্রং-এর মতে, “সংবিধান সেই নিয়মের সমষ্টি যা সরকারের ক্ষমতা নির্ধারণ করে, শাসিতের অধিকার এবং এই দুইয়ের সম্বন্ধ নির্ণয় করে।”
#    ব্রাইসের মতে, মৌলিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষম ব্যবস্থাই সংবিধান।

সংবিধানের প্রকার
লিখিত : যে সংবিধানে শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত মৌলিক নীতিসমূহের অধিকাংশ লিখিত থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের সংবিধান।
অলিখিত : যে সংবিধানে শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালাগুলো বিভিন্ন আচার-আচরণ, প্রথা, রীতিনীতি এবং বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। যেমন- ব্রিটিশ সংবিধান।
সুপরিবর্তনীয় : যে সংবিধানকে সাধারণ আইন প্রণয়নপদ্ধতির সাহায্যে সহজেই পরিবর্তন করা যায় তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে। যেমনÑ বাংলাদেশের সংবিধান।
দুষ্পরিবর্তনীয় : যে সংবিধান সহজে সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা যায় না তাকে অনমনীয় বা দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলে। যেমন-আমেরিকার সংবিধান।

সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা
#    চিন্তার ঐক্যের জন্য বা চিন্তাধারাকে একদিকে প্রবাহিত করার জন্য
#    যে কোনো সঙ্কট উত্তরণের জন্য
#    সমন্বয় সাধনের জন্য
#    দায়িত্ব পালনে সমন্বয় সাধন ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য
#    সর্বোত্তম শৃঙ্খলা বিধান করার জন্য
#    ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলাবোধ সংরক্ষণের জন্য
#    মৌলিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ এবং নীতিমালা নির্ধারণের জন্য

উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য
#    সুস্পষ্টতা
#    সংক্ষিপ্ততা
#    নমনীয়তা
#    লিখিত সময় উপযোগী
#    মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি বিদ্যমান
#    সার্বভৌম ক্ষমতার ভারসাম্য
#    জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিচ্ছবি
#    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
#    বিশ্বশান্তির সাথে সামঞ্জস্যশীল

আমাদের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য
#    সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক
#    পূর্ণাঙ্গ ও জটিলতামুক্ত
#    কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক
#    সুপরিবর্তনীয়
#    উপধারার জটিলতামুক্ত
#    সহজবোধ্য ও প্রয়োজনযোগ্য
#    সংবিধানের ব্যাখ্যা সহজ
#    অনন্য নির্বাচনপদ্ধতি
#    ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা: কেন্দ্রীয় সভাপতি, সেক্রেটারি জেনারেল ও কার্যকরী পরিষদ
#    বাক্যভিত্তিক নয় বরং শব্দভিত্তিক সংবিধান
#    উত্তম নির্বাচনপদ্ধতি, ইলেকশনও নয়, সিলেকশনও নয়
#    লিখিত ও অলিখিতের সমন্বয়
#    ক্যাডার সিস্টেম
#    মধ্যমপন্থী

অন্যান্য সংবিধানের সাথে আমাদের সংবিধানের পার্থক্য
#    সাধারণ সংবিধানে সাধারণত কোনো পরিকল্পনা থাকে না, আমাদের আছে। (ভূমিকার সেহেতুর দিক)
#    প্রচলিত সংবিধানে ঐতিহ্য বলতে কিছু নেই, আমাদের আছে।
#    প্রচলিত সংবিধানে কোনো উদ্দেশ্য নেই, আমাদের আছে। (যেহেতু, সেহেতু)

আমাদের সংবিধানের ইতিহাস
১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরে মাওলানা মওদূদী (রহ)-এর নেতৃত্বে ৭৫ জন লোক নিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে মাওলানা মওদূদী জামায়াতের শূরায় আলাদা ছাত্রসংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। দায়িত্ব দেয়া হয় নাছরুল্লাহ খান আজিজকে। নতুন ছাত্রসংগঠন হিসেবে স্টুডেন্ট ফোরাম, আনজুমানে নওজোয়ান ও ইসলামী জমিয়াতে তালাবা এই তিনটি নাম প্রস্তাবিত হয়। সম্মতিক্রমে “ইসলামী জমিয়াতে তালাবা” নামে সর্বপ্রথম এই উপমহাদেশে ইসলামী ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নাজেমে আ’লা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় নাছরুল্লাহ খান আজিজের পুত্র জাফরুল্লাহ খান আজিজকে।
#    ১৯৪৭ সালে ২৩ ডিসেম্বর ইসলামী জমিয়াতে তালাবা প্রতিষ্ঠা হয়, এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হন জাফরুল্লাহ খান আজিজ
#    ১৯৪৮ সালে সংবিধানের খসড়া তৈরি করেন খুররম জাহ মুরাদ
#    প্রথম সংবিধানে কর্মসূচি ছিল ৩টি (দাওয়াত, সংগঠন ও প্রশিক্ষণ)
#    ছাত্রসমাজের কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞান অর্জন এবং বাস্তবজীবনে ইসলামের পূর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।
#    যেসব ছাত্র ইসলামী জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সঙ্ঘবদ্ধ করা।
#    এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।

১৯৫০ সালে নি¤েœাক্ত কর্মসূচি দুটি গ্রহণ করা হয়Ñ
১.    আদর্শ নাগরিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম।
২.    ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।
১৯৬৯-৭০ এ কর্মসূচিতে নতুন সংযোজন আসে। চতুর্থ ও পঞ্চম দফাকে একত্রে করে চতুর্থ দফায় পরিণত করা হয়। আর বর্তমানে পঞ্চম দফা নতুনভাবে সংযোজিত হয়। যার নি¤œরূপÑ
“অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামি হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী বিপ্লব সাধনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।”
২০০৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে সামনে রেখে পঞ্চম দফার নাম সংশোধন হয়ে “ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ” হয়, যা এর পূর্বে “ইসলামী বিপ্লব” নামে ছিল এরপর সংবিধানের মৌলিক কোনো সংশোধনী হয়নি।
১৯৭৩ সালের ১৯ মার্চ সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি করা হয়। তারা হলেনÑ
#    মরহুম এ কে এম নাজির আহমদ
#    শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
#    আবু নাসের মুহাম্মদ আব্দুজ্জাহের
#    শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
#    মীর কাসেম আলী
খুলনার সিদ্দিক জামাল ভাইয়ের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সেখানে উপস্থিত ছিলেন:
#    শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
#    আবু নাসের মুহাম্মদ আব্দুজ্জাহের
#    শহীদ মীর কাসেম আলী
#    মরহুম মাওলানা সামছুল হক
#    মাসুদ আলী
#    সরদার আবদুস সালাম
১৯৭৬ সালে সংগঠনের নি¤েœাক্ত নামসমূহ প্রস্তাবনায় ছিল:
#    জাতীয় ছাত্রশিবির
#    ইসলামী ছাত্র সংস্থা বা সমিতি
#   ইসলামী ছাত্র ফেডারেশন
#    ইসলামী ছাত্রদল
#    ইসলামী ছাত্র ফোরাম
পরবর্তীতে মরহুম সিদ্দিক জামাল ভাই একটি নতুন নামের প্রস্তাব করেন এবং এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আর তা হচ্ছে “ইসলামী ছাত্রশিবির”। ১৯৭৬ সালে ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রশিবির নামের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই বৈঠকে মীর কাসেম আলী ভাইকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রথম সভাপতি ও মু. আবদুল বারী প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যে ৬ জন ভাইয়ের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পথচলা শুরু হয় তারা হলেন:
#    আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ্জাহের
#    শহীদ মীর কাসেম আলী
#    শহীদ কামারুজ্জামান
#    সিদ্দিক জামাল
#    ড. আব্দুল বারী
#    অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের
১৯৭৮ সালে প্রথম সদস্য সম্মেলন (হোটেল ইডেনে) অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজশাহী থেকে আগত রাজশাহী মেডিক্যালের সদস্য ডা: মোরশেদ আলী ভাই নিজের রচিত “পদ্মা, মেঘনা, যমুনার তীরে” গানটি পরিবেশন করেন এবং তা শিবির সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
কতিপয় পরিবর্তন : সংবিধান সংশোধনী
#    ১৯৭৮ সালে সাংগঠনিক সেশন মহররমের পরিবর্তে অক্টোবর করা হয়।
#    ১৯৮০ সালে ৫ম সংশোধনের মাধ্যমে ৫০তম ধারা যোগ করা হয়।
#    ১৯৮১ সালে কার্যকরী পরিষদে একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
#    ১৯৯০ সালে ডা: আমিনুল ইসলাম মুকুল ভাইয়ের সময়ে সংবিধানে একটি মৌলিক সংশোধনী হয়। সাংগঠনিক সেশন অক্টোবর-সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করা হয়। সংবিধান সংশোধনের কারণে আ.জ.ম ওবায়েদুল্লাহ ভাই ১৫ মাস কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
#    ১৯৯১ সেশনে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি সেশন করা হয়।
#    ১৯৯৩ সালে ২ জন সহ-সভাপতির পদ সৃষ্টি করা হয়।
#    ১৯৯৩ সালে ৫২টি ধারা করা হয়।
#    ১৯৯৫ সালে রফিকুল ইসলাম খান ভাইয়ের সময়ে সংবিধানের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করা হয়।
#    ১৯৯৭ সালে শাহজাহান ভাই কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালীন সময়ে সহসভাপতির ধারাগুলো বিলুপ্ত করা হয়।
#    ১৯৯৮ সালে বাংলা ও ইংরেজি সমন্বয় করে সংবিধান প্রকাশিত হয়।
#    ১৯৯৯ সালে ২টি ধারা সংশোধন হয়। আর তা হচ্ছে ৩৩ নম্বর ধারা নির্বাচন কমিশন ও ৪০ নম্বর ধারা বায়তুলমাল অডিট সংক্রান্ত।

কার্যকরী পরিষদ সদস্য সংখ্যা
প্রতি ১৫ জনে-১ জন ১৯৭৭-১৯৭৮।
প্রতি ২৫ জনে-১ জন  ১৯৭৮-১৯৭৯।
প্রতি ৩৫ জনে-১ জন  ১৯৭৮-১৯৮৬।
প্রতি ৩৫ জনে-১ জন ১৯৮৬-১৯৯৩
প্রতি ৫০ জনে-১ জন ১৯৯৩-১৯৯৭
প্রতি ৬৫ জনে-১ জন ১৯৯৭-২০০২
প্রতি ৭৫ জনে-১ জন ১৯৯৯
প্রতি ৯০ জনে-১ জন ২০০৫
প্রতি ১১০ জনে-১ জন ২০০৭
প্রতি ১২৫ জনে-১জন ২০০৯
প্রতি ১৪০ জনে-১জন ২০১১
প্রতি ১৪৫ জনে-১জন ২০১২
প্রতি ১৬০ জনে-১জন ২০১৩
প্রতি ১৭০ জনে-১জন ২০১৪
প্রতি ১৪৫ জনে-১জন ২০১৬ (বর্তমান এ সংশোধনী বিরাজমান)

বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ছাত্রশিবিরের ঐতিহ্য
#    সৃষ্টি স্রষ্টা সম্পর্ক অধিকার ও দায়িত্ব সচেতন
#    সমন্বিত সিলেবাস
#    স্তরভিত্তিক সিলেবাস
#    উচ্চতর অধ্যয়ন
#    ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক
#    রিপোর্টিং
#    ছাত্র বাছাই ও অন্তর্ভুক্তির অনন্য পদ্ধতি
#    লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট
#    সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন
#    ছাত্রসমস্যার সমাধান
#    শিক্ষানীতির জন্য আন্দোলন
#    মাদ্রাসা শিক্ষা বৈষম্যের প্রতিবাদ
#    ইসলামী শিক্ষা দিবস উদযাপন
#    সৃজনশীল প্রকাশনায় শিবির
#    বিজ্ঞানসামগ্রী প্রকাশনা
#    সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে
#    ছাত্রকল্যাণমূলক অঙ্গনে
#    লেন্ডিং লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা
#    ছাত্র সংসদ নির্বাচন
#    কোচিং গাইড
#   নকল প্রবণতা থেকে মুক্ত
#    স্পিকারস ফোরাম
#    আইটিতে শিবির
#    সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড
#    লেখক শিবির
#    নৈতিক মানোন্নয়ন
#    বিজ্ঞানভিত্তিক ৫ দফা কর্মসূচি
#    জনশক্তির স্তরবিন্যাস
#    নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক
#    অনন্য নির্বাচনপদ্ধতি
#   অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিবেশ
#    ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান
#    নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভারসাম্য
#   পদের প্রতি লোভহীনতা
#    গঠনমূলক সমালোচনা
#    জবাবদিহিতা
#    চেইন অব লিডারশিপ
#    পরামর্শপদ্ধতি
#    বায়তুলমাল
#    লেজুড়বৃত্তিতা নেই
#    আত্মসমালোচনা
#    ত্যাগ কোরবানির অনুপম নজরানা
#    জনশক্তি শাহাদাতের প্রেরণায় উজ্জীবিত

সংবিধান
#    পূর্বকথা
#    সংবিধান একটি মৌলিক দলিল
#    যে কোনো সংগঠনের জন্য সংবিধান অনস্বীকার্য
#    ছাত্রশিবিরের সংবিধান এক পবিত্র আমানত
#    তার প্রতিটি দিক কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী আন্দোলনের ঐতিহ্যের আলোকে প্রণীত
#    শিবিরের সকল তৎপরতা সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত
#    পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়
#    সংবিধান অনুযায়ী কাজ করার জন্য আল্লাহর নিকট তাওফিক কামনা
সংবিধানে আলোচিত দিক ৩টি
#    ভূমিকা
#    অধ্যায়
#    পরিশিষ্ট

ভূমিকা
যেহেতু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে-
–    তাওহিদ : আ’রাদ-৫৮, মুমেন-১১৬, বাকারা ২২৫, ইউসুফ ১০১, নূর ৪২
–    রেসালাত : আহজাব ২১, ৩৬, নহল ৩৬।
–    আখিরাত : বাকারা-২৮৫, মায়েদা-৬৯, তওবা- ২৯।
–    ইসলামী জীবনব্যবস্থা : আলে ইমরান ১৯, ৮৫, মায়েদা ৩, সদ-৭।
সেহেতু আমরা ইসলামী বিপ্লব সাধনের প্রচেষ্টায় তৎপর ছাত্রগণ নিজেদেরকে একটি সংগঠনে সঙ্ঘবদ্ধ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি যে-
ক.    আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূল (সা)-এর অনুসরণ।
খ.    মানবসমাজকে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূল (সা)-এর অনুসরণের দিকে আহবান।
গ.    বিশ্বব্যাপী ইসলামী বিপ্লবের পদক্ষেপ হিসেবে আমরা সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সমস্ত শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োজিত করা।

অধ্যায় ৩টি
প্রথম অধ্যায়
#    নাম
#    লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
#    কর্মসূচি

দ্বিতীয় অধ্যায়
#    সদস্য হওয়ার শর্তাবলি
#    সদস্য শপথের প্রক্রিয়া
#    সদস্যপদ বাতিল
#    সদস্যপদ ইস্তফা সংক্রান্ত
#    সদস্যপদ বিলুপ্ত হওয়া
#    সাথী হওয়ার শর্ত
#    সাথী হওয়ার প্রক্রিয়া
#    সাথীপদ বাতিল

তৃতীয় অধ্যায়
#    কেন্দ্রীয় সংগঠন
#    কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনপ্রক্রিয়া
#    কেন্দ্রীয় সভাপতির পদ স্থায়ী ও সাময়িক শূন্যতা এবং তা পূরণ করার পদ্ধতি
#    কেন্দ্রীয় সভাপতির শপথ
#    কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব ও কর্তব্য
#    কার্যকরী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সভাপতির সমন্বয়
#    কেন্দ্রীয় সভাপতির ক্ষমতার প্রয়োগ
#    কার্যকরী পরিষদের গঠন ও নির্বাচন
#    কার্যকরী পরিষদ শপথ
#    কার্যকরী পরিষদের শূন্য পদ পূরণ (নির্বাচিতদের ক্ষেত্রে)
#    কার্যকরী পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
#    কার্যকরী পরিষদের অধিবেশন সংক্রান্ত
#    কার্যকরী পরিষদের ফোরাম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
#    কেন্দ্রীয় সভাপতি ও কার্যকরী পরিষদের মধ্যে মতবিরোধ ও সমাধান প্রক্রিয়া
#    সেক্রেটারিয়েট গঠনপ্রক্রিয়া
#    সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব ও কর্তব্য
#    সেক্রেটারিয়েটদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
#    সংগঠনের অন্যান্য স্তর যা প্রয়োজনে গঠন করতে হবে
#    সদস্য শাখা গঠন ও নির্বাচন
#    সদস্য শাখার দায়িত্ব ও কর্তব্য
#    সাথী শাখা গঠন ও নির্বাচন
#    নির্বাচন কমিশন গঠন
#    দায়িত্বশীল নির্বাচনের গুণাবলি
#    দায়িত্বশীল নির্বাচনকালীন লক্ষণীয় বিষয়
#    বায়তুলমালের আয়ের উৎস
#    বায়তুলমাল ব্যয় সংক্রান্ত
#    জাকাতের আয় সংক্রান্ত
#    ঊর্ধ্বতন বায়তুলমাল পরিশোধ
#    অডিট সংক্রান্ত
#    কেন্দ্রীয় সভাপতির পদচ্যুতি
#    অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত
#    অনাস্থা প্রস্তাব পেশের নিয়ম ও সমাধান প্রক্রিয়া
#    কার্যকরী পরিষদের রদ-বদল সংক্রান্ত
#    কার্যকরী পরিষদের পদচ্যুতি
#    সাথী ও সদস্য শাখা ভেঙে দেয়া সংক্রান্ত
#    সংবিধান সংশোধনী
#    সংবিধানের ব্যাখ্যা
#    সাংগঠনিক সেশন
#    ভ্রাতৃশিবির গঠন

পরিশিষ্ট
#    সাথীর শপথ।
#    সদস্যের শপথ ।
#   সভাপতির শপথ।
#    কার্যকরী পরিষদ সদস্যের শপথ।
লেখক : পিএইচডি গবেষক

SHARE