ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ও ব্যবহারিক জীবন

Bangladesh-islami-satro-shibirমোবারক হোসাইন

আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেন, “তোমরা কি দেখ না আল্লাহ্ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।” (সূরা লুকমান : ২০) এ পৃথিবীতে আল্লাহ পাক যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সবকিছু মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহ পাকের গোটা সৃষ্টিজগৎ হলো পরিবেশ। পরিবেশ কথাটি আভিধানিক অর্থে ঠিকানা, অবস্থা এবং প্রকৃতিকে বোঝানো হয়া। আল্লাহ পাক কুরআনে পরিবেশের কথা বলেছেন নিম্নোক্তভাবে, যখন আমি ইবরাহিমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরিক করো না। (সূরা হাজ : ২৬) তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা দিয়েছেন। (সূরা আরাফ : ৭৪) আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেন, “যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” (সূরা শামস : ৯-১০) ইসলাম ধর্ম হলো মানবতার জন্য বিশ্বজনীন এক ধর্ম। এ ধর্ম মানুষকে সর্বদা সুন্দর চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয় সিদ্দীকগণের আমলসমূহের ভেতর এটা সর্বোত্তম। যারা নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও ঠিক রাখবে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তাদের মর্যাদা ও সম্মান দুনিয়াা এবং আখেরাতÑ দুই জীবনে উন্নতি হবে। ইসলাম মানুষকে কিভাবে নীতি-নৈতিকতার দিকে পরিচালিত করবে সে ব্যাপারে রয়েছে কিছু বিশ্বাস ও নীতিমালা।
– পরিবেশ ব্যতীত কোন প্রাণী বাঁচতে পারে না।
– পরিবেশ অনুযায়ী লোক তৈরি হয় না।
– লোক অনুযায়ী পরিবেশ তৈরি হয় না।
– তাই মানুষ তৈরির জন্য পরিবেশ মৌলিক শর্ত।
– পরিবেশ যত ভাল ও উন্নত হয় ততই ভাল মানুষ তৈরি হয়। ব্যবহারিক জিন্দেগির বাস্তব প্রতিফলন ঘটে Practical life-এ.
– ব্যবহারিক জীবন সাধারণত পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাবে প্রভাবিত হয়- যেমন পরীক্ষার হলে নকল প্রবণতা
– মুখের কথার চেয়ে নবী ও সাহাবীদের ব্যবহারিক জীবন দেখে লোকজন বেশি আকৃষ্ট হয়েছে। হাদীস- “বুইসতু লিউতিম্মা মাকারিমাল আখলাখ।”
– একজন ঈমানদারের বাস্তব জীবন হবে রুচিসম্মত, সুন্দর, মার্জিত, অনুকরণীয়, আকর্ষণীয়

সংগঠনের উপাদান ৩টি
১. নেতৃত্ব
২. জনশক্তি
৩. কার্যবিধি

ইসলাম হলো : 

ISLAM,
l S=Shall
l L=Love
l A=All
l M=Mankind
l I shall Love all mankind

  •  ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম
  •  ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম
  •  ইসলাম একটি জীবন ব্যবস্থা
  •  ইসলামী সংগঠন : যে সংঘ আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে তাকে ইসলামী সংগঠন বলে।
  •  ইসলামী সংগঠনের উপাদান :

১. ইসলামী নেতৃত্ব
২. ইসলামী কর্মী বাহিনী
৩. ইসলামী পরিচালনা বিধি

পরিবেশ বলতে কী বুঝি?

(What is environment?)
The environment includes factors outside the organization which can lead to opportunities for or threats to the organization

– Oxford Dictionary তে বলা হয়েছে।

Surrounding and conditions in which people.অর্থ চতুর্পাশ্ব এবং তার অবস্থা যেখানে মানুষ বসবাস করে।

The sorrounding or condition in which a person or any things livees or oparates
– আমরা সাধারণত : আমাদের চার পাশে যা কিছু আছে তাকে পরিবেশ বলি।
– গোপালনাথ খান্না বলেন, “Environment as the sum of total effects the development and life of organism.”

ইসলামী সংগঠনের পরিবেশ :

  •  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে মানুষ যে কর্মতৎপরতা চালায় তাতে একটা অবস্থা সৃষ্টি হয় একেই বলে পরিবেশ।
  •  তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাত বা ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে লক্ষ্য উদ্দেশ্য, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকে যে কর্মতৎপরতা চালায় তাতে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে ইসলামী সংগঠনের পরিবেশ বলে।
  •  নেতা ও কর্মীর মাঝে কাক্সিক্ষত গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে ইসলামী সংগঠনের পরিবেশ বলে। ইসলামে সাংগঠনিক পরিধি এবং তার অবস্থা যেখানে কর্মী, সাথী, সদস্য বা নেতা-কর্মী বসবাস করে।

সাংগঠনিকভাবে আমাদের চার পাশে আছে- সমর্থক, কর্মী, সাথী, সদস্য ও শুভাকাক্সক্ষী।

  •  দায়িত্বশীল > কর্মী
  •  কর্মী > দায়ীত্বশীল
  •  দায়িত্বশীল ও কর্মী > সাধারণ এর সাথে। (সমর্থক, শুভাকাক্সক্ষী)।

ইসলামী পরিবেশ : ড. মাহমুদ সালেহ আদেলী বলেন, “মানবমণ্ডলীকে বেষ্টন করে আল্লাহ তায়ালার যে সমগ্র সৃষ্টিজগৎ তাকেই ইসলামী পরিবেশ বলা হয়া।”
ইসলামী পরিবেশ নির্ভর করে :

  •  নেতা দায়িত্বশীলের আচরণের ওপর।
  • কর্মীদের আচরণের ওপর।
  •  নেতা ও কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর।

পরিবেশের গুরুত্ব : ইসলাম পরিবেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। মিসরের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা সাইয়েদ তানতাবী তাঁর এক বইয়ে লিখেছেন, আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের মধ্যে পাঁচ শতবার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে বলেছেন, এই পৃথিবী তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তোমরা একে আবাদ কর। তিনি বলেন : ‘তিনিই জমিন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন এবং তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন।’ (সূরা হুদ : ৬১) পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে পৃথিবী আবাদ হতে পারে; মানুষের বসবাসের উপযোগী হতে পারে। আর পরিবেশ যখন সংরক্ষণ করা হবে না তখন এই দুনিয়া বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

পরিবেশ প্রধানত দুই প্রকার :
অভ্যন্তরীণ পরিবেশ (internal environment) : internal environment includes the forces inside the organization that can influence the organization and its performance.  সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নির্ভর করে সংগঠনের নেতা ও কর্মীর পারস্পরিক প্রচেষ্টার ওপর। অভ্যন্তরীণ পরিবেশের জন্য সংগঠন এগিয়েও যেতে পারে, পিছিয়েও যেতে পারে। যেমন, সমর্থক, কর্মী, সাথী, সদস্য।
বাহ্যিক পরিবেশ(external environment): external environment includes the major forces outside the organization that influence the abilitiy to achive organizational goal. সংগঠনের বাইরের বিভিন্ন অবস্থা এবং পক্ষসমূহের কর্মকাণ্ড ও আচার-আচরণ যা সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে।

বাহ্যিক পরিবেশ (external environment) : আবার দুই প্রকার
ক. কার্য পরিবেশ (Task environment) : বাইরের যে সকল পক্ষ সংগঠনের কাজের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে তাকেই কার্য পরিবেশ বলে। যেমন, শুভাকাক্সক্ষী, অন্যান্য ইসলামী সংগঠন, অন্যান্য ছাত্রসংগঠন, সকল পেশার মানুষ, সাধারণ মানুষ ইত্যাদি
খ. সাধারণ পরিবেশ (Genaral environment) : Genaral environment is the part of external environment composed of forces that have a general influence on the organizationa.  সাধারণ পরিবেশ হলো বাইরের পরিবেশের সমন্বয়ে সৃষ্ট শক্তিসমূহ যা সংগঠনের কাজের ওপর সাধারণ প্রভাব বিস্তার করে। যেমন ভৌগোলিক উপাদান, অর্থনৈতিক উপাদান, কারিগরি উপাদান, সামাজিক উপাদান, রাজনৈতিক উপাদান, আইনগত উপাদান, আন্তর্জাতিক উপাদান।

সাংগঠনিক পরিবেশ বলতে আমরা কোন পরিবেশকে বোঝাবো :

  • ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা।
  •  সংগঠনের কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির অনুকরণ করা।
  •  ভারসাম্যপূর্ণ কর্মসূচি পালন।
  • পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ।
  • আদেশ আনুগত্যের ভারসাম্য রক্ষা করা।

বৈঠকের পরিবেশ :
Full concentration.

  • মতামত দেয়া এবং শুনা।
  •  অনুমতি নিয়ে কথা বলা।
  • অনুমতি নিয়ে বাইরে যাওয়া।
  • নিজের মত (বাস্তবায়ন) সিদ্ধান্ত হিসেবে পেতে চৎবংংঁৎব না দেয়া।
  • যা সিদ্ধান্ত হবে, যার কথাই সিদ্ধান্ত হবে তা বাস্তবায়নে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়া।

জান্নাতি পরিবেশ : তিনটি
১. আখেরাতের কল্যাণের চিন্তা
২. দুনিয়াবি স্বার্থত্যাগের মানসিকতা
৩. সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য

দ্বীনি পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতা :

  •  আকাশ সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব।
  •  মান আসার পূর্বে মানোন্নয়নের চেষ্টা করা।
  •  সাবেক দায়িত্বশীলদের দুর্বলতা।
  •  মানসম্মত ও সময় উপযোগী দায়িত্বশীল তৈরি না হলে।
  •  দায়িত্বশীল ও জনশক্তির মাঝে দূরত্ব থাকলে।

কাক্সিক্ষত পরিবেশের জন্য নেতার গুণাবলি :
১. জ্ঞানগত যোগ্যতা
২. যথাযথ শৃঙ্খলা বিধানের যোগ্যতা
৩. পরিচালনার যোগ্যতা
৪. জনশক্তির মাঝে মধ্যমণি হওয়া
৫. কর্মীর প্রেরণার উৎস হওয়া
৬. সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা
৭. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের যথাযথ আনুগত্য
৮. সার্বিক দিক থেকে সংগঠনের গতিশীল করা যোগ্যতা অর্জন
৯. সামগ্রিক কাজে ভারসাম্য রক্ষা : এর জন্য

  •  সময়ের সদ্ব্যবহার
  •  পরিশ্রমপ্রিয়তা
  •  কম কথা বেশি কাজ
  •  ৫ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো যাবে না

পরিবেশ বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ :

  •  আদেশের সুরে কথা বলা
  • গিবত
  •  হিংসা-বিদ্বেষ
  • কুধারণা
  • চোগলখুরি
  • কানাকানি ও ফিসফিসানি
  • মেজাজের ভারসাম্যহীনতা
  • একগুঁয়েমি
  • সামষ্টিক ভারসাম্যহীনতা
  • সঙ্কীর্ণমনতা

পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক বিষয় সমূহ :

  •  দায়িত্বশীল কর্তৃক সকল জনশক্তিকে কাজে লাগানো।
  •  গিবত মুক্ত পরিবেশ সংরক্ষণ করা।
  •  কর্মসূচি পালনে কর্মপদ্ধতির অনুসরণ।
  • এহতেছাবের প্রচলন থাকা।
  •  ইসলামী জ্ঞান অর্জনে প্রচুর বই পুস্তক থাকতে হবে।
  • কিছু ইসলামী স্কলারস তৈরি করা।
  •  আমাদের ও সংবিধান অনুসরণ করা।
  •  প্রাক্তন ভাইদের সাথে পরামর্শ করা।
  •  দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকা।
  •  শহীদদের জীবনী জানা ও শাহাদাদের চেতনা।
  •  দায়িত্বশীলদের উত্তম আমল ও উন্নত আচরণ।

পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের দুর্বলতা :

  •  ধৈর্যের অভাব।
  •  দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া।
  •  ইলম অনুযায়ী আমল না করা।
  •  যোগাযোগের অভাব।
  •  ভুল বুঝা বুঝি।
  •  সময়ের অপচয়।
  •  তত্তাবধানের নামে সীমা অতিক্রম করা।
  • দায়িত্বশীলের অদূরদর্শী মন্তব্য
  •  সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে না পারা।
  • কর্ম বণ্টনে সুবিচার না করা।
  • দায়িত্বশীলদের লেন-দেন অপরিচ্ছন্নতা।
  • যথা সময়ে প্রোগ্রাম শুরু করতে না পারা।
  •  সকল জনশক্তির ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতে না পারা।
  • ইসলামী নীতি অনুসরণ না করা।

পরিবেশ সংরক্ষণ না হলে ক্ষতি :

  •  সংগঠনের কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে।
  •  সংগঠনের গ্রহণ যোগ্যতা হ্রাস পায়।
  •  জাতি সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
  •  সকলের মাঝে ইসলামী দাওয়াতের প্রসার কমে যায়।
  •  প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।
  •  সাংগঠনিক স¤প্রসারণ বন্ধ হয়ে যায়।
  •  বিরোধীদের অপপ্রচার বৃদ্ধি পায়।

নেতা দায়িত্বশীলের আচরণ বা ভূমিকা হবে :

  •  বিনম্র্র ভাষায় নির্দেশ দিবেন।
  •  নেতৃত্ব কর্মীদের সাথে আনুষ্ঠানিক আলাপ ও করবেন।
  •  কোমলতা, উদারতা, ও ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন। আপনি বটবৃক্ষের মতো বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হবেন। আপনার ছায়ায় ঘুমোবে, যাওয়ার সময় একটা ডালও ভেঙে নিয়ে যাবে।
  •  সবাইকে সমান গুরুত্ব দেয়া ও সমান ভালোবাসা দেয়া। সবাইকে আপন করে নেয়া। Gift  দেয়া; Wish করা, উৎসাহ দেয়া
  •  প্রাপ্য অনুযায়ী মর্যাদা দেয়া।
  •  সকল জনশক্তিকে প্রভাব বলয়ের মধ্যে রাখা।
  •  জনশক্তির মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা।
  •  যে কোন সমস্যায় তাৎক্ষণিক সমাধান। এক্ষেত্রে যোগ্য ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া।
  •  জনশক্তিদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করা। এটা যেন গিবতের পরিবেশ না হয়।
  •  এহতেসাব বা গঠনমূলক সমালোচনা করা।
  •  সকল ক্ষেত্রে সংগঠনের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া।
  •  পরিবেশ বিনষ্টকারী গুণাবলি থেকে সংগঠনকে হেফাযত করা।
  •  সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিধানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া।
  •  দূরদৃষ্টি, যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরবর্তী পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারা।

কর্মী, সদস্য বানানো, বাতিল বা স্থানান্তরের জন্য-

  •  বৈঠকের সিদ্ধান্ত যথাযথ বাস্তবায়ন করা।
  •  সিদ্ধান্ত কোনভাবেই যেন বাইরে না যায়।
  •  পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
  •  দায়িত্বশীল বাছাই করতে ভুল না করা।One man preparation
    – Nursing not for one man but for a teamস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল বানাতে হবে।
  •  আঞ্চলিক চেতনা কঠোর হাতে দমন করা।
  •  কোন অভিযোগ শুনা মাত্র কমান্ড না করা।
  •  জনশক্তির বক্তব্য ধীরস্থিরভাবে শুনা।
  •  সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নিজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

ব্যবহারিক জীবন :
ব্যবহারিক জীবন হলো এমন মূল্যবোধ যে অনুযায়ী মানুষের আচরণ হওয়া প্রয়োজন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল ওয়াদুদ মাকরূম বলেছেন, “ব্যবহারিক জীবন হচ্ছে আচরণের রীতি-নীতির সমষ্টি, যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত ও সংহত করে এবং যাকে চিন্তা ও আচরণের ক্ষেত্রে মানুষের অনুসরণ করা উচিত।” রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, “তোমরা সততা অবলম্বন গ্রহণ কর, কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পূণ্য জান্নাতের পথ দেখায়, একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়, ফলে আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।” (মুসলিম)

ব্যবহারিক জিন্দেগির বিভিন্ন দিক

  •  ব্যক্তিগত জীবন
  •  সাংগঠনিক জীবন
  •  পারিবারিক জীবন
  •  সামাজিক জীবন

ব্যক্তিগত জীবন : পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাÑহাদীস “আত্তুহরো সাতরুল ঈমান” একদিন এক ব্যক্তিকে রাসূল (সা) বললেন, আপনি যে চুল রাখছেন, চুলের হক্ক কী? তখন লোকটি বলল হে রাসূল, জানি না; তখন রাসূল (সা) বললেন, ঘুম থেকে ওঠার পর ও ঘুমানোর পূর্বে মাথা দু’বার আঁচড়াবে।” এমনকি হাদীসে কাঁচা পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যাওযা নিষেধ করা হয়েছে।
শৃঙ্খলাবদ্ধতা : সকল কিছু পরিপাটি সাজানো গুছানো থাকবে। খাওয়া, ঘুম, লিখাপড়া, বই পুস্তক, কাপড় চোপড়, রাখা টেবিল চেয়ার ইত্যাদির মধ্যে যেন কোন বিশৃঙ্খলা না থাকে।- সব কিছুতে সুশৃঙ্খল না হলে অনেক সময় ডায়েরি খুঁজতে চাবি নেই, চাবি খুঁজতে অমুক নেই ইত্যাদি। সবকিছু সুশৃঙ্খল হলে মন ভালো থাকে, সময়ের অপচয় হয় না।
ক্রোধ দমন করা : একটি ঘটনাÑ জনৈক ব্যক্তির ছেলে সকাল থেকে তিন তলার ওপর কাজ করছে। সে তার ছেলেকে বার বার বলছে এত রৌদ্রে কাজ না করার জন্য। কুরআন : হামিম আস সাজদা- ৩৬ অর্থ : যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। হাদীস : তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি বীর নয় যে কাউকে গায়ের জোরে হারিয়ে ফেলে বরং বীর ঐ ব্যক্তি যে রাগকে হজম করে। একবার হযরত আলী (রা) একজন লোকের বুকে ছুরি চালানোর সুযোগ পেয়েও বাদ দিলেন…..
ত্যাগী মনোভাব : আত্মত্যাগ, আর্থিক কোরবানি, আরাম আয়েশের কোরবানি, স্বভাব প্রকৃতির কোরবানি। কুরআন : সূরা হাসর : “এবং তারা নিজের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা রয়েছে অনটনের মধ্যে। হাদীস : অভাব-অনটনে আত্মত্যাগ : “একদিন রাসূলে করীম (সা) এর কাছে একজন ক্ষুধার্ত লোক এলো। তখন হযরতের গৃহে কোন খাবার ছিল না। তিনি বললেন : যে ব্যক্তি আজ রাতে এ ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে রাখবে, আল্লাহ তার প্রতি করুণা বর্ষণ করবেন। হযরত আবু তালহা লোকটিকে নিজ ঘরে নিয়ে গেলেন।…
সকালে রাসূলে করীম (সা) খেদমতে হাজির হলে তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার এ সদাচরণে অত্যান্ত খুশি হয়েছেন; এবং এ আয়াত পড়ে শুনালেন।” জিহাদের ময়দানে আত্মত্যাগ : মুতার যুদ্ধ প্রথম-ষষ্ঠ ব্যক্তি পর্যন্ত নিজে পানি পান না করে অপরের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকলেই জীবন দিলেন।
কুরআন : “তোমরা একে অপরকে অগ্রাধিকার দান কর।” আরে ইমরান ৯২ : তোমরা কস্মিনকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় না কর। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে আল্লাহ তা জানেন।
ইমরান ২০০ : হে ঈমানদারগণ ধৈর্যধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর, আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পারো।
সবর ও তায়াক্কুল : সবরের কয়েকটি অর্থ : ইমরান ২০০ : ইয়া আইয়্যুহাল লাজিনা …
সূরা আসর তায়াক্কুলÑ কঠিন থেকে কঠিন অবস্থায় আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করা। হিজরতের সময় গুহার ভেতর রাসূল (সা) এর অবস্থান। ইবরাহিম (আ) কে আগুনে ফেলার পর যখন ফেরেস্তা এসে সাহায্য করতে চেয়েছিল তখন ফেরেস্তার ওপর ভরসা না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন।- ফেরাউন যখন মূসা (আ) কে দৌড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রের ধার পর্যন্ত যাওয়ার পর আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করায় তা হাতের লাঠির ইশারায় সমুদ্রে ১২টি গোত্রের জন্য ১২টি রাস্তা হয়ে যায়।
দ্ব জ্ঞান পিপাসা
দ্ব দৃষ্টিশক্তির হেফাজত :
সূরা নূর- “মুমিনদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।” চোখের জেনার শাস্তি হচ্ছে : কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখের জেনা করলে সীসাকে জ্বালিয়ে তার চোখে ছেঁকা দেয়া হবে।”
দ্ব বাকশক্তি বা জবানের হেফাজত : হাদীস “তোমরা হয় ভালো কথা বল নতুবা চুপ থাক”, “তোমরা যদি ২টি জিনিসের জিম্মাদারি হও তবে আমি জান্নাতের জিম্মাদারি হবোÑ যৌনশক্তি ও বাকশক্তি।” রাসূল (সা) বলেন, “কোন কটুভাষী ও বদস্বভাববিশিষ্ট লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কোন মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকি আর তার সঙ্গে লড়াই করা ফাসেকি।” একদা রাসূল (সা) মায়াজকে বিভিন্ন নসিহত করার পর নিজের জিহবা আঁকড়ে ধরে বললেন, “তোমার কর্তব্য হচ্ছে একে বিরত রাখা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যা কিছু বলা-কওয়া করি সে সম্পর্কেও কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে? তিনি বললেন : জবানের কামাই ছাড়া আর কোন জিনিস মানুষকে দোজখের আগুনে নিক্ষেপ করবে?”
“আর বদনাম করো না বিকৃত উপাধির সঙ্গে, ঈমানের পর বিকৃত নামকরণ হচ্ছে বদকারী।” “কিয়ামতের দিন আমার দৃষ্টিতে সবচাইতে অভিশপ্ত এবং আমার থেকে সবচাইতে দূরে থাকবে বাচাল, অশ্লীলভাষী, ইলমের মিথ্যা দাবিদার, এবং অহঙ্কারী ব্যক্তিগণ।
দ্ব রিয়া বা অহঙ্কার মুক্ত মন : সূরা বনি ইসরাইল- ৩৭, লোকমান-৩ “জমিনে দাম্ভিকতার সাথে চল না”, নিশ্চয়ই তুমি ভূপৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না।”
দ্ব আড়ম্বরহীন জীবন : সূরা লোকমান-১৯ পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কণ্ঠস্বর নিচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।
দ্ব প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সকল গুনাহ থেকে রক্ষা : সূরা নাজম-৩২ যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাটো অপরাধ করলেও নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা কর না। তিনি ভালো জানেন কে সংযমী? সূরা আনআম-১৫১ : নির্লজ্জতার কাছেও যেও না, প্রকাশ্যে হোক কিংবা অপ্রকাশ্যে।

আত্মসমালোচনা

  •  আত্মপর্যালোচনায় অভ্যস্ত হওয়া
  •  নিজেকে যাচাই করা
  • হাদীস : “তুমি নিজেকে এমনভাবে যাচাই কর যাতে অন্যের দিকে চাওয়ার সুযোগ না থাকে।”
  •  পরিকল্পিত জীবন
  •  কথা ও কাজের মিল :
  •  মিল না থাকা মুনাফিকির লক্ষণ
  •  ত্যাগের বক্তৃতা কাজে নাই
  •  ঈমানদারের বাস্তব জীবন হবে কথা ও কাজের মিল
  •  মুনাফিকের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম

সাংগঠনিক জীবন :
সহযোগীদের সাথে ব্যবহার : তিনটি নেক কাজে পাপ কাজ মার্জনা হয়:
ক. সরল ব্যবহার
খ. প্রফুল্ল মন
গ. মিষ্টি ভাষণ
– শত ব্যস্ততার মাঝেও অপর ভাইকে দেখলে সালাম দেয়া হাত মেলানো, হাসিমুখে কথা বলা। কেউ রোগাক্রান্ত বা অভাবগ্রস্ত হলে দেখতে যাওয়া
সহনশীলতা ও উদারতা : সূরা ইমরান-১৫৯ আরাফ- ১৯৯। একটি ঘটনা : একজন লোক মসজিদে নববীতে প্রস্রাব করে চলে যাচ্ছিল।
যাচাই না করে শুনা কথার ওপর ধারণা না করা : বনি ইসরাইল-৩৬ জাকাত আদায়ের ঘটনা-

পারিবারিক জীবন :
মাতা-পিতার প্রতি ব্যবহার : হাদীস “আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) রাসূল (সা) কে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বললেন, নামাজ, আবার প্রশ্ন করলেন পর পর দুইবার বললেন মাতা-পিতার খেদমত ও জিহাদ করা।”

  •  মায়ের পদতলে জান্নাত
  •  তোমরা মাতা-পিতাকে গালি দিও না
  • দুনিয়ায় একমাত্র নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাস মাতা-পিতাকে
  •  বিরোধী মাতা-পিতার জন্যও দোয়া কর। (আবু হুরাইরার ঘটনা)

আমাদের ব্যবহারে যেন পিতা-মাতার মন থেকে আহ শব্দও বের না হয়।
ভাইবোনদের প্রতি ব্যবহার :
আত্মীয়স্বজনদের প্রতি ব্যবহার :

সামাজিক জীবন
মন্দের মোকাবেলায় উত্তম আচরণ :Tit for tat ঈমানদারদের জন্য প্রযোজ্য নয়।
হামিম আস সাজদা : ৩৪-৩৫। ভালো ও মন্দ সমান নয়। জওয়াবে তাই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা আছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।
প্রতিবেশীর সাথে ব্যবহার। হাদীস : “সেই ব্যক্তি মুসলমান যার হাত ও মুখ হতে প্রতিবেশী নিরাপদ, যারা মুসলমানদের কষ্ট দেয় তাদেরকে কেয়ামতের দিন পাকড়াও করা হবে।” “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে।”
“যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করে না সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

  •  সাহায্য চাইলে দেয়া
  •  জানাজা পড়া
  •  খোঁজ খবর নেয়া
  •  বিয়ে শাদি অনুষ্ঠানাদিতে সাহায্য করা

চাকর-বাকরের প্রতি ব্যবহার : “তোমরা যা খাও ও পর চাকরদেরও তা খাইতে ও পরতে দাও।” একটি ঘটনাÑ হযরত উমর (রা) এর উট টেনে নিয়ে যাওয়া
বিরোধীদের সাথে ব্যবহার :
অন্যান্য

  •  শিক্ষক-কর্মচারী
  •  রোগীদের প্রতি
  •  রিক্সাওয়ালা
  •  ফকির বা সাহায্যপ্রার্থী
  •  পশুপক্ষী
  •  গাছপালা

লিও টলস্টয় ও মার্কিন তরুণীর দৃষ্টিতে : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় যখন নিঃসঙ্গ অবস্থায় রাস্তার ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন, সে সময় তার কোটের পকেট থেকে তার নিত্য সময়ের সঙ্গী যে বইটি পাওয়া যায়, সেটি ছিল আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী লিখিত ‘দ্য সেয়িংস অব প্রফেট মহাম্মদ (সা)। বাংলায় যার শিরোনাম ‘মহানবী (সা)-এর বাণী’ বইটির একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসূল (সা) বলেছেন ‘তুমি নিজের জন্য যা ভালো মনে করবে, অন্যের জন্যও তা ভাববে। আর যা নিজের জন্য মন্দ মনে করবে, অন্যের জন্যও তাই মনে করবে। (বুখারী ও মুসলিম)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর আবদুর নূর ‘আয যিকর ওয়াল ফালাহ গ্রন্থে একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন : ‘এক মার্কিন তরুণী দীর্ঘ দুই বছর মেলামেশার পর, তার বাংলাদেশী পুরুষ বন্ধুকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়। বন্ধুটি বলে যে, সে রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান। তাই তাকে বিয়ে করতে মেয়েটিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হতে হবে। মার্কিন তরুণীটি ইসলাম ধর্ম কী, তা বুঝতে চাইলো। ছেলেটি তাকে আল্লামা আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী কর্তৃক ইংরেজি অনূদিত পবিত্র কুরআন শরিফের একটি কপি দিয়ে বললো যে, এটি পড়লে ইসলাম সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারবে। দুই মাস কুরআন অধ্যয়নের পর মার্কিন তরুণীটি এসে জানালো, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করবো। ইসলামের সৌন্দর্য ও সমন্বিত নীতিমালা আমাকে আকর্ষণ করছে। এ ব্যাপারে আমার মা-বাবার আপত্তি নেই। কিন্তু তোমাকে আর বিয়ে করতে পারব না। কারণ তোমার আচার-আচরণ লক্ষ্য করছি সম্পূর্ণ কুরআন-পরিপন্থী। রুশ দেশীয় লিও টলস্টয় ও মার্কিন তরুণী যা বুঝতে ও অনুধান করতে পারছেন, মুসলমানরা সেটা কতটুকু হৃদয়ঙ্গম করতে পারছে?

সমাজে তিন ধরনের মানুষ বসবাস করে তাই তাদের দাওয়াত দিতে হলেও তিন ধরনের কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই তিন ধরনের ব্যক্তিরা হলেন

1. First Mover 2. First Flower 3. Late Mover
1. First Mover যারা তারা প্রথম শ্রেণীর লোক। তারা সবকিছু আগে শুনে করে। তাদের কাছে দাওয়াত দিতে হলে দায়ীকে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে।2. First Flower যারা কোনকিছু আবিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে অনুসরণ করে। 3. Late Mover যারা তারা সবকিছু ধীরে ধীরে গ্রহণ করে। পর্যায়ক্রমে তাদের দাওয়াত দিতে হবে।

জীবনে চলার পথে ধ্রুব সত্য
স্বার্থবাদী এক অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ I এড়িয়ে চলুন সন্তুষ্টজনক দুই অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ We  সর্বদা ব্যবহার করুন, তিন অক্ষরবিশিষ্ট দূষিত শব্দ Ago ধ্বংস করুন বহুল ব্যবহৃত চার অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Love মুল্যায়ন করুন আনন্দদায়ক পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Smile  সর্বদা ধারণ করুন দ্রুতবেগে ছড়ানো ছয় অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Rumour অবজ্ঞা করুন শ্রমসাধ্য সাত অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Success  অর্জন করুন ঈষার্ধ উদ্রেককারী আট অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Jealousy দূরে থাকুন সবচেয়ে শক্তিশালী নয় অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Knowledge অধিকার করুন সবচেয়ে দরকারি দশ অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ Confidence বিশ্বাস করুন
সুতরাং আগামী দিনে ইসলামী বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে হলে মানুষের পরিবেশ ও মেজাজ বুঝে সাংগঠনিক কাজ করতে হবে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনেক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। পৃথিবীর সকল প্রাণীর ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কাজেই আখলাকে হাসানার উপাদানগুলো অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বকে ধরে রাখতে পারে।

SHARE

Leave a Reply