ইসলামী আন্দোলন ধ্বংসের আওয়ামী মিশন

মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

বর্তমান মহাজোট সরকারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মাথায় ঘোমটা ও হাতে তসবিহ নিয়ে শেখ হাসিনা এখন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন দেশের ১৪ কোটি মুসলমানের ইসলাম, ঈমান, কুরআন, শিক্ষানীতি ও সম-অধিকারের নামে ইসলামী চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিত হয় তখন বিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগে, প্রধানমন্ত্রীর জন্ম বাংলাদেশে না ভারতে? সার্বিকভাবে ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডে আরো প্রশ্ন জাগে – প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী কতিপয় মুসলিম নামধারী নেতৃবৃন্দ কি মুসলমান? আরো হাস্যকর বিষয় হলো যে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস  বাতিল করা, পররাষ্ট্র চুক্তির বিষয়ে সংসদে আলোচনা না করা এবং কেয়ারটেকার পদ্ধতি বাতিল করা – এসব কাজের গুরু দায়িত্ব পড়েছে সনাতন ধর্মের বিশ্বাসী সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর।

ইসলাম বিশ্বমানবতার অনন্য জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ এ ব্যবস্থাকে সকল প্রকার মতাদর্শের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ অনন্য জীবন পরিগ্রহের মাধ্যমেই মানুষের  শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে, ইসলামের যথার্থ জ্ঞানের অভাবে ইসলামকে শুধুমাত্র তসবিহ-তাহলিল, নামাজ, হজ ও যাকাতের ধর্ম হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অথচ ইসলাম একটি কল্যাণধর্মী, জীবনমুখী ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অনন্য সোপান।

ইসলামী তমুদ্দুনের প্রকৃত চর্চাই সত্যিকারার্থে মানবজীবনে প্রকৃত সুখের বারিধারা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

দুঃখের বিষয় হলো যে সেই শান্তির সর্বশেষ নিলয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিষবাষ্প ছড়িয়ে ইসলামশূন্য করে জাতিকে শয়তানের দাবি অনুসরণ করানোই নিরেট টার্গেট! কী ভয়াল পরিকল্পনা।

ইসলামী আন্দোলন আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত ফরজ পথ। প্রত্যেক মু’মিনকেই প্রকৃত ঈমানদার হিসেবে জীবন নির্বাহ করতে হলে এ পথের অনুসরণ করতেই হবে। নচেৎ আল্লাহর পক্ষ  থেকে শাস্তি অবধারিত। একজন মুসলমানের জীবনে ঈমান-ইসলাম সবচেয়ে বড় সম্পদ। ইসলামী আন্দোলন করতে গেলে অনেক ধরনের বাধা বিপত্তি দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন। আর যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন আল্লাহ তাদেরকে বিজয় দান করেন। হযরত আইয়ুব (আ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কঠিন ধৈর্যের কারণে আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেন। সুস্থ করে পুনরায় বাদশাহি তখত প্রদান করেন। ইসলামী আদর্শের পতাকাবাহীদেরকে সেই রকম চরম ধৈর্যের নমুনা উপস্থাপন করতে হবে। সূরা হা-মীম সিজদায় আল্লাহতায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা বলে আল্লাহ আমাদের রব, অতঃপর এ কথার ওপর নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত রাখে, আল্লাহ তাদের ওপর ফেরেশতা নাজিল করেন।  ফেরেশতারা বলে, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করো না, তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ। আমরা তোমাদের জন্য দুনিয়ার জগতে ও আখেরাতে বন্ধু।”

বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় জনগণ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশ নামক এ দেশটি স্বাধীন হতে হলে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে তা  ভালো করেই জানত। আর ভারতের সাহায্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হলে ভারতীয় হিন্দুয়ানি আগ্রাসনে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হবে। আর মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চাননি। কারণ তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেন তখন যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করার পরও তাকে অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট করা হলো না।

পূর্বপাকিস্তানের এই নেতৃত্বের প্রতি সরকারের এহেন অসৌজন্যমূলক আচরণে স্বাভাবিকভাবে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল আপামর জনসাধারণ। এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শুরু হলো দীর্ঘ সংগ্রাম।  ৯ মাসের অবিশ্রান্ত সংগ্রামের ফসল – গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। তৎকালীন আওয়ামী নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতাকামী জনগণকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে ভারতে গিয়ে বিলাস জীবনযাপনের ফিরিস্তি সকলকে হতবাক করেছে। তারাই আজ ক্ষমতার মসনদে।

দেশ মাত্র স্বাধীন হলো। সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান। কিন্তু যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ভারত গনিমতের মালস্বরূপ বাংলাদেশের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ নির্বিচারে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় এবং অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়। তার প্রমাণ যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের লুণ্ঠনকৃত দু’টি কামান কিছুদিন আগে তারা বাংলাদেশকে ফেরত দেয়। যুদ্ধের সময় প্রাপ্ত অস্ত্র যুবকদের হাতে হাতে চলে যায়। খুন-খারাবি, ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে এমন কু-কর্ম তারা করে, যার ইতিহাস ভূরি ভূরি। তবে যারা ইসলামের স্বার্থে বিরোধিতা করেছিল এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, স্বাধীনতার সময় এবং স্বাধীনতার পর তারা দেশের বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না।  বর্তমান মহাজোটে বিদ্যমান ওয়ার্কার্স পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা তখন প্রকাশ্যে পশ্চিম পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে স্লোগান দিতো এবং দেয়ালিকা লিখত। মুক্তিযুদ্ধে অসহযোগিতার দায়ে তাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকেও সে সময় হত্যা করা হয়েছিল। তাদেরকে নিয়েই আজ মহাজোট সরকার। তারা কি যুদ্ধাপরাধী নয়? আজকে ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী বলতে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি। অথচ যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এখনো পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। এ সকল ইস্যু দেশের জনগণের কাছে হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ, ১৯৯১ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অন্যতম শরিক ছিল জামায়াতে ইসলামী। তখন কি তারা যুদ্ধাপরাধী ছিল?

ইসলাম মানুষের কল্যাণ সাধনের ও প্রকৃত শান্তি নিশ্চিত করার তাগিদ প্রদান করে। ইসলামী সংগঠনগুলোও সে সময় সেই ভূমিকাই পালন করেছিল। আজকে কিছু গাঁজাখুরি গুল্প গুজব উপস্থাপন করে পুরো ইসলমাকে জনগণের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই আওয়ামী লীগ ব্যতিব্যস্ত। এতে কার স্বার্থ উদ্ধার হবে, আওয়ামী লীগকে দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করতে হবে।

আওয়ামী লীগ সবসময় ভারত তোষণ নীতিতে বিশ্বাসী। সে তোষণ ফর্মুলার কারণে আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত। ফেলানীর মতো অনেক নারী সম্ভ্রমহীন। নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। বন্দর ব্যবহার, টিপাইচুক্তি, অবাস্তবায়িত ফারাক্কা চুক্তির অপব্যবহার, ট্রানজিট, করিডোরসহ সরকারের সার্বভৌমত্ববিরোধী অপতৎপরতা জনগণ স্বাভাবিকভাবে দেশের জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছে। আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে নিষিদ্ধ, কিন্তু বাংলাদেশে ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো অহরহ চলছে। এ কেমন বন্ধুত্ব?

হক কথা বললে আওয়ামী লীগ তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তাদের দেশবিরোধী কাজের সমালোচনা করার কারণেই মূলত বিরোধীদলীয় নেতাদের ওপর নির্যাতনের খড়গহস্ত, রিমান্ডের পর রিমান্ড। সেফ হোমে চালাচ্ছে নির্যাতন। আওয়ামী লীগ দেশের এ সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের যে সম্মান ও সময় নষ্ট করেছে তার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় দিতে হবে।

মহাজোটের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবি। কারণ, তাদের কর্মকাণ্ডে এটাই প্রমাণ করে তারা দেশ বিক্রি করে দিতেও দ্বিধা করবে না।

ভারততোষণ নীতির কারণে দেশের স্বার্থ রক্ষার চাইতে ভারতের স্বার্থ রক্ষাই তাদের গুরুদায়িত্ব। সারা দেশে হাজার হাজার ‘র’-এর এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। ভারতের স্বার্থ রক্ষায় তারা মরিয়া। এমনকি সরকারের উচ্চ মহলেও!  তারা হক কথাকে কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারে না। দ্বীন এবং ঈমানের কথা তাদের কাছে অসহ্য। কারণ ভারত যেহেতু ইসলামের প্রচার এবং প্রসার ঘটুক তা চায় না, সেহেতু আওয়ামী লীগ মনে করে তারা চাইবে কার স্বার্থে?

আওয়ামী লীগ চায় আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকতে। শেখ মুজিব ক্ষমতায় এসে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিণতি শুভকর হয়নি। বর্তমানে ভিশন ২০২১ নিয়ে সরকার নেমেছে। বিরোধী দলকে দমন করে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করতে পারলেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা যাবে এমন স্বপ্নে বিভোর। এ ছাড়াও সরকার ক্ষমতায় আসার পর গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের কিছু ফর্মুলা প্রদান করেছিল।  যেগুলো জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেমন বিরোধী দল বিএনপিকে দমন করার জন্য গুম, হত্যা, মিথ্যা মামলা, অস্ত্র মামলা দিয়ে হয়রানি করা। সমস্ত ইসলামী দল ও মসজিদ-মাদরাসাগুলোকে কৌশলে জঙ্গিবাদের  সাথে সম্পৃক্ত করে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে ইসলামী শক্তিকে দুর্বল করে ফেলা এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদল-শিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলে হত্যা ও অস্ত্র মামলা দায়ের করে দুর্বল করার মাধ্যমে বিরোধী দলকে শক্তিহীন করে ফেলা। সরকার ‘র’-এর প্রদত্ত প্রেসক্রিপশন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নিয়েছে। যেমন বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকে গুম করা হয়েছে, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে মোবাইল চুরি ও সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার সম্ভ্রমহানির দায়ে কারা বরণ করতে হয়েছে বছরের পর বছর। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় একটি ছাত্রাবাস থেকে স্কুল এবং কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের রাতের গভীরে গ্রেফতার করে অস্ত্র মামলায়  সোপর্দ করে তছনছ করে তাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসে অকেজো অস্ত্র দিয়ে শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালে পল্টনে আওয়ামী নৃশংসতায় নিহত আবদুল মন্নানের পরিবারের খোঁজখবর নিতে গেলে তাকে তথাকথিত ‘গোপন বৈঠক’ করার নামে গ্রেফতার করে অস্ত্র ও বোমা মামলার আসামি করা হয়। এভাবে আছে হাজার ঘটনার ফিরিস্তি। সত্যিকারার্থে বিরোধী দলকে দমনের এই ন্যক্কারজনক কৌশলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার  বাইরে থাকবে। এতে হাসিনা সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্বীন কায়েমের প্রত্যয়দীপ্ত এ কাফেলা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার আস্থাভাজন হতে সক্ষম হয়েছে। বিগত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সময় ইসলামী সংগঠনের পক্ষে ২ জন মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন এমপি দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাদের মন্ত্রণালয় কার্যক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দুর্নীতির লেশ কেউ খুঁজে বের করতে পারেনি। মানুষ অন্য সব দলকে পরীক্ষা করেছে, প্রকৃতপক্ষে কোনো দলই দুর্নীতিমুক্ত থেকে দেশ গঠন ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। এ কারণে তারা সর্বশেষ ভরসার জায়গা হিসেবে ইসলামী দলগুলোকে মনে করছে। তাই দলে দলে মানুষ এ কাফেলায় যোগ দিচ্ছে।

এ দৃশ্য আওয়ামী লীগের চক্ষুশূলে পরিণত হয়। ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে করে ইসলামী সংগঠনগুলোর অস্তিত্ব তছনছ করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মত্ত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে ভিন্ন রকম – “তারা চায় মুখের ফুৎকারে আল্লাহর দ্বীনকে নিভিয়ে দিতে, আল্লাহ চান তাঁর দ্বীনকে সকল বাতিল শক্তির ওপর বিজয়ী করতে।”

আওয়ামী লীগ তাই জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে রাজাকার, আলবদর, আস শামস, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী ইত্যাদি নামে অপপ্রচার চালিয়ে অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে? একটি আদর্শবাদী আন্দোলনের জনশক্তিকে হত্যা, গুম, মামলা-হামলা ইত্যাদি দিয়ে দমানো যায় না। এর আদর্শ প্রচার হতে থাকে আরো বহুগুণে দিগি¦দিকে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো।

ড্রেস কোডের অজুহাতে ছাত্রীদের বোরকা পরা নিষিদ্ধ এক চরম লজ্জাকর বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজে ধর্মের কথা বলার অপরাধে ছাত্রলীগের নেত্রী কর্তৃক নির্যাতন শেষে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান হতে বহিষ্কার! এ কেমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি? দয়া করে আওয়ামী লীগ কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যথার্থ সংজ্ঞা বয়ান করবে? মানুষের ঘরে ও মেসে যে সব কুরআন এবং হাদিসের বই পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোকে জিহাদী বই আখ্যা দেয়া হচ্ছে এবং ইসলাম ও জিহাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ জিহাদ হচ্ছে একজন মুমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। জিহাদ মানে আল্লাহর নির্দেশ পালন করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। যেখানে আওয়ামী লীগ কুরআনকেও বরদাশত করতে পারছে না, মুসলমানদের উচিত আওয়ামী সম্প্রদায়কে বয়কট করা। কারণ আওয়ামী লীগ যেন জোর করে সবাইকে ইসলাম থেকে বিরত রাখতে চায়। নচেৎ কী কারণে শতকরা ৯০ জন মুসলমানের দেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েম করতে ব্যতিব্যস্ত শেখ হাসিনা? কথায় কথায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রমাণের ব্যর্থ প্রয়াস জনগণের বুঝতে আর বাকি নেই। একজন হিন্দু বা খ্রিষ্টানের অধিকার হনন হলে খুব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। আর দেশে শত শত মানুষ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে – এতে কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না? আওয়ামী দলীয় কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা জমি জবরদখলের যে নজির সৃষ্টি করেছে তা কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি?

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানানোর মাধ্যমে মূলত জাতিকে ধর্মহীন করার সরস প্রজেক্ট। সত্যিকারার্থে এ (ইসলাম) ধর্ম লালন পালনে আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ কেন? ধর্মহীনতায় আজ আশরাফুল মাখলুকাত নামক শ্রেষ্ঠজীব মানুষ পশুতে পরিণত হচ্ছে। সন্তানের হাতে পিতা খুন হচ্ছেন, অপরের অধিকার কুক্ষিগত করে তৃপ্তি লাভ করছে, একজন নারী দেহব্যবসার মতো জঘন্য অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এ অসুন্দর কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে কার সাধ্য আছে? সত্যিকারার্থে বিচার বিশ্লেষণ করলে সর্ব মহলে একটাই বক্তব্য – ধর্মীয় অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। ধর্মই মানুষকে ন্যায়পরায়ণ ও কর্তব্যনিষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

আল্লাহতায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ সকল প্রকার অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।” আর মানুষকে সত্য ও ন্যায়ে পথে আহ্বানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই ইসলামের অনুসারীদের কাজ।

পাশ্চাত্য সভ্যতাগুলো যখন শান্তির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে ফিরছে তখন তারা দ্ব্যর্থহীনভাবে নিজেদের ধর্মহীনতাকেই দায়ী করছে। আর আমাদের দেশে সরকারের পক্ষ থেকে জাতিকে ধর্মহীন করার এহেন হীন প্রচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সরকারকে ভাবতে হবে। দেশের কল্যাণে, জাতির কল্যাণে কারা কাজ করে। কিসের বদৌলতে সম্প্রীতি বজায় থাকবে, শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। ধর্মকে বাদ দিয়ে উন্নতি, সমৃদ্ধির চিন্তা নির্বুদ্ধিতারই পরিচয় বহন করে। এমন হঠকারী ও নির্লজ্জ সিদ্ধান্ত থেকে সরকার ফিরে না এলে তাদের বিরুদ্ধে অতীতের মতো সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মহীন ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সকল ধর্মপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের অনিবার্য দায়িত্ব।

লেখক : কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply