ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর কর্মনীতি- মোহাম্মদ সাঈদী আলম

‘জেগে ওঠ তুইরে ভোরের পাখি, নিশি প্রভাতের কবি।
লোহিত সাগরে সিনান করিয়া উদিল আরব-রবি’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উক্তি দিয়ে যাত্রা। আল্লাহপাক যুগে যুগে তাঁর কিছু প্রিয় দূত প্রেরণা করে দুনিয়াবাসীকে কিছু মেসেঞ্জ দিয়ে যান। শান্তির বার্তা নিয়ে এসে তারা অশান্তির তাপদাহ থেকে জগদ্বাসীকে নিষ্কৃতি দেন। আইয়্যামে জাহেলিয়্যাতে যখন মরুবাসী নিমজ্জিত ছিল তাদের ভিতর থেকে মানবিক স্নেহ, ভালোবাসা অনেক দূরে সরে গেল। তারা পরিধান করল বর্বরতার কাপড়, তুলে নিলো নিষ্ঠুরতার ছোরা, তাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিল দুর্বৃত্তায়ন। দরকার ছিল একজন সংস্কারকের, প্রয়োজন ছিল একজন শান্তির বার্তাবাহকের। আল্লাহপাকও সময়ানুপাতে তাঁর প্রিয় রাসূলকে প্রেরণ করে দুনিয়াবাসীর কাছে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তৎকালীন সময়ে যে অঙ্গনটা সবচেয়ে বেশি কলুষিত ছিল রাজনৈতিক শিষ্টাচার। রাসূল (সা.) (৫৭০-৬৩২) বাল্যকাল থেকে আল আমিন বা বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেন। শান্তির পয়গাম নিয়ে হিলফুল ফুজুুল নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা যা তাদেরকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিল। রাসূল (সা.)কে আল্লাহপাক পূর্ণ শরিয়ত দিয়ে পাঠিয়েছেন। রাসূল (সা.) লক্ষ করলেন এই সমাজটাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। কারণ আল্লাহপাক বলেছেন, “হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি রহমত স্বরূপ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে।” (সূরা আম্বিয়া : ১০৭) তিনি একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় তার বাস্তব উদাহরণ পৃথিবীবাসীর সামনে উপস্থাপন করে গেলেন। এটাও প্রমাণ করেছেন যে, এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে মানুষের আশা-আকাক্ষ্মা সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত করা যায়। বিখ্যাত নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন, ‘আগামী একশ’ বছর শুধু ইংল্যান্ড নয়, ইউরোপকে যদি শাসন করার কোন ধর্মের সম্ভাবনা থাকে তাহলে ইসলামই পারবে।’ রাসূল (সা.) ইসলামের প্রাথমিক কালে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, ‘আজকে কাফেলার দল ঠিক মতো যাতায়াত করতে পারে না, দস্যুর খপ্পরে পড়ে, লুট করে সম্পদ। এমন এক সময় আসবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’-র ছায়াতলে চলে আসলে ইয়েমেন থেকে হাযরামাউত পর্যন্ত একজন মহিলা নির্দ্বিধায় হেঁটে যাবে কোন অনিরাপদবোধ করবে না।’

ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর কৌশল : রাসূল (সা.)-এর দাওয়াতি কাজ ছিল হিকমাতপূর্ণ। কুরআনেও আল্লাহপাক বলেছেন, “আহবান করো! তোমার প্রভুর দিকে, হিকমত ও উত্তম কথার মাধ্যমে এবং তর্ক কর উত্তম পন্থায়।” (সূরা আন নাহল : ১২৫) যেমন রাসূল (সা.) গোপনে দাওয়াতি কাজ করেন তিন বছর, প্রকাশ্যে দুই বছর। জুলুম নির্যাতনে তিন বছর দাওয়াতি কাজ করেন। এরপর চরমমাত্রায় জুলুম-নির্যাতন হিজরতের নির্দেশ। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভিত্তিটা কিভাবে মজবুত করা যায় এটাই বড় হেকমত ছিল। মক্কায় রাসূল (সা.) স্থায়ী হতে পারেননি। মদিনায় চলে এলেন ওখানে বহুগোত্রীয়, সম্প্রদায় একত্র বসবাস কিভাবে পথ চলা শুরু করা যায় নতুন কৌশলে এগোলেন। একটি রাষ্ট্রকে মজবুত করতে হলে সমসাময়িক সকল স¤প্রদায়ের সাথে একতার বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। যেখানে চারটি সম্প্রদায় রয়েছে মুসলিম, পৌত্তলিক, খ্রিষ্টান, ইয়াহুদি তাদের সবার সাথে পরামর্শ করে বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম লিখিত সনদ প্রণয়ন করেন। সবাই রাসূল (সা.)কে প্রজাতন্ত্রের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করেন এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একটি দেহের মতো থাকবে। মদিনাকে রক্ষায় সবাই সমান সহযোগিতার হাত বাড়াবে। কোন গোত্রের আক্রমণের শিকার হলে সকলে মিলে প্রতিহত করবে। সকল জাতি মিলে একটি উম্মাহ গঠন। সকল নাগরিকের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা। ধর্মীয় উদার দৃষ্টি প্রদর্শন, পবিত্র কুরআনে বর্ণিত “দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।” কেউ কারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে না। কেউ অপরাধ করলে গোত্রের অপরাধ নয়, ব্যক্তির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। হিজরতের পর রাসূল (সা.)-এর সাথে মদিনার ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানদের সাথে সম্পর্ক কেমন ছিল? খ্রিষ্টান বাদশাহ নাজ্জাসি দেশত্যাগী মুসলমানদের আশ্রয় প্রদান করেন। রাসূল (সা.) ষষ্ঠ হিজরিতে সিনাই পাহাড়ের সন্নিকটে সেন্ট ক্যাথরিনে সনদ প্রদান করেন। এবং খ্রিষ্টানদের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। মুসলমান না হয়ে খ্রিষ্টান মহিলাদের বিবাহের অনুমতি দেন সনদের শর্তভঙ্গকারী মুসলমানদের কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। ইয়াহুদিদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার্থে ইয়াহুদিদের পবিত্র দিন দশই মহররমে রোযা পালন, বায়তুল মাকদাসকে কেবলা হিসাবে গ্রহণ। ইয়াহুদি কন্যা বিবাহ করা। এরপরও মহানবীর দয়া, বদান্যতাই ইয়াহুদিদের তুষ্ট করা সম্ভব হয়নি। ইয়াহুদিরা ষড়যন্ত্র করে গেছে। ঐতিহাসিক পি. কে. হিট্টি বলেন, ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীতে ইসলামী সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন করেন।’ রাসূল (সা.) এসকল চুক্তির মাধ্যমে মদিনাবাসীর মন জয় করে নিলেন অল্প দিনের ভিতর। ঐতিহাসিক সনদ বলে (বিশিষ্ট দার্শনিক লেভি, ওয়েল হাউজেন, স্প্রেংগার, মুথেলার) আখ্যায়িত করেছেন। কেউ কেউ ব্রিটিশ বাইবেল খ্যাত ম্যাগনাকার্টার সনদের সাথে তুলনা করেছেন। ঐতিহাসিক চুক্তি হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে রাসূল (সা.)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, বিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান, সব চুক্তি মুসলমানদের বিপক্ষে হলেও এ চুক্তি মুসলমানদের মানা যতখানি সহজ তা কুরাইশদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আল্লাহ পাক সূরা ফাতহ এর শুরুতে এটাকে সুস্পষ্ট বিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ রাসূল (সা.)-এর নবুওয়াতে আঠারো বছরে যা সম্ভব হয়নি ১৮ মাসে তার চেয়ে বেশি বিজয় এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। যেখানে চৌদ্দ শ’ সাহাবা নিয়ে ওমরায় এসেছিলেন কিছু সময়ের ব্যবধানে দশ হাজার সাহাবী নিয়ে মক্কা বিজয় করলেন। পি. কে. হিট্টি বলেন ‘Hardly a triumphant entry is a recent annuals is comparable to this.’ মক্কা বিজয়ের কী হেকমাত ছিল? প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রায় বিনাযুদ্ধে এত বড় বিজয় কেউ দেখেনি।’ সাধারণ ক্ষমা প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক আমির আলী বলেন, ‘তিনি সবার উদ্দেশ্যে ক্ষমা ঘোষণা করে বলেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।’
রাসূল (সা.)-এর প্রশাসনিক কাঠামো
অনেকে রাসূল (সা.)-এর প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত না হয়ে তারা মনে করে আজকের জাতিসংঘ, ইউরোপ, আমেরিকা প্রশাসনিক স্তরবিন্যাস রূপরেখা তৈরি করেছে। এটা কিয়দংশ সত্য হলেও পুরোপুরিভাবে নয়। কারণ রাসূল (সা.)-এর প্রশাসনিক দফতর আজকের মতো জৌলুসপূর্ণ না হলেও বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে দফতরকে সাজিয়েছেন দেড় হাজার বছর আগে। প্রশাসনিক বিভাগীয় কাজ পূর্ণমাত্রা দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন। কাজের সুষম পূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। রাসূল (সা.)-এর প্রশাসনিক কাঠামো ছিল কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক বা বিভাগীয়, স্থানীয় প্রশাসন। কেন্দ্রীয় প্রশাসন রাসূল (সা.) স্বয়ং নিজে পরিচালনা করতেন, বেশ কিছু প্রতিনিধি ছিল।
স্থানীয় প্রশাসক (রুআসা) উপদেষ্টা (মুশির), সচিব (কাতিব), বক্তা (খুতাবা), গভর্নর (ওয়ালি), প্রতিনিধি (নকিব), বিচারক (কুজ্জাত) বাজার কর্মকর্তা (সাহিবুস- সুক)- এভাবে বিভিন্ন প্রশাসনিক নামে বিভক্ত ছিল।
স্বরাষ্ট্র বিভাগ : রাসূল (সা.)-এর রাষ্ট্রের নীতি ছিল সকলের প্রতি সাম্য, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রে বসাবাসকারী কোন নারী-পুরুষ, ক্রীতদাস-দাসী, অমুসলিম কারও প্রতি ভেদাভেদ করতেন না। সকলের ইজ্জত আবরু রক্ষা, জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। তারা স্বেচ্ছায় আনুগত্য প্রদর্শন করে, তারাও সমান সুবিধা ভোগ করবে।
অর্থবিভাগ : ইসলাম এসেছে যাবতীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে। অর্থনীতি ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ইসলাম শুধু গরিব মিসকিনদের অধিকার নিশ্চিত করেনি। ধনীদের সম্পদের পবিত্রতার বিধান জোরদার করেছে। “যারা আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্যে, নিজেদের মানসিক অবস্থা সুদৃঢ় রাখার জন্য ব্যয় করে।” (সূরা বাকারা : ২৬৫) ধনীদের সম্পদের ওপর ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাঁচটি গনিমত, ফাই, যাকাত, জিযিয়া, খারাজ।
আইন বিভাগ : রাসূল (সা.)-এর রাষ্ট্রের আইনের উৎস ছিল কুরআন ও সুন্নাহ যদিওবা তিনি ওহি কর্তৃক প্রত্যাদেশ লাভ করতেন এর পরেও তিনি পরামর্শ করতেন এবং এটাকে বেশ গুরুত্ব দিতেন। মানুষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেনÑ “দ্বীনের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো।” (সূরা আলে ইমরান : ১৫৯) কখনো তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত দিতেন, কখনো অহির অপেক্ষা, কখনো পরার্মশভিত্তিক সিদ্ধান্ত দিতেন।
বিচার বিভাগ : বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের মানদণ্ড বলা হয়। রাসূল (সা.) ছিলেন প্রধান বিচারপতি, তিনি প্রাদেশিক বিচারপতি নিয়োগ দিতেন। যেমন হযরত আবু বকর (রা) হযরত ওমর (রা)কে নিয়োগ দিয়েছেন। রাসূল (সা.)-এর অনুপস্থিতিতে হযরত আবু বকর (রা) বিচার করতেন। হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে হযরত ওমর (রা) বিচারপতি ছিলেন। হযরত ওসমান (রা)-এর আমলে আলী (রা) বিচারক। হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা) ইয়েমেনে শাসনকর্তা নিয়োগ দেন এবং কিভাবে বিচারকার্য চালাবে তাও বলে দেন রাসূল (সা.)।
নির্বাহী বিভাগ : রাসূল (সা.) জীবিত থাকাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক সমস্যা নির্বাপিত করেছেন। কার্যসম্পাদনের ক্ষেত্রে কেমন ভূমিকা হওয়া উচিত তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। বনি মাখযুমের এক মহিলার বিচারের ক্ষেত্রে রাসূল (সা.)-এর প্রিয়পাত্র উসামা বিন যায়েদ অনুরোধ করলে রাসূল (সা.) বলেন, “তুমি আল্লাহর বিধান কার্যকর না করার ক্ষেত্রে সুপারিশ করছ? আরো কঠোর হয়ে বলেন, যদি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ (রা) হতো আমি তার হাত কেটে দিতাম।”
সূরা আন নুরের ২ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ধমক দিয়েছেন আল্লাহপাক
‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশ’টি করে বেত্রাঘাত কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাক তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে পেয়ে না বসে। আর মুমিনদের একটি দল যেন উপস্থিত থাকে।’ পূর্ববর্তী অনেক জাতি ধ্বংস হয়েছে শুধু এ কারণে তাদের মধ্যকার কোন অভিজাত শ্রেণীর লোক চুরি করলে মওকুফ করত, আর কোন দুর্বল শ্রেণির লোক চুরি করলে তার দণ্ড কার্যকর করতো। (মুসলিম) শরিয়াহ নীতি কার্যকরের ফলে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব অন্যথায়, সুদূর আশা পরাহত।
শিক্ষা বিভাগ : আল কুরআনের প্রথম বাণী ছিল ‘ইকরা’ শিক্ষা অর্জন, শিক্ষাদানকে খুব বেশি রাসূল (সা.) গুরুত্ব দিতেন। মদিনায় সাক্ষরজ্ঞান দান করার জন্যে সাঈদ বিন আস (রা)কে নিযুক্ত করেন। মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার পর এটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করত। প্রাথমিক কালে যায়েদ ইবনে আরকামের বাড়ি, দ্বিতীয় হিজরিতে ‘দারুল কাররাহ’ নামক একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান ছিল। যায়েদ ইবনে সাবেতকে ইবরানি ভাষা শিক্ষার জন্যে নির্দেশ দেন। তিনি ১৫ দিনে ইবরানি ভাষা শিখেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।’
পররাষ্ট্র বিভাগ : রাসূল (সা.) একজন শুধু ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, একজন দক্ষ কূটনৈতিকও ছিলেন। উনার পররাষ্ট্র নীতিগুলো অধিকতরও কার্যকর ছিল। তন্মধ্যে আরব দেশের সীমানা শত্রæমুক্ত করে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। দূতের প্রাণের নিরাপত্তা, চুক্তি করা, সন্ধি করা, ব্যবসায়িক লেনদেন করা, আক্রান্ত হলে প্রতিহত করা কিংবা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে প্রতিহত করা। যেমন তাবুক যুদ্ধ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশে দূত প্রেরণ করেছিলেন দাওয়াতের বার্তা নিয়ে। যারা দূতকে সম্মান করেছে, হয়েছে সন্ধি। যারা হত্যা কিংবা অপমান করেছে বেজেছে দামামা। যেমন হযরত হারেস (রা)-কে বসরার গভর্নর হত্যা করেছে সে জন্যে তিন হাজার সৈন্য নিয়ে মুতার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। পারস্য সম্রাট চিঠি ছিঁড়ে ফেললে অভিসম্পাত দেন। শিগগিরই সাম্রাজ্য চিঠির মত খান খান হয়ে যায়। সন্ধির ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন, ‘তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে তুমি ঝুঁকবে। (সূরা আনফাল : ৬১)
সামরিক বিভাগ : কোন দেশের শক্তিমত্তা ও নিরাপত্তা নির্ভর করে সে দেশের সামরিক সামর্থ্যরে ওপর। রাসূল (সা.)-এর সৈনিকদের আলাদা কোনো পারিশ্রমিক ছিল না অবশ্য গণিমত পেতেন। সবকিছু আল্লাহ পাকের জন্যে করতেন। তবে পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদার সময় তাদের জন্যে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহর সমরনীতি ছিল যুদ্ধকালীন যাতে কোন নারী, শিশু, বৃদ্ধা, ধর্মগুরু, উপাসনালয়, ক্রীতদাসদের হত্যা না করে।
কৃষিবিভাগ : রাসূল (সা.) এর উদ্দেশ্য ছিল জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা। হযরত আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যার চাষাবাদের জমি আছে সে যদি আবাদ না করে তার উচিত অন্যকে আবাদ করতে দেয়া।’ হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে বৃক্ষরোপণ করে বৃক্ষের ফল যদি জীবজন্তু, পশুপাখি খায় সে প্রতিদান পাবে।’ রাসূল (সা.) ইসলামী কৃষির কী নীতি তাও বাতলে দিয়েছেন। মদিনার অনাবাদি আবাদি জমিগুলো কৃষির আওতায় আসে সে জন্যে সুব্যবস্থা করেন।
পরামর্শ বা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন : একটি রাষ্ট্র কিভাবে চলবে তার জন্যে পরামর্শ, উপদেশ, ত্রæটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দেয়া পরামর্শ বিভাগের কাজ। এটা আল্লাহর কাছেও পছন্দনীয়। এ সম্পর্কে একটা সূরার নামকরণ করা হয় ৪২ নম্বর সূরা শূরা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় জনকল্যাণাধিক বিষয়গুলো পরার্মশভিত্তিক সম্পাদন করতেন। যেমনÑ বদর, উহুদ, হোদায়বিয়া ইত্যাদি। আরো একদাপ এগিয়ে হজরত আয়েশা (রা) বলেছেন, আমি রাসূলের অপেক্ষা কাউকে বেশি পরামর্শ করতে দেখিনি।
সমাজকল্যাণ বিভাগ : রাসূল (সা.)-এর প্রত্যয় ছিল জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, “জমিনে যারা বসবাস করে তাদের প্রতি দয়াপরবশ হও, আসমানওয়ালা তোমাদের প্রতি রহম দিল হবেন।” মুমিনরা একটি অঙ্গের মত। যার একটি কোণায় আঘাত পেলে সারা শরীর আক্রান্ত হয়।
সচিব বা কাতিব বিভাগ : কাতিব বা সচিব নিয়োগ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ ও ওহি সংরক্ষণের জন্যে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে সাদ, যায়েদ ইবনে সাবেতসহ অনেকজনকে।
ডাক বিভাগ : চিঠিপত্র আদান-প্রদান করবার জন্যে ডাকের প্রচলন করেন। কাউকে শাসনকর্তা ও দূত হিসাবে পাঠালে পূর্বে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। রাসূল (সা.) এও নির্দেশ দিয়েছিলেন, “তোমরা যখন আমার নিকট কোন পত্রবাহককে পাঠাবে তখন তোমরা ভালো চেহারা ও ভালো নামের ব্যক্তি পাঠাবে।”

রাসূল (সা) এর রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কার্যপ্রণালী

এক আল্লাহর দাসত্ব স্বীকার করা। এটা রাসূল (সা.)-এর প্রধান দাওয়াত ও কর্ম। রাসূল (সা.) এর মৌলিক কর্মসূচি ছিল পঞ্চস্তম্ভকে ঘিরে। এর প্রধান ঈমান আনয়ন। সবকিছুতে তার হুকুম মেনে নেয়া “সৃষ্টি যার বিধান চলবে তার” এই নীতিতে চলা। “হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।” (সূরা নিসা : ৫৯)। কোন অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয় যে, আল্লাহর পাকের নিয়মশৃঙ্খলার বাইরে অবস্থান করা। এটাও উচিত নয় যে, তার কোন উলুহিয়্যাত ও উবুদিয়্যাতের ক্ষেত্রে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা। সূরা হুজুরাতে এটাকে সবচেয়ে বড় জুলুম হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। হেদায়াতের প্রধান উৎস মহাগ্রন্থ আল কুরআনকে আঁকড়ে ধরা। রাসূলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না যতক্ষণ তোমরা আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধর। আল্লাহর কিতাব মেনে চলা তোমাদের জন্যে অপরিহার্য। আল্লাহর কিতাব যা হালাল করে দিয়েছে তাকে হালাল মানো, যা হারাম করে দিয়েছে তাকে হারাম মানো।” (মুসনাদে আহমদ)। ব্যবসা এবং সুদের কী নীতি আল্লাহপাক স্পষ্ট করে দিলেনÑ “ব্যবসাকে হালাল, সুদকে হারাম করেছেন।” (সূরা বাকারা : ২৭৫)। সুন্নাহর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর নীতি হলো ‘আমি যা নিয়ে এসেছি তা গ্রহণ করো যা নিষেধ করেছি তার থেকে বিরত হও।” (সূরা হাশর : ৭)। নামায ও যাকাতের প্রতি গুরুত্বারোপ। “যদি তারা তাওবা করে নামায কায়েম করে এবং যাকাত দেয় তাহলে তারাও তোমাদের দ্বীনি ভাই।” (সূরা তাওবা : ১১) এ ছাড়া আরো বিভিন্ন জায়গায় নামায ও যাকাতের কথা এক সাথে বিবৃত হয়েছে। যাকাত হলো সেতুবন্ধ। যাকাতের বিধান সাব্যস্ত হয়েছে যার নির্দিষ্ট স্বর্ণ ও রৌপ্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর যাকাত ফরজ। এটার মাধ্যমে সম্পদের বৈষম্য কমিয়ে আনে। দারিদ্র্য বিমোচনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন রাষ্ট্র চেয়েছিলেন যেখানে ধনী-গরিবের বৈষম্য থাকবে না। এমনটা বাস্তবে রূপায়িত হয়েছিল হযরত ওমর (রা)-এর শাসনামলে। যাকাত দানের জন্যে ঢোল পিটানো হতো কোন লোক পাওয়া যেত না। সিয়াম সাধনা করা করা শারীরিক গোপন ইবাদত যেটার মাধ্যমে তাকওয়ার পরিমাপকাঠি নির্ধারিত হয়। এটাকে সার্বজনীন বালেগ মুসলমান নর-নারীর আব্যশক করে দিয়েছে। “তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস (রমযান) পায় সে যেন রোযা রাখে।” (সূরা বাকারা- ১৮৫) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘সিয়াম হলো ঢালস্বরূপ।’ হজ সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ। যারা পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করতে ইচ্ছুক আসা যাওয়ার যাবতীয় খরচ বহন করতে পারবে।
‘তাতে রয়েছে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, মাকামে ইবরাহীম। আর যে তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ হয়ে যাবে এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরয। আর যে কুফরি করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী।” (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)। রাসূল (সা.) বিদায়হজের ভাষণে চারটি কথা বলেছেন, “তোমরা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবে না, অপহরণ করবে না, জুলুম করবে না, ব্যভিচার করবে না।” তিনি সেখানে এটাও বলেন “আজকের দিন, মাস যেভাবে পবিত্র তোমাদের কাছে এক অপরের জান, মাল ঠিকই পবিত্র।” ইসলামী রাষ্ট্রে বিচারের ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র কোন ব্যবধান নেই। বিচারের ক্ষেত্রে রাসূল (সা.) মুসলমান ও ইয়াহুদির মধ্যকার দ্ব›দ্ব হলে ইয়াহুদির পক্ষে রায় দেন। খলিফা ওমর (রা) নিজের সন্তান আবু শাহমার প্রতি কোন দয়া দেখাননি। আরো অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে যেগুলো ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। মুসলিম-অমুসলিম সকলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। কারণ রাসূল (সা.)কে পাঠানো হয়েছে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “হে মানবজাতি! তোমাদের রব এক, আরবের উপর অনারবের আবার অনারবের উপর আরবের কোন মর্যাদা নেই। অবশ্য তাকওয়ার বিচারে।” (বায়হাকী)
দায়িত্বের জবাবদিহিতার ব্যাপারে “সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকই দায়িত্বশীল প্রত্যেকই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।” (বুখারী ও মুসলিম) এ ক্ষেত্রে রাজা তার প্রজার ব্যাপারে, পরিবারের কর্তা তার অধীনস্থদের ব্যাপারে। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, মুসলিম প্রজাদের প্রধান শাসক যদি তাদের সাথে প্রতারণা ও খিয়ানতকারী অবস্থায় মারা যায়, তার জন্যে জান্নাত হারাম হয়ে যায়। (বুখারী)। ভালো কাজে আনুগত্য এবং সহযোগিতা কর, পাপাচারে নয়। ‘সৎকাজে তোমাকে অমান্য করবে না’ (সূরা মুমতাহিনা : ১২) সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর, পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।” (সূরা মায়েদা : ২) আমিরের আনুগত্য প্রসঙ্গে বলেন, আমিরের আনুগত্য করা, মেনে চলা ফরজ যতক্ষণ পর্যন্ত না সৎ পথে অটল থাকে। (বুখারী)। পদমর্যাদার দাবি ও লোভ নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, “আল্লাহর শপথ! এমন কোন ব্যক্তিকে আমরা পদ মর্যাদা দেই না, যে তা চায় এবং তার জন্যে লোভ করে। (বুখারী) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজে তা সন্ধান করে, আমাদের নিকট সে-ই সবচেয়ে বেশি খেয়ানতকারী।” (আবু দাউদ) তাকওয়া মানুষকে সৎপথে চলতে বাধ্য করে। “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো যেভাবে ভয় করা উচিত এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আলে ইমরান : ১০২) আল্লাহপাক তোমাদের আকৃতি দেখেন না, দেখেন তোমাদের আমলসমূহ। শিক্ষাদান প্রসঙ্গে বদর যুদ্ধের কথা যারা যুদ্ধে বন্দি হয়ে এসেছে তাদের মধ্যে যারা শিক্ষিত তাদেন অফার দেয়া হয়, যে দশজন ব্যক্তিকে অক্ষরজ্ঞান দান করতে পারবে, তাকে মুক্তি দেয়া হবে। এর দ্বারা বুঝা যায় রাসূলুল্লাহ (সা.) কতটা শিক্ষানুরাগী ছিলেন। পিতা-মাতার অধিকার প্রসঙ্গে “হে আমার রব! তাদের উভয়কে অনুগ্রহ কর যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন করেছে।” (বনি ইসরাইল : ২৪) আল্লাহপাক যদি পরবর্তী কাউকে সিজদা করার জন্য আদেশ দিতেন তাহলে সন্তানকে পিতা-মাতাকে সিজদা করতে বলতেন। স্বামী-স্ত্রী একের উপর অন্যের অধিকার। সে যেভাবে খাবে পরবে ঠিকই স্ত্রীকে সেভাবে পরাবে খাওয়াবে, স্ত্রী কখনো স্বামীর অবাধ্য হবে না। অন্যথায় আল্লাহপাকের লানত।
শ্রমনীতি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা শ্রমিকের প্রাপ্য দিয়ে দাও, ঘাম শুকানোর পূর্বে।” মজুরের ব্যাপারে আর মজুর হিসাবে সে ব্যক্তি উত্তম যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। (সূরা কাসাস ২৬)।
বাজেট নীতি কেমন হবে তা প্রসঙ্গে হযরত আলী (রা) বলেন, ন্যায়বাদী রাষ্ট্র নেতাদের জন্যে আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন যে, তারা যেন জনগণের দুর্বলতা অনুপাতে নিজেদের জীবিকার পরিমাণ ও বাজেট নির্ধারণ করে।” নির্বাচন পদ্ধতি কেমন হবেÑ “হযরত আবু বকর (রা) এর ইন্তেকালের সময় বিশিষ্ট সাহাবীদের সাথে পরার্মশক্রমে ওমর (রা)কে পরবর্তী খলিফা হিসাবে একমত পোষণ করেন।” (তারিখে তাবারি ২/৩৫৭) ওমর (রা) যখন আহত হন মৃত্যুর সন্নিকটে বিশিষ্ট সাহাবীদের সমন্বয়ে মজলিশে শূরা গঠন করেন যেখানে আলী, তালহা, যুবায়ের, সাদ, আবদুর রহমান (রা) সাহাবায়ে কেরামগণ ছিলেন পরার্মশক্রমে ওসমান (রা)কে পরবর্তী খলিফা ঘোষণা করেন। (বুখারী : ৩৭০০)
রাসূলুল্লাহ (সা.) জামায়াতবদ্ধ জিন্দেগিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ একটি মেষ যখন আলাদা ভাবে চরে বাঘ সহসাই আক্রমণ করে, একত্রে হলে সে সাহস করে না। রাসূল (সা.) শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, গরিবের একজন বন্ধুও ছিলেন। দ্বারে দ্বারে অর্থনৈতিক খোঁজ খবরও রাখতেন। একজন রাষ্ট্রপতি হবার পরও সাধারণ জীবনযাপন করতেন। রাসূল (সা.)-এর বাড়িতে ভিক্ষুক আসলে বাড়িতে আয়েশা (রা) ছিলেন, দেখলেন একটা খেজুর ছাড়া কিছুই নেই। খেজুরটা ভাগ করে দিলেন। ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ। “তোমাদের উত্তম জাতি হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমাদের কাজ হলো সৎপথে আহবান অন্যায় পাপ থেকে বিরত থাকা।” (সূরা আলে ইমরান-১১০)
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে যে বিশেষ কাজগুলো করবে “আমি এদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করলে বা রাজত্ব দিলে তারা সালাত আদায় করবে, যাকাত দিবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দিবে অসৎ কাজের নিষেধ করবে।” (সূরা হজ : ৪১)
রাসূল (সা.) একজন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সফল রাষ্ট্রনায়ক। জর্জ বার্নার্ড শ বলেন “All the world was under one leader the mohammad (sm) would have been the best fitted man to lead the peoples of various creed dogmas and ideas to peace and happiness.” রাসূল (সা.) সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধী বলেন, ‘প্রতিচ্য যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, প্রাচ্যের আকাশে উদিত হলো উজ্জ্বল নক্ষত্র, পৃথিবীকে দিলো আলো ও স্বস্তি। ইসলাম মিথ্যা ধর্ম নয়। হিন্দুরা তা অধ্যয়ন করুক।” রাসূলুল্লাহ একজন সফল রাষ্ট্রপতি হিসাবে সবার কাছে উত্তম আদর্শ রাসূল (সা.) সর্বক্ষেত্রে একজন সর্বাধিনায়ক সে জন্যে বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিগণ একবাক্যে রাসূলুল্লাহকে সর্বকালের সেরা ব্যক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অশান্ত পৃথিবীকে একজনই শান্ত করতে পারবে তিনিই হলেন মুহাম্মদ (সা.)। মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দ্য হান্ড্রেড’ বইয়ে এক নম্বরে স্থান দিয়েছেন। “আসলে তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূলই উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব-২১)
লেখক : প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply