মানবতার মহান শিক্ষক মুহাম্মদ (সা)

জাফর আহমাদ

রাসূল স: কর্তৃক যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিলেন সামগ্রীক বিবেচনায় তার নাম আমরা ‘আলহেরা বিশ্ববিদ্যালয়’ বলতে পারি। যার চ্যান্সেলর ছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এবং এর ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন স্বয়ং মুহাম্মদ (সা)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ছিল মাত্র দূ’খানা, এক, আল্লাহ প্রদত্ত আসমানী গ্রন্থ  ‘আল কুরআন’ ও দুই, রাসূল (সা)-এর ‘হাদীস’। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন ছিদ্দিকে আকবর হযরত আবু বকর (রা), ফারুকে আযম হযরত ওমর (রা), জিননুরাইন হযরত ওসমান (রা), আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী (রা), বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ও সর্বোচ্চ হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আবু হোরায়রাসহ (রা) আরো অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম (রা)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটেিেছল যার কারণে বিশ্ব্িবদ্যালয়টি বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য লাভ করেছিল। সেই দুটি হলো, এক, প্রশাসক, মানবতার মহান শিক্ষক মুহাম্মাদুর রাসূল (সা) দুই, কার্যকরী সিলেবাস,  আল কুরআন ও হাদীস। এই বৈশিষ্ট্যের ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারাই বেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই আকাশের নক্ষত্র সমতূল্য। তাদের স্বভাব-চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব  ছিল দুনিয়াজোড়া।
এই মহান শিক্ষকের আন্তরিক শিক্ষাদানে এবং অত্যন্ত ফলপ্রসু সিলেবাসের দু’টিমাত্র বিষয় পড়ে চলুন দেখি কেমন দুনিয়াজোড়া ছাত্র তৈরী হয়েছিল। অসংখ্য মহান ছাত্রদের মাঝে একজন হলেন, রাসূল (সা) পরবর্তি ইসলামী সাম্রাজ্যের প্রথম আমিরুল মুমিনীন হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা)। তিনি ছিলেন রাসুলের (সা) সংগ্রামমূখর জীবনের সুখ-দু:খের প্রাত্যহিক ও নিত্যদিনের সার্বক্ষণিক সাথী। সারা পৃথিবী যখন অপ্রাকৃতিকসূলভ মিরাজকে অসম্ভব বলে কোন পাত্তাই দিচ্ছিল না, তখন তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি শুধু সম্ভব বলেই স্বীকৃতি দেননি, সাথে সাথে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসও স্থাপন করেছিলেন। যার ফলে তাঁকেই একমাত্র সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি দেয়া হয় ‘ছিদ্দিকে আকবর’। অর্থাৎ বড় ধরনের প্রত্যায়ন কারী বা বিশ্বাসী।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান শিক্ষক মুহাম্মদের (সা) পাঠ্যকৃত দূ’টি সাবজেক্ট পড়ে দ্বিতীয় যেই মহান ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছিলেন, তিনি হলেন, অর্ধেকটা পৃথিবীর ইসলামী রাষ্ট্রের অধিনায়ক ফারুকে আযম হযরত ওমর (রা)। তিনি মহাকালের মহান সফল রাষ্ট্রনায়ক। বর্তমান যুগের ইসলামী বা অনৈসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার যেই কৌশল ও রাষ্ট্রের প্রশাসনিক অবকাঠামো দেখতে পাওয়া যায়, তা হযরত ওমর (রা) কর্তৃক প্রথম প্রবর্তিত। তিনি ছিলেন অন্ধকার যুগের বাতিলের ধারক বাহকদের মধ্যে সর্বোচ্চ শ্রেষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু রাসুলের (সা) তত্বাবধান ও আল কুরআনের বদৌলতে তিনি ইসলামের শ্রেষ্ট ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ছোট্র ইসলামী দলটি যখন সন্ত্রাসের ত্রাসে ঘোর অমানিশায় দিশেহারা অবস্থায় ছিল তখন তিনি প্রকাশ্যে বাতিল শক্তির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। যার ফলে একমাত্র তাঁকে সবোর্চ্চ সম্মানিত উপাধি “ফারুকে আযম’-এ ভূষিত করা হয়। অর্থাৎ হক-বাতিলের পার্থ্যকারী। আল কুরআনের এই ছাত্রটির মাত্র তিনটি ঘটনা সংক্ষেপে এখানে উল্লেখ করতে চাই। তাহলে আশা করা যায় সারা পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাসুলের (সা) শিক্ষানীতি ও আল কুরআনের কার্যকারিতা বুঝতে সক্ষম হবে।
হযরত আনাস (রা) বলেন, ‘একদিন আমিরুল মু’মিনিন হযরত ওমর ফারুক (রা) লোকদের অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য গভীর রাত্রিতে একাকি ঘুরা-ফেরা করছিলেন। পথিমধ্যে একটি মুসাফির কাফেলার নিকটবর্তি হলেন। তাঁর আশংখা  হলো, রাত্রিতে তাদের মাল-সামান চুরি না হয়ে যায়। এমন সময় আব্দুর রহমান আউফ (রা) সাথে সাক্ষাৎ হয়ে যায়। তিনি বললেন ‘হে আমীরুল মুমিনীন! এত রাত্রিতে আপনি এখানে? তিনি বললেন, আমি এই কাফেলার পার্শ্ব দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলাম। আশংকা হলো, এরা রাত্রিতে ঘুমিয়ে যাবে, এ সুযোগে তাদের মাল-সম্পদ চুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চলো, আমরা তাদের মাল-সামান পাহারা দেই। অতপর কাফেলার নিকটবর্তি একটি স্থানে বসে উভয়ে তাদের মাল-সামান হিফাজতের জন্য সারারাত্রি পাহারা দিলেন। ফজরের সময় হযরত ওমর (রা) আওয়াজ দিলেন, হে কাফেলার লোকজন! নামাযের সময় হয়ে গেছে, তোমরা উঠো। যখন তিনি দেখলেন তারা জাগ্রত হচ্ছে, তখন তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করলেন।’
হযরত আলী (রা) বলেন, একদিন আমি হযরত ওমর ফারুক রা কে দেখি, উটে আরোহন করে সকাল সকাল ‘আব্তাহ’ অঞ্চলে ঘুরাফেরা করছেন। কারণ জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বললেন, ‘বাইতুল মালের একটি উট হারিয়ে গেছে, তা তালাশ করছি।’ আমি বললাম, ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি এভাবে কষ্ট করে পরবর্তি খলীফাদের দায়িত্ব কঠিনতর করে দিয়ে যাচ্ছেন।’ হযরত ওমর (রা) বললেন, ‘হে আবুল হাসান! (হযরত আলী (রা)) মুহাম্মদকে স:নবুয়ত প্রদানকারী আল্লাহর কসম, সাধারণ একটি বকরীর বাচ্চাও যদি ফুরাত নদীর তীরে হারিয়ে যায়, আর আমি সেটার হেফাজত না করি, তাহলে কিয়ামতের দিন আমাকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ অতএব প্রণিধানযোগ্য যে, মুসলমান প্রজাসাধারণের হিফাজত করে না যে শাসক, যারা প্রজাদের নিরাপত্তা বিধানে গাফেল, তাদের কোন মূল্য নেই, কিছুতেই তাদের স্বীকৃতি দেয়া যায় না।
একদা হযরত ওমর (রা) একজন বিধর্মী প্রজাকে দেখলেন, সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছে। লোকটি ছিল বৃদ্ধ। হযরত ওমর (রা) লোকটিকে বললেন, আমি তোমার প্রতি ইনসাফে ও ন্যায় ব্যবহারে ত্র“টি করছি। যখন তুমি যুবক ছিলে তখন তোমার কাছ থেকে কর ওসল করেছি, আর এখন তোমার প্রতি লক্ষ্য নিচ্ছি না। এই কথা  বলে, তার জন্য বাইতুল মাল থেকে ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় মহান ছাত্র হযরত ওসমান (রা)। তিনিও ইসলামী সাম্রাজ্যের মহান রাষ্ট্রপতি। তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে খুশি হয়ে মহানবী স:তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম মেয়ে ইন্তেকাল হলে রাসূল (সা) তাঁর অন্য মেয়েকে বিয়ে দেন। এ জন্য তাঁকে জিননুরাইন বলা হয়। অর্থাৎ দুই নূরের অধিকারী। ইসলামের জন্য তিনি তাঁর বিলাস বহুল জীবন ঐশর্য্য পরিত্যাগ করেন। অন্য ছাত্র হলেন হযরত আলী (রা)। তাঁর শৌর্যবীর্য, জ্ঞান-গরিমায় মুগ্ধ হয়ে রাসূল (সা) এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমাকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। যুবকদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হযরত আলীর (রা) শৌর্যবীর্যের জন্য তাঁকে আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর বাঘ নামে অভিহিত করেন।
এমনিভাবে রাসুলের (সা) নিবির তত্বাবধানে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন লক্ষ্য লক্ষ্য ছাত্র বেরিয়ে আসেন, যারা যে কোন দিক থেকে ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানব। আল্লাহ তা’আলার নির্দেশিত, রাসূল (সা) প্রদর্শিত সিলেবাস বাদ দিয়ে বস্তা বস্তা বই পড়িয়ে উল্লেখিত একজন ছাত্রের মত একজন ছাত্র গড়ে তোলা দুনিয়ার তাবত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে কি আদৌ সম্ভব? কখনো নয়। কুরআন ও হাদীস ছাড়া সারা দুনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মিলে সিলেবাসের হাজার হাজার বিষয় পড়িয়েও তাঁদের পায়ের কাছে দাঁড়াবার মতো একজনমাত্র ব্যক্তি গড়ে তোলা কখনোই সম্ভব হবে না। একজন পরিপূর্ণ ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই রাসুলের (সা) শিক্ষানীতির অনুসরণ করতে হবে। কারণ স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর শিক্ষক ছিলেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“(হে নবী) আমি তোমাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি যা তুমি জানতে না এবং তোমার পূর্বপৃরুষরাও জানতো না।” (আন’আম:৯২) রাসূল (সা) নিজেই বলেছেন,“আমি বিশ্ববাসীর শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।” বর্তমান বিশ্বের শিক্ষানীতি আমাদের সামনে সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে যে, রাসুলের শিক্ষানীতি তথা আল কুরআনকে বাদ দিয়ে যেই শিক্ষানীতি প্রনয়ণ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যেই শিক্ষিত লোক বেরিয়ে আসছে, তারাই আজ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আসীন আর তারাই সুদ, ঘোষ ও দূর্নীতিসহ সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
কেন আজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই দুরাবস্থা? কেন সেখানে শিক্ষার পরিবেশ নাই? লেখাপাড়া শিক্ষার পরিবর্তে কেন আজ মারামারি, কাটাকাটি, সন্ত্রাস, রাহাজানি, টেন্ডারবাজি ও ভর্তিবাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে কুলষিত হচ্ছে। এই এতগুলো কেন-এর উত্তর এক বাক্যে দেয়া সম্ভব, তাহলো এ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈতিক শিক্ষা তথা রাসূল (সা) বা আল কুরআনের শিক্ষা অনুপস্থিত। ছাত্র অবস্থায় যারা এ ধরণের কাজে লিপ্ত হয়, আপনার কাছে প্রশ্ন, এই ছাত্র শিক্ষা জীবন শেষ করে কার্যক্ষেত্রে এসে কি করবে? এদের দ্বারা পরিচালিত সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অবস্থা কেমন হবে? এগুলোর উত্তর আপনার কাছে রেখে আমি বলতে চাই সুস্থ্য শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে কুরআনকে মৌলিক ও বাধ্যতামূলক বিষয় হিসাবে পাঠ্য করতে হবে। হতে পারে তা মানবিক শাখা বা বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগ। এই সবগুলো বিভাগে আল কুরআনকে বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। বমনে রাখতে হবে শুধুমাত্র  আল কুরআনের জন্য আলাদা একটি বিভাগ খুলে দিলেই এই হক কখনো আদায় হবে না।
সারা দুনিয়ায় দুর্নীতি আজ আলোচিত বিষয়। বেশিরভাগ দুর্নীতি শিক্ষিত লোকদের দ্বারাই হচ্ছে। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বস্তা বস্তা বই পড়েছে বটে কিন্তু তার সাথে নৈতিক শিক্ষার কোন সমন্বয় ছিল না। ফলে আত্মার পবিত্রতা সাধন, মন মানসে মলিনতা, শোষণ এবং  জৈবিক ও পাশবিক পংকিলতাসমুহ প্রক্ষালন  করে মানুষের শ্রেষ্টত্বের মর্যাদাকে পুনরুদ্ধার করার মতো শিক্ষা সে পায়নি। যিনি মানুষ সৃষ্টি করলেন, তার শিক্ষা ব্যবস্থা কি হবে তা তিনি তার জন্য নির্ধারণ করবেন না, তা হতে পারে না। অবশ্যই তিনি তার জন্য শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছেন। আর তাহলো, রাসূল (সা) কর্তৃক প্রদর্শিত শিক্ষা ব্যবস্থা। এটি এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা যা মানুষের হাত, পা ও মাথাকে নত করার আগে মানুষের মনের ব্যকুলতার প্রয়োজনীয়তাকে জাগিয়ে তুলে। শারীরিক বশ্যতার আগে আত্মার আনুগত্যশীলতাকে উজ্জীবিত করে। মনে রাখতে হবে স্রষ্টার ভয় যার মনকে বিচলিত করে না, মানুষের ভয় তাকে কিভাবে বিচলিত করবে। শুধু দূর্নীতি নয় জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এ শিক্ষার প্রভাব এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যেমনিভাবে কোন কারণে মানুষের শরীরে শিহরন জেগে উঠে। যেখানে সে যাবে সেখানেই এই শিক্ষা তাকে সঠিক-বেঠিক পথের পার্থক্য নিরুপন করে দিবে। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রে তার কর্তব্যবোধ কি হওয়া উচিত, তা আপনিতেই জেগে উঠবে।
শিক্ষার প্রতি মহানবী (সা) অত্যন্ত অনুরাগী। তাই এর প্রচার ও প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেছেন, রাতের কিছু সময় জ্ঞান চর্চা করা সারারাত জেগে ইবাদাত করার চেয়ে উত্তম।” “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ফরয।” পৃথিবীতে জ্ঞানী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত আকাশের তারাকার ন্যায় যা পানি ও স্থলভাগকে আলোকিত করে।” বদর যুদ্ধের বন্দীদের একাংশ ছিল শিক্ষিত। রাসূল (সা) তাদের মুক্তিপণ স্থির করলেন-দশটি ছেলেকে শিক্ষাদান করা। তারা প্রত্যেকে দশজন করে মুসলিম সন্তানকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লেখাপাড়া শেখাবে। এরপর তারা মুক্ত হয়ে যাবে।
রাসুলের (সা) এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন আলো জ্বালায়, যেই আলোয় তৎকালীন ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত জাযিরাতুল আরবের মূর্খ ও বর্বর মানুষগুলো জেগে উঠে একরাশ আলোর প্রত্যাশায়। ফলে তাঁদের পরিচালিত সমাজ প্রবেশ করে সর্বশ্রেষ্ট যুগে। যেই যুগ সম্পর্কে স্বয়ং রাসূল (সা) বলেছেন, “আমার যুগই সর্বশ্রেষ্ট যুগ।” তিনি নৈতিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ জাতিকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্টত্বের আসনে সমাসীন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একদল নৈতিকজ্ঞান সমৃদ্ধ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে, যারা নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে সমস্যাগ্রস্থ বিশ্বের দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েন এবং যেখানেই তারা গিয়েছেন সেই এলাকা ও সেই দেশ আলোকিত হয়ে উঠেছিল। সেখানকার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসক শিক্ষা ব্যবস্থার সকলস্তরে স্থিতিশিলতা কায়েম হয়েছিল। যাদেরকে মানুষ আল্লাহর রহমত হিসাবে গ্রহন করেছিল। পরবর্তি প্রজন্ম তাদের অবদান আজো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।
সুতরাং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য এবং সমৃদ্ধ সমাজ, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মত যোগ্য নেতৃত্ব গড়ার জন্য রাসুলের সঃ শিক্ষাকেই গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য রাসুলের দেখানো শিক্ষানীতির পথ ধরেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

SHARE

Leave a Reply