ইসলামের দৃষ্টিতে সাহিত্যচর্চার অপরিহার্যতা -গাজী নজরুল ইসলাম

সাহিত্য জীবনের ফুল, সমাজের কুঞ্জ, মানবের জীবনালেখ্য। মন ও মননের আয়না। সাহিত্যে ফুটে ওঠে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, স্মৃতি-বিস্মৃতি, আনন্দ বেদনার উপাখ্যান। ব্যক্তি-পরিবার, সংসার-সমাজ, রাষ্ট্রীয়-আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ জীবন ও জগতের, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের, শিক্ষা ও সংস্কৃতির, শিল্প ও কারুকার্যের, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের, ব্যবসায় ও বাণিজ্যের, দ্বন্দ্ব ও বিগ্রহের, মনীষা ও মননশীল লেখ-চিত্রই হলো সাহিত্য।
সাহিত্যে রচিত হয় জীবনের বন্দনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গাথা, সৃষ্টি ও স্রষ্টার রহস্যপঞ্জি।
সাহিত্য শিক্ষার বাহন, জ্ঞানের সিন্ধু, বিবেকের হাতিয়ার, বুদ্ধি-বৃত্তির চালিকাশক্তি।
সাহিত্য দিয়ে মানুষ নিজেকে চিনতে পারে, অপরকে জানতে পারে, বিশ্বকে বুঝতে পারে, স্রষ্টাকে ধারণায় ধারণ করতে পারে।
পৃথিবীতে সকল জিনিসের দু’টি করে দিক আছে। একটি ভালো দিক অপরটি মন্দ দিক। একটি সুন্দর-অপরটি কুৎসিত। একটি পবিত্র-অপরটি অপবিত্র। একটি সত্যের অপরটি মিথ্যার। ইংরেজি প্রবাদ : Truth is beauty and beauty is truth. সত্যই সুন্দর এবং সুন্দরই সত্য।
সাহিত্যেরও দুটি দিক। একটি সত্যের এবং সুন্দরের অপরটি মিথ্যার এবং কুৎসিত। সাহিত্যে সত্য এবং সুন্দরের সৃষ্টিই হলো আসল কাজ। সত্য ও সুন্দর সাহিত্যই সত্যপন্থী (হক) মানুষ সৃষ্টি করতে পারে। অসত্য এবং অসুন্দর সাহিত্য সৃষ্টি করে বাতিলপন্থী মানুষ (বে-হক)। সত্য-সুন্দর ও হকপন্থীরাই আল্লাহ পাকের প্রতিনিধি (খলিফা)। অসত্য অসুন্দর এবং বাতিলপন্থীরাই আল্লাহবিরোধী-তাগুতি। হক ও তাগুতপন্থীর দ্বন্দ্ব দুনিয়ায় অবধারিত ঘটনা।
আল্লাহ পাক কুরআনে এরশাদ করেন, ‘‘তোমরা যারা আল্লাহতে ঈমান এনেছ, তারা সাধনা করে আল্লাহর পথে, আর যারা কুফরিতে ঈমান এনেছ, তারা সাধনা সংগ্রাম করে তাগুতের পথে।’’ (সূরা নিসা, আয়াত : ৭৬)
সাহিত্যেও সাধনা আছে লড়াই আছে। যারা হকপন্থী তাদের কলমের সাধনা চলে সত্যের পথে, আল্লাহর পথে, আর যারা বাতিলপন্থী তাদের কলমের সাধনা চলে তাগুতের পথে।
আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “ আল্লাহ তোমাদের কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।” (সূরা আল আলাক : ৪)
সাহিত্য রচিত হয় কলমের সাহায্যে। অতএব সাহিত্যে চলে কলমের সাধনা-কলমের লড়াই। একদলের কলম চলে সত্য ও হকের পথে- আরেক দলের কলম চলে বাতিল ও তাগুতের পথে।
যারা বাতিলের পথে কলম চালায় তাদেরকে কুরআনে বলা হয়েছে গা’বুন। অর্থ বিভ্রান্ত। তাদের সম্পর্কে আল্লাহর ঘোষণা “বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের (সাহিত্যিক)/লেখকদের অনুসরণ করে। বিভ্রান্ত কলম লেখকদের (কবি-সাহিত্যিক) যারা সমর্থন করে তা উদ্ভ্রান্ত।” (সূরা আশ্-শোয়ারা : ২২৪) এরা বাতিল, বিভ্রান্ত, নোংরা, অশ্লীল, কামোদ্দীপক, যৌন আবেদনমূলক, অবৈধ প্রেম-চর্চা, শারাব-সাকি, ঘৃণা-পাপাচার, দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ, হিংসা-অহংকার, উচ্ছৃঙ্খলতা-লড়াই-যুদ্ধ-উন্মাদনামূলক সাহিত্য লেখে। আর এদের অনুসারীরা উদ্ভ্রান্ত ন্তের মত ঐসব অশ্লীল অসৎ উন্মাদনামূলক সাহিত্য কিংবা কবিতা পঙক্তি পাঠ করে সমাজকে কলুষিত করে। ফ্যাসাদ বাধায়, ভোগ-সম্ভোগে কাতর হয়- নগ্নতায় বিভোর হয়- ফলে সমাজে নৈরাজ্য-উচ্ছৃঙ্খলতা-ধর্ষণ-খুন-রাহাজানি, লুটপাট- অবৈধ-সম্ভোগ এবং দখলদারিত্ব অবশ্যাম্ভাবী হয়ে ওঠে। এরা পরনিন্দা পরহিংসা, মিথ্যা অপবাদ, অহেতুক কাহিনী সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষ ঈমানদার হকপন্থী সত্য ও সুন্দরের পূজারিদের হেয়প্রতিপন্ন করে। এমনকি তাদের লেখায় তারা স্রষ্টা-সৃষ্টি, তৌহিদ-রেসালাত এবং ঈমানকে অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ পাক এই সাহিত্যিকদের লেখা সাহিত্য-কবিতা অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তৎকালীন আরবে যারা তথাকথিত জ্ঞানী-গুণী বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত ছিল তাদেরকে প্রায়শই ‘কবি’ বলা হতো। আর ঐ সব নামধারী কবিই ছিল উপরিউক্ত বিভ্রান্ত উদ্ভ্রান্ত কবিতা ও সাহিত্যের জনক। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা ঐসব কবিকে নিন্দাবাদ জানিয়ে তারা বিভ্রান্ত এবং তাদের অনুসারীদের উদ্ভ্রান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ঐ আয়াত নাজিল হওয়ার পর হক ও সত্যপন্থী কবিদের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা, হাস্সান ইবনে সাবেত, কাব ইবনে মালেক প্রমুখ প্রখ্যাত সাহাবী কবি ক্রন্দনরত অবস্থায় রাসূলুুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আল্লাহ পাক তো এই আয়াত নাজিল করেছেন। আর আমরাও তো কবিতা রচনা করি, সাহিত্য রচনা করি। এখন আমাদের উপায় কী? রাসূলুল্লাহ (সা) তার স্বভাবসুলভ ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে বললেন, অধৈর্য হয়ো না, বরং আয়াতের শেষ অংশটাও পাঠ করো। এখানে বলা হয়েছে, তোমাদের কবিতা-সাহিত্য যেন ঐরূপ অনর্থক ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়। কাজেই তোমরা আয়াতের শেষাংশে উল্লিখিত ব্যতিক্রমধর্মীদের মধ্যে শামিল। সূরার শেষাংশে এরশাদ হয়েছে, “ইল্লালাজিনা আমানু অ আ’মিলুস সালিহাতি অ যাকারাল্লাহু কাছিরা….।” (সূরা আশ্-শোয়ারা : ২২৭) অর্থাৎ তবে তাদের কথা আলাদা, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে। এখানে উদ্ধৃত আয়াতে কালিমাগুলির মর্মকথা হলো এই যে, প্রথমাংশে কাব্য ও সাহিত্য চর্চার ঐ দিকগুলোকে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে যা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়। যেমন যা অসত্য ও অসুন্দর, অশ্লীল ও উদ্ভ্রান্ত, যৌন-পাপাচারে সম্পৃক্ত, যা আত্মগর্ব, আত্মঅহংকারে, পরনিন্দায়-তিরস্কারে, মুশরিকি আচার আচরণে পরিপূর্ণ। এসব কাব্য ও সাহিত্যচর্চায় আল্লাহ পাকের অবাধ্যতা কিংবা স্মরণ থেকে বিরত রাখা হয়। অন্যায়ভাবে কোন ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর নিন্দাবাদ-অবমাননা, উন্মত্ত প্রণোদনা সৃষ্টি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা, পরকীয়া, ধর্ষণ, হত্যা সর্বোপরি কদাচার ও অশ্লীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এই ধরনের কবিতা ও সাহিত্য নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়।
অপরপক্ষে যেসব কবিতা ও সাহিত্য অশ্লীলতা, অস্পৃশ্যতা, কদাচার, ব্যভিচার, পরনিন্দা ও পরশ্রীকাতরতা থেকে মুক্ত সেগুলো আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ইল্লালাজিনা আমানু অ আ’মিলুস সালিহাতি” বলে এ আয়াতের মাধ্যমে সত্যপন্থী কবি সাহিত্যিকদের ব্যতিক্রমধর্মী বলে ঘোষণা করেছেন।
কোন কোন কবিতা ও সাহিত্য তো জ্ঞানগর্ভ বিষয়বস্তু ও উপদেশমালা সংবলিত হওয়ায় তা এবাদতযোগ্য এবং সওয়াবের অন্তর্ভুক্ত।
হযরত উবাই ইবনে কা’বের রেওয়াতে আছে, “ইন্না মিনাশ শোয়ারাল হিকমা” অর্থাৎ কতক কবিতা বা সাহিত্য জ্ঞানগর্ভ হয়ে থাকে। (বুখারি)
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, এই রেওয়াতে ‘হিকমত’ বলে সত্যভাষণ বোঝানো হয়েছে।
ইবনে বাত্তাল বলেন, যে কবিতা ও সাহিত্য আল্লাহ তায়ালার একত্মবাদ, তাঁর জিকির এবং ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও ভালবাসা বর্ণিত হয় সেই সাহিত্য ও কবিতা কাম্য ও প্রশংসনীয়।
নিম্নবর্ণিত রেওয়াতে আরো সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে এই মর্মে যে,
হজরত ওমর ইবনে বারিদ তার পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ (সা) আমার মুখ থেকে উমাইয়া ইবনে আবু সালতের এক শ’ লাইনের কবিতা-সাহিত্য শ্রবণ করেন।
মুতারিক বলেন, “আমি কুফা থেকে বসরা পর্যন্ত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা)-এর সাথে সফর করেছি। প্রতি মনজিলেই তিনি কবিতা সাহিত্য পাঠ করে শোনাতেন।
তাবারি – প্রধান প্রধান সাহাবী ও তাবেয়ি সম্পর্কে বলেন, তারা কবিতা ও সাহিত্য রচনা করতেন, শুনতেন এবং শুনাতেন।
ইমাম বুখারি (রহ) বলেন, “হযরত আয়েশা (রা) কবিতা বলতেন।
আবু ইলালা ইবনে ওমর রাসূলুল্লাহ (সা)-এর উক্তি থেকে বর্ণনা করেন, যে কবিতা ও সাহিত্যের বিষয়বস্তু উত্তম ও উপকারী হলে তা ভালো এবং অশ্লীল ও গুনাহের হলে তা মন্দ। (ফাতহুল বারী)
সূরা আশ্ শোয়ারার ঐ আয়াতের শেষাংশে এমন সব কবিকে আলাদা করা হয়েছে, যাদের রয়েছে চারটি বৈশিষ্ট্য:
যারা মুমিন অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা)কে মানেন এবং আখিরাতে বিশ্বাস করেন।
নিজেদের কর্মজীবনে যারা সৎ, যারা ফাসেক, দুষ্কৃতকারী ও বদকার নন। নৈতিকতার বাঁধন মুক্ত হয়ে যারা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেন না।
আল্লাহকে যারা বেশি বেশি স্মরণ করেন। নিজেদের সাধারণ অবস্থায়, সাধারণ সময়ে এবং নিজেদের রচনায়ও। কবিতা ও সাহিত্য এমন যেন না হয় যে কবিতা ও সাহিত্য বড়ই তত্ত্বকথাসম্পন্ন, গভীর প্রজ্ঞা আওড়ানো অথচ ব্যক্তিজীবনে তার কোন লেশ মাত্র নেই।
তারা এমন সব ব্যতিক্রমধর্মী কবি, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কারো নিন্দা করে না এবং ব্যক্তিগত, বংশীয় বা গোত্রীয় বিদ্বেষে উদ্ধুদ্ধ হয়ে প্রতিশোধের আগুন জ্বালায় না।
কিন্তু যখন তাগুতি ও জালেমের মুকাবিলায় সত্যের প্রতি সমর্থন দানের প্রয়োজন দেখা দেয় তখন তার কণ্ঠকে, লেখনীকে সেই একই কাজে ব্যবহার করে যে কাজে একজন মুজাহিদ তার তীর ও তরবারিকে ব্যবহার করে। সবসময় আবেদন নিবেদন করে টিকে থাকা এবং বিনীতভাবে আর্জি পেশ করে যাওয়াই মুমিনের রীতি নয়। এ সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে কাফের ও মুশরিক কবিরা ইসলাম ও নবী (সা)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দোষারোপ ও অপবাদের যে তাণ্ডব সৃষ্টি করে এবং ঘৃণা বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়ায়, তার জবাব দেয়ার জন্য নবী করীম (সা) নিজেই ইসলামী কবি সাহিত্যিকদের উদ্বুদ্ধ করতেন এবং সাহস জুগিয়েছেন। তিনি কা’ব ইবনে মালেক (রা) কে বলেন, “আহযুহুম ফা অল্লাজি নাফছি বি ইয়াদিহি লাহুম আশাদ্দু আ’লাইহিম মিনান্নাবলি।” অর্থাৎ ওদের নিন্দা করো কারণ সেই আল্লাহর কসম যার হাতের মুঠোয় আমার জীবন আবদ্ধ। তোমার কবিতা (সাহিত্য) যেন ওদের জন্য তীরের চেয়েও বেশি তীক্ষè ও ধারালো।
হযরত হাস্সান ইবনে সাবেত (রা) কে বলেন, “আহজিহিম অ জিবরিলা মায়া’কা” এবং “ক্কুল অ রুহুল কুদুসে মায়া’কা”। অর্থাৎ তাদের মিথ্যাচারের জবাব দাও এবং জিবরিল তোমার সাথে আছে এবং বলো পবিত্র আত্মা তোমার সাথে আছে।
তাঁর উক্তি ছিল, “ইন্নাল মু’মিনু ইয়াজহাদু বি সাইফি অ ছানাহু”। অর্থাৎ মুমিন তলোয়ার দিয়েও লড়াই করে এবং তার কণ্ঠ দিয়েও।
উপরের আলোচনায় বুঝা গেল ইসলামের দৃষ্টিতে সাহিত্য কিংবা কবিতা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।
আজ বিশ্বব্যাপী ইসলামবিরোধী তাগুতি শক্তির সমর্থক কবি, সাহিত্যিকরা কুফরি ও মুশরিকি চিন্তা-চেতনার অনুসারী হয়ে তাদের সকল প্রকার মেধা-যোগ্যতা, যুক্তি-চিন্তা সহকারে ইসলামবিরোধী সাহিত্য, কবিতা-গান রচনা করে সুরলহরির রমরমা জাঁকালো অনুষ্ঠান করে প্রজন্মের তাবৎ কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, ছাত্র-ছাত্রী এমনকি একদল চিন্তাশীল ব্যক্তিকে উদ্ভ্রান্ত করে সুপরিকল্পিতভাবে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বকে অশ্লীলতা এবং পাপাচারের গ্লানিতে পরিপূর্ণ করে নগ্নতা ও বেহায়াপনায় দেশ-জাতি-বিশ্বকে নরককুণ্ডের ব্ল্যাকহোল বানিয়ে ফেলছে। ধর্ষণ, খুন, অবৈধ ভোগ- সম্ভোগের বিলাস কামুকতায় অযাচিত নেশার ঘোরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্মাদ বানিয়ে নিজস্ব সত্তাকে বিলীন করে ফেলছে। এর মোকাবেলায় এখন বড়ই প্রয়োজন অধিকতর মেধা-মনন প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিদীপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিভাবান কবি ও সাহিত্যিক সৃষ্টি করা তীরের মত দ্রুতগামী এবং তরবারির মত ক্ষুরধার লেখনীর যার প্রতিঘাতে বাতিল কিংবা তাগুতি, জালেম কিংবা স্বৈরাচারের ভোগ বিলাসে উন্মত্ত-উদ্ভ্রান্ত ক্ষমতালিপ্সুতার সহযোগী তথাকথিত কবি-সাহিত্যিকদের পরাভূত করা যায়। তাদের অসত্য ও অসুন্দর, অশ্রাব্য ও অশ্লীল কবিতা-সাহিত্যের প্রাসাদ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কিংবা ইসলামী কবিতা ও সাহিত্য তাদের ওপর বিজয়ী রূপে আবির্ভূত হয়।
ইদানীং কালের উদ্ভ্রান্ত তাগুতপন্থী তথাকথিত কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টি ‘রঙিলা রাসূল’, ‘স্যাটানিক ভার্সেস’, ত্বিন-যায়তুনের অপব্যাখ্যা, আজানকে বেশ্যার চিৎকার বলা, কোরআনি আন্দোলনকে তথাকথিত জিহাদি ও জঙ্গি আখ্যায়িত করা, অতি আধুনিকতার লেবেলে কুরআন ঘোষিত পর্দাপ্রথার অবগুণ্ঠনকে ছিন্ন ভিন্ন করার পাঁয়তারা, নগ্ন-নারীদেহ প্রদর্শনী ও ভোগ লালসার বিকিকিনিতে তথাকথিত ‘র‌্যাগ ডে’, ‘লাভ ডে’, ‘থার্টি ফার্স্ট ডে’ প্রভৃতি অশ্লীল ও বেলেল্লাপনার মৌজ-মহড়া ইত্যাদির বিপরীতে শালীন ও পরিশীলিত সত্য ও সুন্দরের আহবানে ইসলামী সাহিত্য রচনার ক্ষুরধার চর্চা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

SHARE

Leave a Reply