ইসলামে আমানতের গুরুত্ব -জসিম বিন আখতার

ইসলামে আমানতের গুরুত্ব ও উহার রক্ষণাবেক্ষণ এক বিরাট বিষয়। কেউ কারো নিকট কিছু গচ্ছিত রাখলে হুবহু তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে ফিরিয়ে দেয়াকে আমানত বলে। এটি একটি মহৎ গুণ। আর এই আমানত সঠিকভাবে সংরক্ষণকারীকে আমানতদার বলে। আমানতদার ব্যক্তি সকলের নিকট বিশ্বস্ত ও সমাদৃত। বিশ্বস্ততার আরবি পরিভাষাই আমানত। একজন পুরুষের অধীনস্থ গোটা পরিবার তার নিকট আল্লাহর আমানত, স্ত্রীর নিকট স্বামীর সন্তান এবং সহায়সম্পদ আমানত, সমাজপতির নিকট গোটা সমাজটাই আমানত, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট গোটা ইউনিয়ন আমানত, কোনো সংসদীয় এলাকার আমানতদারি সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের ওপর, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের আমানত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ওপর বর্তায়, এভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন রাষ্ট্রপতির নিকট গোটা রাষ্ট্রটাই আমানত। আর ইসলামে এই আমানতের গুরুত্ব এবং তার সংরক্ষণ পদ্ধতিই আলোচ্য প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য।

আমানতের গুরুত্ব

এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায়ভিত্তিক। আল্লাহ তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী, দর্শনকারী।” (সূরা আন-নিসা : ৫৮) তাফসিরে সফওয়াতুত তাফাসিরের প্রণেতা বলেন, এতে দুই ধরনের জিনিস অন্তর্ভুক্ত : তা হলো আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর কথা কাজ ও বিশ্বাসের যে আমানত দিয়েছেন এবং মানুষ যা কিছু তার প্রতি গচ্ছিত রাখে সব কিছুই এই আমানতের আওতাভুক্ত। এখানে প্রত্যেক মানুষকে আমানতদার হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হলো সেই আমানতকে যথাযোগ্য স্থানে পৌঁছে দেয়া।

আমানতের বোঝা অনেক কঠিন

কুরআন সুন্নাহর আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা একটা কঠিন আমানত, এই আমানতের বোঝা কত কঠিন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী “আমি আকাশ পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো; কিন্তু মানুষ তা বহন করল। নিঃসন্দেহে সে ( মানুষ ছিলো) একান্ত যালেম ও (এ আমানত বহন করার গুরুত্ব সম্পর্কে) একান্তই অজ্ঞ।” (সূরা আল আহজাব : ৭২) আমানতের বোঝা কত ভারী! যার ভারত্বের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সুবিশাল আকাশ, সুবিস্তৃত জমিন এবং সুদৃঢ় পর্বতমালা এই গুরু দায়িত্ব পালনে নিজ নিজ অক্ষমতা আল্লাহর নিকট পেশ করে, অথচ জালিম ও নির্বোধ মানবজাতি স্বেচ্ছায় সে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিলো! এই আয়াতে আমানত বলতে খিলাফাত আলা মিনহাজিন নবুয়্যাহ তথা নবী (সা)-এর পদ্ধতিতে খিলাফাত তথা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা আসলেই কঠিন।

অথচ বর্তমান সমাজব্যবস্থায় দেখা যায় এ দায়িত্ব নিজে চেয়ে নেয়! এমনকি দায়িত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে অনেকের জীবন বিসর্জন দিতেও যেন কুণ্ঠা বোধ করে না, আসলে প্রকৃত জালিম এবং মূর্খ ছাড়া কেউ দায়িত্ব নেতৃত্ব কর্তৃত্ব চেয়ে নিতে পারে না, কারণ এটা এক বিরাট আমানতদারিতা। রাসূল (সা) বলেন, নেতৃত্ব যে ব্যক্তি চেয়ে নেয় সে নেতৃত্ব দেয়ার সবচেয়ে অযোগ্য।
আমানতদারির মর্যাদা

আমানতদারির মর্যাদা কত বেশি রাসূল (সা)-এর বাণীতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠে, “আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত রাসূল (সা) বলেন, চারটি জিনিস যদি তোমার মাঝে থাকে তাহলে দুনিয়ার কোনো জিনিস থেকে বঞ্চিত হলেও তোমার কিছু আসে যায় না, আর তা হলোÑ হালাল উপার্জন সৎচরিত্র সত্য কথা এবং আমানতের হিফাজত।”
বায়হাকি এবং মিশকাতে বর্ণিত রাসূল (সা) বলেছেন “যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই এবং যে অঙ্গীকার পূর্ণ করে না তার দ্বীনদারি নেই।”

আমানত সুরক্ষার নির্দেশ

ইসলামী জীবনদর্শনে আমানত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও তদীয় রাসূল (সা)-এর সুরক্ষার নির্দেশ দিয়ে মানবজীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে এক অনবদ্য গাইডলাইন প্রদান করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী,
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে খেয়ানত করো না এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে।” (সূরা আল আনফাল : ২৭)
তিরমিজিতে বর্ণিতÑ “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সা) বলেন, কেউ তোমার কাছে আমানত রাখলে তা যথাযথ ফিরত দাও আর যে খিয়ানত করে তুমি তার খিয়ানতকারী হয়ো না।
রাসূল (সা) তাঁর সাহাবায়ে কিরামের জীবনে আমানতের সুরক্ষার দৃষ্টান্ত : রাসূল (সা) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আমানতদার, একপর্যায়ে তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের মধ্যে যখন আমানতের খিয়ানত করে মানুষ মহোৎসবে মেতে ওঠে ঠিক তখনই মুহাম্মদ (সা) আল আমিন তথা সবচেয়ে বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এ জন্য শত্রুরাও তার নিকট আমানত রাখতো, এমনকি হিজরতের সময় তিনি সেই আমানতসমূহ ফেরত দানের জন্য আলী (রা)কে তার স্থলাভিষিক্ত করে যান। তিনি দুশমনকেও ঠকাননি। তাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও প্রতারণার আশ্রয় নেননি। তিনি জীবনে কোন যুদ্ধে পরাজয় লাভ করেননি বলে বীরত্বের জন্য অহঙ্কারও করেননি।
আবু খবাইব আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উষ্ট্রের যুদ্ধের ( আয়েশা (রা) ও আলী (রা)-এর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ) দিন যুবাইর (রা) যখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আমাকে ডাকেন, আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন তিনি বলেন, হে প্রিয় বৎস আজ জালিম অথবা মজলুম কেউ না কেউ নিহত হবেই, আমার মনে হচ্ছে আমি আজ নির্যাতিত অবস্থায় নিহত হবো, আমি আমার কর্জ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছি, তুমি কি মনে কর আমার কর্জ পরিশোধের পর কোনো সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে? হে আমার সন্তান! তুমি আমার সম্পদ বিক্রি করে কর্জ পরিশোধ কর। তিনি শহীদ হলেন কিন্তু সম্পদ, নগদ অর্থ রেখে যাননি! তিনি রেখে যান গাবার কিছু জমিন, মদিনায় ১১টি ঘর, বসরায় ২টি, কুফায় ১টি এবং মিসরে ১টি ঘর, তার এ ঋণের কারণ ছিল তিনি তার নিকট কেউ আমানত রাখতে এলে বলতেন আমি আমানত রাখি না, তোমার নিকট থেকে কর্জ বা ঋণ হিসেবে নিলাম। কেননা আমানত হিসেবে রাখলে হয়ত এটা আমার হাতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” (আমানতের খেয়ানত থেকে নিজেকে রক্ষার এমন দৃষ্টান্ত বর্তমানে বিরল) এই আমানতদারিতার জন্যই আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা)কে আমিনুল উম্মাহ বা জাতির বিশ্বস্ত লোক হিসেবে ডাকা হতো।

আমানতের খিয়ানত
মুনাফিকের আলামত

সমাজজীবনে চলতে গিয়ে অনেক মানুষ কপটতার আশ্রয় নেয়। আর মানবসমাজের এসব কপট তথা মুনাফিকদের চিহ্নিত করতে কিছু আলামত রাসূল (সা) বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে আমানতের খিয়ানত অন্যতম। যেমন- বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিস তার প্রমাণ, “আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা:) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, কারো নিকট যখন প্রতিশ্রুতি দেয় উহা ভঙ্গ করে এবং কেউ আমানত রাখলে তার খিয়ানত করে। অন্য বর্ণনায় আছে যদিও সে সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং ধারণা করে সে নিজে একজন মুসলিম।” বুখারি ও মুসলিমে অন্য বর্ণনায় মুনাফিকের আলামত চারটির উল্লেখ আছে। রাসূল (সা) বলেন, চারটি অভ্যাস যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে নির্ভেজাল মুনাফিক, তবে যার মধ্যে একটি পাওয়া যাবে তার মধ্যে মুনাফিকের একটি অভ্যাস থাকলো যতক্ষণ পর্যন্ত উহা বর্জন না করে। উপরোক্ত তিনটিসহ চতুর্থটি হলো যখন সে তর্ক করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে বা সততা ও নৈতিকতার সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়।

আমানতের খিয়ানতকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত আগুনে পুড়ে যাওয়া শরীরের ফোস্কার মত

কিয়ামতের পূর্বে মানুষ এত বেশি পরিমাণে আমানতের খিয়ানতকারী হবে যে, আমানতের মত এমন গুরু বোঝা বহনের যোগ্যতা মানুষের থাকবে না। কেউ কোন জিনিস আমানত রাখতে ইচ্ছে হলে আমানতদার ব্যক্তি খুঁজে পাবে না। কারণ আমানতকে আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন তুলে নেবেন। এমনকি মানুষ তাদের নিজেদের মধ্যে যাকে সবচেয়ে বেশি আমানতদার মনে করবে বাস্তবে তার মধ্যে আমানতদারির কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। যেমনÑ কারো পা আগুনে পুড়ে গিয়ে ফোস্কা পড়ে গেলে দূর থেকে মনে হয় এর ভেতরে অনেক কিছু আছে, বাস্তবে ফোস্কার ভেতরে খালি জায়গা। এ সম্পর্কে রাসূল (সা)-এর একটি হাদিস বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, “হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) আমাদের সামনে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন তার একটি আমি দেখেছি আর অপরটির জন্য অপেক্ষায় আছি- প্রথমত মানুষের অন্তরে আমানতকে নাজিল করা হলো তারা কুরআন ও হাদিস জানল। এরপর তিনি আমানত তুলে নেয়া সম্পর্কে আমাদেরকে বলেন, মানুষ চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী ঘুমিয়ে যাবে, অতঃপর তার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমানতকে তুলে নেয়া হবে, এর পর তার মধ্যে দাগের ন্যায় একটি ক্ষীণ প্রভাব অবশিষ্ট থাকবে। সে পুনরায় স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী ঘুমিয়ে যাবে, অতঃপর তার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমানতের বাকি প্রভাবটুকুও তুলে নেয়া হবে, এর পর অন্তরে ফোস্কার মতো একটি চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে, যেমন তুমি তোমার পায়ে একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ রেখেছ এবং তাতে চামড়া পুড়ে ফোস্কার মত সৃষ্টি হয়, অতঃপর বাহ্যত স্থানটি দেখতে ফোলা দেখাবে কিন্তু এর মধ্যে কিছুই নেই।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (সা) কাঁকর ঊঠিয়ে নিজের পায়ে মারলেন। অতঃপর লোকজন বেচাকেনায় লিপ্ত হবে, তাদের মধ্যে আমানতের হিফাজতকারী একটি লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমনকি বলা হবে অমুক বংশে একজন বিশ্বস্ত লোক রয়েছে। এমনকি লোকটিকে বলা হবে সে কত হুঁশিয়ার ও চালাক এবং কত বুদ্ধিমান, অথচ তার অন্তরে সরিষার বীজ পরিমাণও ঈমান থাকবে না।”
ইহুদি ধর্ম মতে মূর্খ ও ধর্মহীনদের সম্পদ আত্মসাৎ করলে কোন দোষ নেই! অথচ এই ইহুদিদের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে “কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন-সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তাদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দিনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না- যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার ওপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মিদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই (ইহুদিদের বিশ্বাস মতে আরবরা উম্মি বা মূর্খ ও ধর্মহীন কাজেই আরবদের অর্থ আত্মসাৎ ইহুদিদের জন্য বৈধ এবং বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই স্বাধীন ফিলিস্তিনি আরবভূমি ১৯৪৮ সাল থেকে অদ্যাবধি ইসরাইলি অনারবগোষ্ঠী জবর দখল করে রেখেছে)। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে।
যে লোক নিজ প্রতিজ্ঞা (আমানত ফেরত দান) পূরণ করবে এং পরহেজগার হবে, অবশ্যই আল্লাহ পরহেজগারদেরকে ভালোবাসেন। যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মূল্যে বিক্রয় করে, (ইহুদিগণ রাসূল মুহাম্মদ (সা)-এর প্রতি ঈমান ও আমানতের হিফাজত করার অঙ্গীকার করেছিল, তারা উহা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ অর্জন করে এজন্য) আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুত তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।” (সূরা আলে ইমরান : ৭৫-৭৭)
পরিশিষ্ট

আমানত রক্ষা করা মুমিনের গুণাবলির অন্যতম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে।’’ (সূরা আল মুমিনুন : ৮ ) এই জন্য প্রতিটি মানুষের উচিত তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের আমানত যথাযথ হিফাজত করা। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আমানত, দেশের পরিসীমা বজায় রাখা বর্ডার গার্ডের ওপর সরকারের আমানত, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরকার কর্তৃক অর্পিত আমানত, এমনিভাবে প্রত্যেকের ওপর অর্পিত দায়িত্বটাই হলো আমানত, স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীরা তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে, কারণ উহা তাদের স্বামীর আমানত। এই আমানতের খিয়ানত করলে আল্লাহর নিকট কঠিন শাস্তি পেতে হবে। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে এক একজন আমানতদার হিসেবে কবুল করুন আমিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক

SHARE

Leave a Reply