উচ্ছ্বাস অনুতাপ অনুভূতি জীবনের স্বপ্নমুকুল -ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

শুকরিয়া :
আমাকে মানুষ বানানো হয়েছে

‘হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ/ এ জীবন জ্বইলা পুইড়া শেষ তো হইল না’ কিংবা ‘আমরা কারা আমরা কারা; সর্বহারা সর্বহারা’ এ রকম অনেক গান এবং শ্লোগান আমরা অহরহ শুনে থাকি। এসব গান ও শ্লোগান থেকে তাদের অপ্রাপ্তি-বঞ্চনার ঘোষণা বেরিয়ে আসে অবলীলায়। এ কারণেই কেউ কেউ নিজেকে গুটিয়েও নেয় সমাজসংসার ও মনুষ্যসমাজ থেকে। এ হতাশা থেকেই ক্রমশ এগিয়ে যায় নেশার পথে, কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে আর কেউবা জীবনকে ব্যর্থতার চরম পর্যায় মনে করে আত্মহনন কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মূলত সমাজ-সংসারের বিশৃঙ্খলার আসল কারণ অপ্রাপ্তি এবং অতৃপ্তি। সমাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় নিজেকে সফল করতে না পারা, কারো দ্বারা বঞ্চনার শিকার হওয়া, মনের মানুষকে আপন করে না পাওয়া অথবা ভালোবাসার মানুষটির নিকট থেকে অনাকাক্সিক্ষত কষ্টকর আচরণ পাওয়া কিংবা অন্যের বিষয়বৈভবে আকর্ষিত হয়ে অনেক চাওয়া-পাওয়ার দোলে দোলায়িত হওয়া মানুষকে মানবীয় গুণ হারিয়ে অমানুষ বানিয়ে ফেলে। সফলতা ও সুখ নামক আলেয়াকে একান্তভাবে কাছে পাওয়ার নেশায় সে অন্ধ হয়ে যায়, ভুলে যায় সৃষ্টির সেরাজীব হিসেবে ন্যূনতম অবস্থান।
মানুষ বাক ও বিবেকসম্পন্ন প্রাণী। মানতিক কিংবা দর্শনশাস্ত্রের পরিভাষায় ‘হাইওয়ানি নাতিক’। নিজের সত্তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে যদি নিজেকে চিনে নেয়ার প্রয়াস থাকতো তাহলে হয়তো জীবন সম্পর্কে বৈরী ধারণা আসতো না। সর্বক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবেশ এবং শান্তির পরশ ছুঁয়ে যেতো একান্ত ভালোবাসার মতো। আমি কে, কী আমার পরিচয়? নিজেকে এ প্রশ্ন করলেই উত্তর চলে আসবে, আমি মানুষ-আশরাফুল মাখলুকাত। আমার প্রতি আমার স্রষ্টার কতই না দয়া! তিনি ইচ্ছে করলে আমাকে মানুষ না বানিয়ে ইতর প্রাণী হিসেবে তৈরি করতে পারতেন; কুকুর শেয়াল গরু ছাগল কিংবা ব্যাঙ-কেঁচো! কিন্তু তিনি তা করেননি। এটা কি একটা বড় প্রাপ্তি নয়?
মানবসমাজের অনেককেই দৈহিকভাবে মানুষ হিসেবে তৈরি করলেও তাদের মস্তিষ্কে বিকৃতি দিয়েছেন। দেখতে শুনতে মানুষ মনে হলেও সমাজে সে মানুষের মতো চলতে পারে না। পাগল পাগল বলে সমাজ তাকে অবজ্ঞা করে। আমাকে তো অন্তত পাগল বানানো হয়নি! সুস্থ বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা কি আমার জন্য কম প্রাপ্তি? আমার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো কত দামি? যখন একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়, কতো টাকা খরচ করলে একটা স্বাভাবিক চোখ পাওয়া যাবে? কিডনি, ভাল্ব, হার্ট, কলিজা, ফুসফুস থেকে শুরু করে আমার হাত পা মুখ কানসহ দেহের সব অঙ্গ কতো মূল্যবান আমি কি তা কখনো ভেবে দেখেছি? তাহলে কতো সুন্দর ও দামি করে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে!
আমাকে সৃষ্টি করা করা হয়েছে একটি ইতিবাচক পরিবেশে। যেখানে মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারি, যেখানে জন্মের পরেই কানের কাছে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, ঘুম ভাঙে আজানের পবিত্র সুরে, যেখানে আমার পূর্বপুরুষদের পেয়ে থাকি প্রভুর কৃতজ্ঞতায়; সেখানে আমি কি করে না পাওয়ার তৃষ্ণায় অতৃপ্ত হয়ে নিজের মানবিক সত্তাকে হত্যা করতে পারি? আমার যা আছে তাই নিয়ে কি জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করতে পারি না? আমি কি পারি না আমার যা আছে সেটাকেই মৌলিক হিসেবে মেনে নিয়ে স্রষ্টার কৃতজ্ঞতায় নিজেকে সঁপে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে! যদি পারি, তবে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে- তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) প্রকাশ কর, অকৃতজ্ঞ হয়ো না। (সূরা বাকারা : ১৫২) তাঁর আরও ঘোষণা হচ্ছে- যদি শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) জ্ঞাপন করো তবে তোমাদের আরো বাড়িয়ে দেবো, আর যদি না শুকরি করো (অকৃতজ্ঞ হও) তবে আমার শাস্তি আরো কঠোর হবে। (সূরা ইবরাহিম : ৭) এমন ঘোষণার পরে কি কোন মানুষ অতৃপ্তির ফানুসে ঝুলতে পারে! হায়! যদি আমরা বলতে পারতাম, শুকরিয়া হে প্রভু : আমাকে মানুষ বানিয়েছো, মানুষের মতো বাঁচার সুযোগ করে দাও; তিনি শুনবেন, সুযোগ করে দেবেন, খুশিও হবেন নিশ্চয়ই।

আদালতের কাঠগড়ায় আমার সাক্ষী আমিই

‘মনে জানে পাপ/ মায়ে জানে বাপ’ এমন প্রবাদ প্রবচন গ্রামে গঞ্জে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ফাগুন মাস শুরু হলেই যেমন বলা হয় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’ ঠিক সে রকমই মানুষ জানুক আর নাই জানুক আমার মনের কাছে আমি অন্তত জানি আমার কৃতকর্মের আলো-আঁধার, শীত-বসন্ত কিংবা পাপ-পুণ্যের খতিয়ান। সামাজিক মান-মর্যাদা এবং নিজের সুউচ্চ ক্যারিয়ারকে মানবসমাজে আলোকোজ্জ্বল করে রাখার নিমিত্তে সব কালো অধ্যায়কে কবর দিয়ে ভালো আভায় আলোকিত করে রাখার প্রয়াস চালাই প্রতিনিয়ত। কিন্তু পাপ নাকি বাপকেও ক্ষমা করে না। আগুন যেমন ছাই কিংবা খড়কুটোর চাপায় বেশি দিন থাকেন না, বেরিয়ে পড়ে ধোঁয়াসহ, ঠিক তেমনি জীবনের পাপময় কালো অধ্যায়ও বেরিয়ে আসে দিন রাত্রি আবর্তনের মতো। তবে আমাদের চর্মচোখ, চর্মকান এবং বধির হৃদয়কে ফাঁকি দিয়ে চতুর অপকর্মগুলো সাময়িকভাবে পালিয়ে যেতে পারলেও একদিন তাকে ধরা খেতেই হবে; যেদিন আমার সাক্ষী হবো আমি নিজে, তার সাক্ষী হবে সেও নিজেই। কি আফসোসের ঘটনাই না ঘটবে সেদিন।
মানুষ তার জীবনে যত ভালো-মন্দ কাজ করবে, সব কাজেরই হিসাব আমলনামায় লেখা থাকবে, যদিও তা যাররা বা অণু পরিমাণও হয়। আমলনামা হাতে পেয়েই তারা চমকে উঠবে, হায় আল্লাহ আমরা তো এগুলো করিনি। তাদের এ অস্বীকৃতির জবাব হিসেবে আল্লাহ তায়ালা বেশকিছু সাক্ষী উপস্থিত করবেন। যে সাক্ষীগুলো সেই ব্যক্তির একান্ত আপনজন, যাদের মাধ্যমে সে পাপকাজ সম্পন্ন করেছে। হয়তো ভাবছেন, আপনার চাকর-বাকর কিংবা অধীনস্থ কিংবা পার্শ্ববর্তী কোন লোকের কথা বলছি? না তা নয়, একান্ত আপনারই স্বজন, আপনার আমার দেহের মায়াবী অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, আমার আপনার হাত পা চোখ কান নাক, এমনকি চামড়া এবং তার লোমকূপও সেদিন আপনার আমার ভালো মন্দ, সুকর্ম-অপকর্মের সাক্ষ্য দেবে।
মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। (৩৬:৬৫) যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত-পা, যা কিছু তারা করত। সেদিন আল্লাহ তাদের সমুচিত শাস্তি পুরোপুরি দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে আল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী। (২৪:২৪-২৫) তোমাদের কান, তোমাদের চক্ষু এবং তোমাদের ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে না- এ ধারণার বশবর্তী হয়ে তোমরা তাদের কাছে কিছু গোপন করতে না। তবে তোমাদের ধারণা ছিল যে, তোমরা যা কর তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। (৪১:২২) যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান নেই তার পিছনে পড়ো না, নিশ্চয় কান চক্ষু অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (১৭:৩৬)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) এর রেওয়াতে আছে, ব্যক্তির মুখে মোহর এঁটে দেয়া হবে এবং ঊরুকে বলা হবে তুমি কথা বল এবং তার ক্রিয়াকর্ম বর্ণনা কর। তখন মানুষের ঊরুর মাংস অস্থি সকলেই তার কর্মের সাক্ষ্য দেবে। সহীহ মুসলিম শরিফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ তিনি হেসে উঠলেন অতঃপর বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি কারণে হেসেছি? আমরা আরজ করলাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, আমি সে কথা স্মরণ করে হেসেছি যা হাশরের হিসেবের জায়গায় সে তার পালনকর্তাকে বলবে। সে বলবে হে পরওয়ারদিগার আপনি কি আমাকে জুলুম থেকে আশ্রয় দেননি? আল্লাহ বলবেন অবশ্যই দিয়েছি। তাহলে আমি আমার হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে অন্য কারো সাক্ষ্যে সন্তুষ্ট নই। আমার অস্তিত্বের মধ্য থেকে কোন সাক্ষী না দাঁড়ালে আমি সন্তুষ্ট হবো না। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ‘ভালো কথা, তুমি নিজেই তোমার হিসাব করে নাও।’ এরপর তার মুখে মোহর এঁটে দেয়া হবে এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে। অবশেষে তার নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে সে বলবে, তোমরা ধ্বংস হও; আমি তো দুনিয়াতে যা কিছু করেছি তোমাদেরই সুখের জন্যই করেছি। এখন তোমরাই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে শুরু করলে!
আমার পরিবারের সদস্য তো দূরের কথা, আমি এবং আমার মায়াবী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই যখন বৈরী, আদালতে নিজের অপকর্মের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাহলে কার জন্য এতো আয়োজন, এতো লুকোচুরি, এতো অন্ধকারের পথ মাড়ানোর প্রয়াস! এখনো সময় আছে, আলোকিত পথে এগিয়ে যাই, তিনি সাহায্যকারী হবেন নিশ্চয়ই।

রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগি

ধর্মব্যবসায়ী শব্দটি আমাদের দেশে খুব পরিচিত ও প্রচলিত। ইসলামপন্থী কিংবা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে যারা নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, ইসলাম বিরোধীচক্র ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা অজ্ঞাতসারেই ব্যঙ্গাত্মক অর্থে তাদেরকে এ নামে বিদ্রƒপ করে থাকে। মূলত যারা ইসলামের আদর্শকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে না কিন্তু ইসলামকে সাইনবোর্ড, বিজ্ঞাপন কিংবা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর থাকে তারাই ধর্মব্যবসায়ী। বকধার্মিক বা বিড়াল তপস্বী শব্দটিও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনেকে আবার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ক্ষমতা বাগানোর সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সারা বছর ধর্মীয় বিধিবিধানের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও ব্যবসায়িক স্বার্থে কিংবা ভোট সংগ্রহের ফন্দি হিসেবে ধর্মীয় অনুভূতি জাগ্রত হয় এমন পোশাক বিশেষত টুপি এবং তসবিহর ব্যবহার শুরু করেন। কেউ কেউ আবার পাঁচ ওয়াক্তের নামাজি না হলেও কপাল ঘসে সিজদার দাগ ফেলে নিজেকে খাঁটি মুমিন হিসেবে প্রকাশের ধান্দা করে থাকেন। আবার জনসম্মুখে নিজেকে মসজিদের মুসল্লি হিসেবে প্রকাশ করার জন্য তড়িঘড়ি করে নামাজে গিয়ে হাজির হন, এমনকি বিনা অজুতেই নামাজ সেরে ফেলেন। এসব শুধু মানুষের ভোট বাগানোর ফন্দিতেই করা হয়।
অন্যদিকে নিজেকে গরিব-দুঃখীর সাথী, প্রজাহিতৈষী কিংবা দানশীল প্রমাণের জন্য জাকাতের নামে ঘোষণা দিয়ে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ করে থাকেন। এগুলো ক্রয়ের জন্যও আবার ‘জাকাতের কাপড় পাওয়া যায়’ মর্মে সাইনবোর্ডধারী দোকানের দ্বারস্থ হয়। যাকাতের কাপড় মানেই কম দামের নিম্নমানের কাপড়। অল্প টাকায় বেশি সংখ্যক পাওয়া যায়, তা টেকসই হোক বা না হোক বেশি লোককে দেয়া যায় এটাই বড় কথা। এভাবে জাকাত গ্রহণকারীদের ভিড়ে বাড়ি থৈ থৈ করে, এমনকি মানুষের ভিড়ে পায়ের নিচে পড়ে অনেকে মারা যাওয়ার নজিরও কম নয়। থৈ থৈ মানুষের ভিড়ে লোকজন বলবে ‘আহ লোকটা কত ভালো, কত টাকা যে গরিবদের জন্য বিলায় তার ইয়ত্তা নেই।’ অথচ তার নিসাবকৃত জাকাতের কিয়দংশই তিনি বিতরণ করে থাকেন। মূলত এগুলোই হচ্ছে রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা কিংবা লোকদেখানো ইবাদত এবং এরাই হচ্ছে তথাকথিত ধর্মব্যবসায়ী; মুনাফিক।
অথচ ইসলাম চর্চার শর্তই হলো সুন্নাতি তরিকায় একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হতে হবে এবং তা যেন রিয়া থেকে মুক্ত হয়। যে ব্যক্তি লোকদেখানো ইবাদত করে সেও মুশরিকদের পর্যায়ে পড়ে। তার আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে বলেন, ‘অবশ্যই মুনাফিকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে। অথচ তারা নিজেরাই আল্লাহ কর্তৃক প্রতারিত হচ্ছে। বস্তুত তারা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে শিথিলভাবে নামাজে দাঁড়ায়। মূলত তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।’ (সূরা নিসা ১৪২) এ ধরনের কাজের জন্য শাস্তির ঘোষণাও রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা আছে, যে ব্যক্তি শোনানোর জন্য কাজ করবে আল্লাহ তাকে শুনিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য কাজ করবে আল্লাহ তাকে দেখিয়েও দিবেন। (মুসলিম ৪/২২৮৯)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন (বীর খেতাবপ্রত্যাশী) শহীদগণ হাজির হবেন রক্তমাখা শরীরে, তারা বলবেন, হে আল্লাহ আমরা তোমার দীন প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ হয়েছি, আমরাই আগে জান্নাতে যাওয়ার হকদার। আল্লাহ তায়ালা তাদের বলবেন, তোমরা যুদ্ধ করেছো এ জন্য যে, লোকজন তোমাদের বীর বলবে, তোমাদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সে আশা পূর্ণ হয়েছে অর্থাৎ লোকজন তোমাদেরকে বীর বলে আখ্যায়িত করেছে। সুতরাং তোমাদের প্রাপ্তি শেষ, এখন জাহান্নামে যাও। এরপর (খেতাবপ্রত্যাশী) আলেমগণ এসে বলবেন, হে আল্লাহ আমরা তোমার দীনি ইলম শিক্ষা করেছি এবং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আলেম এবং দায়ী হিসেবে আমরাই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করার হকদার। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তোমরা এসব করেছো এজন্য যে লোকজন তোমাদের আলেম এবং বাগ্মী বা বক্তা বলে আখ্যায়িত করবে, তোমাদের সে প্রত্যাশা দুনিয়াতেই মিটিয়ে দিয়েছি। সুতরাং এখন জান্নামে প্রবেশ করো।
এভাবে হাজারো মানুষ তাদের স্ব স্ব যুক্তি নিয়ে জান্নাতের ভাগীদার হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে তাদের নেক আমল তুলে ধরবেন। কিন্তু শুধুমাত্র নিয়তের বিশুদ্ধতার অভাবেই তাদের প্রত্যাশা নিষ্ফল হয়ে ধুলায় মিশে যাবে। পক্ষান্তরে যারা আবার নিজেদের স্বার্থ হাসিলের নিমিত্তে ইসলামকে ব্যবহার করবে এরা মুশরিক ও মুনাফিকদের শীর্ষনেতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর মুনাফিকদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ইন্নাল মুনাফিক্বিনা ফিদদারকিল আসফালি মিনান নার; অর্থাৎ মুনাফিকদের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিকৃষ্টতম স্থানে। (নাউজবিল্লাহ)
এমনকি কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষ্য খেতাব দুটোই উদ্দেশ্য করে, তাহলেও তার আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যেই কোনো আমল শুরু করে কিন্তু অবচেতন মনে তাতে রিয়া চলে আসে এবং তিনি যদি সেটি ঘৃণাভরে হটাবার চেষ্টা করেন, তাহলে তার আমল সঠিক হবে। আর যদি তার মন সেটাকে ভালো বলে গণ্য করে পুলকিত হয় তাহলে তার আমল বাতিল হয়ে যাবে বলে অধিকাংশ আলেম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের মুনাফিকি চরিত্রের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত করে খালেস নিয়তে দীনি কাজ আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দিন, আমিন।

সচেতন শিল্পী হিসেবে আমাদের পারফরম্যান্স

হৈ হৈ কাণ্ড রৈ রৈ ব্যাপার। একটি ‘অ ভি ন ব’ অনুষ্ঠান। মঞ্চ হিসেবে সিলেকশন দেয়া হয়েছে একটি বিরাট ভূ-খণ্ড। পাহাড় সাগর নদী বন-বনানী এবং সমতলের আকর্ষণীয় সমাহার সেখানে। ছবির মতোন মনোমুগ্ধকর এ ভূখন্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনুষ্ঠানটি। পুরো ভূখন্ডের এ মঞ্চে পারফর্ম করবেন কোটি কোটি মানুষ। অতিথি দর্শকের সংখ্যা অগণিত হলেও বিচারিক দর্শক মাত্র একজন। তিনি সকলের পরিবেশনা দেখবেন, উপভোগ করবেন এবং গুণাগুণ বিচার করে পুরস্কার কিংবা সাজা দেবেন। সাজার বিষয়টি এজন্য এসেছে যে, অনুষ্ঠান মঞ্চায়নের পূর্বে সেই বিচারক অনুষ্ঠানের আঙ্গিক ও পরিবেশনা পদ্ধতি সুন্দর করে বাতলে দিয়েছেন এবং তার মনের মতো করে পরিবেশন করার জন্যই তিনি কলা-কুশলীসহ পুরো অনুষ্ঠানের যাবতীয় বিষয়-আশয় সরবরাহ করেছেন। এমনকি তিনি ঘোষণাও দিয়েছেন যে, এই রঙ্গমঞ্চে তার মনের মতো পারফর্ম করার জন্যই এ শিল্পীদের তিনি বানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের প্রয়োজনীয় সব কিছুই তিনি এ জন্যই তৈরি ও সরবরাহ করছেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হচ্ছে পাওয়াফুল ক্যামেরায়।
বিচারকের নখদর্পণেই সকল কিছু। তার চোখে কিছুই এড়াবার ক্ষমতা নেই, তারপরও তিনি ক্যামেরায় ধারণ করছেন এ অনুষ্ঠান। অসংখ্য দর্শককেও সতর্ক রেখেছেন পরিবেশনা পদ্ধতির প্রত্যেক বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য। অবশেষে যে মঞ্চে অনুষ্ঠান, মঞ্চের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে বাতাস বৃক্ষ এমনকি পাহাড়কেও সতর্ক রেখেছেন পরিবেশনা পদ্ধতি সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। অনুষ্ঠানের পরিবেশনা কত সুন্দর হতে পারে বলুন তো। যারাই ভলো করবে তারাই বিজয়ী হবেন, বিজয়ীর ক্ষেত্রে কোন শতকরা হার নির্দিষ্ট নেই। ভালো করলে সবাই বিজয়ী হতে পারবে। বিজয়ীগণ পুরস্কৃত হবেন অনেক বড় পুরস্কারে; যা তারা পাবেন তা কখনো চোখেও দেখেনি, কানেও শোনেনি এবং হৃদয়ে কল্পনাও করেনি। এ পুরস্কারের ব্যাপ্তি হবে অনন্তকাল। কিন্তু যদি ফেল করে তবে সইতে হবে অসহ্য জ্বালা, আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে বসবাস, হাজার রকমের কষ্ট; যা কখনো কোন মানুষ চোখে দেখেনি এবং কল্পনাও করেনি। তার মেয়াদও অনির্দিষ্ট। অনুষ্ঠান পরিবেশনার পরীক্ষাটা কতই না চ্যালেঞ্জের!
বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার দিনকেই বলা হবে হাশরের দিন। নিজের আমলনামা হাতে পাওয়ার পর পরাজিত মানুষরা আপিলের চেষ্টা করলে সাক্ষ্য নেয়া হবে সেই মঞ্চে যেখানে তার জীবনের প্রত্যেকটি সময়কে ব্যয় করেছে। কিয়ামতের এ কঠিন দিনে তারা সমস্ত কিছুই বলে দেবে। মহান আল্লাহর বাণী ‘সেদিন সে তার নিজের ওপর যা কিছু ঘটছে সেই সব অবস্থা বর্ণনা করবে।’ (সূরা জিলজাল-৩) হযরত মুহাম্মদ (সা:) এ আয়াতটি পড়ে হযরত আবু হুরায়রাকে (রা.) জিজ্ঞেস করেন, জানো তার সেই অবস্থা কি? তিনি জবাব দিলেন আল্লাহ ও তার রাসূল (সা:) ভালো জানেন। রাসূল (সা:) বললেন সেই অবস্থা হচ্ছে জমিনের পিঠে প্রত্যেক মানব-মানবী যে কাজ করবে সে তার সাক্ষ্য দেবে। সে বলবে, এই ব্যক্তি অমুক দিন অমুক কাজ করেছিল। এই হচ্ছে সেই অবস্থা যা জমিন বর্ণনা করবে। হরযত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সা:) এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন জমিন এমন প্রতিটি কাজ নিয়ে আসবে যা তার পিঠের ওপর করা হয়েছে। তারপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন।
মানুষ তার মুখ থেকে যা কিছু উচ্চারণ করে তার অবয়ব বাতাসে রেডিও তরঙ্গে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঘরে দেয়ালে, ছাদের প্রতিটি অণু-পরমাণুতে এবং কোনো পথে ময়দানে বা ক্ষেতের আড়ালে কিংবা অন্ধকারের অতলে কোন কথা বলে থাকলে সেখানে তার মাধ্যমে তখনই হুবহু ঠিক তেমনিভাবে শুনিয়ে দেবেন, যেভাবে সেগুলো মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল। সে সময় মানুষ নিজের কানেই নিজের আওয়াজ শুনে নেবে। তার পরিচিত জনেরাও তার এই আওয়াজ চিনে নেবে এবং তারা একে তারই কণ্ঠধ্বনি ও বাকভঙ্গিমা বলে সনাক্ত করবে। তারপর মানুষ জমিনের যেখানে যে অবস্থায় যে কোন কাজ করেছে তার প্রতিটি নড়চড়া ও অঙ্গভঙ্গির প্রতিচ্ছবি তার চারপাশের সমস্ত বস্তুতে পড়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে সে সব চিত্রায়িত হয়ে রয়েছে। একেবারে নিকষকালো আঁধারের বুকে সে কোন কাজ করে থাকলেও আল্লাহর সার্বভৌম কৃতিত্বের অধীনে এমন সব রশ্মি রয়েছে সেগুলোর কাছে আলো-আঁধার সমান; তারা সকল অবস্থায় তার ছবি চিত্রিত করে রেখেছে। এসব ছবি কিয়ামতের দিন একটি সচল ফিল্মের মত মানুষের সামনে এসে যাবে এবং সারাজীবন যে কোথায় কী করেছে তা তাকে দেখিয়ে দেবে। তাহলে এই মঞ্চের একজন সচেতন শিল্পী হিসেবে আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত নয় কি?

পথ দেখাও হে চিরবন্ধু

আমাকে অন্যকোনো প্রাণী হিসেবে সৃষ্টি না করে মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সুযোগ দেয়ার জন্য যেমন মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি তেমনি জীবন চলার গতিপ্রবাহে বিভ্রান্তির সর্বনাশা ছোবল থেকে বাঁচার জন্য সকল যুগের এবং সকল কালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর উম্মত হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। মনুষ্যত্বের ধ্বংসস্তূপের উপর নতুন পতাকা হাতে মানবতার কাণ্ডারি হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন তিনি।
অজ্ঞতা, বর্বরতা ও স্বেচ্ছাচারিতার দাপটে মানবতা যখন ভূলুণ্ঠিত তখনই তাঁর আগমন। ভাইয়ে ভাইয়ে, বোনে-বোনে, পিতা-পুত্রে, ঘরে-বাইরে, সমাজে-অর্থনীতিতে এমনকি ধর্মবিশ্বাসেও শুধু দ্বন্দ্ব আর সংঘাতের খবর। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এ নীতি যেমন সর্বত্র বিরাজমান তেমনি ‘নারী, মদ ও যুদ্ধ’ নেতৃত্বের শীর্ষতম গুণাবলি। সমাজের অর্ধেক নারী হলেও তারা ছিলেন ভোগের সামগ্রী মাত্র। যখন যাকে যেভাবে ইচ্ছে ভোগ করত ক্ষমতাবান পুরুষরা। নিজেরা যথেচ্ছা নারী ভোগে লোলুপ থাকলেও নিজের বংশের মান বাঁচাতে স্বীয় কন্যাকে স্বহস্তে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধাবোধ করত না। শত্রুর সাথে গলাগলি তো দূরের কথা, দাস-দাসী থেকে শুরু করে পরিবারের প্রিয়জন পর্যন্ত নিষ্ঠুরতার স্বীকার হতো। মূলত তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের জ্ঞান না থাকার কারণে মানবতাবোধের এতো অবক্ষয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ এ সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়া নামে অভিহিত করেছেন। সেই অন্ধকারময় পরিবেশে তিনি এসেছেন আলোকবর্তিকা হিসেবে।
রাতের পরে দিনের আলো যেমন প্রত্যাশিত বাস্তবতা, সেই বাস্তবতার নিরিখে মহানবী (সা:) এলেন অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির আবাদ করতে। এলেন তিনি ওহির বারতা এবং প্রেমের অথৈই সাগর বুকে ধারণ করে মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে। স্বস্তি ফিরে আসে আকাশে-বাতাসে, সৃষ্টির পরতে পরতে নেমে আসে প্রশান্তির ছোঁয়া। প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে আশাহত শিশু-কিশোর, সুখের স্বপ্ন দেখে ঘর পোড়া দম্পতি, আলোয় বেরিয়ে আসে অন্ধকারে থাকা নারীসমাজ; বাঁচার স্বপ্ন দেখে দাস-দাসী এবং সমাজের অস্পৃশ্য মানবমণ্ডলী।
একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের যৌবন-মুহূর্তে প্রেম, মানবতাবোধ, মানবাধিকার, প্রগতিশীলতা প্রভৃতি শব্দগুলো ব্যাপক আকর্ষণীয় রঙে উপস্থাপিত হচ্ছে। আধুনিকতার প্যাকেজ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তৈরিতে ভীষণভাবে ব্যস্ত বিজ্ঞানের স্বপ্নময়ী নির্মাতাগণ। এ স্বপ্নের দোলায় দুলতে দুলতে আমরাও জীবনের বাস্তবতার উপভোগ্যতা হারিয়ে সর্বক্ষণ স্বপ্নের মতো দৌড়াচ্ছি। নতুন নতুন যন্ত্রের সাথে আমরাও হয়ে যাচ্ছি জীবন্ত রোবট। হঠাৎ সম্বিত ফিরে আসে হযরত আজরাইল (আ:) এর ডাকে। কিন্তু কিছুই করার নেই। শুধু টিকিট সংগ্রহই নয়, ওপারের বাহনে উঠে যাত্রা শুরু। পরপারের বাস্তবতায় নয় পৃথিবীবাসীর বিশ্লেষণেই আমার প্রেম প্রমাণিত হলো স্বার্থবাদী হিসেবে, মানবতাবোধ চিহ্নিত হলো নিজের সুখ-শান্তিকে বাগে নেয়ার ফাঁদ হিসেবে। মানবাধিকার উপস্থাপিত হলো অন্যের অধিকারের নাম করে নিজের আয়েশি জীবন পাওয়ার মুখোশ হিসেবে এবং দুর্গতি ও দুর্দশাগ্রস্ত-দুর্গতিময় সামাজিক অবকাঠামো গড়ার বাহন হিসেবে। বেরিয়ে এলো প্রগতিশীলতার ভয়াল মুখোশ, প্রমাণিত হলো নির্মম বাস্তবতা। তাহলে কি পেলাম এ রঙিন শ্লোগানে নিজেকে উচ্চকিত করে? ‘ভালোবাসার শেষ ফল, বুকে ব্যথা চোখে জল’ সে জলটুকুও মিলবে কি? তাই মানবতাবাদী মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মাদ (সা:)-এর আদর্শের কাছে ফিরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি?
এ প্রেক্ষাপটে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা যায়, কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক মতাদর্শ নয়, কেবল মহানবীর (সা:) আদর্শই পারে মানুষকে মানবতাবোধে উজ্জীবিত করতে। তিনি নন শুধু আমিরের, নন শুধু ফকিরের। তিনি একক কারো নন, তিনি সকলের; সকল মানুষের। মানবতাবাদের যে ফসিল আমাদের সামনে ঝুলানো হচ্ছে এগুলো আলেয়া কিংবা রঙিন ফানুস বৈ কিছু নয়। তাই দ্বিধাহীনচিত্তে ঘোষণা করা যায়, হে মুহাম্মদ (সা:) তুমিই মানবতাবাদী মহাপুরুষ; তোমার পরশেই এ অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির মশাল জ্বলে উঠতে পারে। আমি গর্বিত তোমাকে পেয়ে; হাজারো শুকরিয়া মহান প্রভুর কাছে আমার জন্য তোমাকে পথপ্রদর্শক হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। চাই তোমার দেখানো সহজ সরল পথে চলতে। আমাকে পথ দেখাও হে চিরবন্ধু।
লেখক : কবি ও গবেষক; প্রফেসর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

SHARE

Leave a Reply