উত্তাল ২০১২ অনিশ্চিত গন্তব্যে ধূসর যাত্রা

আসাদুল ইসলাম সায়েম

আর্থিক কেলেঙ্কারির বছর
২০১২ সালকে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে উল্লেখ করলে যথার্থ বলা হবে। অন্তত চারটি বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছেÑ যার পেছনে রয়েছে বিপুল অর্থের সংশ্লেষ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে এত বেশি পরিমাণ আর্থিক কেলেঙ্কারি আর কখনো ঘটেনি। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির একেবারে চুড়োয় রয়েছে ‘পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি। এরপর রয়েছে ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি এবং সর্বশেষ রয়েছে রেল কেলেঙ্কারি।
এছাড়া আলোচিত হয়েছে আরো অনেক বিষয়। মোটকথা, ২০১২ সালটির পুরোটা জুড়েই ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি অনিশ্চিত, সংঘাতময়, ধূসর পথে যাত্রার একটি ক্ষণ। বোধকরি বহুদিন এসবের জের এ দেশের মানুষকে বয়ে বেড়াতে হবে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি ও বিশ্বজিৎ দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড
১০ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ গৃহে নৃশংসভাবে খুন হন বাংলাদেশের দুই সম্প্রচার মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক দম্পতি মেহেরুন রুনি এবং সাগর সরওয়ার। দেশজুড়ে এই খুনের সাথে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্যাপক বিক্ষোভ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং যা এখনো অব্যাহত আছে। তীব্র আন্দোলনের ভেতরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন আর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন প্রতিশ্রুতি দেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করার। কিন্তু আজ প্রায় ১ বছরও দোষী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো সোপর্দ করাতো দূরের কথা, চিহ্নিত করতে পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য, তদন্ত সম্পর্কে মানুষের মনে সৃষ্টি করে নানারকম প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির। বাসা থেকে খোয়া যাওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সাগরের ল্যাপটপ আর তাদের মোবাইল। ধারণা করা হয় এই ল্যাপটপের জন্য প্রাণ দিতে হয় এই দুই সাংবাদিক দম্পতিকে। এই ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সাংবাদিক সমাজ এখন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
বছরের শেষের দিকে ৯ ডিসেম্বর বিরোধী দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি সমর্থক ও আওয়ামী ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে নিরীহ বিশ্বজিৎ দাসকে পিটিয়ে হত্যা করলো ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চাপাতি, রড, বাঁশ দিয়ে যে যেভাবে পেরেছে তাকে মেরে হত্যা করেছে। বিশ্বজিৎ দাস বাঁচার জন্য ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডারদের কাছে বহু আকুতি-মিনতি করেছে; কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। টেলিভিশনের পর্দায় নৃশংস হত্যার চিত্র ছাপা হয় এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় হত্যাকারীদের নাম-ঠিকানা পর্যন্ত ছাপায়। তারপরও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল খুনিদের বাঁচাতে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। পরে অবশ্য কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সুরঞ্জিতের রেলের টাকা আত্মসাৎ
রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদার ও রেলওয়ের এক মহাব্যবস্থাপকসহ চারজনকে মধ্যরাতে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক ছিল গত বছরের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। গত ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরের প্রধান গেটে ৭০ লাখ টাকাসহ বিজিবি তাদের আটক করে। পরে সকালে এপিএসের গাড়িচালক ছাড়া অন্য তিনজনকে ছেড়ে দেয় বিজিবি। টাকার উৎস, গন্তব্য ও পরিমাণ নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। এপিএস দাবি করেন, টাকার পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ লাখ এবং এ টাকা তার লন্ডন প্রবাসী শ্যালকের। একাধিক সূত্র মতে, টাকার অঙ্ক ৭০ লাখ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি জিপ পিলখানার ৪ নম্বর (জিগাতলা) গেটে গিয়ে থামে। এ সময় চালক আলী আজম গাড়ি থেকে নেমে সেখানে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের বলেন, গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা রয়েছে। তিনি গাড়িটি আটকের জন্য বিজিবি সদস্যদের অনুরোধ জানালে বিজিবি সদস্যরা গাড়ি তল্লাশি করে ৭০ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। পরে এপিএস ওমর ফারুক, ইউসুফ আলী মৃধা, কমান্ড্যান্ট এনামুল হক ও চালক আলী আজমকে নিয়ে যাওয়া হয় বিজিবি সদর দফতরে। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকালে চালক আলী আজমকে রেখে অন্য তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার দায় নিয়ে জনরোষের মুখে পরবর্তীতে রেল মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করেন সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত। রেলের কালোবিড়াল তাড়াতে গিয়ে নিজেই কালো বিড়ালে পরিণত হন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী এই নেতা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তি
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে চূড়ান্ত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বে বিভাগের যে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মৌখিক রায় দিয়েছিল, সেই অপর ছয় বিচারককে নিয়ে বর্তমান প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা থেকে দীর্ঘ বৈঠকের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার কিছু পরে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার প্রবর্তক ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলে খায়রুলের মতের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন তিন বিচারক, বিপক্ষে তিন। চার বনাম তিন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
বাংলা ও ইংরেজিতে মিলিয়ে এ রায় লেখা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রায় বাংলা ও ইংরেজিতে মিলিয়ে লেখা হয়। এ রায়ের ৩৪২ পৃষ্ঠার মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তার রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ও অবৈধ বলা হয়। পরবর্তী দুই মেয়াদে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে অভিমত দেয়া হয়। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেন, আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এস কে সিনহা ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বিচারক মো: আবদুল ওয়াহাব মিঞা ও নাজমুন আরা সুলতানা। বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহহাব মিঞার ১৭৬ পৃষ্ঠা লেখা মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন নাজমুন আরা সুলতানা। তবে বিচারক মো: ইমান আলী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে মত না দিয়ে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দেন। তিনি একশ ৫০ পৃষ্ঠা রায় লিখেছেন। এ রায়ের পর ইতোমধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধন (পঞ্চদশ সংশোধনী) করেছে বর্তমান সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতা ক্ষুক্ষিগত করার দিকে এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ডেসটিনি কেলেঙ্কারি
ডেসটিনি কেলেঙ্কারি উদঘাটিত হয় গত বছরের মার্চ মাসে। বিতর্কিত এই মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ওপর একটি পরিদর্শন কর্মসূচি পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পরিদর্শনে দেখা যায়, ডেসটিনি মানুষের কাছ থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। বিদেশে পাচার করেছে কোটি কোটি টাকা। আর এর সবই করা হয়েছে সরকারের ‘নাকের ডগার ওপর’ দিয়ে।
এর বড় মাপের আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কেউ কেউ জড়িত বলেও প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর হারুনুর রশীদ এর চেয়ারম্যান ছিলেন। ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনি অবশ্য পদত্যাগ করেন।

হলমার্ক কেলেঙ্কারি
সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত টিম। এ ছাড়াও প্রমাণ মিলেছে, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার সংশ্লিষ্টরা সঠিক ব্যাংকিং করেননি। তারা অনেক ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করেছেন। তারা হলমার্ক গ্রুপের নামে এমন কৌশলে ঋণ দিয়েছে যাতে সহজেই তাদের পক্ষে টাকা আত্মসাৎ করা সম্ভব হয়। তারা দিনের পর দিন এ অনিয়ম করে গেলেও তাদের ব্যাপারে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোন ব্যবস্থা নেননি। তদন্তে আরও প্রমাণ মিলেছে, হলমার্ক থেকে অনেকেই আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা পেয়েছেন। আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে দুদক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ হলমার্কের নামে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও ব্যাংকে কোন গ্যারান্টি নেই। ৬১টি শাখায় অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত টিম প্রমাণ পায়, হলমার্ক স্পিনিং মিলস-এর নামে ৬৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার যে ঋণ পরিচালনা পরিষদের ১৯১তম সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছিল ওই অনুমোদন দেয়াও ঠিক ছিল না। পরিচালনা পর্ষদ জেনে শুনেই তা অনুমোদন দিয়েছেন। সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চাইলে তার আদেশ কার্যকর করার ব্যাপারে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা নেননি। চিঠি দেয়ার পর আর মনিটরিং করেননি। এখানে তার গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। সোনালী ব্যাংকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে যে ৪০ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছিল তাদের বাইরেও আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

রামু ট্র্যাজেডি
কক্সবাজারের রামুতে ফেসবুকে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কয়েকটি বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধদের অনেক বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সারা দেশের বিবেকবান মানুষ স্তম্ভিত ও বেদনাদগ্ধ। রামু ট্র্যাজেডি নিয়ে নানা উপাখ্যান ও কাহিনীর জন্ম হয়। সম্প্রীতির বাংলাদেশে এই সাম্প্রদায়িক ঘটনায় উদ্বিগ্ন সব মহল। শাসক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বিরোধী দলকে ঘটনার জন্য দায়ী করে সাথে সাথে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অভিযুক্ত করে। অথচ পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়াতে ছবি প্রদর্শিত হয়েছে যে স্থানীয় আওয়ামী নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে গিয়ে ওইসব স্থানে হামলা চালিয়ে আগুন লাগানো হয়। ঘটনার আগে যেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসে, মোটরসাইকেল মিছিল হয়, বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন, সেখানে প্রশাসন ছিল নীরব। রামুর ট্র্যাজেডির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বাংলাদেশ দূতাবাসে আক্রমণ চালায়। থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ হয়। জাপানে ভিক্ষুরা প্রতিবাদ জানায়। সরকারি অর্থে ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির ও বাসগৃহ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আরো অনেক ঘটনার মতো এই ঘটনার প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাবে বলে প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার ভারত সফর
এক সপ্তাহের ভারত সফর শেষে ৩ নভেম্বর দেশে ফিরেন বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ভারত সরকারের আমন্ত্রণে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যান গত ২৮ অক্টোবর। তিনি সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, বিরোধীদলীয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, পররাষ্ট্রসচিব রঞ্জন মাথাই, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা শিবশংকর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকায় ফেরার আগে বৈঠক করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে। বৈঠকে বাংলাদেশের মাটিকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করতে না দেয়ার কথা বলেছেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার ভারত সফর গণমাধ্যমের পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক মহলেও খানিকটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনের এক বছর আগে তার এই দিল্লি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে কূটনৈতিক মহল। ভারত সরকারের আমন্ত্রণেই খালেদা জিয়া নয়াদিল্লি যান, অতএব এই সফরকে গুরুত্বহীন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি যে মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতিরই পরিচায়ক। এর মাধ্যমে তিনি শুধু বিরোধী দলকে নয়, পুরো দেশকেই খাটো করেছেন।

আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশন এবং চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ট্র্যাজেডি
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেডে গত ২৫ নভেম্বর রাতে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে পুড়ে মারা যান অন্তত ১১১ জন। তাদের মধ্যে ৫৩ শ্রমিকের লাশ শেষ পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আহত হন প্রায় ২০০ শ্রমিক। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ২৭ নভেম্বর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানের সারি সারি কবরে তাদের দাফন করা হয়। ইসলামী রীতি-নীতি অনুযায়ী ৫৩টি লাশ দাফন করা হয়েছে। পুড়ে অঙ্গার হওয়া লাশগুলো এতটাই বিকৃত ছিল যে, নারী না পুরুষ, হিন্দু না মুসলমান, তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ভবিষ্যতে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ এ ৫৩টি লাশ শনাক্তকরণের সুবিধার্থে প্রতিটির সঙ্গে দেয়া হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার একটি করে ক্রমিক নম্বর।
করা হয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আগুন লাগার সময় কারখানা ভবনটি থেকে বের হওয়ার পথে তালা লাগানো ছিল। আরও কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষ তাদের আতঙ্কিত না হওয়া ও ভবন থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কারখানাটির জরুরি নির্গমনব্যবস্থা কার্যকর নয়।
আশুলিয়ার প্রাণসংহারী আগুনের উত্তাপ খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। ইউরোপ-আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পোশাক কারখানায় আগুন লেগে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়েছে। সেসব খবরে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন একটি ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে ১৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো অর্ধশত। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে এই গার্ডারের ওজন ৮০ টন। এর আগে ২৯ জুন একটি গার্ডার ধসে পড়ে, ২১ নভেম্বর লোহার অ্যাঙ্গেল ভেঙে পড়ে। ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় প্রকল্পের পরিচালকসহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষ সিডিএ-এর ৩ প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়।
স্কাইপি সংলাপ ও বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ
গত ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করেছেন। ৯ ডিসেম্বর থেকে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় বিচারপতি নিজামুল হক ও বেলজিয়ামে অবস্থানরত ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন নামে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক প্রবাসী বাংলাদেশীর স্কাইপি কথোপকথন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে তিনি পদত্যাগ করেন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচারের জন্য বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমকে চেয়ারম্যান করে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজামুল হক নাসিম নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে বিতর্ক ওঠে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহল থেকে পদত্যাগের দাবি করা হয়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বার কাউন্সিল নেতারা বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের দাবি জানান। অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন।

পদ্মা সেতুর সাতকাহন
১৭ ডিসেম্বর ঢাকার বনানী থানায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। সাবেক এক সচিব এবং আরও দুই সরকারি কর্মকর্তাসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দুই সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরীর বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলেও তাদের বাদ দিয়েই মামলাটি দায়ের করে দুদক। তবে তাদের সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই মামলায় আরও অভিযুক্ত রয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে কানাডার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধিসহ প্রতিষ্ঠানটির চারজন কর্মকর্তা।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ তুলে ২৯১ কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। এর সাথে সাথে জাইকা, এডিবি, আইডিবিও তাদের অর্থ সহায়তা স্থগিত করে। এ সরকারের আমলে তাই পদ্মা সেতু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

বিশ্বপরিস্থিতিতে
বিরামহীন উত্তাপ

বাংলাদেশের মতো বিশ্ব অঙ্গনেও বছর জুড়ে ছিল বিরতিহীন উত্তাপ। বিশেষ করে মিসরে ইসলামপন্থীদের নির্বাচনে জয়লাভ আর ইসলামী শরীয়াভিত্তিক সংবিধানের পক্ষে জনগণের রায় উক্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে দারুণভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে বারাক ওবামার বিজয় লাভ, মিয়ানমারে অং সান সূচীর ক্ষমতারোহণ, জাপানে নতুন নেতৃত্ব, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক স্বীকৃতি লাভÑ প্রভৃতি বছরটিতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে রাখবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীন-জাপান বিরোধ
পূর্ব চীন সাগরের একটি দ্বীপ এলাকা নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সংকট নিরসনে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। আটটি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এলাকাটি গঠিত। জনমানবহীন এই দ্বীপগুলো নিয়েই চীন-জাপান বিরোধ। জাপানের কাছে এই এলাকাটি সেনকাকু আর চীনের কাছে দিয়াওউ নামে পরিচিত। সেখানকার মালিকানা নিয়ে জটিলতার ব্যাপারে দুটি দেশই ১৮৯৫ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর বলে উল্লেখ করে থাকে। জাপানের দাবি, ওই বছরের জানুয়ারিতে তারা দ্বীপ এলাকাটির মালিকানা অর্জন করেছে। সে সময় তারা চীনকে পরাজিত করে এবং তাইওয়ানে উপনিবেশ স্থাপন করে। তখন থেকেই এলাকাটি ‘নানসেই শোতো’ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয়) দ্বীপপুঞ্জের অংশ হয়ে যায়। ওই এলাকাটি কখনো চীনের কিং রাজবংশের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে চীনের দাবি, বিরোধপূর্ণ এলাকাটি ‘প্রাচীনকাল’ থেকেই তাদের ভূখণ্ডের অংশ। জাপান ১৮৯৫ সালে এলাকাটি অবৈধভাবে দখল করে নেয়। তখন কিং সরকারকে জোর করে শিমোনোসেকি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন ওই ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করে। এ ক্ষেত্রে ১৯৪৩ সালের কায়রো ঘোষণা এবং ১৯৪৫ সালের পোটসড্যাম ঘোষণা অনুসরণ করা হয়। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান রিউকিউ ও দাইতো দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে সেনকাকু এলাকাটিও জাপানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বাংলাদেশ
মে মাসের শেষ দিকে একজন বৌদ্ধ মহিলাকে একজন রোহিঙ্গা ধর্ষণ করেছে বলে একটি গুজব রটে। এর প্রেক্ষাপটে জুনের প্রথম দিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঝড় ওঠে। এক সময়ের স্বাধীন আরাকান রাজ্যের রাজধানী শহর গধৎঁশ-এ রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালায় রাখাইন বৌদ্ধরা। নানা ধরনের দেশী অস্ত্রশস্ত্রসহ এমনকি পেট্রলবোমা নিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা করে। তাদের টার্গেট ছিল নিরস্ত্র রোহিঙ্গারা। যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট পত্রিকা উল্লেখ করেÑ দুঃখজনক হলো শুধু মারুক-ইউ শহরের রোহিঙ্গা মুসলমানেরাই রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের এই গণহত্যার শিকার হয়নি; মিয়ানমারের ভেতর থেকে পাওয়া খবর মতে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই; এই পূর্বপরিকল্পিত রোহিঙ্গা নিধনে রাখাইন বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের সক্রিয় সহযোগিতা দিয়েছে সরকার দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদ, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। এদের লক্ষ্য মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়া। মিয়ানমার সরকার নির্বিচারে এই রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়নের বিষয়টি গোপন রাখতে চেষ্টা করে। তাই মিয়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে ঢুকতে দেয়নি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কোনো সাংবাদিক, এনজিও কর্মী এমনকি জাতিসঙ্ঘের কোনো ত্রাণসংস্থার প্রতিনিধিকে। এমনকি ওআইসি রিলিফও তাদের কাছে পৌঁছতে দেয়া হয়নি। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন এতটাই ব্যাপক মাত্রায় চলে যে, আন্তর্জাতিক মহল থেকে তা লুকানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ‘স্টেটলেস’ ঘোষণা করা হয়। কেড়ে নেয়া হয় তাদের যাবতীয় নাগরিক অধিকার। তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পর আরোপ করা হয় চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ। তারা চাইলেই যেখানে-সেখানে পড়াশোনা করতে পারে না, নিজের ইচ্ছেমতো চাকরি বা কাজ করতে পারে না। যখন-তখন এদের জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়। জোর করে বাড়ি-জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
রাসূলকে (সা) ব্যঙ্গ করে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও মুসলিম বিশ্বে বিক্ষোভ
আমেরিকায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা)-কে ব্যঙ্গ ও কক্তি করে গত বছর একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। আমেরিকার এক খ্রিস্টান পরিচালক নাকুলা বাসেলি নির্মিত এই সিনেমায় রাসূল (সা) এর চরিত্র হরণ, কুৎসিত আদর্শের অধিকারী, পবিত্র কুরআন শরীফকে ভুল গ্রন্থ প্রমাণের চেষ্টাসহ মুসলমানের পবিত্র ধর্মকে অপবিত্র বলে ১৩ মিনিটের সিনেমা নির্মাণ করা হয়। মিসরীয় বংশোদ্ভূত ক্যালিফোর্নিয়ার অধিবাসী বাসেলি নির্মিত এই চলচ্চিত্রের নাম ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’। নাকুলা বাসেলিকে ২০১০ সালে ব্যাংক জালিয়াতির দায়ে কারাদণ্ড দেয় আমেরিকা সরকার। এরই প্রেক্ষিতে এই সিনেমা বাজেয়াপ্ত এবং নির্মাতা নাকুলা বাসেলির ফাঁসির দাবিতে সারা বিশ্বের মুসলমান সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বিশ্ব। লিবিয়ায় আমেরিকার দূতাবাস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতসহ আরো কয়েকজন নিহত হয়। বাংলাদেশেও এর প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিশ্বের মুসলমানরা আমেরিকার পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

সিরিয়া সঙ্ঘাত
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যা ক্রমশই প্রশাসনের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংঘাত এখন সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কেও ছড়িয়ে পড়ছে। সংকট দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। হামলার পাশাপাশি বিদ্রোহীরা অসহযোগ আন্দোলনেরও ঘোষণা করেছে। বিবদমান দু’পক্ষের হাতে ভারী অস্ত্রশস্ত্রের চালান পৌঁছায় দেশটির সংঘাত সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। সিরিয়া সরকার ও বিরোধী যোদ্ধা উভয়পক্ষের হাতেই শক্তিশালী নতুন নতুন অস্ত্র পৌঁছানো হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম বিষয়ক প্রধান হার্ভ ল্যাডসুস সিরিয়ায় এখন পূর্ণ মাত্রায় গৃহযুদ্ধ চলছে বলে দাবি করেছেন। বিরোধী বাহিনীর উন্নত কৌশল ও অস্ত্রসজ্জার জবাব দিতে সরকারি বাহিনী বিমান থেকে তীব্র হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়ায় চলমান নৃশংসতার নতুনমাত্রা পেয়ে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিউনিসিয়া থেকে শুরু হওয়া আরব বসন্তের সর্বশেষ রণক্ষেত্র হচ্ছে সিরিয়া। এখানে বাশার আল আসাদের পতনের জন্য সর্বাত্মক বিদ্রোহ চলছে ২০১১ সাল থেকে। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহীরা। আর সিরিয়ার শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় সাত লাখে পৌঁছেছে। এদিকে সিরিয়া দিন দিন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। শিগগিরই সিরিয়ার চলমান সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

ফিলিপাইন সরকার ও মরো মুসলিমদের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত
ফিলিপাইন সরকার ও দেশটির স্বাধীনতাকামী মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত অক্টোবর মাসে। এ চুক্তির অধীনে আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে ৪০ বছরের পুরনো দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান হবে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনো, মরো লিবারেশন ফ্রন্টের প্রধান মুরাদ ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক চুক্তি-সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়Ñ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাওয়ে ‘বাসাংমরো’ বা ‘মুসলিম জাতি’ নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা প্রতিষ্ঠা করা হবে। দ্বীপটিতে প্রায় ৯০ লাখ মুসলমানের বসবাস রয়েছে। নতুন এ চুক্তি অনুসারে, মুসলমানরা হবেন সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়। ১৫ বছর আলাপ আলোচনার পর মরো ইসলামিক লিবারেশন ও ফিলিপাইন সরকারের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বহু সংস্থা ও দেশ চুক্তি সইয়ের ঘটনাকে স্বাগত জানায়। মিন্দানাওয়ের মুসলিম গেরিলারা স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৭০’র দিকে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। মুসলিম গেরিলা ও সরকারি সেনাদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মিন্দানাওয়ে দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে মুসলিম মোরোদের উপরাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে এমআইএলএফ প্রায় ৪০ বছর ধরে সশস্ত্র লড়াই করে আসছে। এ লড়াইয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির সার্বিক অর্থনীতি।

গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার ইসরাইল ১৪ নভেম্বর ২০১২ থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বর হামলা চালায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলার পাল্টা জবাব দেয় হামাস ও ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ। ১৪ থেকে ২১ নভেম্বর ৮ দিনব্যাপী ইসরাইলের বর্বর হামলায় নিহত হন হামাস নেতা আহমেদ খলিলি আল জাবরিসহ অসংখ্য ফিলিস্তিনি নিরীহ মানুষ ও শিশু। ২১ নভেম্বর মিসরের মধ্যস্থতায় উভয় গ্রুপের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। উভয় পক্ষের জন্য বেশ কিছু শর্তের আলোকে যুদ্ধবিরতি হয়। ইসরাইলের জন্য শর্তগুলো হচ্ছেÑ জল, স্থল, ও আকাশ পথে তারা গাজায় আক্রমণ করবে না, সীমান্তে কোনো গুলাগুলি চলবে না, ফিলিস্তিনি নেতাদের ওপর কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালাতে পারবে না এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা উপত্যকার সবগুলো ক্রসিং খুলে দেবে।
ফিলিস্তিনের জন্য শর্তগুলো হচ্ছেÑ ইসরাইলের ওপর রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারবে না, সীমান্তে নাগরিকদের ওপর আক্রমণ করতে পারবে না এবং হামাস সরকার যুদ্ধবিরতির পর শর্ত না মেনে কোনো হামলা চালালে দায়ভার মিসরের।

ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ
ইসরাইল, তাদের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের’ স্বীকৃতি পায় ফিলিস্তিন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে ভোটের মধ্য দিয়ে ৩০ নভেম্বর ফিলিস্তিন জাতিসংঘের অ-সদস্য পযর্বেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে। ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট পড়ে ১৩৮টি এবং বিপক্ষে ৯টি। ৪১টি রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত থাকে।
চীন, তুরস্ক, মিসর, ব্রাজিল, আলজেরিয়া ও আর্জেন্টিনাসহ প্রায় ৭০টি দেশ খসড়া প্রস্তাব দাখিল করে। ওই দিন মোট ১৮০টি সদস্য দেশ ভোট দেয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য ছিল ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং বিপক্ষে ভোট দানকারীদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কানাডা। যেসব দেশ ভোটদান থেকে বিরত ছিল তাদের মধ্যে ছিল জার্মানি ও ব্রিটেন ।
জাতিসংঘে এ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে ইসরাইলের ওপর তাগিদ সৃষ্টি হবে। এর ফলে দেশটির কূটনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বেড়েছে অনেক। দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে গত বছর মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-সহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার মর্যাদা পেয়েছে এখন।
এর আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাধারণ পরিষদে বর্তমানের ‘পর্যবেক্ষক’ মর্যাদা থেকে ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের’ মর্যাদায় উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সংকট থেকে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল- দু’টি রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে এটিই শেষ সুযোগ।’ তবে তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত রন প্রসর বলেন, ‘দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনাকে এই স্বীকৃতি এগিয়ে নেয়ার পরিবর্তে আরো পিছিয়ে দিবে।’ আর ভোটে জেতার পর ইসরাইলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এটাকে দুর্ভাগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে। এরপর সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবটি পাস হতে ফিলিস্তিনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। তবে ফিলিস্তিন ১৩৮-৯ ব্যবধানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেই ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে জাতিংসঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। তবে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি নিয়ে কার্যত ইউরোপ বিভক্ত হয়ে পড়ে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ১৯৬৭ সালে ৬ দিনব্যাপী যুদ্ধের আগে যে সীমান্ত ছিল সে অনুযায়ী তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে। সে হিসেবে পশ্চিমতীর, গাজা, পূর্ব জেরুজালেম, যা এখন ইসরাইলের মধ্যে আছে, ওইসব অঞ্চল মিলে তাদের রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, মার্কিন ও ব্রিটিশ সহযোগিতার মাধ্যমে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ১৯৪৮ সালে জন্ম হয় বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের। ফিলিস্তিনি জনগণকে উচ্ছেদ করে অস্ত্রের মুখে প্রতিষ্ঠিত হয় সামরিক এ দেশটির।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে বন্দুক সন্ত্রাস ও গণহত্যা
১৫ ডিসেস্বর যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউটাউনে একটি প্রাইমারি স্কুলে শুক্রবার অ্যাডাম লানজা নামে এক বন্দুকধারীর গুলিতে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আর তাদের মধ্যে ২০ জনই শিশু ছিল। ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই কালো মুখোশ পরা একজন লোক বন্দুক হাতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১৮ শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। আর তাদের প্রত্যেকের বয়স ৫-১০ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। নিউটাউনের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া হামলাকারীসহ ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তির মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়। গুলি চালানোর পর অ্যাডাম লানজা আত্মহত্যা করে। তবে কী কারণে তিনি স্কুলশিশুদের হত্যা করেছেন তা জানা যায়নি।
২০ বছর বয়সী ওই হত্যাকারী স্কুলেরই একজন শিক্ষকের ছেলে। স্কুলে হত্যাকা- চালানোর আগে সে তার মাকেও গুলি করে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউটাউনের স্কুলে এই প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ঘটনার পর জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

হারানো মুখ

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর সাবেক সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)- এর সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ গত ২২ মে শেষ ইন্তেকাল করেন। ১৯৩৬ সালের ২৭ মার্চ জন্মগ্রহণকারী এ অর্থনীতিবিদ ২০০৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

স্থপতি মাজহারুল ইসলাম
বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যকলার জনক, স্থপতি এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের প্রথম সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মারা যান ১৫ জুলাই ২০১২ তারিখে। ১৯২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া এ মহান স্থপতি ১৯৯৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। মাজহারুল ইসলামের নকশায় নির্মিত উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য হচ্ছেÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, মতিঝিলের জীবন বীমা ভবন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বব্যাংক অফিস ভবন, জাতীয় গ্রন্থাগার ও জাতীয় আর্কাইভ ভবন, নিপা ভবন-ঢাকা ইত্যাদি।

শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক
উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, ইসলামী চিন্তাবিদ, খেলাফত মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমীর ও পরবর্তীতে আমীর, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আল্লামা আজিজুল হক ৮ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। আল্লামা আজিজুল হক সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিসগ্রন্থ বুখারী শরীফের বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাকারক ও অনুবাদক।

সাঈদ ইস্কান্দার
বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই, সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযাদ্ধা সাঈদ ইস্কান্দার ২০ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।

আতাউস সামাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক, সাপ্তাহিক ‘এখন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আজীবন উপদেষ্টা সম্পাদক আতাউস সামাদ ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি ১৯৩৭ সালের ১৬ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার সাতদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিবিসির বাংলাদেশ সংবাদদাতা ছিলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ আর নেই। গতকাল সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক ও তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (সিসিইউ) গত কয়েক দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের শরীরে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে গত সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়। ড. ইয়াজউদ্দীনের স্ত্রী অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম ও ছেলে ইমতিয়াজ তার শয্যাপাশে ছিলেন। এর আগে ২০১১ সালের আগস্ট মাসে একবার গুরুতর অসুস্থ হলে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পর সেপ্টেম্বরে তাকে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর দেশে ফিরে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এ বছরের মাঝামাঝি সময় আবার তাকে ব্যাংককে পাঠানো হয়।

মুফতি ফজলুল হক আমিনী
দেশবরেণ্য আলেম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী ১২ ডিসেম্বর ৬৭ বছর বয়সে ইবনে সিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মুফতি আমিনী বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। রাজধানীর লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়া এবং বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি। আমিনী ১৯৪৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরের আমিনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশে এবং করাচিতে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা আমিনী ১৯৮১ সালে খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি ও ইসলামী আন্দোলন শুরু করেন। আমিনী অষ্টম জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।

মেহেদী হাসান
উপমহাদেশের ধ্রুপদ সংঙ্গীতের প্রাণপুরুষ ও গজল সম্রাট মেহেদী হাসান ১৩ জুন ইন্তেকাল করেন। ১৯২৭ সালের ১৮ জুলাই ভারতের রাজস্থানে জন্মগ্রহণকারী মেহেদী হাসান ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পরিবারের সাথে পাকিস্তানে গমন করেন।

নীল আর্মস্ট্রং
চাঁদে পা রাখা প্রথম অভিযাত্রী নীল আর্মস্ট্রং ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ৮২ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই সফলভাবে অভিযান করেন নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স। অ্যাপোলো-১১ নামের মহাকাশযানের অধিনায়ক হিসেবে নীল আর্মস্ট্রংই প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। সফল চন্দ্র অভিযানের এক বছরের মাথায় নীল আর্মস্ট্রংকে নাসা’র অ্যারোনটিকস বিভাগের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এরপরই কিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিষয়ের অধ্যাপক হয়ে তিনি নাসা ত্যাগ করেন। তাকে আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেশনাল গোল্ডমেডেল প্রদান করা হয়। ওহাইওয়ের ওয়াপাকোনেটায় ১৯৩০ সালের ৫ আগস্ট জন্ম নিয়েছিলেন এই মার্কিন অভিযাত্রী। ১৯৫৫ সালে তিনি নাসায় যোগদান করেন। চাঁদের মাটিতে পা রেখে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘মানুষের এই ক্ষুদ্র পদক্ষেপটি মানব সভ্যতার জন্য ছিল বিশাল অগ্রগতি।’

দেশে দেশে নতুন নেতৃত্ব

মালদ্বীপে ক্ষমতার পালাবদল
তিন সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ বিদ্রোহের রূপ নিলে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগ করেন দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহিদ হাসান। পূর্বসূরি মামুন আবদুল গাইয়ুমের শাসনের অবসান হলে ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন নাশিদ। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে বিরোধী দিভেহি কওমি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ জামিল টেলিভিশন টকশোয় অভিযোগ করেন, ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদের প্রভাবে প্রেসিডেন্ট নাশিদ ইসলামকে দুর্বল করছেন। পরে জামিলকে গ্রেফতার করা হয়। ফৌজদারি আদালতের প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ নিজ উদ্যোগে জামিলকে মুক্তি দেন। এ জন্য সরকার ১৬ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার করে। আর এ গ্রেফতারের পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এরপরই তা রূপ নেয় পুলিশ বিদ্রোহে, যার ফলশ্রুতিতে অবসান ঘটে মালদ্বীপের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের শাসনকালের।

ইয়েমেনের নতুন প্রেসিডেন্ট
২১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ মানসুর আল হাদি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে তার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ এর ৩৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ইয়েমেনে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার পর ২৩ নভেম্বর ২০১১ আরব লীগের মধ্যস্থতায় সংকট নিরসনে চুক্তি স্বাক্ষর করেন আলী আবদুল্লাহ সালেহ। এতে বিচার থেকে দায়মুক্তির বিনিময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট হাদির কাছে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন তিনি। মানসুর আল হাদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দুই বছর। এরপর প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসি মিসরের প্রেসিডেন্ট
মিসরে একনায়ক হোসনি মোবারকের নেতৃত্বাধীন এনএলডি দলের দীর্ঘ তিন দশকের রাজতন্ত্র ২০১১ সালে গণবিপ্লবে পতিত হবার পর ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসিকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ৩০ জুন ২০১২ সালে নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। মুরসি ৫১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিককে পরাজিত করেন। এ ফলাফল পাওয়ার পরপরই কায়রোর তাহরির স্কয়ারে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাদারহুডের হাজার হাজার সমর্থক। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গণতান্ত্রিক এ জয়কে স্বাগত জানায় তারা। তেৎাগান দেয় ‘আল্লাহু আকবর’ বলে। ইখওয়ানুল মুসলিমুন নামে ব্রাদারহুড তাদের রাজনীতি শুরু করে। কিন্তু সময়ে সময়ে ব্যাপক দমন-নিপীড়নের শিকার হয় দলটি। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট গামাল আবদুল নাসেরের সময় নির্যাতন ব্যাপক মাত্রা লাভ করে। সে সময় সাইয়্যেদ কুতুব, হাসান আল বান্নাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড ও জেল-জুলুম প্রদান করা হয়।

বারাক ওবামা দ্বিতীয় বারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রিপাবলিকান দলের প্রার্থী মিট রমনিকে পরাজিত করে জিতীয় দফা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৬ নভেম্বর। বিজয়ের জন্য মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ-ভোটের মধ্যে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ-ভোটের প্রয়োজন থাকলেও প্রেসিডেন্ট ওবামা পেয়েছেন ৩০৩টি ভোট। অন্য দিকে মিট রমনি পেয়েছেন ২০৩টি ভোট। পপুলার ভোটও বেশি লাভ করেন বারাক ওবামা। ওহাইও, পেনিসেলভানিয়া, উইসকনসিন, আইওয়া এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে জয়ী হওয়ায় ওবামার বিজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় চার বছর অন্তর অন্তর। পরপর দুই টার্মের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন না। এর সাথে সব কংগ্রেসম্যান অর্থাৎ ফেডারেল প্রতিনিধি পরিষদের (কেন্দ্রীয় নিম্নকক্ষ) সদস্য এবং কিছুসংখ্যক সিনেটরের (কেন্দ্রীয় উচ্চকক্ষ) নির্বাচন হয়। সিনেটররা রোটেশনের ভিত্তিতে ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা পার্টি নমিনেশনের জন্য লড়াইয়ের জন্য মাঠে নামেন ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন
২০১০ সালে পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম এবার তাঁর দলকে নিয়ে আবিষ্কার করেন ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য। এই উদ্ভাবনের ফলে পাটসহ ৫০০ প্রজাতির উদ্ভিদ ক্ষতিকর ছত্রাকের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। পাঁচ সদস্যের একটি বিজ্ঞানীদল ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করে। বিজ্ঞানীদলের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক মাকসুদুল আলম।

চীনের প্রথম নারী নভোচারী
১৬ জুন চীনের চতুর্থ মনুষ্যবাহী নভোযান শেনঝু-৯ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। গোবি মরুভূমির প্রান্তঃসীমায় অবস্থিত জিউকুয়ান উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র তিয়ান গং-এর উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা এ অভিযানে ছিলেন দেশের প্রথম নারী নভোচারী লিউ ইয়াংসহ আরো দুজন পুরুষ নভোচারী। এ অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন চীনের প্রথম নভোচারী জিং হেইপেং। ১৮ জুন তিয়ান গং মহাকাশ স্টেশনে ভিড়ে নভোযানটি।

মোবাইল ফোনে থ্রিজি প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশ
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেখানে ৪জি আর ৫জি নিয়ে কাজ চলছে, সেখানে আমাদের দেশে থ্রিজি বা তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সুবিধার উদ্বোধন করা হয় ১৪ অক্টোবর। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মুঠোফোন অপারেটর টেলিটকের বহু প্রতীক্ষিত থ্রিজি (থার্ড জেনারেশন) ফোনের সেবা। থ্রিজিকে বলা হয় তৃতীয় প্রজন্মের তারবিহীন প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ভিডিও কল থেকে শুরু করে টেলিভিশন দেখাসহ নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। থ্রিজি প্রযুক্তির মুঠোফোনের মাধ্যমে কথা বলার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা ভৌগোলিকভাবে যে অবস্থানে থাকবেন, সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে করা যাবে ভিডিও সম্মেলনও। ব্যবহার করা যাবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস), যার মাধ্যমে নিখুঁত পথনির্দেশনা পাওয়া যাবে। এ সুবিধার মাধ্যমে বর্তমান মোবাইল সেবাদাতারা তাদের গ্রাহকদের নিজস্ব এবং অন্য নেটওয়ার্কে কম মূল্যে ভিডিও কলসহ অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে পারবে। বর্তমানে কেবল ঢাকায় থ্রিজি সুবিধা চালু থাকলেও শিগগিরই দেশব্যাপী এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃৃৃৃত করা হবে।

ফিঙ্গারপ্রিন্টের আবিষ্কারক ছিলেন বাংলাদেশী
অপরাধী শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ আবিষ্কার করেন একজন বাংলাদেশী। তার নাম কাজী সৈয়দ আজিজুল হক। তিনি ১৮৭২ সালে খুলনার ফুলতলা উপজেলার পয়োগ্রাম কসবায় জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার এ সাফল্য চুরি করে এতদিন আবিষ্কারকের দাবিদার ছিলেন তারই ঊর্র্ধ্বতন ইংরেজ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড হেনরি। কিন্তু সেই চুরির ঘটনা আর গোপন থাকেনি। প্রকাশ হয়ে পড়ে জনসম্মুখে। ১০০ বছর পর জানা যায়, আঙুলের ছাপের প্রকৃত আবিষ্কারক বাংলাদেশী বংশো™?ুত কাজী সৈয়দ আজিজুল হক।

৬ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রোগ্রামার
৬ বছর বয়সী বাংলাদেশী বালক ওয়াসিক ফারহান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগ্রামার। বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দি নিউ ইয়র্ক হেরাব টিঝবিউন, ক্যালিফোর্নিয়া অবজারভার, এস্টেট নিউজ এবং আরো আন্তর্জাতিক মিডিয়া তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রোগ্রামার হিসেবে অভিহিত করে। তার ডাক নাম রূপকথা। তার বাবা ওয়াসিম ফারহান এবং মায়ের নাম রিসা।

ঈশ্বর কণার সন্ধান
৪৮ বছর ধরে পদার্থবিজ্ঞানীরা যে রহস্যময় কণার সন্ধান করেছেন, ৪ জুলাই ২০১২ সেই কণার অনুরূপ কণার আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। ইউরোপের বিজ্ঞান সংস্থা ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঘঁপষবধৎ জবংবধৎপয (ঈঊজঘ) জেনেভা ও লটনে পৃথক সম্মেলনে এ আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে শক্তি হিসেবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। এর ফলে এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। হিগস এর এ গবেষণা এগিয়ে নিয়েছে বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কণা পরিসংখ্যান তত্ত?। তাই হিগস ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম যোগ করে ঐ কণার নাম দেয়া হয় ‘হগস বোসন কণা’। পরবর্তীতে অধরা বিবেচিত হবার কারণে ধীরে ধীরে তা ঈশ্বর কণা হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে।

SHARE

Leave a Reply