একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় একতরফা নির্বাচন

আসিফ মাহমুদ |
একদলীয় শাসন প্রতিষ্টার চূড়ান্ত লক্ষ নিয়ে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। গনতন্ত্র হত্যার এই রাজনীতির সহযোগী এখন সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। শেখ হাসিনার সাথে বেহেস্তে যাবেন না বলে ঘোষনা দেয়ার পর আবার তিনি হাসিনার পাশে এসে দাড়িয়েছেন। অতীতেও বিভিন্ন সময় এরশাদের পাশে দাড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা। নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা নেয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন আই অ্যাম নট আন হ্যাপি।  এই এরশাদকে পাশে নিয়ে ইতিহাসের ধারায় ফিরে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। আরেকটি একদলীয় নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার। এক তরফা এই নির্বাচন আয়োজনে একটি দলীয় নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দলীয় অনুগত নির্বাচন কমিশন আর কখনো গঠিত হয়নি। এই কমিশন নিজেই তার ক্ষমতা কমিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে না জানিয়ে সরকার নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করেছে। অর্থাৎ একটি নীল নকশার নির্বাচনে সহযোগীর ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছে এই নির্বাচন কমিশন।
ইতোমধ্যে সারা দেশে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার এই নির্বাচন প্রতিরোধের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রন শিথিল হয়ে পড়েছে। সঙ্ঘাত-হানাহানি শুরু হয়ে গেছে। বিরোধী দল এই নির্বাচন প্রতিহত করার শুধু প্রত্যয় নয়, টানা কর্মসূচী ঘোষনা  দিয়েছে। আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বহু লোকের প্রাণহানি ঘটছে। সামনের দিনগুলো রক্তাক্ত এক বাংলাদেশের ছবি ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক নিপীড়ন, দুর্নিতী, গনহত্যা, আর লুটপাটের কারনে এই সরকারের জনপ্রিয়তা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সবার অংশ গ্রহনমুলক নির্বাচনে আওয়ামী মহাজোট সরকার যে ক্ষমতায় আসেতে পারব্ েনা তা আগেই প্রধানমন্ত্রী বুঝে ফেলেছিলেন। এই কারনে পঞ্চদশ সংমোধনীর মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দেয়া হয়েছিলো। এজন্য ব্যবহার করা হয়েছে বহুল বির্তর্কিত বিচারপতি খায়রুল হকের রায়টিকে। এই রায়ের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের একদলীয় শাসনের ভিত্তি তৈরি করে বাংলাদেশ কার্যত অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে সামনের দিকে নয়, শেখ হাসিনা ফিরে যাচ্ছেন অনেক পেছনে তার পিতার সময় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনের পথে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম নির্বাচনটি ছিল জবরদস্তিমূলক একদলীয় নির্বাচন। ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের ফল কেমন হতে পারে তার অনন্য নজির ছিল এই নির্বাচন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২৮৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৮২ আসনে বিজয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগের মোকাবেলা করার মতো বিরোধী দল না থাকা সত্ত্বেও ভোট কারচুপির ব্যাপক নজির স্থাপন করেছিল ক্ষমতাসীন দল। ছাত্রলীগ ভেঙে সিরাজুল আলম খানের জাসদ ২৩৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১ আসন পায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। সব রাজনৈতিক দল বিলোপ করে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম হয়ে যায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও অপমৃত্যু ঘটে। ’৯১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনে এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার আমলে একটি একতরফা নির্বাচন হয়েছিল কিন্তু সে নির্বাচনের সাথে এবারের নির্বাচনের যথেষ্ট পার্থক্য আছে। এই নির্বাচন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ-জামায়াত ও জাতীয় পার্টি বর্জন করলেও ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংসদে তাদের দাবি পূরণ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ১৭৩ দিন হরতাল করা হয়েছিলো। ২৬ দিন অসহযোগ এবং লাগাতার ৯৬ ঘণ্টার হরতাল করা হয়েছিলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই আন্দোলনে বহু লোক হতাহত হয়েছিলো। এই নির্বাচন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার নির্বাচন ছিল না। পরে ’৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬ আসনে বিজয়ী হয়ে এরশাদের সমর্থন নিয়ে ২৩ বছর পর সরকার গঠন করেছিল। অপর দিকে বিএনপি ১১৬ আসনে বিজয়ী হয়েছিল। মনে রাখতে হবে এই নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করেছিল। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামপন্থীদের ভোট বিভাজন সত্ত্বেও বিএনপি ৩৩.৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থেকে এবারের নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আরেক দফায় ক্ষমতাসীন হওয়া। এই নির্বাচনের সাথে হয়তো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে এরশাদের সামরিক শাসনকালে ’৮৬-এর নির্বাচনে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। জামায়াতও অংশ নিয়েছিলো। এই নির্বাচনই এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দিয়েছিলো। কিন্তু খালেদা জিয়া এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একাই মাঠে ছিলেন।
অপরদিকে ’৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের পর এরশাদের পতনের আলামত স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু এবারের একতরফা নির্বাচনের মূল লক্ষ্য ২০২১ সাল। বহুদূরের পথ। সামনের নির্বাচন ও আর প্রতিরোধের আন্দোলনের শেষ ফলাফল কী সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
দেশের সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ বা ১৯৮৮ সালের মতো নির্বাচন করা সহজ নয়। রাজধানীতে ৪০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা থাকলেও রাজধানীর বাইরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখন শিথিল হয়ে পড়েছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবাধীন অন্তত ৩০টি জেলায় ভোটের বাক্স পাঠানো দুরূহ হয়ে পড়বে। এবারের সরকারবিরোধী আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে শহরের চেয়ে গ্রামে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক দল ছাড়াও সামাজিক শক্তিগুলো বিরোধী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উত্থান রাজনীতির গতিপথ অনেকখানি বদলে গেছে। চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর প্রমাণ মিলেছে।
সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে ক্ষমতাসীন দলের বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয় তা শেখ হাসিনার কাছে অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে একতরফা নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। আর এ জন্য বিরোধী দলের নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন দমাতে সব ধরনের নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার শুরু হয়ে গেছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার কিংবা গৃহবন্দী করা হবে এমন আশঙ্কাও আছে।
দমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ ধরনের নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে  গ্রহণযোগ্যতা  পাবে না তা জাতিসঙ্ঘসহ পশ্চিমা দেশগুলো আগেই আভাস দিয়েছে। বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা যে আসছে না তা নিশ্চিত করে বলে যায়। ভারতের গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ নীতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে মতভেদ এখন তীব্র। শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছিল স্যার নিনিয়ান ও অ্যামেকা আনিয়াকু ঢাকা সফরে এসেছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় কে কোন ধরনের ভূমিকা পালন করবেন তা এখন বিদেশে বসে নির্ধারণ করা হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু দু’দেশ একমত হতে পারেননি। ভারতের গণমাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভূমিকাকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতো বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত জোর গলায় জানিয়ে দিচ্ছে যেকোনো মূল্যে তারা শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। অথচ সব জনমত জরিপে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার নিম্নমুখী জনপ্রিয়তার মতো এ দেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। জনমতের এ দিকটি ভারত আমলে নিচ্ছে বলে মনে হয় না। বরং ভারত এখন ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ রক্ষায় কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশন এক বিবৃতিতে সংলাপ ও এদেশের মানুষ সমস্যা সমাধান করবে এমন কথা বলেছেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য বা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা ভারত বলছে না।
ভারতের প্ররোচনা আর সমর্থনে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশকে এখন আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও একঘরে করে ফেলেছে। মার্কিন কংগ্রেস আর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একতরফা নির্বাচন থেকে সরকারকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। এরমধ্যে নিউইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী পত্রিকা সম্পাদকীয় লিখে বলেছে বাংলাদেশের ওপর অবরোধ আরোপসহ নানা ধরনের চাপ আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান সরকারকে দিয়ে ভারত এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে যাতে বাংলাদেশ কোনো ক্ষেত্রে মাথা উচু কওে দাড়াতে না পারে।
সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন ক্ষমতালোভী তৎপরতার মধ্যে জাতীয় পার্টি সহ সরকারের শরীক বামপন্থী কয়েকটি ছোট দল বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে। এসব দলের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এসব দলকে দিয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রধান করে একটি সর্বদলীয় সরকারের ধারণা হাজির করা হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের প্রচেষ্টা বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ প্রেসিডেন্টও আওয়ামী লীগের মনোনীত ব্যক্তি। এছাড়া বর্তমান প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে বহাল রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে অসম্ভব। মনে রাখতে হবে ভারতের বাংলাদেশ নীতি ছিল সব সময় ভুলে ভরা। কারণ ভারত আওয়ামী লীগের সাথে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছে বাংলাদেশের সাথে নয়। এবারো এর কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বরং ভারত অনেকটা খোলামেলাভাবে ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো যখন সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তখন ভারতের আমলা নিয়ন্ত্রিত সাউথ ব্লক সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই নির্বাচন হতে পারে বলে মন্তব্য করছে। ভারতের গণমাধ্যমে  শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে মৌলবাদের উত্থান আর তারেক জিয়াকে নিয়ে নতুন করে কেচ্ছাকাহিনী প্রকাশ করছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে মরিয়া অবস্থান দলটিকে আরো বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমা গণমাধ্যমে আভাস দেয়া হচ্ছে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলছে, নির্বাচন বিলম্বিত হবে। মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে বিলম্বিত নির্বাচনের মাঝের দিনগুলোতে কী হবে বাংলাদেশে অন্য কেউ কী চলে আসবে? ইকোনমিস্টের ভাষ্য হচ্ছে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় শেখ হাসিনা বাদ সাধবেন না।
এ দিকে একতরফা নির্বাচনের আগে পুরোমাত্রায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিএনপির তিনজন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান এই নেতাদের ৮ দিনের রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। মন্ত্রীরা প্রকাশ্য বলছেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর বিদেশীদের চাপ যেমন বাড়ছে তেমনি বিরোধী দলের আন্দোলন আরো সহিংস ও সর্বাত্মক হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে ৮৪ ঘণ্টার হরতাল পালিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। হরতালের পর অসহযোগের মতো কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত একতরফা নির্বাচন সম্পন্ন হোক বা না হোক আরো ব্যাপক রক্তপাত হবে। আরেক দফা গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের একটাই পথ সাধারন মানুষকে গনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সামিল হওয়া। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে একাজ এগিয়ে নিতে হবে।

SHARE

Leave a Reply