একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : জাতির ভবিষ্যৎ । মতিউর রহমান আকন্দ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন৭ নভেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তফসিল ঘোষণার আগে নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে দু’দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে। উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় এই সংলাপ। দেশের জনগণ আশা করেছিল সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে ক্ষমতাসীন মহল ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটসমূহ। জনগণ আশাবাদী হয়েছিল যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে প্রহসনের আয়োজন করা হয়েছিল, তার আর পুনরাবৃত্তি হবে না। দেশবাসী ভুলে যায়নি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়; অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কোন সুযোগই পান নাই। তদানীন্তন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বয়কট করায় শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও ভোটকেন্দ্রে যান নাই। দেশে-বিদেশে এ নির্বাচন বিতর্কিত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তুমুল সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন এবং শিগগিরই আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ক্ষমতার মোহ তার অবস্থান পাল্টে দেয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সরকার দেশে-বিদেশে ইমেজ সঙ্কটে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয় সে ব্যাপারে সরকারের ওপর নানা মহলের চাপ সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘ বাংলাদেশে একটি অবাধ, বিশ্বাসসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ গণতান্ত্রিক বিশ্ব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জোর তাগিদ দেয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে। সর্বমহলের চাপের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিশ্ববাসীকে দেখানোর জন্য সংলাপ নামক একটি নাটকের আয়োজন করে।
ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ দেশটাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। যেহেতু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তাই জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। দেশে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার জন্য সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ফলে দেশে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা হয়। একে একে নাগরিক অধিকারসমূহ খর্ব হতে থাকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। বিচার বিভাগের ওপর চলে নগ্ন হস্তক্ষেপ। সরকারের পছন্দমত ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় না দেয়ায় প্রধান বিচারপতিকে অত্যন্ত নাজেহাল অবস্থায় দেশত্যাগ করতে হয়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসমূহে নির্বাচনের নামে ভোটাধিকার হরণের যে মহোৎসব চলে তাতে দেশে নির্বাচন ব্যবস্থার কবর রচিত হয়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পেশাদারিত্বের পরিবর্তে দলের প্রতি আনুগত্যকে বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে মামলা, গ্রেফতার ও বিভিন্ন হয়রানির মাধ্যমে ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনদীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ দেশের জনগণ জুলুম, নিপীড়ন সহ্য করে অপেক্ষা করতে থাকে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশায়। জনগণ ধারণা করেছিল তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জাতিকে আশার সঞ্চার করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্ট সংঘাত, সংঘর্ষের পথ পরিহার করে সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করার চেষ্টা চালায়। নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পত্র প্রেরণ করে। তাদের উদ্যোগের ফলে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য পেশ করা হয় তাতে গোটা জাতির নিকট স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে আওয়ামী লীগ গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মোটেই আন্তরিক নয়। নির্বাচনের ফলাফল তাদের অনুকূলে নেয়ার জন্য যা যা করা দরকার তার সবকিছুই তারা সম্পন্ন করেছে। সরকারের ছক অনুযায়ী স্বল্পতর সময় হাতে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট পৃথক পৃথকভাবে বৈঠকে মিলিত হয়ে শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় সব দলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই এ সরকারের লক্ষ্য; জনগণ যাদের ভোট দিবে তারাই বিজয়ী হবে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসুতরাং এটা স্পষ্ট যে সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে? বাংলাদেশের শাসনামলে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচনের কোন নজির নেই। তবে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান শাসনামলে মুসলিম লীগ যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তখন দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হয়েছিল তা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছিল বলে সর্বমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসনে বিজয় লাভ করেছিল। নির্বাচনে তাদের প্রতীক ছিল হারিকেন। ’৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয় লাভ করে। এই নির্বাচনের সময় কোন নির্বাচন কমিশন ছিল না। নির্বাচন পরিচালনা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সবদিক থেকেই এই নির্বাচনটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও কোন সরকারি কমকর্তা নির্বাচনী ফলাফলকে শাসকদলের পক্ষে প্রভাবিত করতে চেয়েছেন এমন কোন অভিযোগ শুনা যায়নি।
আজ স্বাধীন বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কল্পনা করা যায় না। প্রশাসনকে এমনভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে যে দলের ছকের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ প্রশাসনের নেই।
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি পেশ করেছিল। দেশের তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছিল। সরকার কোন দাবিকে বিবেচনায় না নিয়ে নিজস্ব ছকে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম দাবি ছিল বায়বীয় মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার বন্ধ করা। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়া। মামলা প্রত্যাহারতো দূরের কথা বরং গ্রেফতার ব্যাপক রূপ লাভ করেছে।
এই প্রতিবেদক বেশ কয়েকটি জেলার কয়েকটি আসনে সরেজমিনে সফর করে দেখে এসেছেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার রাত থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে। কোন কোন এলাকার সাধারণ ভোটারগণ বলেছেন ইউনিয়নের দলের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ কমিটির সদস্যদেরকে এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদেরকে তালিকা করে করে মামলা দেয়া হচ্ছে এবং হয়রানি করা হচ্ছে। একই এলাকার সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভোটের সময় কোন নেতা এবং কর্মী ভোট কেন্দ্রে যেতেই পারবে না। তাদের ধারণা বিরোধীদলকে দৌড়ের ওপর রেখেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতের অন্যতম দাবি ছিল ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ বিষয়ে সংলাপের সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এটা আদালতের বিষয়। এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই। সংলাপ শেষ হওয়ার পরই অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতাল থেকে পরিত্যক্ত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর থেকে প্রতীয়মান হয় বেগম জিয়ার মুক্তি তো দূরের কথা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও সরকার আন্তরিক নয়। ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতের আরেকটি দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ তাদের নেই।
ঐক্যফ্রন্টের আরেকটি দাবি ছিল নির্দলীয় সরকারের আকারে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন। এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংলাপ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুতরাং বলা চলে ঐক্যফ্রন্ট এবং জামায়াতে ইসলামী প্রদত্ত কোন দাবি মানার সুযোগ আওয়ামী লীগ রাখেনি। যেসব দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাখা হয়েছিল তা অগ্রাহ্য করার মধ্য দিয়ে সরকার মেসেজ দিয়ে দিয়েছেন যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সরকারের ডিজাইনে। যেখানে যাকে বিজয়ী করানো দরকার সরকার তাকে বিজয়ী করবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটো মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালত এ সাজা বাতিল বা স্থগিত করলে বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আর এটি হতে হবে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে। এ সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল অথবা স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
আওয়ামী লীগ অত্যন্ত কৌশলে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এবং নিজস্ব ডিজাইনে সাজানো প্রশাসনের দ্বারা নির্বাচন সম্পন্ন করে আবারো ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তারা মনে করছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তার নেতৃত্বে ২০২১ সালে মহোৎসবে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদ্যাপিত হবে। এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট; ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া ছাড়া বেশি কিছু অর্জন করতে সক্ষম হবে না বলে অনেকের ধারণা।
আওয়ামী লীগ তাদের সাজানো ছকে নির্বাচন করতে সক্ষম হলে এবং পুনরায় সরকার গঠন করতে পারলে জাতীয় রাজনীতি থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশে কোন রাজনৈতিক দলের কোন কর্মকান্ড চলতে না দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ পরিণত হতে পারে বিরোধী দলবিহীন নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি দেশে।
আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধান স্বীকৃত অধিকারসমূহ সম্পূর্ণভাবে খর্ব করে দেশ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্র, মিডিয়ার স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকবে না। সরকারের জুলুম, নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। সারাদেশের জনগণ সরকারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ। নির্বাচনকালে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থান ২০ দলীয় জোটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। একই দিনে ৩০০ আসনে নির্বাচন হওয়ায় প্রতিটি আসনের আওতায় প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব নয়। ভোট গ্রহণের দিন সারা বাংলাদেশ থাকবে ভোটারদের নিয়ন্ত্রণে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রসমূহ পাহারা দিয়ে জনগণকে ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিতে পারলে নির্বাচনের হিসাব পাল্টে যেতে পারে। তাই সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। তাহলে কতগুলো সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারেঃ
২০ দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে সংঘাত সংঘর্ষের পথ পরিহার করে জাতীয় সংসদকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে। নির্বাচিত ও নবগঠিত পার্লামেন্ট সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দিতে পারলে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
জনগণকে সুসংগঠিত করে ও সংসদকে সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবার সাথে বন্ধুত্ব নীতি কার্যকর করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৈতিক চেতনার ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
বিগত প্রায় ১০ বছর যাবৎ জনগণ জুলুম নিপীড়ন সহ্য করে আসছে। তা থেকে বের হয়ে আসার পথ তৈরি করতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৯৫৪ সালে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন পরিচালনা করে মুসলিম লীগ যে পরিণতি বরণ করেছিল আওয়ামী লীগও সে পরিণতি বরণ করতে পারে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পেলে অনুগত প্রশাসন দিয়ে জনগণের জাগরণ ঠেকানোর সাধ্য আওয়ামী লীগের নেই। তাই দুঃখ-বেদনার মাঝেও ভবিষ্যতে আশাহত হওয়ার কারণ নেই।
লেখক : কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

SHARE

Leave a Reply