এনআরসি আন্দোলনের নেপথ্যে…. – মোঃ শফিকুল ইসলাম

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (এনআরসি) নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল সারা ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিকে মেনে নিচ্ছেন না গোটা দেশের সাধারণ মানুষ। সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর থেকে জানা যায় গত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমগ্র ভারত থেকে আটক আন্দোলনকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। এদিকে এই আইনকে বিজেপির দেশভাগের চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি হবে না। গত ১৫ ডিসেম্বর ’১৯ ইং তারিখ থেকে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে লাগাতার এনআরসি বিরোধী আন্দোলন করে আসছে সেই রাজ্যের শাসক দল। গত ১৬ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পথে নেমে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মমতা। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা অনেক স্থানে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। এই বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সেদিন পর্যন্ত দেশটিতে ১৬ জন নিহত হয়েছে। বিবিসির তথ্যমতে উত্তর প্রদেশের স্থানীয় চিকিৎসা কর্মী এবং পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেকের শরীরে বুলেটের ক্ষত রয়েছে। দিল্লিতে বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গ্রেফতার হয় সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী হর্ষ মন্দের, শিক্ষাবিদ যোগেন্দ্র যাদব, সিপিআই নেতা ডি রাজা, এসএফআই’র সাধারণ সম্পাদক ময়ুখ বিশ্বাসসহ একদল বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী। আন্দোলনের জন্য অঘোষিত কারফিউ জারি হয় গোটা দিল্লিতে। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ ও ২০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

সমালোচকরা এই আইনটিকে মুসলমানবিরোধী বলে বর্ণনা করেন। আর এটা যদি সত্যিই ধর্ম সংক্রান্ত ব্লকে হয় তবে আমাদের নাক না গলিয়ে উপায় কী? এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পড়বে এত কোন সন্দেহ নেই। ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের রাজ্য আসাম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের মধ্যে আসামের অবস্থান দ্বিতীয়। আসাম একসময় বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুষের সাথে এই জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। ভারতের নাগরিকত্বের প্রশ্নে আসাম জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে ভয়ঙ্কর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের নাম। ৩ কোটি ৩০ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে এনআরসি তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ৩ কোটি ১১ লক্ষ ২১ হাজার ৪ জন। নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়াদের আপিল করার জন্য ১২০ দিন সময় দেয়া হয়েছিল এতে যারা প্রমাণ করতে পারবে না তাদের কি হবে? এর কোন জবাব নেই। এই এনআরসি একটা ছাঁকনির মত। যারা ছাঁকনিতে আটকে যায় তারা বিদেশি আর যারা নিচ থেকে বের হবে তারা খাঁটি ভারতীয়। এনআরসির পিছনে সরকারের যুক্তি হল ভারতের রিসোর্স খুবই লিমিটেড কিন্তু অবৈধ অভিবাসীর কারণে তাও ভোগ করতে পারছে না তারা। তাই অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।

ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের জন্য ৩টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রথমত, তারা আসামের বাসিন্দা। দ্বিতীয়ত, তারা ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে এসেছে অথবা অন্য কোন দেশ থেকে এসেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে নয়। তৃতীয়ত, যদি বাংলাদেশ থেকে আসে তাহলে ২৪ মার্চ ১৯৭১ সালের আগে এসেছে তা প্রমাণ করতে হবে। এই ৩টির যেকোনো একটি ডকুমেন্ট দিয়ে প্রমাণ করতে পারলেই মিলবে এনআরসি তালিকায় ঠাঁই। এখানে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে এ নিয়ে এতো কথাবার্তা কিংবা তর্ক-বিতর্ক কেন? আগেই বলেছি এনআরসি একটা ছাঁকনির মতো। যেখান থেকে বহিরাগতদের ছেঁকে আলাদা করা হচ্ছে। এই ছাঁকনিটা সঠিকভাবে কাজ করবে বা করছে কিনা সেটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। গত বছর যখন এই তালিকার ড্রাফট করা হয় তখন ৪০ লক্ষ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এই ঘটনার শুরুর দিকে ২৫ জন আত্মহত্যা করেছিল এবং ডিটেনশন ক্যাম্পে মারা গিয়েছিল আরও ১৫ জন।
ভারতের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর চাকরি করা সানাউল্লাহকে বহিরাগত সনাক্ত করা হয়। দেশটির ৫ম রাষ্ট্রপতির ভাই জায়নুল আলী আহমেদ যিনি ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে কর্নেল হিসেবে অবসর নিয়েছেন তার ছেলেও বিদেশি হিসেবে সনাক্ত হয়েছে। আসামের পরে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি করার ঘোষণা করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দিল্লিতে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দলের সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবেই। তাতে প্রায় দুই কোটি মানুষ বাদ যাবে। বিদেশি নাগরিকরা এসে রাজ্য তথা দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। তা রুখতেই এনআরসি প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক, নাট্যকার, গায়ক বা চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যেসব মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে চলে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই বলছেন এনআরসি হলে নাগরিকত্ব প্রমাণের বৈধ নথি যোগাড় করতে তাদেরও বেগ পেতে হবে। বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখার্জি বলেন, ‘কবে সীমানা পেরিয়েছি, সেটা তো আমার স্মৃতিতে আছে। কোন স্কুলে কত বছর পড়েছি, সেটাও আমার মনে আছে। কিন্তু এসবের যদি কাগজপত্র দিতে বলে, তা তো দিতে পারব না! তবে কী আমাকে বার করে দেবে? সেটাই বা আমি মানব কেন? আর আসামে তো দেখছি, অনেকে বৈধ কাগজপত্র জমা দেয়ার পরেও তাদের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে।’ বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে পড়াশোনা করেছেন সাহিত্যিক মিহির সেনগুপ্ত। ১৯৬৩ সালে ভারতে চলে আসেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরির ব্যাপারে বিজেপির ঘোষণায় উদ্বিগ্ন হয়ে বিবিসি বাংলাকে মিহির সেনগুপ্ত জানান ‘এদেশে (ভারত) চলে আসার পরে আমি সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট করিয়েছিলাম মূলত পাসপোর্ট বানাতে হবে বলে। কিন্তু সেই সার্টিফিকেট এখন কোথা থেকে খুঁজে বের করব ৭৩ বছর বয়সে।”
১৯৭১ সালের ডকুমেন্ট এতদিন পর সবার পক্ষে হয়তো দেয়া সম্ভব হবে না। যারা ভারতীয় নাগরিক হয়েও সর্বোচ্চ রকমের চেষ্টা করেও নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে পারবেন না তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? ভারতের পপুলার নোশন হলো তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দাও। আগেই বলেছি ১৯৭১ সালে নির্যাতিত ও আতঙ্কিত বাংলাদেশীরা অনেকেই আসাম পাড়ি দিয়েছিলেন। যদিও তারা দেশে ফিরে এসেছে কিন্তু সেখানে যে অল্প কিছু রয়ে গেছে তা অস্বীকার করা যাবে না। এই ব্যাপারে যখন কথা উঠেছিল তখন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছিলেন, ‘যদি ভারত প্রমাণ করতে পারে তারা বাংলাদেশী তাহলে ফেরত নেয়া হবে।’ টেকনিক্যালভাবে বাংলাদেশ ফেরত নিতে চাইলেও বাস্তবে কোনোভাবেই সম্ভব না। কারণ বর্তমানে এই দেশটি ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার বোঝা বহন করছে। ভারতের পাকিস্তান-চায়না সীমান্তে উত্তেজনা চলছে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আসাম সীমান্তে নতুন এক সমস্যায় জড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না নিশ্চয়ই।
বহিরাগতদের কি করা হবে এই পপুলার নোশনের পাশাপাশি আরও ২টি কথা শোনা যাচ্ছে। বহিরাগতদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে অথবা দেয়া হবে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল। যে বিলের মাধ্যমে বহিরাগতদের একাংশ শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হবে আর একাংশ করা হবেনা এবং এই বিলে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের (ইসলাম) লোক বাদ দেয়া হবে।
১৯৫৫ সালে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলের সঙ্গে সংশোধিত বিলের বিশেষ তফাৎ কিছুই নেই। বিলে যা আছে তা ব্যাখ্যা করলে বলা যায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া মুসলমানরা যেমন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, অন্য দিকে ওই তিন দেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ বা খ্রিস্টানদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হলেন শরণার্থী। বিলে বলা হয়েছে, ভারতের সরকার প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেবে। কারণ তারা বিপদের মুখে নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে কারণ সীমান্তের ওপার থেকে রোজগার বা বাসস্থান খুঁজে পেতে কিংবা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তারা ভারতে গিয়েছে। তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুরা যারা গত এক বছর ভারতে রয়েছেন বা শেষ ৬ বছর ধরেই সেখানে রয়েছেন, তারাই নাগরিকত্ব আইনের (বিল আইন হিসেবে পাস হয়ে যাওয়ার পর) আওতায় নাগরিক হতে পারবেন।

ঐতিহাসিকভাবে আসামের নাগরিকত্বের প্রশ্নে ‘১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি’ এবং ‘১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ’ তারিখ দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিদের চিহ্নিতকরণ, ভোটাধিকার রদ এবং নির্বাসনের দাবিতে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও অল আসাম গণসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ফলে আসাম এবং তৎকালীন রাজীব গান্ধী সরকারের মধ্যে অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুসারে ১৯৮৬ সালে নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন এনে আসামের নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করা হয়। ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনের নতুন ৬-এ ধারায় বলা হয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত যারা ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে ভারতে এসে সাধারণ বাসিন্দা হিসেবে রয়ে গেছেন তারা বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিদেশি চিহ্নিত করা হবে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী আইন অনুসারে যা কেবল আসামের জন্য প্রযোজ্য। যারা ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর পর আসামে এসেছেন তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। ১৯৭১ সালে নির্যাতিত ও আতঙ্কিত বাংলাদেশীরা অনেকেই আসাম পাড়ি দিয়েছিলেন। এনআরসির লক্ষ্য হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের শনাক্ত করে তাদের বহিষ্কার করা। পঁয়তাল্লিশ কোটি টাকা বাজেটে আসামের গোয়াল পাড়ায় নির্মিত হচ্ছে ভারতের প্রথম ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’। নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদপড়া রাষ্ট্রহীন মানুষের জন্য আসাম জুড়ে এরকম আরো এগারোটি ক্যাম্প হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজেপির রাজনৈতিক গেইম পরিষ্কার। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দুদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা গেলে তারা আজীবন বিজেপির ভোটব্যাংক হয়ে থাকবে। আর মুসলমানদের তাড়ানো গেলে বিরোধী ভোট কমে যাবে।
যারা নিজেদের ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে না এবং শরণার্থী হিসেবেও ভারত তাদের গ্রহণ করবে না তাদের ভবিষ্যৎ কি? তাদের ভাগ্যরেখা রোহিঙ্গাদের সাথে এক সূত্রে গাঁথা নয়তো? জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতির মুখ থেকে যখন এই কথা আসে এরা বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী উইপোকার মতো তাদের বঙ্গোপসাগরে ডুবিয়ে দেয়া হবে। তখন বাংলাদেশের একদম চুপ থাকা সমীচীন মনে করি না।
আসাম ও কাশ্মিরের ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপি সরকার কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করছে এবং ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষের লোকেরা বলছেন, আসাম ও কাশ্মির ইঙ্গিত দেয় আগামী দিনে ১.৩ বিলিয়ন ভারতীয় জনগণকে কোন পথে নিয়ে যেতে চাইছেন মোদি। তিনি একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করছেন। তিনি ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ভেঙে ও সামাজিক বিচ্ছেদ তৈরি করছেন। মোদির রাজনৈতিক শেকড় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের গাঁথা। আরএসএস সবকিছুর ঊর্ধ্বে হিন্দু ধর্মকে স্থান দেয়। তাদের এই বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ফলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলিম সংখ্যালঘুর ভারতে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে এবং এনআরসির ঘটনায় নতুন করে ধর্মীয় দাঙ্গা লাগবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভারতে হাঙ্গা, দাঙ্গামা, হত্যা, খুন-জখম নতুন কিছু নয়। বিশাল এই দেশটিতে মুসলমানদের কখনো সহ্য করা হয়নি। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে বড় বড় বুলি আওড়ালেও তারা গণতন্ত্রের মর্যাদা কখনো রক্ষা করেনি বরং হিন্দু উগ্র জাতীয়তাবাদকেই তারা প্রাধান্য দিয়েছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

SHARE

Leave a Reply