এরদোগানের পুনরায় আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

হাফিজুর রহমান

15রাসূল সা. এর আগমনের সময় তাবৎ দুনিয়ায় দুটো বড় বড় সভ্যতা বিদ্যমান ছিল। একটি রোমান সভ্যতা অপরটি পারস্য সভ্যতা। রোমান সভ্যতা ছিল গোটা ইউরোপসহ এশিয়ার পশ্চিম-উত্তরের অংশ নিয়ে এবং তাদের রাজধানী ছিল ইস্তাম্বুল, তারা মূলত বিকৃত খ্রিষ্টবাদে বিশ্বাসী ছিল। আর ইরানের রাজধানী পারস্যকেন্দ্রিক বিশাল এক সা¤্রাজ্য ছিল পারস্য সভ্যতা, তারা মাজুসি তথা অগ্নিপূজায় লিপ্ত ছিল। এর বাইরে আরব দেশগুলোতে লোকজন শিরকের অন্ধকার অমানিশায় ডুবেছিল তথা আল্লাহকে বিশ্বাস করলেও মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। রাসূল সা.-এর ২৩ বছরের নবুওয়তের জীবনে গোটা আরবে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও হুদায়বিয়ার সন্ধি চলাকালে রাসূল সা. আরবের বাইরের বিভিন্ন গোত্রপতিদের কাছেও ইসলামের সুমহান দাওয়াত সংবলিত চিঠি লেখেন। এর মধ্যে অনেক গোত্রই দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু রোমান কিংবা পারস্য স¤্রাটরা রাসূল সা. এর দাওয়াতে সাড়া দেননি। পরবর্তীতে মুতার যুদ্ধে রোমান বাহিনীর সাথে মোকাবেলা হয় এবং রোমানরা ঐতিহাসিকভাবে পরাজিত হয়। এরপর তাবুকের যুদ্ধে রোমান বাহিনীর পশ্চাৎপদতার কারণে রোমান সা¤্রাজ্যের অধীন আজকের বর্তমানের সিরিয়ার আশপাশ এলাকায় ইসলামের দাওয়াতের প্রভাবে এ অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা মুসলমানদের দখলে আসে।

রাসূল সা. রোমান সা¤্রাজ্যাধীন বিশাল এ ইউরোপের অঞ্চলগুলোতে ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌঁছাতে প্রায়ই সাহাবীদের অনুপ্রেরণা জোগাতেন এবং উৎসাহ দিতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) অবশ্যই বিজয়ী হবে, আর যে সেনানায়কের নেতৃত্বে এই বিজয় অভিযান পরিচালিত হবে সে কতই না ভাগ্যবান এবং তার সাথে যে সেনারা সহায়তা করবে তারা কতই না ভাগ্যবান’ (আহমদ)। রাসূল সা.-এর এই ঘোষণার পর অনেক সাহাবীই এ অঞ্চলগুলোতে জিহাদের প্রেরণা নিয়ে কখনো অভিযান পরিচালনা কখনোবা দাওয়াতি কাজের মিশন নিয়ে আসেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন সাহাবী হচ্ছেন হযরত আইয়ুব আল আনসারী (রা)। আজও ইস্তাম্বুলে তাঁর কবর বিদ্যমান। পরবর্তীতে ওমর (রা) রোমান সা¤্রাজ্য বিজয় অভিযান পরিচালনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০৪৮ সালের যুদ্ধে সেলজুকে তুর্কি মুসলিমরা এশিয়া মাইনরে (তুরস্ক ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) বাইজেন্টাইনদেরকে (রোমসা¤্রাজ্য) পরাজিত করে। ১০৭১ সালের ২৬ আগস্ট সংঘটিত মানযি কাট্রের যুদ্ধে জয় লাভের মাধ্যমে তুরস্কে (তৎকালীন সময় থেকে খেলাফতের পতনের আগ পর্যন্ত বর্তমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বাদে এশীয় অংশটুকু আনাতোলিয়া নামে পরিচিত ছিল) সেলজুক শাসন পাকাপোক্ত হয়।
তবে কয়েক শতাব্দী পরেই সেলজুকরা দুর্বল হতে শুরু করে। আনাতোলিয়ার ক্ষুদ্ররাজ্যগুলোর সাথে বিচ্ছিন্নতা ও মোঙ্গলদের সাথে শক্তির ভারসাম্যে ক্রমশ পিছিয়ে যেতে থাকে সেলজুকরা। অপর দিকে উসমানী খলিফাগণ তুরস্কের সর্ব পশ্চিমের নগর বুরসাতে বাইজেন্টাইনদের বিভিন্ন দুর্গ দখল করে দ্রুত শক্তি অর্জন করে। ১৪৫৩ সালে সুলতান ফাতিহ মাহমুদের কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) জয় করার মধ্য দিয়ে উসমানীয় খেলাফত পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে। উল্লেখ্য যে, মুসলমানরা ইস্তাম্বুল জয় করার জন্য প্রায় ৪৪ বার অভিযান পরিচালনা করেন।
উসমানী খলিফারা অনেকটা ইসলামী আইন-কানুনের আদলেই প্রায় আটশত বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। তারা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার প্রায় ৭১টি দেশ বেশ দাপটের সাথেই পরিচালনা করেন (ছাত্রসংবাদের ডিসেম্বর ২০১৪ সংখ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি)। তারা এ সময় ইসলামের বিধি-বিধান পালনে কতটা সিরিয়াস ছিলেন সেটা বোঝা যায় একটি ঘটনা দিয়ে। সতেরশ শতাব্দীতে ইউরোপের তৎকালীন পরাশক্তিগুলো উসমানী খিলাফত ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা নিতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে একজন দূত (গুপ্তচর) পাঠায়। দূত বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে গিয়ে তাদেরকে প্রতিবেদন পেশ করে। আর সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল যে, ‘এখনো এখানকার মুসলিম নারীরা ঘরের বাইরে বের হয় না, এখানকার লোকজনের ঘুম ভাঙে ফজরের আজানে এবং ভোরে চারিদিক থেকে কুরআন তেলওয়াতের আওয়াজ ভেসে আসে।’ এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর তারা তখন আর হামলা করতে সাহস করেনি। যদিও তাদের কিছু কিছু খলিফার ব্যক্তিগত আচার-আচরণ ও চরিত্রের ব্যাপারে কিছু সমালোচনা আছে। তথাপি তারা আর্থসামাজিক দিক দিয়েও সে সময়কার বিশ্বসেরা এক পরাশক্তি ছিল।
কিন্তু ইহুদিদের ষড়যন্ত্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণে তছনছ হয়ে যায় তাদের সাম্রাজ্য। যার ফলে উসমানী খলিফাদের বিশ্বস্ত সেনাকর্মকর্তা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক বিশ্বাসঘাতকতা করে ইউরোপের এজেন্ডায় আজকের তুরস্কের সীমানায় সেক্যুলার তার্কিশ প্রজাতন্ত্র কায়েম করেন ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর। তিনি ও তার পরবর্তীরা প্রথমে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একদলীয় সরকার ও পরবর্তীতে বহুদলীয় সরকার পরিচালনা করেন, যা ছিল সেক্যুলারিজমের নামে ইসলাম বিরোধী শক্তির শাসন। গোটা তার্কিকে পাশ্চাত্য রীতিতে একটি জাতিতে পরিণত করতে সকল চেষ্টাই করা হয়। ইসলামের ওপর নেমে আসে সীমাহীন নির্যাতন। নিষিদ্ধ হয় আরবিতে আজান, আরবি হরফসহ অনেক মৌলিক বিষয়গুলো। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলামকে উঠিয়ে দেয়া হয় এবং বন্ধ করে দেয়া হয় মাদরাসাগুলোকে। নিষিদ্ধ হয় বোরকা, দাড়িসহ ইসলামের নিদর্শনগুলো। আর এসময়ের এ কাজগুলোর প্রভাব আজও তুরস্কের সমাজে বিদ্যমান- যার কিছু দিক নিম্নে উল্লেখ করছি-
শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে নিষিদ্ধ করার কারণে আজও তুরস্কের শিক্ষাব্যবস্থায় সেক্যুলারিস্টদের আধিপত্য বিদ্যমান, যা দিয়ে সহজেই একজন যুবককে পাশ্চাত্য রীতিতে বড় হতে উৎসাহ দেয়।
বোরকা ও ইসলামী পোশাক তুলে দিয়ে পাশ্চাত্যের পোশাক গ্রহণের ফলে আজও তুরস্কে হিজাবপরা মেয়েদের সংখ্যা ১০-১৫% এর বেশি হবে না। তুরস্কের রাস্তায় বের হলে বোঝাই কঠিন যে, এটা এত বড় ঐতিহ্যবাহী একটি মুসলিম রাষ্ট্র। এর পাশাপাশি পুরুষেরা সাধারণত পাশ্চাত্যের আদলেই পোশাক পরেন এবং কমসংখ্যকই দাড়ি রাখেন।
আরবি হরফ (তথা উসমানী খিলাফতের ভাষা উসমানলি) নিষিদ্ধের ফলে বর্তমান প্রজন্ম তাদের পূর্ববর্তীদের বিশ্বপরিচালনার গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ। দীর্ঘদিন ইসলাম থেকে দূরে রাখার কারণে যুবসমাজের একটা বড় অংশ অপসং¯ৃ‹তি ও মাদকের সাথে জড়িত। পাশ্চাত্য রীতিতে সেক্যুলারিস্ট হওয়ার কারণে ইসলামকে বাস্তব জীবনে প্র্যাকটিস করার সংখ্যা খুবই কম। তবে নিজেকে মুসলমান পরিচয় দিতে খুবই ভালোবাসেন।

আতাতুর্ক ও তার অনুগামীদের পরবর্তীতে সত্তরের দশক থেকে একবিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত একজন মহান ব্যক্তি তুরস্কে ইসলামের অনুশাসন ও সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছেন, তিনি হলেন ড. নাজিমুদ্দিন এরবাকান। সরকারি দলেই ছিলেন কিংবা বিরোধী দলেই ছিলেন সর্বদা ইসলামের অনুশাসন ফিরিয়ে আনতে তিনি তার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করেছিলেন। তাইতো তিনি পাশ্চাত্যের সবচেয়ে বড় দুশমনে পরিণত হয়েছিলেন। সত্তরের দশক থেকে উনি ও উনার দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে এমন কোনো হীন কাজ নাই যা তারা করেনি। বারবার দল নিষিদ্ধ করা, সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা, এরবাকানকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করাসহ সকল ধরনের কাজ করে যখন তারা ব্যর্থ তখন ভিন্ন এক কৌশলের আশ্রয় নেয়। আর তা ছিল দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি। ১৯৯৭ সালে এরবাকানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দলের তরুণদেরকে উৎসাহ দেয় আলাদা সংস্কারপন্থী প্লাটফর্ম খোলার জন্য। যার অংশ হিসেবে ২০০১ সালে এসে এরবাকানের সবচেয়ে যোগ্য দুই শিষ্য আব্দুল্লাহ গুল ওরিসেপতায়েপ এরদোগানরা একে পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাশ্চাত্যের অন্যতম এজেন্ট গুলেন মুভমেন্টের নেতা ফেতুল্লাহগুলেনের সহযোগিতায় রাতারাতি ক্ষমতায় চলে আসেন। (আর গুলেন মুভমেন্ট সারা দুনিয়ায় যেখানে ইসলামী আন্দোলন শক্তিশালী সেখানে তারা আমেরিকার এজেন্ট হিসেবে তাকে দমাতে কাজ করেন। এর পাশাপাশি ইসলামকে লিবারেল হিসেবে পেশ করেন পাশ্চাত্যের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী) এ ক্ষেত্রে বলাইবাহুল্য নির্বাচনের খরচ, মিডিয়ার সাপোর্টসহ সবসহায়তাই পশ্চিমারা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এরদোগান মূলত পশ্চিমাদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে আসছিলেন।

পরবর্তীতে উনি যখন বুঝতে পারলেন যে, উনার ক্ষমতার পুরো সুবিধাই গুলেন ভোগ করছেন এবং প্রশাসন, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ সবজায়গা তারা দখল করে ফেলেছে তখন এরদোগান গুলেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ২০১২ সাল থেকে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এরদোগান গুলেনকে দেয়া রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা তুলে নেন। আর ওদিকে গুলেনও তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। গুলেন এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেই রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পরিকল্পনা নেয়। যারই অংশ হিসেবে ২০১৩ সালে তুরস্কে বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়। এর পাশাপাশি মিডিয়া ক্যু করে এরদোগান ও মন্ত্রীদের বানোয়াট দুর্নীতি দেখানোর প্ল্যান করে। সরকার পতনের মত অবস্থারও সৃষ্টি হয়ে পড়েছিল। এমনকি কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয়। কিন্তু এরদোগান কঠিন হস্তে এটা দমন করেন। নিজে সারা দেশে ব্যাপক সফর ও মানুষের কাছে তার কথাগুলো তুলে ধরেন। এত কিছুর পরও এরদোগান তুরস্কে এখনো এককভাবে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। ২০১৩ সালের বিদ্রোহ ভালোভাবে দমানোর কারণে তার জনপ্রিয়তা এখন আরো বেড়েছে। তারই অংশ হিসেবে গত বছরের (২০১৪ সাল) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিতি প্রার্থী ওআইসির সাবেক মহাসচিব ড. একমেলুদ্দিন এহসানগুলকে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
এরদোগান ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন প্র্যাকটেসিং মুসলিম। তিনি একজন কুরআনে হাফেজও বটে। তাই তিনি পশ্চিমাদের আনুকূল্য নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বেশ কিছু কাজ করেছেন যেটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এর মধ্যে বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ইসলাম পালন ও ইসলামের বিকাশে অবাধে সংগঠনগুলোর কাজ করার সুযোগ দান, ব্যাপক মসজিদ নির্মাণ (বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে) ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় কথা তার সময়ে ইসলামী আন্দোলন কোন বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারছে। এরদোগানের প্রশংসনীয় আরো কয়েকটি কাজ হলো মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের সাহায্যার্থে খাবারের জাহাজ পাঠানোতে সহায়তা।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তুরস্কে আবারো আরবি হরফ (তথা উসমানী খিলাফতের সময়কার ভাষা উসমানলি) পুনঃপ্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এটা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে মাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে এ ভাষা শিখানোর প্ল্যান নিয়েছেন। এটা এমন সময় ঘোষণা দিলেন যার সাত মাস পরেই তুরস্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এ সময় এটা বেশ আলোচনার দাবি রাখে। আর এটা পুনঃপ্রবর্তনে যে যুক্তিগুলো এসেছে তা হলো তার্কিশরা তাদের পূর্বপুরুষদের ভাষা না জানার কারণে পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ঐতিহ্য ভালোভাবে বোঝার সুযোগ পাচ্ছে না। তাই পাশ্চাত্যকেই বিশ্বপরিচালনার মডেল মনে করে। কিন্তু এ ভাষা বুঝলে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বপরিচালনার ইতিহাস, তাদের অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে। এরদোগান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের জাতিকে এমন অবস্থায় পরিণত করা হয়েছে যে, আমরা আমাদের দাদা কিংবা পূর্বপুরুষদের কবরের নামফলকও পড়তে পারি না কেননা সেটা আরবি হরফে লেখা।’

স্বভাবতই বিরোধী বাম দলগুলো বিশেষ করে আতাতুর্কের দল এর চরম বিরোধিতা করছে। তারা সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে এবং এটাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এরদোগান খুব স্পষ্টতই ঘোষণা করেছেন ‘আপনারা যত বিরোধিতাই করেন না কেন আমি এটা বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।’ তুরস্কসহ সাম্প্রতিক বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের মধ্যে স্বভাবতই এটি একটি। এরদোগানের এ সময়ে এসে এ ঘোষণা অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে। স্বভাবতই এটা তার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে তুরস্কের শিক্ষাকমিশন এটা চালু করা নিয়ে পরিকল্পনাও গ্রহণ করে ফেলেছে। এর পাশাপাশি আরেকটি ভালো খবর হলো প্রাইমারি লেভেলের সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এগুলো যদি সর্বস্তরে চালু করা হয় এবং তুরস্কের জনগণ তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য আবারো ধারণ করার মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে ইসলামের আলোকে নিজেদের গড়তে পারে তাহলে তুরস্ক আবারো মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় ধরনের উদাহরণ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, গাজি ইউনিভার্সিটি, আনকারা, তুরস্ক

SHARE

Leave a Reply