করোনায় শিক্ষার সঙ্কট -সীমান্ত আকরাম

বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ধরনের সঙ্কটের চিত্রপটে শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান। করোনা মহামারী (কোভিড-১৯) এর ছোবলে বিপর্যস্ত অবস্থায় বিরাজমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। আমাদের দেশে ইতিহাসে এই প্রথম দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চরম সঙ্কটে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক। বৈশ্বিক মহামারী কারোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সরকার সংসদ টেলিভিশন, বেতার ও অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে সব শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাচ্ছেন না।
প্রাথমিক স্তরে পাঠগ্রহণকারী শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক দিকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এই করোনা মহামারী পরিস্থিতে। শহরে ফ্ল্যাট বাড়িতে বন্দি কোমলমতি শিশুরা স্কুলের আনুষ্ঠানিক পাঠগ্রহণ ও বন্ধু-সহপাঠীদের সংস্পর্শ থেকেও বঞ্চিত। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, রাত জেগে গেমস খেলা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্তি, অনলাইন ক্লাসে অনাগ্রহ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা, ঘুম কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছে তারা। অন্যদিকে প্রাথমিকে গ্রামের শিশুরা অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত। করোনার প্রভাবে ২০২০ সালের পিইসি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষাগুলোও।
করোনায় বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। অল্প পুঁজি নিয়ে পথচলা এসব স্কুলের বিরাট একটি অংশ বন্ধ হয়ে গেছে। সারা দেশে প্রায় ৬৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল। এর অন্তত অর্ধেক করোনাকালে বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলোর শিক্ষক ও স্টাফরা না খেয়ে, একবেলা আধপেটা খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন।
করোনায় দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষতিও ভয়াবহ। গত বছর কোনো বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই উপরের শ্রেণিতে উঠেছে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। ফলে গত বছরের ক্লাসের দক্ষতা ঘাটতি তাদের রয়েই গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন বছরে নতুন ক্লাসের পড়াশোনা। অথচ স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ নেই। সামর্থ্যবান অভিভাবকরা গৃহশিক্ষক দিয়ে পড়াচ্ছেন। তবে শিক্ষকের কাছে দিনে এক ঘণ্টা পড়ে বিদ্যালয়ের ৬-৭ ঘণ্টা ঘাটতি পূরণ হওয়ার নয়। অন্যদিকে করোনায় নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র অসংখ্য অভিভাবকের আয়ে ধস নেমেছে। তাই তারা সন্তানের জন্য গৃহশিক্ষক রাখতে পারছেন না।
গত বছর এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও একদিনও ক্লাসে বসতে পারেনি। করোনায় গত বছরের এইচএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে নেওয়া সম্ভব হবে কেউ জানে না। এদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে সরাসরি ক্লাস করেছে, দশম শ্রেণিতে ক্লাস পেয়েছে মাত্র আড়াই মাস। তাদের প্রিটেস্ট ও টেস্ট কোনো পরীক্ষাই হয়নি। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে দেওয়া হয়েছিল অটোপাস।
উচ্চশিক্ষা স্তরেও করোনার থাবায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীরা। সেশনজট জেঁকে বসেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, আছে চাকরির চিন্তা। সেশনজট কাটাতে এক বছর অপেক্ষা করার পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চলতি মাসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ অনুমতি গত বছরই দেয়া হয়েছিল।
করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ সেমিস্টার ও মাস্টার্সের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা হয়। কিন্তু অন্য সেমিস্টারগুলোতে কিছু ক্লাস হলেও পরীক্ষা হয়নি। বন্ধ রয়েছে উচ্চতর গবেষণাও। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী নেই। এটি শিক্ষাব্যবস্থার একটি চরম সঙ্কট। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা পাশাপাশি চলছিল। সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে শোনা যাচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে একটা বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা চলছে। এটি করতে গেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হবে। পরীক্ষা নিতে না পারলে শিক্ষার্থীদের প্রমোশন আটকে যাবে, প্রমোশন আটকে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদের সেমিস্টার ফি দেবে না, এতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে গেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা আগামী ৩১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ, ততদিনে শেষ হয়ে যাবে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ। ভর্তি পরীক্ষাইতো শেষ কথা নয়। ক্লাস শুরুর আগে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে লেগে যাবে আরো কয়েক মাস সময়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগের ভর্তি কার্যক্রমটি চলেছে প্রায় দুই বছর আগে।
বুয়েটসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও কাছাকাছি। এক-দুই মাস আগে-পরে ভর্তি পরীক্ষাগুলো হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এই ব্যাচ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখবে, তাদের পূর্ববর্তী ব্যাচগুলো নানাভাবে সেশন জটে রয়েছে এবং সেটার প্রভাবও তাদের উপর পড়বে। এ বছর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষাই ব্যতিক্রম। এই পরীক্ষাও হয়েছে নিয়মিত সময়ের অনেক পরে।
করোনায় শিক্ষা খাতের ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন জরিপেও। গণসাক্ষরতা অভিযানের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ও দূরশিক্ষণ বা বেতার, টেলিভিশন, অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেওয়া পাঠদানের আওতায় এসেছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি ৯২ শতাংশ আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনের পাঠদানের আওতায় এসেছে।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকের ১৯ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনার এই সময়ে নিয়মিত পড়াশোনার একদম বাইরে রয়েছে। এ গবেষণায় এমন প্রেক্ষাপটে মা-বাবাদের চিন্তাভাবনার চারটি মৌলিক দিক উঠে এসেছে। এগুলো হলো- শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়া, শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাওয়া, স্কুল খোলার সময় নিয়ে চিন্তা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানজনিত উদ্বেগ।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হলেও আটকে যায় এইচএসসি। পরে অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন তারা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছাড়াই সনদ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফল ঘোষণার এই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তিনটি আইন। সেগুলো সংশোধন করে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় ফল।
আগের দুই বছরে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ পাস করলেও এ বছর অটোপাসে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ে তিনগুণের বেশি। গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরকে যেভাবে অটোপাস দিয়ে দেয়া হয়েছে, এটার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল বার্তা গেছে। অন্যান্য ক্লাসেও সারা বছর লেখাপড়া না করেই অনেকে পরের ক্লাসে উঠে গেছে। এখন এরা কেন লেখাপড়া করবে? লেখাপড়ার একটা বড় মোটিভেশন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাই যেখানে নাই। সেখানে মোটিভেশনটাও নাই হয়ে যায়। এখন এদের ভিত্তি দুর্বল থেকে যাবে। যার জন্য তাদেরকে সারা জীবন ভুগতে হতে পারে।
স্মার্টফোনের কল্যাণে বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের কার্যকর ব্যবহার এখনও এদেশে তেমনটা দেখা যায়নি। ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ এবং অগ্রগতি সত্ত্বেও শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বেশ ধীরগতির এবং তেমন কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।
বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট এখনও সহজলব্ধ হয়নি তাই শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের কার্যকরী ব্যবহার সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায়নি। তবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব যদি দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এবং নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্সিগুলো দীর্ঘসময় একসাথে কাজ করতে রাজি হয়। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শুধু অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, অনলাইনে তারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও নেয়ার ব্যবস্থা করছে। আমাদের দেশে এই বিষয়ে সমন্বয়ের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদেরকেও ভাবতে হবে।
অনলাইনে ক্লাস যদি নেওয়া যায়, পরীক্ষা নেয়ারও একটা ব্যবস্থা বের করতে হবে। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় বলে একটি প্রবাদ বাক্য আছে। করোনাকৃষ্ট সঙ্কট মোকাবিলা করতে হলে আমাদেরকে হাত গুটিয়ে বসে থাকবার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের জ্ঞান পরিমাপের জন্য। অনলাইনে প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান পরিমাপ করা যাবে না, এমনটি হতে পারে না।
থিওরেটিক্যাল পরীক্ষায় কোনো রকম সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব পাঠ্য বিষয় আছে, তাদের সিলেবাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ৮০ শতাংশ পরীক্ষা হবে থিওরি বিষয়ে ২০ শতাংশ পরীক্ষা হবে ব্যবহারিক। ২০ শতাংশ ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৮০ শতাংশ থিওরি পরীক্ষা স্থগিত করে রাখা মোটেই সমীচীন হবে না। ২০ শতাংশ ব্যবহারিক পরীক্ষার দায়ভার সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর হাতে ছেড়ে দিলেই সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অনায়াসে দিতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে এসে ব্যবহারিক এবং তত্ত্বীয় বিষয়গুলোর পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারবে। বিশ্বজুড়ে করোনার তাণ্ডব দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন শিফটেও পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গুরুত্বের আলোকে সিলেবাসের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রেখে বিভিন্ন সেট অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করা সম্ভব।
বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহ, কানেকটিভিটির প্রসার, অন্যান্য সহায়ক বইগুলো সহ-শ্রেণির নির্ধারিত বইগুলোর ইলেকট্রনিক ভার্সনের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় ডিভাইস সরবরাহ করা, মানসিক স্বাস্থ্যের কার্যকরী চিকিৎসাসেবা দেওয়া, প্রতিটি শ্রেণি এবং কোর্সের ডামি বা অ্যানিমেটেড শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ডেমো ক্লাসের ব্যবস্থা করা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিক্ষা টেলিভিশন ও রেডিও চালু করা, মহামারী বিলম্বিত হয়ে বছরের পর বছর চলতে পারে- এটা ধরে নিয়ে ব্লেন্ডেড মিক্সড পদ্ধতিতে-অনলাইন এবং শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানের পদ্ধতি গ্রহণ করা, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এর উপর সরাসরি পরীক্ষা নেয়া, শিক্ষার সাথে যুক্ত সবাইকে অতি দ্রুত টিকার আওতায় নিয়ে আসা, পাইলট পদ্ধতিতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে লব্ধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া। শিক্ষার সঙ্কট কিছুটা হলেও দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এরকম নানা উদ্যোগ, কৌশল ও পরিকল্পনা নেয়া এবং তা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থায় যে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। না হয় একটা অশনিসঙ্কেত আগামীর বাংলাদেশের জন্য বিরাজমান পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে!
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply