কলম ধরুন আপনিও লিখতে পারবেন -মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত

কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাহউদ্দিন আইউবী ভাইয়ের কল এসেছে। কলের উদ্দেশ্য আমার জানা। সম্ভবত এটি গত দুই দিনের মধ্যে তৃতীয় ফোন কল। এর আগে দুপুরে সহকারী সাহিত্য সম্পাদক ইমাম হোসেন ভাইও মেসেজ দিয়েছেন। কল এবং মেসেজের উদ্দেশ্য এক। মাসিক ছাত্র সংবাদ পত্রিকার জন্য আমার লেখা কবে জমা দিবো। সম্পাদক ভাইকে বললাম, লিখতে চাই কিন্তু কলমতো চলে না! তিনি বললেন ‘এ বিষয়ের ওপর না হয় একটা কিছু লিখে দেন না’। কথা হচ্ছিল যখন তখন রাস্তায় ছিলাম। আমার লেখা প্রথম বই ‘জীবন বদলে যাবে’ নতুন করে ছাপানোর জন্য কিছু কারেকশন দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। সাহিত্য সম্পাদক ভাইকে তখনো নিশ্চয়তা দিইনি লেখা দিতে পারবো কি না।
লেখালেখি কখনো খুব সহজ আবার কখনো ভীষণ কষ্টের মনে হয়। যখন কষ্টের মনে হয় তখন ভাবি প্রসিদ্ধ লেখকেরা হাজার হাজার পৃষ্ঠা কিভাবে রচনা করেছিলেন। কিভাবে সম্ভব হলো তাদের শত শত বই লেখা। দার্শনিক আল রাযী, তিনি প্রায় ২০০টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। মাত্র এক বছরেই তিনি বিশ হাজার পৃষ্ঠা মৌলিক রচনা করেন যা প্রতিদিন গড়ে ৬০ পৃষ্ঠা। লেখালেখিতে তিনি এত বেশি পরিশ্রম করেন যে, এক সময় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। প্রখ্যাত পন্ডিত আল কিন্দি ২৬৫টি গ্রন্থ রচনা করেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আল তাবারী ক্রমাগত চল্লিশ বছর যাবৎ দৈনিক ৪০ পৃষ্ঠা করে মৌলিক রচনা লিখতেন। যার যোগফল দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার পৃষ্ঠা। জামানার মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ) শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। রচনা করেছেন মহাগ্রন্থ আল কুরআনের যুগশ্রেষ্ঠ তাফসির গ্রন্থ ‘তাফহিমুল কুরআন’। এভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় পৃথিবীর মনীষীরা শত শত বই, হাজার হাজার পৃষ্ঠা রচনা করে অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন।
লেখালেখিতে কেমন কষ্ট তা আমার মতো লেখায় হাতে খড়ি হওয়া নবীনদের ভালোই জানার কথা। কখনো কখনো মনের সাথে প্রচণ্ড লড়াই করেই লিখতে হয়। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, লেখায় যতই মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করি মন ততই লেখা থেকে আগ্রহকে অন্য দিকে ফেরাতে তৎপর হয়ে ওঠে। আমার লেখালেখিতে হাতে খড়ি হয়েছিল কবিতা লেখার মাধ্যমে। আগে আগ্রহ নিয়ে প্রচুর কবিতা লিখতাম। এক সময় রাত জেগেও কবিতা লিখতাম। ফেনীতে পড়াশোনাকালীন সময়ে ২০০৩ সালে ফেনী থেকে প্রকাশিত ‘কিশোর পাতা’ পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। কবিতাটি প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সময়েই জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম সংখ্যায় প্রকাশ না হওয়ায় হতাশ হয়েছিলাম। তবে দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার পর এতই উচ্ছ্বসিত ছিলাম যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আমার কবিতার ভাণ্ডারে যে সময়ে শতাধিক কবিতা লেখা জমা হয়ে যায় তখনো কবিতার বাইরে ভিন্ন কোন বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টাই করিনি। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করলেও অন্য কোন বিষয় নিয়ে কলম ধরার সাহস করিনি। কবিতার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যে রাতে প্রথম একটি বিষয়ের ওপর লেখার চেষ্টা করি সেই রাতের কথা এই লেখাগুলো লেখার সময় স্মৃতিতে ভাসছে। সে দিনও মনে হয় রাতের গভীরতা আজ রাতের মতোই ছিল। যখন লিখছি তখন তাকিয়ে দেখলাম, টিক টিক করে চলা টেবিলঘড়ি জানান দিচ্ছে এখন রাত ১টা ২৪ মিনিট। সে দিন রাতে আমার ইচ্ছে ছিল গল্প লেখার। কিন্তু কিভাবে শুরু করা যায় বা কি নিয়ে গল্প লেখা যায় তা নিয়ে ভাবতেই সময় পার। ভাবতে ভাবতে খাতা-কলম হাতে নিয়েও আর সে রাতে লেখা হয়নি। পরের রাতে পড়াশোনা শেষে আবার গল্প লিখতে বসি। এখনো মনে আছে আমি এক লাইন লিখছি আবার সেটি কেটে দিচ্ছি। এভাবে কয়েকলাইন লিখে আবার কেটে দেই। একসময় খাতা থেকে পুরো পৃষ্ঠাটাই ছিঁড়ে ফেলে দিই। এভাবে কাটাকাটি আর কাগজ ছেঁড়ার মধ্য দিয়েই আমার গল্প লেখার দ্বিতীয় দিবস পার হয়। সে রাতে আর গল্প লেখা হয়নি। ব্যর্থ মনোরথে ঘুমিয়ে পড়ি। যে প্রবল ইচ্ছা নিয়ে গল্প লেখার মনোবাসনা করেছিলাম তা প্রথম ধাক্কায়ই উবে যায়। পরদিন ফজরে ঘুম থেকে উঠে ভাবলাম গল্প বা কলাম লেখা মনে হয় আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেই যে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গেলাম বহুদিন আর চেষ্টাও করিনি। তবে মাঝে মধ্যে অনিয়মিতভাবে কবিতা লেখা অব্যাহত ছিল।
লেখালেখিতে বারবার আগ্রহ তৈরি করে জনপ্রিয় মাসিক শিশুকিশোর পত্রিকা ‘কিশোরকণ্ঠ’। কিশোরকণ্ঠের গল্প উপন্যাস পড়ি আর সে রকম লেখার ভাবনা করি। প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী সম্পাদক আবুল আসাদ রচিত ‘সাইমুম সিরিজে’র বই পড়েও ঠিক তেমনই সিরিজ লেখার আগ্রহ জাগতো। কিন্তু সব আগ্রহ ইচ্ছা ভাবনাতেই শেষ হয়ে যেত! পড়া শেষতো লেখার প্রচেষ্টা ভাবনাতেই শেষ। বাস্তবতা হচ্ছে মনের আগ্রহ এক জিনিস আর মনের সেই আগ্রহকে ভাষায় রূপান্তর করে লেখনীতে প্রকাশ করা আরেক জিনিস। আমার কেন জানি এত আগ্রহ থাকার পরও লেখনীতে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছিল না। গত কয়েকদিন ধরেই পুরনো সেই রোগ যেন আমাকে গ্রাস করছিল। লেখার ইচ্ছা করি, কাগজ কলম হাতে নিয়ে লিখতেও বসি। কিন্তু লিখতে গেলে হয় জরুরি কোনো ফোন আসে না হয় মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। মনকে লেখায় একনিষ্ঠভাবে নিবদ্ধ করতে পারি না। ইতোমধ্যে লেখা জমা দেয়ার কয়েক দফা টাইমলাইনও পার হয়ে গেছে। দুপুরে সহকারী সাহিত্য সম্পাদক ইমাম হোসেন ভাইকে জানিয়েছি, আজ দিবাগত রাত পোহাবার আগে যদি লেখা জমা দিতে ব্যর্থ হই তাহলে আমার লেখা ছাড়াই এ সংখ্যা প্রকাশ করেন। কারণ ইতোমধ্যেই আমাকে জানানো হয়েছে আমার লেখা ছাড়া বাকি সব লেখাই হাতে এসেছে। আমার লেখার জন্যই শুধু অপেক্ষা।
পড়াশোনার জন্য ফেনী থেকে ঢাকায় আসার পর দৈনিক পত্রপত্রিকা পাঠে নিয়মিত হই। আগেও যে দৈনিক পত্রপত্রিকা নিয়মিত পাঠ করতাম না বিষয়টি তেমন নয়। এখানে এসে সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার হলে থাকা অবস্থায় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পাঠ করার সুযোগ হয়। দৈনিক ইনকিলাবের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘ইংগিত’ পড়ে পাঠকের বিভিন্ন লেখা দেখে নতুন করে আবার লেখার আগ্রহ তৈরি হয়। দৈনিক ইনকিলাবে পাঠকদের লেখা প্রকাশের জন্য সাপ্তাহে একদিন সম্ভবত মঙ্গলবার ‘মুক্তাঙ্গন’ নামে একটি পাতা ছিল। এখন আছে কি না জানি না, কারণ বহুদিন ইনকিলাবের মুক্তাঙ্গন পাতা আর পড়ে দেখা হয়নি। মুক্তাঙ্গন পাতায় পাঠকের লেখা প্রকাশ করা হয় দেখে প্রথম কোনো জাতীয় দৈনিকে লেখা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০৫ সালে একটি লেখা পাঠাই। লেখা পাঠানোর পর কত মঙ্গলবারের অপেক্ষায় ছিলাম তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু আমার লেখা পত্রিকার মুক্তাঙ্গন পাতায় দেখা যায় না। এক সময় ভাবলাম মাত্র একবার লিখেই লেখা ছাপানোর প্রত্যাশা করা কি ঠিক। এসব ভেবে মঙ্গলবারের পত্রিকা দেখার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। মাস দুয়েক পর কোনো একজন ভাই পত্রিকা নিয়ে ছুটে এলেন আমার রুমে। নিজের লেখা প্রকাশিত হয়েছে দেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।
জাতীয় দৈনিকে লেখা প্রকাশ নতুন করে লেখালেখিতে শক্তি জোগায়। নতুনভাবে অনুপ্রেরণা নিয়ে আবার লেখালেখি শুরু করি। এবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিভিন্ন দিবস ও সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে লেখা পাঠাতে থাকি। কখনো নিয়মিত কখনো অনিয়মিত এভাবে চলতে থাকে লেখালেখি। কখনো একাধারে কয়েক মাস জাতীয় দৈনিকে লেখা প্রকাশিত হয়েছে, কখনো মাসের পর মাস লেখা পাঠানোর পরও কোন খবর নেই। তবে এবার আর লেখনী থেকে হতাশ হয়ে কলম ধরা ছেড়ে দিইনি। আস্তে আস্তে লেখালেখিতে গতি বাড়াতে থাকি। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হয়। দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক দিনকাল ও সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় বহু লেখা প্রকাশিত হয়, আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিটি লেখাই নতুন করে আরো বেশি করে লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা জোগায়। ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখায় কাজ করার সময় ‘মাসিক অনুশীলন’ পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন লেখালেখি করতে হয়েছে বলা যায় বাধ্য হয়ে। কারণ লেখকের অভাব। জোর করে কত জনের কাছ থেকে আর লেখা আদায় করা যায়। পত্রিকা প্রকাশ করতে হলে লেখা লাগবেই। ২০১৩-২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক থাকা অবস্থায় মাসিক ছাত্র সংবাদে নিয়মিত লেখার চেষ্টা করি। ‘মাসিক ছাত্র সংবাদে’র সম্পাদক হয়ে লেখা জমা দেয়া ছিল আরো বাধ্যতামূলক। বাধ্য হয়ে লেখালেখি পরবর্তীতে আমার লেখালেখির হাতকে সহজ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। এ জন্য যারা আমাকে ব্যাপক অনুরোধ করে লেখা আদায় করেছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
লেখালেখির জন্য যে ধরনের পরিবেশ এবং সুযোগ দরকার সামগ্রিক ব্যস্ততায় তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ২০১৩ সালের ২৫ মে জীবনে দ্বিতীয় বারের মত যখন আওয়ামী জুলুমবাজ সরকার কর্তৃক গ্রেফতার হই তখন মূলত লেখালেখির অফুরন্ত সুযোগ আসে। এ দফায় দীর্ঘ ১৩ মাস কারাবরণ করি। ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যখন প্রথম গ্রেফতার হই তখন ৬ মাস কারাগারে থাকলেও লেখালেখির আগ্রহ এবং সুযোগ কোনটাই তেমন ছিল না। দ্বিতীয় বারে কারাগারের সময়গুলোকে অলস না কাটিয়ে লেখালেখিতে মনোযোগ দেই। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর মূলত লেখালেখির সুযোগ বেশি পাই। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর চিত্রা বিল্ডিংয়ের ১১ নম্বর কক্ষে বসে গল্প, কবিতা, জীবনাচরণ এবং জেল-জুলুম নির্যাতনের স্মৃতিমূলক লেখালেখি। মুক্তি লাভের পরে এই লেখাগুলোকে আরো পরিমার্জন করে এবং তাতে তথ্য-উপাত্ত এবং কুরআন হাদিসের আরো রেফারেন্স যুক্ত করে মাসিক ছাত্র সংবাদ পত্রিকায় প্রতি মাসে একটি করে বিষয়ের ওপর লেখা প্রকাশ করি। তারই ধারাবাহিকতায় সে সব পাণ্ডুলিপি থেকে ‘জীবন বদলে যাবে’ নামক বইটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। বাকি লেখাগুলোও সময় সুযোগে প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখালেখি মূলত একটি শক্তিশালী মাধ্যম। লেখনীর শক্তির চাইতে বড় শক্তি দুনিয়াতে আর নেই। আমরা যারা সত্য পথের যাত্রী আমরা তা ভালো করেই উপলব্ধি করি। লেখালেখি সামগ্রিকভাবে কত গুরুত্বপূর্ণ এবং কতবেশি প্রয়োজন তা আমাদেরই বেশি ভালো জানার কথা। হলুদ সাংবাদিক আর জ্ঞানপাপী কলম সৈনিকরা প্রতিনিয়তই আমাদেরকে তাদের মিথ্যা আর বানোয়াট লেখনীর দ্বারা ঘায়েল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা দার্শনিক গোয়েবলস-এর সূত্রকে কাজে লাগাচ্ছে। সূত্রটি হচ্ছে, একটি মিথ্যাকে যদি শত বার প্রকাশ করা যায় তাহলে সেই মিথ্যাও সত্যে পরিণত হয়। কিন্তু যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে দেশ, ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন এবং এর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে জ্ঞানপাপীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কলম ধরছে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা কলম ধরার কোনো বিকল্প নেই। মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যকে বিজয়ী করতে হলে, জাতির সামনে প্রকৃত সত্যকে উন্মোচিত করতে হলে, ইসলামের সুমহান বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছাতে হলে কলম হাতে নিতেই হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মুহতারাম আমিরে জামায়াত জনাব মকবুল আহমদ সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম দোয়া চাইতে। উনি সবার আগে যে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত আমাকে দেন তা হলো লেখক হওয়ার জন্য। তিনি লেখালেখির চর্চা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে এবং সকল জনশক্তিকে লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ দেন। মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম (রহ), শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহ) সাহেবের অনেক আলোচনা আমি সরাসরি শিক্ষা শিবিরে শুনেছি। সেখানেও তারা লেখালেখিতে গুরুত্ব দিতে নসিহত করেছেন। শহীদ মাওলানা নিজামীর একটি আলোচনা এখনো আমার মনে আছে। তিনি বলেছেন, তোমরা কোনো বিষয়ে যখন ১০ পৃষ্ঠা পড়বে সে বিষয়ে কমপক্ষে ২ পৃষ্ঠা লেখার চেষ্টা করবে।
সত্য পথের যাত্রী সম্মানিত পাঠকদের কাছে বিনীত অনুরোধ করতে চাই- লেখালেখি শুরু করুন দেখবেন আপনিও লিখতে পারবেন। মনকে স্থির করতে পারলেই লেখালেখি কঠিন কোন বিষয় নয়। আপনি প্রতিদিন ফেসবুকে যা লিখেন সেগুলোকে একসাথ করলে দেখবেন আপনার একটি আর্টিকেল লেখা হয়ে গেছ। লেখালেখিতে যদি কোন তথ্য যোগ করতে চান ইন্টারনেট আপনার হাতেই আছে। গুগলে চলে যান সার্চ দিন তথ্য পেয়ে যাবেন। চলতে ফিরতে আপনি কত কিছুই দেখেন, কত শত ঘটনার সাক্ষী আপনি। সেগুলোকে অল্প অল্প করে প্রকাশ করুন লেখনীর মাধ্যমে। অলসতা দূরে ঠেলে কলম ধরুন, দেখবেন আপনিও লেখক হয়ে উঠবেন, লেখালেখি আপনার জন্যও সহজ হয়ে যাবে। আমাদের কলম হোক সত্যের পক্ষে, সত্যকে উন্মোচনে। দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ে শানিত হোক আমাদের কলম।
লেখক : এমফিল গবেষক

SHARE

Leave a Reply