কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট

গোলাপ মুনীর

কোনো রোবটই আজ পর্যন্ত মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। রোবট পাস করতে পারেনি Turing Test। অতএব একটি রোবটকে মানুষের সমকক্ষ ভাবাও হয়নি। কিন্তু এর পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট সৃষ্টির নানামুখী চেষ্টা-সাধনা থেমে থাকেনি। চেষ্টা চলছে সৃজনশীল রোবট উদ্ভাবনের। পাশাপাশি ভাষা বুঝে এমন রোবট তৈরির চেষ্টাও চলছে।
প্রশ্ন হচ্ছে যন্ত্র কি চিন্তা করতে পারে? ১৯৫০ সালে Alan Turin-এর প্রকাশিত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাপূর্ণ প্রবন্ধের এ ধরনের প্রশ্নই কার্যত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টির আধুনিক অনুসন্ধানের সূচনা ঘটায়। তার এই প্র্রশ্ন মূলত জাগে তাকে তার দশ বছর বয়সের সময় দেয়া একটি বই : Natural Wonders Every Child should know বইটি লিখেছেন Edwin Tenny Brewster। এই বইটি এমন কিছু বিষয়ে পরিপূর্ণ ছিল, যা কিশোর তুরিঙ্গের মনে নানা ভাবনার জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্যে তার এই উদ্দীপনাপূর্ণ উচ্চারণটি ছিল : Of course the body is a machine. It is vastly complex, many times more complicated than any machine ever made with hands, but still after all a machine. It has been likened to a steam machine but that was before we know as much about the way it t works as we know now. It really is a gas engine; like the engine of an automobile, a motorboat or a flying machine.
মানবদেহ যদি একটি যন্ত্র হয়ে থাকে, তখন তুরিঙ্গের প্রশ্ন : তবে মানুষ যেভাবে চিন্তা করতে পারে; তেমনি চিন্তা করতে পারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র তৈরি কি সম্ভব?
এ বছর তুরিঙ্গের জন্মশতবার্ষিকী। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সাফল্য ও ব্যর্থতার প্রশ্ন কি উঠতে পারে না? তুরিঙ্গের প্রবন্ধ প্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত সময়ে আমরা যেসব রোবট উদ্ভাবন করতে পেরেছি, তা কি মানুষের বুদ্ধিমত্তার কাছাকাছি পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছে? আমরা মানুষের বুদ্ধিমত্তার পরিমাণ কিভাবে পরিমাপ করব, যে বুদ্ধিমত্তা কৃত্রিমভাবে আমরা সৃষ্টি করতে পারব? আমরা কি পারব তুরিঙ্গের স্বপ্ন পূরণ করতে? অথবা আমরা কি তৈরি করতে পারব এমন কোনো রোবটযন্ত্র, যার বুদ্ধিমত্তা আমাদের বুদ্ধিমত্তার চেয়ে আলাদা কিছু? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি নিয়ে এমনি সব নানা প্রশ্ন আমাদের মনে জাগে।
গত বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টি সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা লক্ষ করেছি। সুপরিচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবি-এর মানুষের সাথে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম করে। এর নাম ওয়াটসন। এই ‘ওয়াটসন’ কম্পিউটারকে নামানো হয় আমেরিকার সবচেয়ে সফল গেম শো ‘জিওপার্ডি’তে। এটি ছিল বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি মেশিনকে নামানো হয় একটি জেনারেল নলেজ কুইজে। কিন্তু কোনো কুইজের উত্তর যদি হয় এমন ‘William Willkenson’s-Gi †jLv An Account of the Principalities of Wallachia and Moldavia নামের বইটি লেখককে তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস লেখায় অনুপ্রাণিত করেছিল।’ তবে এই কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজন হবে অতি উন্নতমানের প্রোগ্রামিং। নইলে কম্পিউটারটির পক্ষে এর সঠিক উত্তর দিয়ে একজন মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে কখনোই বিজয়ী হওয়া সম্ভব হবে না। আর এটি ছিল কুইজে ওয়াটসনের জন্য শেষ প্রশ্ন- জিওপার্ডিতে দুইবারের শিরোপাধারী মানব- প্রতিযোগীর সাথে কুইজ প্রতিযোগিতা করার সময়। Who was Bran Stoker?- এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়ে ওয়াটসন ‘জিওপার্ডির মুকুট’ জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছিল।
ওয়াটসনই আইবিএম-এর এ ধরনের বিজয়ী ছিল না। ১৯১৭ সালে উদ্ভাবিত আইবিএর-এর সুপার কম্পিউটার Deep Blue দাবা খেলায় পরাজিত করে বিশ্বদাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি ক্যাসপারভকে। কিন্তু জিওপার্ডিতে প্রতিযোগিতা করা কম্পিউটারের জন্য ছিল পুরোপুরি নতুন ধরনের এক পরীক্ষা। দাবা খেলায় প্রয়োজন হয় সম্ভাব্য গুটি চালার জন্য গভীর যৌক্তিক বিশ্লেষণ। সে যৌক্তিক বিশ্লেষণ করার পরই কিন্তু পরবর্তী ঘুঁটি চালতে হয়। জিরপার্ডিতে দাবা খেলে জেতার জন্য স্বাভাবিক ভাষায় ঘুঁটি চালা সম্পর্কে একটি প্রশ্ন করে দ্রুত একটি পরিব্যাপক ডাটাবেজে প্রবেশ করে যথাসম্ভব দ্রুত এর সঠিক উত্তরটি জেনে নেয়া প্রয়োজন। দুই মেশিনের বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের বুদ্ধিমত্তা-এই দুই ধরনের বুদ্ধিমত্তা মনে হয় একটির ওপর আরেকটি লম্বভাবে অবস্থান করে, সমান্তরাল ভাবে নয়। দাবা খেলায় যে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়, মনে হয় তা গেমের যৌক্তিক পরিণতির সাথে আনুলম্বিকভাবে অবস্থান করে। কিন্তু জিওপার্ডিতে প্রয়োজন হয় আনুভূমিক বা সমতলিক চিন্তা-প্রক্রিয়ার। এখানে বড় মাপের ডাটাবেজ থেকে সঠিক উত্তর (সঠিক চাল) বের করে আনতে হয়।
ওয়াটসনের অপারেটিং সিস্টেমে থাকা প্রোগ্রাম বিশেষত খুবই অভিজাত মানের। কারণ ওয়াটসনের নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সম্ভাব্য সঠিক উত্তরটি বাছাই করা হয়, তা থেকে ওয়াটসন ভুল প্রশ্নের উত্তরটি চিনে রাখে। ফলে পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য চাল বাছাই করার জন্য এ ভুল প্রশ্নটি আর কখনোই করে না। ফলে পরবর্তী সময়ে সঠিক উত্তর পাওয়ার আরো ভালো সুযোগ পায় ওয়াটসন। মেশিনে লার্নিংয়ের এই ধারণা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান। এর মাধ্যমে এমন সব রোবটযন্ত্র তৈরি হচ্ছে, যা দ্রুত এমন সব কাজ করছে যা প্রোগ্রামারদের পরিকল্পনায় ছিল না। ওয়াটসন বিজয়ী হওয়া সত্ত্বেও এটি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য ভুল করেছিল। ‘ইউএস সিটিজ’ ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। ‘এর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের নাম রাখা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন বীরের নামে? এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর রাখা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের কোন যুদ্ধের নামে? রোবটযন্ত্র থেকে পাওয়া গিয়েছিল ভুল উত্তর- ‘কোথায় অবস্থিত শিকাগো?’ তবে মানব প্রতিযোগী এর সঠিক উত্তর পাওয়া গিয়েছিল। ওয়াটসন এ প্রশ্নের জবাবে বলেছিল : ‘শিকাগো টরেন্টোতে অবস্থিত।’ অথচ টরেন্টো এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহর নয়। এটি কানাডার একটি শহর। এখানে ওয়াটসনের উচিত ছিল উত্তরটা না দিয়ে ‘পাস’ দেয়া। কিন্তু একজন মানুষ যেভাবে সঠিক উত্তর জানা না থাকলে ‘পাস’ দেয়া অর্থাৎ উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারে, একটি মেশিনের পক্ষে এ কাজ ততটা সহজ নয়। ১৯৯১ সালে চালু করা হয় লুয়েবনার পুরস্কার। এ পুরস্কার চালুর পর আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয় তাদের জন্য, যারা এমন একটি চ্যাটবট করতে পারবে, যা মানুষের মতোই চ্যাট করতে সক্ষম। কেউ ধরতে পারবে না, এই চ্যাট করছে একটি যন্ত্র না একজন মানুষ। যারা সে লক্ষ্য নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছিলেন, তাদের অভিমত লুয়েবনার পুরস্কার এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। তখন অনুসন্ধান চলে আরো আকর্ষণীয় লক্ষ্য নিয়ে : এমন যন্ত্র তৈরি করা, যার বুদ্ধিমত্তা হবে মানুষের বুদ্ধিমত্তা থেকে আলাদা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, আমরা কি মানুষের বুদ্ধিমত্তা পুনঃসৃষ্টির কাজে মজে থাকবো? বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে লাখ লাখ বছরের উদ্ভাবনের ফলে সৃষ্ট এক পণ্য। এখন জোর দেয়া হচ্ছে এমন বুদ্ধিমত্তা তৈরির ব্যাপারে যা একটি যন্ত্রের জন্য হবে অনন্য। এই বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আমাদের অনন্য বুদ্ধিমত্তাকেও বাড়িয়ে তোলা যাবে।
একই মধ্যযুগের কম্পিউটার ডিপব্লুর পরবর্তী কম্পিউটারগুলো এমন কাজ করছে যা কোনো মানুষের মগজ দিয়ে করা সম্ভব নয়। ইষঁব এবহব নামের সুপার কম্পিউটার এক সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে পাপর ৩৬০ ট্রিলিয়ন (১ ট্রিলিয়ন দশ লক্ষের ত্রিঘাত অর্থা ১০,০০,০০৩৩; কিন্তু আমেরিকা, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে ১ ট্রিলিয়ন= দশ হাজারে ত্রিঘাত অর্থাৎ ১০,০০০৩) অপারেশন। এর তুলনা করা হয় প্রতি সেকেন্ডে ৩শ কোটি ইন্সট্রাকশনের সাথে, যা গড় পড়তা একটি সাধারণ কম্পিউটার করতে পারে। এই অতিরক্তি মাত্রার কর্মক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে আণবিক পর্যায়ে অণুর আবরণ জোরদার করে তোলার কাজে। এর মাধ্যমে উদঘাটরে চেষ্টা চলছে নানাবিধ অজানা দুনিয়া এমনকি জানার চেষ্টা হচ্ছে- রাস কেন কিভাবে বাড়ে এবং দেহে প্রোটিন কিভাবে বাড়ে। প্রোটিন হচ্ছে দেহসার। প্রোটিন সম্পর্কে যত বেশি জানা যাবে, আমরা তত উন্নত স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারব। এক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কম্পিউটার আমাদের সহায় হতে পারে। অনেক ডিজেনারেটিভ ডিজিজ (প্রোটিনের সাথে সম্পর্কিত) অতএব কম্পিউটার সিমুলেশন আমাদের জন্য চিকিৎসা ক্ষেত্রেও উপকার বয়ে আনতে পারে। তার পরও মেশিন চিরদিন একটি মেশিনমাত্র। মেশিন আমাদের শুধু যে কাজটিই করে দিচ্ছে, যা প্রোগ্রাম করা হয়েছে মানুষের মগজ ব্যবহার করে। হতে পারে একটি কম্পিউটারও যন্ত্র গণনা করার ক্ষেত্রে আমার মগজের তুলনায় বেশি কার্যক্ষমতা দেখাতে পারে। কিন্তু যখন আমি গণিত নিয়ে কাজ করি, তখন আমার মগজ এমন অনেক কাজ করে যা গণনা বা হিসাব নিকাশ করার চেয়ে আরো অনেক বেশি। আমার মগজ কাজ করে সচেতন যুক্তি ও বিচার বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে, যা সম্ভব নয় একটি যন্ত্রের মাধ্যমে। এ কাজ করার সময় আমি ব্যবহার করছি আমার কল্পনাশক্তিকেও। কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমি উদ্ভাবন করছি নতুন নতুন উপায়।
এভাবে আমি পৌঁছে যাচ্ছি গাণিতিক কোনো আবিষ্কারের রাজ্যে। তাই অনেকেই মনে করেন, এই ক্ষমতা মানুষের অনন্য। এটি মন-মানসের ব্যাপার যা একটি মেশিনে অনুপস্থিত। মেশিন দিয়ে তা পুনঃউৎপাদন সম্ভব নয়। মেশিন তৈরি করে না মানুষ, কিছু মানুষ তৈরি করে মেশিন। এখানেই মেশিন ও মানুষের মৌল পার্থক্য। একইভাবে বলা যায়, এখানেই মেশিনের বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্য।
আজকাল ব্যাপক গবেষণা চলছে সঙ্গীত ও শিল্পে মেশিন কতটুকু সৃজনশীল হতে পারে, তা উদঘাটনের জন্য। প্যারিসে অবিস্থত সোনির কম্পিউটার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এমন যন্ত্র তৈরি করতে শুরু করেছে, যা অবাক করা মিউজিক সৃষ্টি করতে পারে। এ মেশিনে আকর্ষণীয় মিউজিক্যাল কম্পোজিশনে সক্ষম। করতে পারে জাজ সঙ্গীত। মানুষ বাদকের সাথে যন্ত্রবাদক মিলে সরাসরি জাজে অংশ নিতে পারে। এটি একটি বড় ধরনের সাফল্য। অবাক করা সাফল্য। সেখানকার প্রকৌশলীরা তাদের এই যন্ত্রবাদকদের কয়েক বছর ধরে রীতিমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে চলছে। অন্যান্য প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের সৃজনশীল মেশিন। তারা জানতে চাইছেন কী করে এসব সৃজনশীল যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা যাবে ভিজুয়াল আর্টসে। ‘দ্য পেইন্টিং ফুল হচ্ছে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। এ প্রোগ্রামটি লিখেছেন ইম্পারিয়াল কলেজের সাইমন কল্টন। পেইন্টিংফুল-এর তৈরি আর্ট সবার কাছে ভালো লাগেনি সত্য, তবে এটি হতে পারে একটি আর্ট মাধ্যম।
সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, রোবটগুলো পারস্পরিকভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছে। তাছাড়া প্যারিসের সোনি ল্যাবের ডিরেক্টর এমন রোবট উদ্ভাবন করছেন, যা এর নিজের ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরি করতে পারে। রোবটের অব্যাহত উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের সাথে সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটছে। এত পথ বেয়েই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা পারব নতুন নতুন অবাক করা বুদ্ধিমান সম্ভব রোবট। তবে তুরিঙ্গের এই শতবর্ষপূর্তির সময়েও আমরা এখনো পাইনি তার স্বপ্নের সেই বুদ্ধিমান প্রাণী- বিষয়টি তাকে অবাক করতে পারে।
লেখক : কলামিস্ট, বিজ্ঞান লেখক

SHARE

Leave a Reply