পৃথিবীবাসী এখন গৃহবন্দী প্রত্যেকে বাড়াতে মানবতার হাত , প্রার্থনা করতে হবে সেই মহান রবের নিকট।

পৃথিবীবাসীর জন্য এখন ভয়াবহতম দুঃসময়। কোভিড-১৯ মানুষকে গৃহবন্দি করে ফেলেছে। চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া এই মহামারী তথা করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে নাকাল করে দিয়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া লোকগুলো বর্ণনাহীন মানবেতর জীবন যাপন করছে। কৃষক মাঠে কাজ করতে পারছে না। শ্রমিকরা তাদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছে না। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল করতে পারছে না। এবারের এসএসসি. পরীক্ষার রেজাল্ট না হওয়ায় নিরুদ্দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। সামনের সকল পাবলিক পরীক্ষার কী হবে তা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা নেই। ব্যবসা বাণিজ্যে নেমেছে ধস। গ্রাম-শহরে লোকজনের চলাচল নেই। খাবারের অভাবে; যোগাযোগের অভাবে না খেয়ে আছে কত লোক। ওরা বাঁচবে কী করে? জ্ঞান-বিজ্ঞানে এত উন্নত বিশ্ব যখন অতি ক্ষুদ্র একটি ভাইরাসের কাছে পরাজিত তখন আমাদের অহমিকা ও দাম্ভিকতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং এখন মানুষের উচিত তার অসহায়ত্বের বিষয়টি স্বীকার করে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। করোনা সৃষ্ট এই সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারকে যথোপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজের বিত্তবানদের হতে হবে মানবিক।
মাহে রমজান প্রতি বছরই আসে আবার চলেও যায়। রমজানকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের প্রতিটি সেক্টরে থাকে আলাদা আয়োজন। সভা-সেমিনার, ইফতার-মাহফিল, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। পত্রিকাগুলো ঈদ ও রমজান নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য হলোÑ সব শ্রেণির মানুষের কাছে রমজানের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য তুলে ধরা। রমজানে তারাবিহ, সেহেরি, ইফতারের আয়োজনে সবার মিনতি থাকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া। রমজান পরবর্তী মাসগুলোতে আল্লাহর কাছে সেই প্রিয় হওয়ার চেতনা এবং তাকওয়ার শিক্ষা অনুশীলন করতে হবে। রমজানের শুরু থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত পুরোটা মাস একজন মুসলমান যে সংস্কৃতির চর্চা করে তা সারা বছর ধরে রাখতে হবে।

এবারের ‘মে মাস’ রমজান মাসে পড়েছে; ফলে এটি কুরআন নাযিল ও কুরআন দিবসের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। ১৯৮২ সালের ১১ মে ভারতের হাইকোর্টে পবিত্র কুরআন বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা হয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হাজার হাজার কুরআনপ্রেমিক জনতার বিক্ষোভ সমাবেশে পাপিষ্ঠ ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। বিনা অপরাধে সেদিন পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে শাহাদাত বরণ করেন কিশোর-তরুণসহ ৮ জন কুরআনপ্রেমিক মুসলমান। এই ঘটনা যেমন বেদনাবিধুর তেমনি ইসলামের এই উর্বর ভূমিতে আন্দোলনের আরেক প্রেরণা।

উত্তম সংস্কৃতির মাস ‘মাহে রমজানে’ আমরা যে সংস্কৃতি চর্চা করি তা যেমন নিষ্কলুষ ও নির্মল; রমজান শেষে ঈদুল ফিতরও তেমন একটি অনুষ্ঠানের নাম, মুসলমানদের আনন্দদায়ক এক কৃষ্টি বা কালচারের নাম, যা তাদের স্বতন্ত্র করেছে অন্যান্য জাতি ও ধর্ম থেকে। মহামারী করোনার জন্য এবারের ঈদে আনন্দ বলতে তেমন কিছু থাকবে না হয়তো। যখন থমকে গেছে পবিত্র কাবার উৎসবমুখর তারাবির পরিবেশ তখন আমাদের আনন্দকে অশ্রæ বানিয়ে ভেজাতে হবে ঈদের জায়নামাজ। চাইতে হবে ক্ষমা আর আল্লাহর রহমত; যেন মহামহিম দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন এবং সমস্ত মুসিবত দূর করে সব সঙ্কটকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন।

SHARE

Leave a Reply