ক্ষুদ্র অপরাধ গণপিটুনিই এর সমাধান?

ড. এবিএম মাহবুবুল ইসলাম#

অধিকসংখ্যক লোক একই অঞ্চলে বসবাসকেই সাধারণত সমাজ বা সমাজজীবন বলা হয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে আবার পেশাভিত্তিক সঙ্ঘবদ্ধ সমাজও দৃষ্টিগোচর হয়। যদিও তারা একই সাথে বসবাস করে না। যেমন শিক্ষকসমাজ, ছাত্রসমাজ, ব্যবসায়ীসমাজ, আইনজীবীসমাজ প্রভৃতি। নিজের প্রয়োজনেই এ সমাজবদ্ধতা। ভালো আর মন্দ মানুষও আছে একই সমাজে। ভালো মানুষের সংখ্যা ও নেতৃত্ব দৃশ্যমান হলে মন্দ মানুষের দাপট কম থাকাই স্বাভাবিক। বিপরীত পক্ষে মন্দ মানুষের সংখ্যা যাই হোক নেতৃত্ব তাদের হাতে থাকলে ভালো মানুষের কপাল মন্দ। আর মন্দ লোকের সংখ্যাধিক্যতা এবং প্রাধান্য যে সমাজে সে সমাজে সাধারণত দেখা যায় সবচেয়ে বড় মাপের মন্দ মানুষই হন তাদের গুরু। তার পেছনে ঘুর ঘুর করাই যেন মন্দ মানুষগুলোর জীবনের ধর্ম ও বেঁচে থাকার মন্ত্র। শ্রেষ্ঠ মন্দ ভাই তাদের ছায়া ও আশ্রয়স্থল।
বিপরীতধর্মী লঘু অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ মন্দ সমাজ হয় দারুণ খড়গহস্ত। শুধু মৌখিক বান-বর্ষণই নয়, জীবন কেড়ে নিতেও এরা পারঙ্গম। নির্মম, নির্দয়, নিষ্ঠুর শারীরিক নির্যাতনের নাম গণধোলাই। জীবন অবসান হলে এর নাম দেয়া হয় গণপিটুনি। আইনকে আপন গতিতে চলতে দিয়ে মন্দ লোকের গতিতে চলার এ মহোৎসব যেন সর্বত্রই বিরাজমান। এমন দু-একটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং শ্রুত কথনভিত্তিক স্মৃতির সংযোগের লক্ষ্যেই নিবেদিত এ প্রতিবেদন।
গণপিটুনি
পয়লা মে ২০১৫, ঢাকাস্থ গ্রীন রোডের একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করছি। জুমার নামাজ শেষ করে দ্রুত বাসায় ফেরার পথে যা দেখলাম তা হলো কিছুটা হইচই। একবারে আমার বাসার সামনে। ১০-১২ জন যুবক জুতাচোর বলে ৩০-৩৫ বছর বয়সী একটা তাগড়া যুবককে বেদম পেটাচ্ছে। পেটানোর ধরন হলো ইট দিয়ে মাথার দু’পাশে প্রবল আঘাত। আর বাইসাইকেল বাঁধার চেইন দিয়ে বেধড়ক পেটানোয় রক্তাক্তদেহি যুবকটিকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এলাম। জিজ্ঞাসা করে বুঝলাম জুতা চুরির অপরাধ। বেচারা চোর আর স্বঘোষিত বিচারের রায় কার্যকরী দলের সামনে। নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলাম। লোকসমাগম বাড়তে লাগল। জনতাকে আমাকে একটু সাপোর্ট দিতে ব্যাগিং করলাম। তেমন কাজ হলো না। এ দিকে চার তলা থেকে ¯েœহধন্য স্ত্রী আর দুই মেয়ে সজোরে আমাকে রণে ভঙ্গ দিয়ে বাসায় ফিরতে ডাকাডাকি করছিল, কর্ণপাত করলাম না। তেমন কারণ আমার লক্ষ্য দুখানি পাদুকা চুরির দায়ে মৃত প্রায় বেচারাকে মুক্ত করা। অবশেষে বেগম সাহেবা আর দুই মেয়ে নিচে এসেও পারলেন না আমাকে রণে ভঙ্গ দিতে। তাদের যুক্তি কয়েক ডজন লোক প্রায় সকলেই মারমুখী। আমিই একা ¯্রােতের বিপরীতে। তাদের যুক্তি জুতা চোরের রক্ষা নেই। তবে আমার পরিচিত লোকজন নিচে নেমে আসায় সাহস পেলাম, তাদের বলার চেষ্টা করলাম। তোমরা তো কেউ জুতার মালিক না। মালিকও নেই এখানে। কয় টাকা এক জোড়া জুতার দাম? এ জন্য কি এমন মাইর! তোমরাও চোরের হাতে মার খেয়েছ আর চোরেরও জীবন যায় যায় দশা। যদি ছাড়াতে না চাও তাহলে থানায় পাঠিয়ে দাও। এতে একটু রাজি হওয়ার পর আমার একক প্রটেকশন কিছুটা শিথিল হওয়াতে পুনরায় ইটের আঘাত তাও আবার মাথায়। চোর বেচারা বলতে চেষ্টা করল আমিতো ডাকাতি করিনি, হাইজ্যাক করিনি, দুটো জুতা চুরি করেছি মাত্র। স্যার আমাকে মাইরেন না…। জনতাকে পুনরায় বুঝানোর চেষ্টা করলাম চুরি ভালো কাজ নয় কিন্তু কলমের খোঁচায় যারা শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংক লুট করে, পুকুর, নদী চুরি করে তাদের কি এভাবে পেটানো হয়? বরং তারাই তো এই সমাজের ভদ্রলোক। চিঁড়া ভেজার নয়। এরই মধ্যে পাশের বিল্ডিং থেকে কে যেন একজন বলে উঠল। মারবে তো মাথায় মারছো কেন? কিছুটা কাজে এলো এ বাক্যটি। তৎক্ষণাৎ একই বিল্ডিংয়ের বেলাল নামে একজন ড্রাইভার বলে উঠলো : শালা জুতা ছাড়া আর কিছুই পাইছিলি না চুরি করার? ভাগ বেটা! এ গালটি এ সময়ের জন্য যেন চোরের জন্য জাদুকরী ফল বয়ে আনলো। উঠে দাঁড়ালো জুতা চোর তার চরম নিস্তেজ দেহ নিয়ে ক্ষীণ দৌড়ে দিলো ছুট। আপাতত এ যাত্রা নির্ঘাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল। যে দু’জন যুবক অমানবিক নির্যাতনের হোতা পরে জানলাম এরা পাশের আলিশান অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ান আর ড্রাইভার। এরাই হলো জুতা চোরের আটককারী, বিচারক। একই সাথে বিচারের রায় কার্যকারী কর্মকর্তা আর তাদেরই অনুসারী দেখলাম প্রায় শতভাগ পর্যবেক্ষণকারী, অ্যাপাটর্মেন্টের সম্মানিত মালিক, ভাড়াটিয়া এবং কিছু সাধারণ লোকও। এরা সবাই আবার সদ্য জুমার নামাজ শেষ করা ঈমানদার। পাশের বাসার আর একজন দারোয়ান কয়েক দিন পর বললো স্যার আপনি না এলে লোকটাকে মেরেই ফেলতো।
২.
পাওনাদার : এবার বলছি গণপিটুনিতে সত্যিকারের জীবনাবসানের আর একটি বাস্তব ঘটনা। সম্ভবত ২০০৭ সালের কথা। একই গলিতে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল যা আমি জানতে পারি ঘটনার একদিন পর। শ্রুত বিবরণটি হচ্ছে : একটি লাল রং এর গাড়িতে নাদুস নুদুস একজন লোক একজন তাজা যুবককে গ্রীন রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে আসে। ওপর করে লটকায় সিলিংয়ের সাথে। আর জমিদারি কায়দায় লোকটিকে নিজে পেটায় এবং পেটানোর তালিম দেয়। এক সময় নিথর হয়ে যায় তার দেহ। পাষন্ডরা একটু পানির আবদারও মেটায়নি তার। মৃত দেহটাকে ঠিক আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে লটকানো রশিটাতে বেঁধে রেখে যায় দিন দুপুরে। আশপাশের জ্ঞানী-গুণী সকল স্তরের জনতা তা দেখলো। কিন্তু প্রতিবাদ হলো না। আমার বাসার সামনে কেন রেখে যাবে মরা লাশ। রাস্তায় অপেক্ষমাণ পুলিশকে সংবাদ দেয়া হলো। লাশ নিয়ে গেলো পুলিশ। বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হলো। পত্রিকায় এলো গণপিটুনিতে ছিনতাইকারীর মৃত্যু। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, লোকটিকে তাড়া করে কয়েকজন লোক ধরে ফেলে। গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে আসে অ্যাপার্টমেন্টে। সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে জানতে পেরে অপমৃত্যু না পরিকল্পিত পিটুনিতে লোকটি মারা গেছে তা প্রমাণ করার জন্য যা যা করা দরকার সাধ্যমত করলাম। থানায় গেলাম। একাধিকবার পুলিশ এলো কিন্তু সাক্ষ্য দেবে কে? আমিও প্রত্যক্ষ সাক্ষী নই। একজন ড্রাইভারকে বললাম, সে বললো স্যার ফৌজদারি মামলায় সাক্ষী হওয়ার চাইতে আসামি হওয়া অনেক ভালো। এর কারণও সে ব্যাখ্যা করলো। অনেক বুঝানোর পর পুলিশের নিকট সে রাজি হলো। কাজের কাজ কিছুই হলো না। যা হলো তা দেখলাম আমার কর্মস্থলে শ্যালক ও স্ত্রী পরিচয়ে কয়েকজন লোক কয়েকবার এলো। তাদের নিকট জানতে পারলাম মৃত ব্যক্তি একজন ইলেকট্রিশিয়ান। পাওনা টাকা দাবির অপরাধেই তার এ পরিণতি।
kod1
৩.
রিকশা সিএনজি সংঘর্ষ : গ্রীন রোডের বছর দু-এক আগের ঘটনা। সিএনজি চালিত অটো ড্রাইভার যাত্রী মালবোঝাই রিকশাকে এমনভাবে ধাক্কা দিল যে, মালামালসহ রিকশা থেকে পড়ে গেল। আহত হলো রিকশার ড্রাইভার ও যাত্রী। এতে একটি চাকা দুমড়ে মুচড়ে গেল। যানযটও হলো অনেক। রিকশার ড্রাইভার তার ক্ষতিপূরণ দাবি করলো। অটোর ড্রাইভারের পথ আগলে ধরে। আমি তাকে অনুরোধ করলাম কিছু ক্ষতিপূরণ দেবার জন্য। কিন্তু সে তা কর্ণপাত না করে রিকশা ড্রাইভারকে প্রায় মাড়িয়ে চলে যাচ্ছিল। বেচারা আর কি করবে। বাধ্য হয়ে হাত দিয়ে আঘাত করে সামনের গ্লাসটা ভেঙে দিল। এবার শুরু হলো গণধোলাই। সকল মাইর রিকশার ড্রাইভারের ওপর। কারণ সে অটোর গ্লাস ভেঙেছে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ভ্যান এসেও অংশ নিলো পিটুনিতে। কিল, ঘুষি, লাথি, সাথে গালাগালি। রায় হলো অটো রিকশাসহ ড্রাইভারকে যেতে হবে থানায়। এ অবস্থায় অটো ড্রাইভার দুইশত টাকা বের করলো ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য। আর রিকশা ড্রাইভার দিলো এক ছুট, কিন্তু বেশি দূর যেতে পারলো না। পুলিশ স্যারের এবার নতুন আবিষ্কার তা হলো এ শালা ক্রিমিনাল কেসের আমামি না হলে দৌড়াবে কেন?
পুলিশম্যানদের বললাম দেখুন, একপক্ষ মার খেল, একপক্ষের গাড়ির গ্লাস ভাঙা গেল, ক্ষতিপূরণও দিতে চাইলো, বিষয়টা এখানেই শেষ করে দিলে হয় না। অসহায় মানুষ দুটোকে বাঁচানোর অনুরোধের একপর্যায়ে একজন পুলিশ বলেই বসলো আপনিও থানায় চলেন। এসেছি একটু কেনা-কাটা করতে বেগম সাহেবা আছেন কিচেনে আগুন ভরা কক্ষে। আরো দেরি হলে হয়তো তিনিই আমার খোঁজে বের হবেন। কি আর করা চুপিসারে কেটে পড়লাম। আর মহাবিজয়ী পুলিশ বাহাদুর ভরদুপুরে প্রচন্ড রোদ ভেদ করে রাজ্যজয়ীর বেশে দুই হতভাগাকে নিয়ে রওনা দিলো কলাবাগানের দিকে।

৪.
চকোলেট চুরি আর লাইট পোস্টের সাথে বন্দী : অনেক বছর আগের কথা। আছি দেশের বাইরে। স্থানীয় পত্রিকায় একই দিন বাংলাদেশের দু’টি সংবাদ বের হলো। যতদূর মনে পড়ে একটি চকোলেট চুরির ঘটনা আর একটি সম্ভবত দু-একটি পেঁয়াজ চুরির ঘটনা। স্বচিত্র সংবাদটি হলো, ৬/৭ বছর বয়সী একটি ছেলেকে পিঠ মোরা করে হাত দুটো বড় সাইজের স্টিলের লাইট পোস্টের সাথে পিঠ মোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছে। বুকের ওপর আর একটি রশি দিয়ে। তাও আবার শক্তভাবে বেঁধে দিয়েছে যাতে নড়তে না পারে। স্থানটা মেইন রাস্তার পাশে। আর মাসটি ছিল সম্ভবত এপ্রিল/মে। ধরা পড়েছে সকাল ১০টায় বিচার হবে রাতে; সে পর্যন্ত এটাই তার নিয়তি। ইংরেজিতে বিষয়টা ছিল অনেকটা এমন : অ পযরষফ-ঃযব ঈযড়পড়ষধঃব ঃযরবভ ধিং পধঁমযঃ. ঐব ধিং নড়ধৎফবফ ঃরমযঃষু রিঃয পষধপশরহম ষরমযঃ ঢ়ড়ংঃ. ঞৎরধষ ঃরসব রং ংবঃ ভড়ৎ ডরমযঃ. ইবপধঁংব ঃযব লঁফমব ধৎব নঁংু রহ ঢ়ষধহঃধঃরড়হ ড়িৎশ ধঃ ঢ়ধফফু ভরবষফ. টঢ়ড়হ ঃযবরৎ পড়সরহম নধপশ ঃযব রং ঃড় নব ংরঃ ফড়হি ষরশব ঃযধঃ. হায়রে কপাল একটা চকোলেট চোর আর হাজার কোটি টাকা জনগণের গচ্ছিত ব্যাংকিং চোর এতেই জনতার গণপিটুনি। গণশাসন আর গণরায় সংবাদটি উত্তরাঞ্চলের কোন জেলায় ঘটেছিল বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদে।
অপর ঘটনাটি হলো সম্ভবত টাঙ্গাইলে, তা হলো মাথা নিচু এবং পা উপরে উঠিয়ে আমগাছের ডালের সাথে একজন কিশোরের ঝুলন্ত ছবি আর পুলিশ ম্যানের শাস্তিদানের দৃশ্য। সম্ভবত অপরাধ ছিল কোন এক মুদি দোকান থেকে দু -একটি পেঁয়াজ চুরির। দোকান মালিক টহল পুলিশের হাতে তুলে দেয় হতভাগ্য পেঁয়াজ চোরকে। রাষ্ট্রীয় কর্মচারী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশও যেন পেয়ে গেলেন মোক্ষম সুযোগ চোরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এক দায়িত্ব যেন কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। এমন না হলে কি পুলিশ নামের সার্থকতা রক্ষা পায়। 197722_631618363519056_1335
এ সকল ক্ষুদ্র অপরাধই যদি গণপিটুনির কারণ হয় তাহলে জায়গা, বাড়ি, ঘড়, বালু, নদী, খাল বিল, টেন্ডার ঠিকাদারি, বাইসাইকেল, রিকশা, স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদরাসার টাকা চোর, ওরস আর দরবার শরিফের টাকা চোর, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চোর, সোনা, রুপা, ব্যাংক বিমা আর শেয়ারবাজার চোর, সর্বোপরি ভোটচোরসহ সকল প্রকার চোরের জন্য গণপিটুনি হয় না কেন? মূলত এটা মানবতার প্রতি “শক্তের ভক্ত নরমের জম” এরই কারণ, তবে এ সবের জন্যও গণপিটুনি কাম্যময়।
আইনের শাসনের অভাব তা সত্য। কিন্তু আইনের শাসন নেই কেন? তা নেই কারণ জনতা আইন ভঙ্গপ্রিয়। অনিয়ম অনীতির শাসন চালু থাকলে যেমন খুশি তেমন আচরণ করা যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েও আইনপ্রণেতা হওয়া যায়, বিচারক হওয়া যায়, আরো কত কি।
রোগ প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে যে চিকিৎসায় কাজ হয়। এর ব্যাপকতায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিষ্ফল হতে বাধ্য। বিশ্বব্যাপী বিশেষত বাংলাদেশের মানুষ কর্র্তৃক মানুষ পেটানোর এ মহোৎসব থেকে বাঁচতে হলে যা প্রথমে প্রয়োজন তা হলো- মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা দানকরণ। যে কারণে গণপিটুনি এ কারণ যদি আমার প্রতি আমার কোন নিকট আত্মীয়ের প্রতি হয় তাতে আমার ভূমিকা কী। সর্বপরি প্রতিটি মানুষ তার কর্মের জন্য দৃশ্যমান পৃথিবীতে এবং অদৃশ্যমান জগতে জবাবদিহির অনুভূতি সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এটা হতে পারে তাওহিদি দর্শনভিত্তিক জীবনবোধের মাধ্যমে। মহানবী মুহাম্মদ সা: এর নিম্ন বাণীটি এ ক্ষেত্রে কোন কাজ করতে পারে নির্দেশিকা হিসেবে। ‘যার হাত ও মুখ থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয় সে আমাদের দলভুক্ত (মুসলিম) নয়।’

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক

SHARE

Leave a Reply