গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচণ্ড আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই এ সংসদকে বিদায় করবে

indexআওয়ামী লীগ নেতৃত্ব স্বাধীনতা-গণতন্ত্রের আন্দোলনে নেতৃত্বের দাবিতে সব সময়ই একচেটিয়া দাবি করে। নিজেদের জন্ম ও দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে অন্যদের নানা ভাষায় আক্রমণে তাদের জুড়ি মেলা ভার। আইনের শাসন-সুশাসনেও তারাই এগিয়ে, একথাও বলতে ছাড়ে না। অথচ যখনই আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে, তখনই দেশজুড়ে সন্ত্রাস-দুর্নীতি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমাজের একটা বিশেষ শ্রেণী এর সুবিধা গ্রহণ করে তোষামোদি আর পদলেহনে মেতে উঠেছে। ফলে স্বাধীনতার চেতনা-গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকতা হারিয়ে গেছে। মানুষ প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নির্যাতনের মুখে পড়েছে। বিরোধী দল দমনে সন্ত্রাসের পথই বেছে নেয়া হয়েছে। সরকারের বিরোধিতাকারীদের দমনেও আইনের তোয়াক্কা করেনি কেউ। ফলে আইনের শাসন-সুশাসন সব কিছুই লাটে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসই হয়ে উঠেছে মতাসীনদের আত্মরক্ষার প্রধান হাতিয়ার। বর্তমান সরকার মতায় আসার পরও ঠিক একই অব¯’ার দেখা মিলেছে। দেশজুড়ে গুম-খুন, হামলা-মামলা সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নীল নকশার নির্বাচনে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতহীন চেপে বসা নতুন সরকারের বয়স দু’সপ্তাহ হতে না হতেই কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়ে প্রায় প্রতিদিনই  মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যাবে না। এেেত্রও ধারাবাহিকতা রার দাবি করতে পারে সরকার। গত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো আমলজুড়েই এমন বন্দুকযুদ্ধ, গুপ্তহত্যা, গুমের ঘটনার শেষ ছিল না। ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম থেকে শুরু করে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্রসহ অসংখ্য গুম-খুনের ঘটনা নিয়ে দেশ-বিদেশে হৈ চৈ হলেও এবারের তদন্ত ও বিচার হয়নি। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসেও একই অবস্থা বিরাজ করেছে। এভাবে শুধু বিএনপিরই ১৮৭ নেতাকর্মী গুম হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত ও শিবিরেরও অনেক নেতাকর্মী গুমের ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেই বিশেষ করে যেসব জেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে সেখানে গুম-খুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন আতঙ্কজনক অবস্থাকে কোনোমতেই গণতন্ত্রসম্মত বলা যায় না। মানবাধিকার, আইনের শাসন বা সুশাসনের সঙ্গেও এমন অবস্থার সঙ্গতি মেলা ভার। বরং এমন অবস্থাকে জংলি শাসনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারেÑ যেখানে আইন নয় মতাই সব কিছু, বিচার নয় তাৎক্ষণিক দণ্ডই শেষ কথা। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভুক্তভোগী মানুষও অনিবার্যভাবে আইন হাতে তুলে নেবে। আত্মরার প্রয়োজনে সহিংস হয়ে উঠলেও কাউকে দোষ দেয়া যাবে না।
কথিত দশম সংসদ এবং নতুন সরকারও জনগণের চোখে কখনও বৈধতা অর্জন করতে পারবে না। আমরা মনে করি, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনসহ ঘটনাপ্রবাহে বরং আবারও প্রমাণিত হয়েছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন সম্ভব নয়। কথাটা ‘নির্বাচিত’ সংসদ সদস্যরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই তাদের জন্য শুধু নয়, দেশের জন্যও মঙ্গল। সব কাজ ফেলে তাদের তাই সংবিধানে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার সংক্রান্ত একটিমাত্র বিধান যুক্ত করেই কেটে পড়া উচিত। না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচণ্ড আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই এ সংসদকে বিদায় করবে।
৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্মবার্ষিকী। ইতোমধ্যেই ২০১৪ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে সম্মুখ পানে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ছাত্রজনতার মুক্তিকামী সংগঠনটি। পাশাপাশি বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলায়ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সাহসী পদক্ষেপ নেবেÑ এটাই আজকের দিনে প্রত্যাশা করে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা।

SHARE

Leave a Reply