গবেষণা ইসলামী দৃষ্টিকোণ

মোস্তাফিজুর রহমান আশু

Reasearchমহা বিশ্ব সৃষ্টির বিস্ময়ের ঘোর এখনো সুসভ্য মানবকুলে কাটেনি। অসংখ্য সৃষ্টির মধ্য মানুষকেই সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চিন্তাগবেষণার মহান দায়িত্ব এই শ্রেষ্ঠ জীবকেই দেয়া হয়েছে। বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে দেয়া হয়েছে বিবেক ও জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব। আর সেখান থেকেই মানুষকে তার জীবনের কল্যাণের পথ সুগম করতে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করতে তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন : ‘‘তারা কি উটের (সৃষ্টি রহস্যের) প্রতি লক্ষ্য করে না? যে এটি কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে, কিভাবে তা সুউচ্চ করে রাখা হয়েছে?’’ এ ধরনের বেশ কয়েকটি জায়গায় আল্লাহ মানুষকে বিভিন্নভাবে চিন্তাগবেষণা করতে বলেছেন।
প্রত্যেক মানুষ প্রাকৃতিকভাবে কোন না কোন বিষয়ে সবসময় চিন্তা করে। এ চিন্তা যখন পার্থিব জগতের কোন না কোন কল্যাণে হয়, আমার মতে- তখন তাকে সাধারণ গবেষণা বলে। এই গবেষণা যদি কারো মনের মধ্যে লুক্কায়িত থাকে তবে তাকে গবেষণা বলা যায় না। চিন্তা গবেষণার প্রকাশ করা জরুরি। আর তা প্রকাশের মাধ্যমÑ দু’টি বলা ও লেখা। গবেষণাকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার উপকারিতা অনেক বেশি। এর মাধ্যমে গবেষক যতটা লাভবান হয় তার চেয়ে দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসী বেশি লাভবান হয়। লেখা স্থায়ী হয় ও যুগ যুগ ধরে চলমান থাকে। বিংশ শতাব্দীতে অস্ত্র যুদ্ধ যখন দিন দিন যে মাত্রায ঘৃণিত ও ধিক্কৃত হচ্ছে জ্ঞানের যুদ্ধের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণা কী?
সাধারণ অর্থে গবেষণা হলো সত্য জ্ঞানের অনুসন্ধান। কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ও তথ্য সংগ্রহের জন্য বৈজ্ঞানিক ও সংবদ্ধ অনুসন্ধানকে গবেষণা বলে। প্রকৃতপক্ষে, গবেষণা হলো বৈজ্ঞানিক তথা অনুসন্ধানের একটি কলা বা আর্ট।
The Advanced learner dictionary of wrcet English গ্রন্থে বলা হয়েছে, জ্ঞানের যে কোনো শাখায় নতুন তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যপপক ও সযতœ তথ্যানুসন্ধান। গ্রিন  এর মতো অনুসন্ধানের আদর্শায়িত মানসম্মত পদ্ধতির ও প্রয়োগই গবেষণা। জন ডব্লিউ বেস্ট বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ দ্বারা বিশ্লেষণের আরো আনুষ্ঠানিক সুসংবদ্ধ ও ব্যাপক প্রক্রিয়াকে গবেষণা হিসেবে অভিহিত করা হয়। ড. ইয়াহইয়া ওহায়াব বলেন, ‘কঠিন মমি বা পাথরের গর্ত খনন করার সুসংবদ্ধ অনুসন্ধান হল গবেষণা’।
গবেষণা হলো নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণের পদ্ধতিগত ও নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ ও রেকর্ডকরণ যা সার্বিকীকরণ নীতি বা তত্ত্বের বিকাশের দিক পরিচালিত করে। এসব সার্বিকীকরণনীতি বা তত্ত্ব বহু ঘটনার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ যা ভবিষ্যদ্বাণী থেকে উদ্ভূত এবং যা হতে পারে কোনো সুনির্দিষ্টিত কার্যকরণের কারণ ও পরিণতি।
গবেষণা ইংরেজি প্রতিশব্দ Research. Research শব্দটি দু’টি শব্দ তথা Re এবং search এর সমন্বনয়ে গঠিত। Re এর অর্থ হলো পুনঃপুন  আর search এর অর্থ হল অনুসন্ধান করা বা কোনো কিছু খুঁজে বের করা। Research এই শব্দটির প্রতিটি বর্ণ দ্বারা যেসব শব্দ পাওয়া যায় তার মাধ্যমে গবেষণার একটি বৈশিষ্ট্য আমাদের সামনে ফুটে উঠবে।
R= Rational way of thinking বা যুক্তিযুক্ত চিন্তাপদ্ধতি
E= Expect and exhaustive treatment বা সুদক্ষ ও ব্যাপক আলোচনা
S= for solution বা সমাধানের অনুসন্ধান
E= Exactness বা যথার্থতা বা নির্ভুলতা
A = Analytical analysis of adequateবা পর্যাপ্ত উপাত্তের গাণিতিক বিশ্লেষণ
R= Relationship of tact’sবা সত্য ঘটনার সম্পর্কে

C= 1. careful recordingবা সত্য গঠনার সম্পর্ক
2. critical objective বা সুপর্যবেক্ষণ
3. constructiveবা গঠনমূলক
H= 1. Honesty বা সততা
2. Hard work  বা কঠোর পরিশ্রম
গবেষণার বৈশিষ্ট্য (Characteristic of research)
সংজ্ঞা ও শব্দের বিশ্লেষণকে সামনে রেখে গবেষণার নিম্নরূপ বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।
গবেষণা কোন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিবেদিত
গবেষণা প্রাথমিক বা প্রধান উৎস থেকে জ্ঞান বা উপাত্ত সংগ্রহ করে বা বর্তমান উপাত্ত নতুন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
গবেষণা পর্যবেক্ষণ যোগ্য অভিজ্ঞতা বা পরীক্ষালব্ধ সাক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর জন্য প্রয়োজন নির্ভুল পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা যার জন্য দক্ষতা ও প্রয়োজন।
একটি কুশলী, পদ্ধতিগত ও সঠিক অনুসন্ধান
সাধারণ নীতি আবিষ্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে
গবেষণা যুক্তিযুক্ত ও নির্ব্যক্তিক। সম্ভাব্য সকল রকম পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এর ব্যবহৃত পদ্ধতি, সংগৃহীত উপাত্ত ও সিদ্ধান্ত যাচাই করতে হবে।
অনুমতি সিদ্ধান্ত যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষভাবে যথার্থ কৌশল অনুসরণ করে উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে।
সংগৃহীত উপাত্ত পরিমাণগত ও সংখ্যাগত ভাবে সংগঠিত করতে হবে।
গবেষণার জন্য দরকার ধৈর্য ধীরস্থির স্বভাব।
১০. গবেষককে হতে হবে সাহসী ও নিরপেক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য প্রাচীন সমাজব্যবস্থার বা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে হলেও সাহসের সাথে তা প্রকাশ করতে হবে।
১১. গবেষণার ফলাফলকে নিরপেক্ষভাবে রেকর্ড ও বর্ণনা করতে হবে।
১২. সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সার্বিকীকরণ করতে হবে।
গবেষণার উদ্দেশ্যে (Object of research)
গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্যে হলো এমন লুক্কায়িত সত্যের আবিষ্কার যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। কোনো গবেষণার উদ্দেশ্যকে নিম্নলিখিতভাবে পেশ করা যায়।
কোনো ঘটনার সঙ্গে পরিচিতি লাভ বা তা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন। (Formulation research)
কোনো স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব কোনো অবস্থা বা কোনো দল বা গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের সঠিক চিত্রাঙ্কন (Descriptive research)
কোনো কিছু কতবার ঘটেছে এবং কোনো কিছুর সাথে গবেষণাটি কতটুকু সম্পর্ক যুক্ত।
বল বা পরিবর্তন গুলোর কার্যকরণ সম্পর্কের অনুমিত সিদ্ধান্ত যাচাই। (Hypothesis testing)
গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (Needs and necessity of research)
গবেষণার গুরুত্ব এক কথায় অপরিসীম। গবেষণা যদি না থাকে তবে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ধর্মীয় ইত্যাদি বিষয়ের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। গবেষণার মাধ্যমে নিত্যনতুন উদ্ভাবতি সমস্যার সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। আর তার মাধ্যমে মানুষের পার্থিব জগতে শান্তির দিশা পেতে পারে। গবেষণার ফলেই মানুষ প্রযুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে অনেক জটিল কাজকে সহজ করতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে গবেষণা না থাকলে ইসলাম যে কিয়ামত পর্যন্ত সচল ও কল্যাণকর একটি জীবনব্যবস্থা তা প্রমাণ করা সম্ভব হতো না। ইসলামে এ জন্য গবেষণা কাজকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলাম চিরন্তন ও চিরস্থায়ী একটি জীবনব্যবস্থা তা গবেষণাকর্ম থাকার কারণে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।
ইসলামে গবেষণার তাগিদ : ইসলামের গবেষণার ব্যাপারে অত্যন্ত তাগিদ দেয়া হয়েছে। আর সে কারণেই কুরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন জায়গায় চিন্তা গবেষণার প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আসমান জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য।’
সুতরাং আল্লাহ তাদের বোধসম্পন্ন বলেছেন যারা আকাশ ও জমিন সাধারণভাবে অবলোকন না করে সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গবেষণা করে চিন্তাভাবনা করে। আর যারা সৃষ্টিরহস্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন তার পক্ষেই এসব সৃষ্টি থেকে নিদর্শন ও সত্য উদঘাটন করা সম্ভব।
আল্লাহতাআলা অন্য একটি আয়াতে বলেন, ‘বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুনরায় সৃষ্টি করবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।’
চিন্তাগবেষণা না করাকে আল্লাহ ভর্ৎসনা করেছেন-
‘তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’
হজরত শাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হজরত উমর (রা.) শুরাইহকে কুফার বিচারক হিসেবে প্রেরণ করার সময় তাকে বললেন, বিচারিক কাজ করার সময় তুমি আল্লাহর কুরআনের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। কুরআনে যখন পেয়ে যাবে তখন আর কারো থেকে কোন কিছু জানতে চাইবে না। যদি কুরআনের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে না পাও তবে সুন্নতে রাসূলের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে যদি সুন্নতে রাসূলে তা স্পষ্ট না হয় তবে তুমি নিজের চিন্তা গবেষণা থেকে বিচক্ষণতা দ্বারা বিচারের কাজ সমাপ্ত করবে।
এখানে কল্যাণের করা বিষয়ে কোনো সমাধান পাওয়া না গেলে গবেষণা করে চিন্তা করে সমস্যার সমাধান বের করতে হবে। আর তা কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।

গবেষণার মর্যাদা
জ্ঞানী ও অজ্ঞদের মধ্য পার্থক্য- যারা আল্লাহর সৃষ্টিসমূহ ও অন্যান্য বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা করবে। তাই আল্লাহ বলেন, “আপনি বলে দিন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না?’’ (৬:৫০) ‘যারা জানে এবং যারা জানে নাÑ তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।’ (৩৯:৯)
তাই আল্লাহর কাছে প্রিয়পাত্র হওয়ার জন্য গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
গবেষণা না করার পরিণতিÑ যারা আল্লাহ কিংবা তার সৃষ্টিরহস্য কিংবা তার ইবাদত নিয়ে মোটেও চিন্তাভাবনা করে না আল্লাহ তাদের হাশরের ময়দানে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। এ সম্পর্কে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আরো বলবে, যদি আমরা শোনতাম অথবা বুদ্ধি ঘাটাতাম তবে আমরা তো জাহান্নামিদের মধ্য থাকতাম না।’ (৬৭:১০)
জিহাদতুল্য ইবাদত ও সিয়ামতুল্য সাওয়াব-
যারা জ্ঞান গবেষণায় ব্যস্ত বা নিয়োজিত থাকবে আল্লাহ তাদের জিহাদ বা সিয়াম পালন করার মতো সওয়াব দান করবেন। তাই রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, ‘শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা জিহাদতুল্য (আত তারগিব ওয়াত তারাইব)।
অন্যত্র রাসূল (সা) বলেন, জ্ঞান গবেষণা সিয়ামের সমান।
পরকালের জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি-
আল্লাহপাক মানুষকে কান, চোখ, অন্তর দান করেছেন সব কিছুকে কাজে লাগিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য। কিন্তু যদি তা না করা হয় তাহলে এর জন্য পরকালে জবাবদিহিতা করতে হবে। তাই আল্লাহ ইরশাদ করেন- “নিশ্চয়ই কান, চক্ষু, ও অন্তঃকরণ প্রতিটি জিজ্ঞাসিত হবে।” (১৭:৩৬)
প্রজ্ঞার পরিচয়- গবেষণা দ্বারা প্রজ্ঞার পরিচয় পাওয়া যায়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- ‘(আবিষ্কারের গবেষণা ) ছাড়া বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার কোন পরিচয় নাই’।
বিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য- গবেষণা করা একজন প্রকৃত মুমিন মুসলমানের বৈশিষ্ট্য, কারণ হাদিসে এরশাদ হয়েছে- ‘মানুষের মধ্য সর্বাধিক চিন্তাশীল মুমিনগণ।’
গবেষক হল কল্যাণমূলক কাজের পথ নির্দেশক ইসলামের দৃষ্টিতে যিনি পথ নির্দেশনা দেন তিনি যে ব্যক্তি ভাল কাজ করেন তার সমমর্যাদা ভোগ করবেন।
রাসূল (সা) বলেন, ভাল কাজের পথপ্রদর্শকের মর্যাদা ভাল কর্মসম্পাদনকারীর সমান।’ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক ভাল কাজে সহায়তা করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে নির্দেশ করে বলেন, তোমরা তাকওয়া ও কল্যাণের কাজে পরস্পর সহায়তা কর আর গুনাহ ও সীমালংঘনের কাজে একে অন্যকে সহায়তা কর না। (সূরা মায়িদা)
গবেষণাকাজে সহায়তা করা একটি ভাল কাজ। আর একটি ভালো কাজ কেউ যদি সম্পাদন করে আল্লাহ তাকে ১০ গুণ প্রতিদান প্রদান করবেন।
একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় –
প্রথমত,
* পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাকাজে মনোযোগী হওয়া।
* চিন্তাভাবনার বিষয়গুলো লিখতে অভ্যস্ত হওয়া। (গবেষণা কেউ পাঠাতে চাইলে কেন্দ্রীয় গবেষণা Sell wail বা sumon.ru.83@gmail.com এ পাঠাতে পারেন)
সময়োপযোগী মুসলিম উম্মাহসহ মানবতার কল্যাণকর এমন সকল বিষয়ে নিজের সাধ্যমত গবেষণা করা।
গবেষক তৈরির জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। (ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে)
দ্বিতীয়ত,
একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে সমাজের বিত্তশালী মানুষের এ সমাজকে এগিয়ে নিতে বিবেকের দায়বদ্ধতার সাথে সাথে ইসলামী দৃষ্টিতে দায়-দায়িত্ব ও করণীয় রয়েছে-
গবেষণা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুদান বরাদ্দ করতে হবে।
সমাজের গবেষক শ্রেণীর মানুষের ক্ষুধার তাড়নায় গবেষণা কাজ যাতে বন্ধ না হয়ে যায় বা আদর্শিক ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
গবেষণা কাজের সহায়তার ফল ও মর্যাদা ও মাত্রা আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করতে হবে।
অন্য সকল ভাল কাজ করার ক্ষেত্রে গবেষণা কাজকে অগ্রধিকার দিতে হবে।
উপসংহার : ইসলাম চিরন্তন শাশ্বত জীবনব্যবস্থা। মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজের দিকনির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। এটি কিয়ামত পর্যন্ত চলমান একটি দর্শন। তাই এই দর্শনের আলোকে মানুষের জীবন চলার সমস্যা সমাধানে ইসলামের দিকনির্দেশনা প্রদানে গবেষণা অপরিহার্য একটি বিষয়। ইসলামে তাই গবেষণার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বরোপ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা মুসলমান বিশেষ করে ইসলামী চেতনায় বিশ্বাসীগণ গবেষণা ক্ষেত্র থেকে বহুদূরে অবস্থান করছি।
লেখক : সাবেক কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

SHARE

Leave a Reply