গ্রানাডা ট্র্যাজেডি: মুসলিম মিল্লাত এখনো সে গ্রানাডার তিমিরেই

muslim millatমুহাম্মদ আবদুল জব্বার

মুসলমানদের ইতিহাস মুসলমানদেরকে আবারো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে নেতৃত্বে কর্তৃত্বে সমাসীন হওয়ার প্রেরণা জোগায়। মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐতিহ্যে সর্বকালের সেরা জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষীরা মুসলমানদের জগৎজোড়া সকল যশ-খ্যাতিকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে যুগে যুগে নানামুখী ফন্দি এঁটেছিল। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়ে চলছে একের পর এক। সে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। গ্রানাডা ট্র্যাজেডি তার একটি অধ্যায় মাত্র। মুসলমানদের ওপর সে লোমহর্ষক ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনো ঘটে চলছে পৃথিবীর দিকে দিকে। মুসলমানরা কোনো ঘটনা থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। মহান আল্লাহ চেষ্টা ছাড়া কোনো জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন করেন না, যেখানে বান্দার চেষ্টা শেষ সেখানে আল্লাহর সাহায্য শুরু। নেতৃত্ব, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও অবিরাম লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টার ব্যত্যয় ঘটায় ইসলামবিরোধীদের আক্রমণের তীব্রতা যেন বেড়েই চলছে। গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তির জাঁতাকলে মুসলমানদের আর কতকাল নিষ্পেষিত হতে হবে? এর উত্তর যেন কারো জানা নেই। এর পরও শোককে শক্তিতে পরিণত করে দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে মুসলমানরা অগ্রসর হলে নিঃসন্দেহে একদিন সুদিন ফিরে আসবেই। এখনও সারা বিশ্বের সিংহভাগ সম্পদ ও জনবল মুসলমানদেরই। তাই মুসলমানদের পক্ষেই সব সম্ভব।

ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ
ইসলামের সুমহান সৌন্দর্য বিশ্বের নানা প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল রাসূল (সা)-এর সময় থেকেই। কালের পরিক্রমায় সে আলো আছড়ে পড়ে ইউরোপের মাটিতেও। উমাইয়া সালতানাতের বীর সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে স্পেনের মাটিতে ইসলামের পতাকা উড়তে শুরু করে অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে। মুসলমানদের ১৪৯২ সালের আগ পর্যন্ত প্রায় ৮ শত বছর ধরে স্পেনে স্বর্ণযুগ ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, চিকিৎসা, রাজনীতি, স্থাপত্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সে সময়কালে স্পেনই ছিল একমাত্র স্পেনের উদাহরণ। মুসলমানদের এমন উন্নতি খ্রিষ্টানরা মোটেও পছন্দ করলো না। মুসলমানদের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি করে সাজানো বাগানকে তছনছ করার নিমিত্তে গ্রানাডার রাজা ফার্ডিন্যান্ড এক ভয়ঙ্কর ফন্দি আঁটলো। রাসূলের যুগে যেভাবে মুনাফিক সরদার আবদুল্লাহ ইবনে ওবাই মুসলমানদের কাতারে থেকে মুসলমানদের ক্ষতি করত, তেমনি আবু দাউদ নামক গাদ্দার স্পেনের গ্রানাডার শেষ সুলতান আবুল হাসানের ছত্রছায়ায় থেকে খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ডের স্পেন ধ্বংসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখলো। তার সাথে যোগ দিলো রাজ্যের আরো কিছু ক্ষমতালোভী ব্যক্তিবর্গ। সে হত্যাযজ্ঞের মিশনকে পাকাপোক্ত করতে পার্শ্ববর্তী দেশের রানী ইসাবেলাকে হাত করতে ফার্ডিন্যান্ড তাকে বিয়ে করল। এর পর ষড়যন্ত্রের বীজ বুনিত হলো সারা স্পেনে। মুুসলিম নেতৃবৃন্দের অন্তঃকোন্দলে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তখন ফার্ডিন্যান্ড হামলে পড়ল মুসলমানদের ওপর। আবুল হাসানের হাতেই যেন স্পেনের বিজয়কেতন ধপ করে নির্বাপিত হয়ে গেল। ইতিহাস বলে, সে অভিযানে মুসলমানদের খুনের দরিয়া বয়ে গিয়েছিল স্পেনের চৌদিকে। নেতৃত্বহীন মুসলমানরা জীবন বাঁচানোর নিমিত্তে যখন দিশেহারা ঠিক তখন ফার্ডিন্যান্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা এলো যারা মসজিদে ও জাহাজে আশ্রয় নেবে শুধু তারাই রেহাই পাবে। খ্রিষ্টানদের ছলনাময়ী প্রস্তাবে রাজি হয়ে সবাই মসজিদে ও জাহাজে আশ্রয় নিলো। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরকে মসজিদের তালা বন্ধ করে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে এবং জাহাজে আশ্রিতদেরকে সাগরে ডুবিয়ে করুণ মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল; আশ্রিতদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু-বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অসহায়। জীবন দগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে লাখ লাখ বনি আদম প্রাণ হারাচ্ছিল এবং তাদের আর্তচিৎকারে যখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছিল ঠিক তখন মানবেতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকারী কুখ্যাত ঘাতক ফার্ডিন্যান্ড ও তার স্ত্রী ইসাবেলা হামযা (রা)-এর কলিজা ভক্ষণকারী আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দার মতো আত্মতৃপ্তিতে বিকৃত অট্টহাসিতে মাতোয়ারা হয়ে বলতে থাকল ‘হায় এপ্রিল ফুল’ (এপ্রিলের বোকা)! এর পর পর সকল মসজিদে আজান বন্ধ হয়ে গেল। সবাইকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হলো। ফজরের সময় যারা নামাজ পড়তে উঠত বা যে সকল ঘরে সে সময় বাতি জ্বলত নামাজ পড়ার অভিযোগে তাদের করুণ মৃত্যু নিশ্চিত করা হতো। এভাবেই একটি সাজানো গোছানো বাগান নিঃশেষ হয়ে যায়।

এপ্রিল ফুল!!
মুসলমানেরা তাদের সেদিনের করুণ আর্তনাদের ইতিহাস ভুলে গেলেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় তাদের প্রতারণাকে স্মরণ করে রাখতে আজো সে দিনটিকে জমকালোভাবে জমিয়ে রেখেছে ‘এপ্রিল’ ফুল নাম ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্বব্যাপী। আর সারা দুনিয়ার তরুণ-তরুণীরা নিজেদের পূর্বসূরিদের করুণ আর্তনাদের দিনকে বোকা দিবস হিসেবে পরস্পর পরস্পরকে ধোঁকায় ফেলে চরম মজায় লুটোপুটি খায়! এ ক্ষেত্রে মুসলিম-তরুণ তরুণীরা যেন আরো এগিয়ে! সত্যি এক করুণ জাতির হাস্যকর বিলাপ! সেলুকাস! সে বোকাতত্তে¡ মুসলমানরা এখনো ধরাশায়ী। আগামী প্রজন্মের কাছে নিজেদের করুণ পরিণতির কথা অজানার তিমিরে ধামাচাপা রয়ে যাওয়া একটি জাতির জন্য কতই না দুর্ভাগ্যের তা বলে বা লিখে আদৌ ব্যক্ত করা কি সম্ভব? তা জানার সুযোগ ও উপলব্ধি তৈরি করে দেয়ার দায়িত্ব মুসলিম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের। তবেই কেবল নিজেদের করুণ আর্তনাদের দিনের শোককে শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগ কালান্তরে নিঃশেষের পথে
শুধু গ্রানাডা ট্র্যাজেডি স্পেনের মুসলমানদের সোনালি দিনগুলোকে করুণ ইতিহাসের ফ্রেমে বন্দি করে রেখেছে তাই নয়, ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় অভিন্ন লক্ষ্য হাসিলের হীন লক্ষ্যে মুসলিম স্বর্ণকালগুলোকে ইসলামবিদ্বেষীরা প্রতিনিয়ত কফিনবন্দি করে চলছে। এই তো সেদিন ইরাকে স্বৈরাচারী সাদ্দাম নিধনের ছুতোয় মুসলমানদের শত শত বছরের ঐতিহ্যের লীলাভূমিকে তারা ধুলোয় মিশিয়ে দিলো। সাম্প্রতিককালে মিসরের কথা কি বলার অপেক্ষা রাখে? তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে সম্ভাবনাময়ী প্রকৃত ইসলামের উত্থিতময় রাষ্ট্রসমূহে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত করে রেখেছে, তা কখনো বা দেশাভ্যন্তরে আবার কখনো বা পার্শ্বদেশ দ্বারা। ইরান, তিউনিশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকেই এখন তাদের লোলুপ দৃষ্টি। এ সকল দেশের সম্পদগুলো লুণ্ঠন করতে পারলেই বিশ্বে তাদের আর দ্বিতীয় কোন প্রতিদ্ব›দ্বী থাকে না।

ঘটনার পর ঘটনা
খ্রিষ্টানরা ৮৯৮ হিজরি ১৪৯৩ সালের পয়লা এপ্রিল ধোঁকা দিয়ে মুসলমানদের সলিল সমাধি ঘটিয়েছিল ঠিক একই কায়দায় পৃথিবীর নানা প্রান্তে মুসলমানদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারা এখনো অব্যাহত রেখেছে। ১৯৯৩ সালের এই দিনে ৫০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গ মিলিত হয়ে ‘হলি মেরি ফান্ড’ গঠন করে। বৈঠক করে তারা এ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা মুসলমানদেরকে কোথাও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেবে না। মুসলিম দেশে দেশে শুধু ঘটেই চলছে একের পর এক নির্মম ঘটনাপ্রবাহ। ব্রিটিশ কলোনাইজের সাবেক মন্ত্রী গøাসস্টোনের একটি বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘মুসলমানদেরকে ধ্বংস করার দু’টি প্রক্রিয়া রয়েছেÑ প্রথমত, তাদের কাছ থেকে কুরআন কেড়ে নিতে হবে কিন্তু তা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, তারা যেন কুরআনের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে, সে কাজ করতে হবে কৌশলে; আর তা হবে কার্যকরী। বছরের পর বছর মিয়ানমারে মুসলমানদের গ্রানাডার আদলে পুড়িয়ে মারছে। হয়তোবা সময়ের পরিক্রমায় মিয়ানমারও হবে আরেক স্পেন। মুসলমানদের নিধন করতে ইহুদি-খ্রিষ্টান, হিন্দু-বৌদ্ধরা একজোট। মিয়ানমারে শুধু নয়, সে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চলছে ফিলিস্তিন, বসনিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মির, সিরিয়াসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে। আমাদের দেশও সে নারকীয় হত্যাকাণ্ড থেকে নিষ্কৃতি পায়নি। ৫ মে ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের সমবেত করে আগাম কোনো সতর্কবার্তা না দিয়ে ঘুমন্ত, ইবাদতরত আলেম-ওলামা মুসল্লিদের ওপর চলে এক বর্বর নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান এখনো দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়, বরং যারাই এ হত্যাযজ্ঞের ব্যাপারে মুখ খুলতে চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে নানামুখী নির্যাতন। মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের অধিকার হরণ করেছে সরকার নির্লজ্জভাবে। নিশ্চিতভাবে এখন ব্রিটিশ কলোনাইজের সাবেক মন্ত্রী গøাসস্টোনের বক্তব্যের প্রতিফলন হয়ে চলছে। বিশ্বব্যাপী এখন কুরআনের অবমাননা করে চলছে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি নামধারী মুসলমানরাও। কিন্তু যারা মুসলমান দাবি করে, কুরআনপ্রেমিক অথবা কুরআনের কর্মী দাবি করে তাদেরকে এর বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি বা প্রতিবাদ করতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামবিরোধীরা ইসলামকে অ-আধুনিক, জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী বলে নানা প্রকার বিকৃত প্রচারণা চালাচ্ছে। মুসলিম তরুণদের মস্তিষ্কে পচন ধরাতে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে সহজলভ্যভাবে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে সন্তর্পণে মগজ ধোলাইয়ের বীজ বপন করে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ইসলামের প্রতি তরুণদের আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলছে, নিজেদের ভোগবাদী চরিত্রে গঠন করে তুলছে। এভাবেই মুসলিম তরুণদের ঘটছে অন্তঃদাহ।
লক্ষ্যহীন যাত্রা মাঝিহীন তরী
সে মারাত্মক আত্মবিস্মৃতির ইতিহাস আমাদের বিবেককে শুধু গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পয়লা এপ্রিলের দিন ভাবিয়ে তুললেও আমরা কোন শিক্ষাই যেন গ্রহণ করতে পারিনি। গ্রানাডা ট্র্যাজেডির পর মুসলমানদের ওপর আরো কত ট্র্যাজেডি বয়ে গেল তার ইয়ত্তা নেই। ইহুদি-খ্রিষ্টান ও যায়নবাদীরা মুসলিম শক্তিকে নিধন করার জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক ট্র্যাজেডির জন্ম দিচ্ছে। মুসলমানদের দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করে চলছে। এর পরও মুসলিম নেতৃবৃন্দ অজানা উদ্দেশ্যে ইসলামবিদ্বেষীদের গোলামি করেই চলছে। যত দিন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করব না হয়তোবা ততদিন এ দুর্দশা কাঁধে নিয়ে মুসলমানদের চলতে হবে।
যে কোন সচেতন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে অকপটে বলতে পারে ইহুদি ও খ্রিষ্টান দুনিয়ার স্বার্থ রক্ষার্থে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে, তবে মুসলমানদের নেতৃত্ব আদৌ কে দিচ্ছে তা কেউ বলতে পারে না। এ যেন লক্ষ্যহীন যাত্রা মাঝিহীন তরী। যে যার মতো করে অগোছালো অপরিপক্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নিজেদের ভেতর নানা জাতের বিভেদে ভরা। ইসলামবিদ্বেষীদের পা-চাটা গোলামি করতে মুসলিম শাসকরা ব্যতিব্যস্ত। কৌশলের নামে নিজেদের আত্মপরিচয় জলাঞ্জলি দিয়েই যেন আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে।

প্রয়োজন আত্মোপলব্ধি ও সময়োপযোগী কার্যকর পরিকল্পনা
আমরা নগদ নগদ পেতে চাই। আর যখন নগদ মিলে না তখন হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিই। অথচ আল্লাহ নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে তার সাহায্য কামনার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলমানরা এখন আত্মকেন্দ্রিক। মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে তাদের কাছে সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন মুখ্য বিষয়। বিশ্বব্যাপী সস্তা কিছু শ্লোগান দিয়ে আরো ভিন্ন রকমের গ্রানাডা ট্র্যাজেডি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এখন নতুন শ্লোগান হলো গ্লোবালাইজেশন ‘বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়’। বাস্তবিক পক্ষে এ সকল সস্তা শ্লোগান দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খ্রিষ্টান-যায়নবাদীরা দুর্বল শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রগুলোকে অশান্ত করে তুলে ফায়দা লুটতে চায়; নিজেরা কাজীর আসনে বসে আমাদের সর্বনাশ করতে চায়। ইতিহাস বলে আমেরিকার শত্রæ রাশিয়াকে টুকরো টুকরো করার জন্য তালেবানদের প্রয়োজনীয় রসদ তারা দিয়েছিল; স্বার্থ শেষে সে তালেবানদেরকে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দাবি করে তাদের নিধনে আমেরিকা সর্বশক্তি নিয়োগ করে একটি স্বাধীন দেশকে তছনছ করে দিলো। লাদেন সৃষ্টি তাদেরই পরিকল্পনার অংশ। স্বার্থ শেষে লাদেনকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিলের নিমিত্তে কোনো স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বানায় আবার কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্বার্র্থ হাসিলের দুরভিসন্ধিতে স্বাধীনতাকামী বা নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে দুনিয়ার কাছে উপস্থাপন করে। দুনিয়ার যত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে সকল ঘটনাই তাদের পরিকল্পনা মাফিক এগিয়েছে। ৯/১১-এর ঘটনা দিয়ে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এক নম্বর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যে ঘটনার সাথে ইহুদিদের সরাসরি কানেকশন রয়েছে। বর্তমানে সিরিয়াতে আসাদবিরোধীদেরকে স্বাধীনতাকামী বলে আমেরিকার মিত্র শক্তিগুলো সার্বিক সহযোগিতা করছে, এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা। এখন কেউ জানে না এর সমাধান কবে হবে? মিসরে ইসলামপন্থীদের হাজার হাজার সমর্থককে হত্যা করেছে তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে। সম্প্রতি প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করে ফাঁসির রায় দিয়েছে। আমাদের দেশেও সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। এর পরও কি আমাদের আত্মোপলব্ধি জাগবে না? এর পরও কি মিল্লাতের স্বার্থরক্ষায় মুসলিম নেতাদের কোন কার্যকর পরিকল্পনা থাকবে না? muslim millat-01
গ্রানাডা এখন শুধু ইতিহাস। মুসলমানদের আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করার এক ঐতিহাসিক ইমারত। এর আসল ইতিহাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। আমরা গ্রানাডা থেকে শিক্ষা নিতে পারিনি, শিক্ষা নিতে পারিনি আরো অনেক ঘটনার পর ঘটনার। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। আমাদেরকে আল্লাহর ওপর আস্থাশীল হয়ে মজবুত কদমে এগিয়ে যেতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা আর ইসলামবিদ্বেষীদের পাতানো ফাঁদে নিজেদের জলাঞ্জলি দেবো না। এখন নিজের পায়ে নিজেরা দাঁড়িয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। জনবল ও সম্পদে মুসলমানরা এখনো এগিয়ে আছে। তৈরি করতে হবে দক্ষ জনবল ও সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে সম্পদের। এখন শুধু প্রয়োজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুষ্ঠু ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যে নেতারা কারো স্বার্থরক্ষার্থে নিজেদের বিলিয়ে দেবেন না, যাদের উদ্দেশ্যই থাকবে নিপীড়িত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। দুনিয়ার কাছে তারা নিজেদের পদানত করবেন না বরং দুনিয়া তাদের কাছে পদানত হবে। আর এমন সুষ্ঠু দূরদর্শী সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা গৃহীত হবে যা বাতিলদের সকল পরিকল্পনাকে কাবু করে মুসলিম মিল্লাতকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করবে। দুনিয়ার চলমান অশান্তির দাবানলকে নির্বাপিত করে বসবাসযোগ্য শান্তির নীড়ে পরিণত করবে। যেখানে থাকবে না জুলুমবাজি, নিপীড়িত মজলুমের বুকফাটা আর্তচিৎকার। যেখানে সকল ধর্মমতের অধিকার হবে সুনিশ্চিত। তাই হতাশার সকল গøানি ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে মুসলিম উম্মাহর নেতৃবৃন্দকে… সাহসের সাথে কিছু স্বপ্ন জড়াও, তারপর পথ চলো নির্ভয়… আঁধারের বুক চিরে আসবে বিজয়, মুক্তির পথ সেতো নিশ্চয়…।
লেখক : কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

zabbarics@gmail.com

SHARE

Leave a Reply