চার দিকে কবরের স্তব্ধতা

ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

স্বীকার করতেই হবে, পৃথিবীর ফ্যাসিবাদী সরকারগুলো এ পর্যন্ত যা করে এসেছে এবং বর্তমান বাংলাদেশ সরকার যা করছে তার মধ্যে অবয়বগত ও গুণগত কোনো পার্থক্য নেই। সরকার অবিরাম হয়কে নয় ও নয়কে হয় করছে। গুম, খুন, দমন, পীড়ন, মামলা, হামলা জেল, জুলুমÑ সরকারের এক স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটিয়ে সরকার নির্বিকার আনন্দে উল্লসিত। ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার’Ñ এ রকম এক আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে আনন্দিত ও উল্লসিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য আরো এককাঠি এগিয়ে আছেন। জয় তিনি চেয়েছিলেন, তিনি আজ জয়ী এ ধরনের এক সুখানুভূতি তাকে স্পষ্টতই অপরিসীম আনন্দ দিয়েছে। বিরোধী দল ‘নির্মূলের’ প্রাথমিক যে লক্ষ্যে তিনি তাড়িত, তার অনেকখানি এখন বাস্তবায়িত। ফলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তিনি তুলতেই পারেন। যদি সত্যি সত্যি সব কিছুর এখানেই শেষ হয়ে যেত, যদি সত্যি সত্যি বিরোধী দল নামের বিরক্তিকর উপাদানগুলো আর কোনো দিন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠত, তাহলে কী মজাই না হতো!
আমাদের মানতেই হবে, বিরোধী দল সরকারের দমননীতির মুখে এখন অনেকখানি স্তম্ভিত। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি তাদের হাতে নেই। বিরোধী দল তাদের হিসাব মতো হয়তো নতুন কিছু ভাবছে। আমরা সাধারণ মানুষেরা এর হদিস রাখি না। যখন নতুন কোনো কর্মসূচি নিয়ে এরা মাঠে নামবে তখনই আমরা জানতে পারব, আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে। ফলে সরকারের ভেতরে এখন এক উৎসবের আমেজ। বিজয়ের উৎসব। জামায়াত বলি, বিএনপি বলি আর হেফাজত বলি, সরকারের চণ্ডনীতির সামনে কেউই এখন আর একেবারে দাঁড়াতে পারছে না। এর জন্য সরকারের যে কী এক ভয়াবহ মর্ষকামী আনন্দ! যেন তাদের আর ঠেকায় কে? সে কারণেই আওয়ামী মন্ত্রী, বিশেষ করে অ-আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের আস্ফালন এখন সব সীমা লঙ্ঘন করে গেছে। আরও বেশি লঙ্ঘন করছে, এখনো যারা বাকি ক’দিনের জন্য মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আছেন।
আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, নতুন যারা মুসলমান হয় তারা বেশি বেশি গরু খায়। এ কথা নব্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে একেবারে হাড়ে হাড়ে সত্য। তারা যদি ধরে নিয়ে থাকেন, এই যে সুমসাম নীরবতা, এটি অনন্ত শান্তির প্রতীক এবং ভবিষ্যতে তাদের আবারো ক্ষমতাসীন করার পথ, তাহলে সেটি একটি মারাত্মক ভুল। এই ‘ভুল’ বুঝবার ক্ষমতা এই নও-মন্ত্রীরা হারিয়ে ফেলেছেন। কিংবা হয়তো কোনো দিনও তাদের মধ্যে এই বোধ ছিল না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অতিকথন সর্বজনবিদিত। আর এই গুণ আওয়ামী স্তাবক মহলে ব্যাপকভাবে করতালিয়ায়িত। ফলে নও-মন্ত্রীরা তেমনি কাণ্ডজ্ঞানহীন অতিকথনে লিপ্ত। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি, দীর্ঘকালীন আওয়ামী ঐতিহ্যের ধারক যারা, যাদের ভেতর সামান্য ইতিহাস চেতনা আছে, তারা কিন্তু সরকারি কর্মকাণ্ডে অনেকখানি খামোশ হয়ে আছেন এবং যথাসম্ভব নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এত বিপর্যয়ের মধ্যেও তাদের খানিকটা সাধুবাদ জানাতেই হয়।
কিন্তু এরাই এখন আর শেখ হাসিনার নির্ভর করার উপযুক্ত লোক নন। তার নির্ভরশীলতা অনেক বেশি বরং ডুগডুগিবাজ করতালিদাতাদের ওপর। ফলে পরিস্থিতি বেশ বেসামাল। এই নও-মন্ত্রীদের দু’জন হলেনÑ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ইনু সাহেবের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত চমকপ্রদ। স্বাধীনতার পর পর তিনি ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একজন প্রভাবশালী নেতা। শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে এবং মুজিব সরকার উৎখাতের জন্য হেন ‘কুকাজ’ নেই, যা এরা করেননি। সেই জাসদ এখনকার জাসদ-বাসদ-দাসদ-সাসদ জাতীয় কোনো দল ছিল না।
অস্বীকার করার উপায় নেই, শেখ মুজিবুর রহমানের সেই কবুরে শাসনকালে মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় ছাত্রনেতারা গড়ে তুলেছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (একজন সমর্থক হিসেবেও অস্বীকার করব না যে) নামমাত্রই বিরোধী দল ছিল। প্রকৃত বিরোধী দল হয়ে উঠেছিল জাসদ। শেখ মুজিবের সরকার হেন কোনো নির্যাতন নেই, যা জাসদের নেতা সদস্যদের ওপর করেনি। এই দলের নেতাদের নির্বিচারে কারাবন্দী করেছে; জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, গুম নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত রচিত বহুসংখ্যক গ্রন্থে তার লোমহর্ষক ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে। শুধুই জাসদ? তার চেয়েও অনেক ছোটখাটো ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক দলের ওপর শেখ মুজিবের বাহিনী বিশেষ করে রক্ষীবাহিনীর লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা বহু লেখকের লেখায় অনুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ আছে।
তার সামান্য একটি উদাহরণ কমিউনিস্ট নেতা, সিপিবি নয়; শান্তি সেনের স্ত্রী অরুণা সেনের বিবৃতিতে। তাতে আওয়ামী নির্যাতনের যে ভয়াবহতা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে যেকোনো শিমারের বুকও কেঁপে উঠতে বাধ্য। ওই বিবৃতিতে দেখা যায়, অরুণা সেন তার পুত্রবধূ রিনা সেন ও হনুফা বেগমকে রক্ষীবাহিনী কী বর্বর নির্যাতনই না করেছিল! শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, পুকুরে চুবানো, চাবুক দিয়ে পেটানো, নগ্ন-অসুস্থ অবস্থায় কম্বলচাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে রাখা (কথামালার রাজনীতি ১৯৭২-’৭৯/ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, তৃতীয় সংস্করণ, পৃ. ৫৫)Ñ এমনি সব নির্যাতন। এটা শুধু অরুণা সেন, রিনা সেন কিংবা হনুফার ক্ষেত্রেই ঘটেনি; ঘটেছে আরও অসংখ্য মানুষের ক্ষেত্রে। তেমনি একটি ঘটনা ঘটে বাজিতপুরের ইকোটিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল আলীর ছেলে রশিদকে খুনের ঘটনার মধ্য দিয়ে। সেই সাক্ষাৎকারে আবদুল আলী বলেছেন, ‘আমার সামনে ছেলেকে গুলি করে হত্যা করল। আমার হাতে কুঠার দিয়ে বললÑ মাথা কেটে দে, ফুটবল খেলব। আমি কি তা পারি? আমি যে বাপ। কিন্তু অত্যাচার কতক্ষণ আর সহ্য করা যায়। সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের হাতে ছেলের মাথা কেটে দিয়েছি।’ (বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ/ আহমেদ মুসা, পৃ. ৬৭-৬৮। উদ্ধৃত প্রাগুক্ত পৃ-৬৩)। অরুণা সেন কিংবা আবদুল আলীর বহু বিবৃতিই উদ্ধৃতিযোগ্য। পাঠকদের স্বার্থে কোনো সময় তা বিস্তারিত তুলে ধরব।
কিন্তু এই ভয়াবহ নির্যাতনের সময় জাসদ যে একেবারে চুপ করে বসেছিল, এমন নয়। ইনু সাহেবদের নেতৃত্বে এই নির্যাতন প্রতিরোধে তারা গড়ে তুলেছিলেন গণবাহিনী। আর অচিরেই এই গণবাহিনী সারা দেশে, গ্রামে, গঞ্জে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এমনকি রক্ষীবাহিনীও গণবাহিনীকে সমীহ করে চলত। ফলে গ্রামের মানুষ চাঁদা দিয়ে খাসি-মুরগি-ভাত খাইয়ে গণবাহিনীকে আদর করে পুষত রক্ষীবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। সে কাহিনী ইনু সাহেবের অন্তত অজানা থাকার কথা নয়। বরং ওই জনপ্রিয় বাহিনীর সাথে তিনি সংশ্লিষ্টই ছিলেন। আজকে দুই দিনের ওজারতি পেয়ে এত যে বেসামাল হয়ে উঠেছেন, এর পরিণতি কী হতে পারে, সে সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা আছে বলে মনে হয় না।
ক’দিন আগেই বন্ধ আমার দেশ, গ্রেফতারকৃত এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়া দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫ সম্পাদক এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে এই চারটি বন্ধ ঘোষিত গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান এবং আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন। সন্দেহ নেই, এই পদক্ষেপ বিলম্বিত। তা সত্ত্বেও অভিনন্দনযোগ্য। প্রায় প্রথম দিন থেকেই সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এই নগণ্য সাংবাদিক সোচ্চার প্রতিবাদ করে এসেছেন। এরপর যখন ১৫ সম্পাদক বিবৃতি দিলেন তখন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে ১৫ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই বলে বিষোদগার করে বসলেনÑ সম্পাদকেরা না জেনে, না বুঝে এ ধরনের একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এটা তাদের কিছুতেই উচিত হয়নি। সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দুর্ধর্ষ ক্রিমিনাল। আমার দেশ রাষ্ট্রদোহী বা জনদ্রোহী। দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি ভয়াবহ উসকানিদাতা। ফলে সম্পাদকদের এই বিবৃতি একান্তই অনভিপ্রেত। ‘কী জানি হনুরে’ এই মন্ত্রীর কাণ্ডজ্ঞানের এতটাই অভাব হয়েছে, তিনি যে কী বলছেন, সে সম্পর্কে বোধ করি তিনি কোনো ধারণাই পোষণ করেন না। সম্পাদকেরা এ কথা বলেননি যে, আইনের দৃষ্টিতে কেউ যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলেও তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সম্পাদকেরা বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ না পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হন, ততক্ষণ অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো জুলুম করা যাবে না। এতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়নি।
একাধিক সম্পাদক ইতোমধ্যেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে যার যার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ডেইলি স্টার ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা (জরংরহম ওহঃড়ষবৎধহপব/ ওহভড়ৎসধঃরড়হ গরহংঃবৎ’ং ষরঃবৎধষ ধিৎহরহম) শিরোনামে লিখেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সবাই যা জানেন না, শুধু তথ্যমন্ত্রী নিজে তা জানেন। কিন্তু তথ্যটা কী? তথ্য হলো এই যে, আমার দেশ পত্রিকাটি বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু নিষিদ্ধ করা হয়নি। এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে এক ডজনেরও অধিক মামলায় গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। অথচ আনীত একটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি। বাস্তবতা হলো এই যে, মাহমুদুর রহমানকে এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েক দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে এবং তার পরিবারকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর কি সেসব দিনের কথা স্মরণ আছে, যখন আদালতে অপরাধী প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো লোককে নিরপরাধ বলা হতো? ঘটনা হলো এই যে, মাননীয় মন্ত্রী, আমার দেশের প্রেসের বিষয়ে তদন্তকাজের জন্য এই ছাপাখানায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই তদন্তে কত দিন লাগে? সরকার যেভাবে চায়, সেভাবে হয়তো এই তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে, কয়েক বছরও লাগতে পারে। আর ঘটনা হলো এই যে, কেন দু’টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আর সে কারণেই ১৫ প্রতিবাদী সম্পাদক ওই বিবৃতি দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া থেকে সমালোচনার প্রতি সরকারের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন ঘটেছে। মাননীয় মন্ত্রী, দয়া করে দেশবাসীকে জানান যে, আমাদের বিবৃতি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সমকাল সম্পাদকও এর কাছাকাছি একটি ‘কৈফিয়ত নয়’ শিরোনামে প্রথম পাতায় তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
এখন বিরোধী দল ফাটকে বন্দী। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীনভাবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সব শীর্ষস্থানীয় নেতা কারাবন্দী। যদিও কেউ বা আদালতের নির্দেশে বেরিয়ে আসছেন। কিন্তু চার দেয়াল থেকে জেলগেট পর্যন্তই। সাথে সাথে আবারো তাদের আটক করে কারাগারে পোরা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরতন্ত্র এর নাম। দরিদ্র সাধারণ হেফাজতকর্মীরা এখন ঘর থেকেও বের হতে ভয় পান। মসজিদে যেতে ভয়। ইমামতিতে ভয়। কুরআন তেলাওয়াতে ভয়। আল্লাহর নাম নিতে ভয়। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে এই ভীতি ও আতঙ্ক মুসলমান নামধারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীদের কারো জন্যই সুখকর হবে না।
জামায়াতে ইসলামী অনেক আগে থেকেই অকারণ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। জামায়াত বা ছাত্রশিবির এখন যেন এক সন্ত্রাসী নাম। বিএনপির মতো এদের ওপরও সরকার পৈশাচিক নির্যাতন চালাচ্ছে। বর্বরতার সমস্ত নজির লঙ্ঘন করে শিবির সভাপতি ৩০ বছরের এ তরুণের ওপর যে পৈশাচিক নির্যাতন সরকার চালিয়েছে, যা যেকোনো কসাই-শিমারের হৃদয়ও আপ্লুত করবে। নজিরবিহীন মাস দেড়েক রিমান্ডে রাখার পর তাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে চার-পাঁচজন পুলিশ লাশের মতো করে এনে আদালতে হাজির করেছিলেন। আবারো রিমান্ড চায়। তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। নির্যাতনে দগদগে ঘা। কথা বলার শক্তি রহিত। এই কাজ যারা করেন, তাদের বর্বর বললে কম বলা হয়। পিশাচ বললেও যেন কিছুই বলা হয় না।
এখন দেশের পরিস্থিতি থমথমে। যেন কোথাও কুটোটিও নড়ছে না। কিন্তু সরকার যদি কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন হতো তাহলে বুঝতে পারত, এই থমথমে অবস্থা মহাপ্রলয়ের পূর্বাভাস। এই প্রলয় রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য কখনও অপেক্ষা করে না।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

SHARE

Leave a Reply