জনগণের দাবির কাছে কোনো শক্তিই টিকতে পারেনি

images১৯৭১ সাল থেকে ২০১৫ সাল। স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৪৩ বছর পরও শাসকমহলের ইচ্ছা-অচ্ছিার কাছে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা, নিরাপত্তা, ভোটের অধিকার বন্দী। গণতন্ত্র, নাগরিকের মৌলিক অধিকার এখানে কেবলমাত্র সংবিধান ও রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ। অপরাজনীতি, দুঃশাসন, মৌলিক অধিকার হরণ, নির্যাতন দেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলছে। বাধ্য হয়ে মানুষ হচ্ছে প্রতিবাদমুখর, তৃণমূল থেকে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শাসকগোষ্ঠীকে। এমন একটি ক্রান্তিকালে একটি পক্ষ দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে যেনতেনভাবে গলা টিপে, খবরদারি কায়দায় শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে চায়।

৫ জানুয়ারি ২০১৪ নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের নামে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৭ সংসদীয় আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে, গৃহপালিত বিরোধীদল নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠাই আওয়ামী জোটের বড় মিশন। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নির্বাচন। কিন্তু শেখ হাসিনা বরাবরের মতো এবারও কথা রাখেননি। জনগণের রোষানলে পিষ্ট হওয়ার আতঙ্কে জনসমর্থনহীন সরকার নির্ভরশীল হয় পুরোদমে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। দলীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ সকল বাহিনীকে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। প্রতিবাদমুখর জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে সরকারে আশ্বাসে এবং দায়মুক্তির ঘোষণায়।

একটি স্বাধীন দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যখন মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেয়, জনগণের মধ্যে ক্ষোভের দানা বাঁধতে থাকে, সে ক্ষোভ এখন গণবিস্ফোরণে পরিণত হচ্ছে। সরকার এই গণবিস্ফোরণ ঠেকাতে নির্র্বিচারে মানুষ মারছে। পেট্রলবোমা ঘটনার সাথেও সরকার এবং সরকারি দলের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হওয়ায় জনগণের কাছে বিরোধী দলের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাস’ বলে অপপ্রচার এখন আর হালে পানি পাচ্ছে না।

গুম, খুন, গণহত্যা, গণগ্রেফতার, রিমান্ড, কারা নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, পেট্রলবোমা সন্ত্রাস, মহিলা ও শিশুদের ওপর হামলা, ক্রসফায়ারের নামে মেধাবী ছাত্রহত্যার মাধ্যমে সারাদেশে সৃষ্টি হয়েছে এক মানবিক বিপর্যয়। গ্রেফতার করে অত্যন্ত ভয়ঙ্করভাবে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করছে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পাল্টে গেছে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’-এর ধরন। আগে যেখানে পেশাদার সন্ত্রাসীরা নিহত হতো, এখন সেখানে নিহত হচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ‘গাড়িচাপায়’ নিহতের অবাস্তব দাবি করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

সরকারের উচিত গণমানুষের দাবিকে আমলে নিয়ে পদত্যাগ করা এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে সহযোগিতা করা। জনগণের অধিকার আদায়ের দাবির কাছে কোনো শক্তিই কখনো টিকতে পারেনি এই বোধোদয় সরকারের যতো তাড়াতাড়ি হবে ততই জনগণ ও দেশের জন্য মঙ্গল।

SHARE

Leave a Reply