জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে

ক্ষমতার মোহে কিংবা ক্ষমতার মজায় ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা করছেন না হেন কোনো কাজ নেই এবং সে কারণেই বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সব কৌশল তিনি আরোপ করেছেন। বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এমন সব ঠুনকো অভিযোগে আটক করে জেলে পুরেছেন, যা রীতিমতো হাস্যকর। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে তো একটি মীমাংসিত ইস্যুতে আটকে রেখে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে একের পর এক ফাঁসির রায় নিয়ে উল্লাস করে চলেছেন। এখনও প্রতিনিয়ত চলছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনা। এতে জনগণের কাছে তিনি কতটা হাসির পাত্রী হলেন, কে কী মনে করল, সেটা থোড়াই পরোয়া করেছেন। ফলে তার পাঁচ বছরের শাসনকালে তিনি অবিরাম লোক হাসিয়েছেন আর মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছেন। দেশ বা জনগণ বড় কথা নয়, ক্ষমতার মোহে তারা যেন একেবারেই অন্ধ হয়ে গেছেন।
মনে হচ্ছে, দেশটি যেন একেবারে হীরক রাজার দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিশ্বব্যাপী নিন্দিত; কিন্তু যে মন্ত্রীকে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতিবাজ বলে গ্রেফতার করতে বলল, শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশের সেরা দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। এতে মনে হতে পারে এ দেশে এখন যে যত বেশি দুর্নীতিবাজ, সে তত বড় দেশপ্রেমিক।
এখানে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল নিয়ে। মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশবিষয়ক শুনানিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিষয়ে বিরাট প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছে। তারা বলেছেন, এই ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় কার্যক্রম অস্বচ্ছ। সুতরাং তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের হেনস্তা করা বা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্যই এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। এটা এ দেশের নিরীহ নাগরিকেরাও মনে করেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
শেখ হাসিনা এসব কথার থোড়াই পরোয়া করেন। তিনি নিজে যা বোঝেন (কিংবা কেউ কেউ তাকে যেভাবে বোঝান) সেভাবেই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছেন। যুক্তরাষ্ট্র গেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গেছে। জাতিসঙ্ঘ গেছে। মধ্যপ্রাচ্য গেছে। তিনি যে ভারতের ওপর নির্ভর করছেন, সে ভারতও চলে যেতে বাধ্য হবে। তখন এমন একটা পরিস্থিতির উদ্ভব হবে যে, ভারতও নেই সাথে, তাই একা ভেসে যায়।
দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। ছোট সোনামণিদের এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁসের আওতা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার একঘণ্টা দেরিতে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে। এর আগে জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এভাবে শিক্ষাব্যবস্থার সব পরীক্ষা এবং সকল প্রকার সরকারি নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে আসছে। এ আলামত মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। আর বর্তমানে যে শিক্ষাব্যবস্থা আওয়ামী সরকার দেশে চালু করেছে তা প্রথম থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। এই শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আশূ প্রয়োজন।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের দাবির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবিলম্বে একতরফা নির্বাচনের পথ থেকে সরে এসে বিরোধী দলের সাথে সমঝোতা করে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে মনোযোগ দেবে। সেই সাথে দেশকে সঙ্ঘাত-সংঘর্ষ থেকে বাঁচাবে এবং দেশকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিচ্ছিন্ন করার পথ পরিহার করবে। সর্বোপরি যাবতীয় একগুঁয়েমি পরিহার করে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ভবিষ্যৎ সব পদক্ষেপে এগিয়ে আসবে।

SHARE

Leave a Reply