জাতির উন্নয়ন প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা

মুহাম্মদ আবদুল জব্বার

নৈতিকমান মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। মানুষ ধরণীতে হরেক রকমের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি লাভ করে। কিন্তু প্রকৃত নৈতিকমান সকলে অর্জন করতে সক্ষম হয় না। যে নৈতিকতার অভাবে বিশ্বমানবতা আজ অশান্তির দাবানলে কাতরাচ্ছে। আজ বিশ্বমানবতার মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে নৈতিকমান উন্নয়নের বিকল্প নেই।
সমগ্র বিশ্বব্যবস্থার প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা অনুধাবন করি, আমাদের ভুবনে জ্ঞান-বিজ্ঞানীর অভাব নেই, শিক্ষাব্যবস্থার হরেক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ গড়ার প্রচেষ্টার অন্ত নেই, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ধরাকে সুন্দর ও শান্তির নিবাস হিসেবে গড়ার মিশনের বুলির জুড়ি নেই। নব নব পরিকল্পনা, উন্নত চিন্তাধারা ও কৌশলের মাধ্যমে জাতির শান্তি-শৃঙ্খলা ও প্রকৃত মানোন্নয়ন সম্ভব হয়েছে কি?
অশান্তির দাবানল বিশ্বব্যাপী দাউ দাউ করে জ্বলা বন্ধ হচ্ছে না কেন? বিচারের কাঠগড়ায় অপরাধী শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে নির্দোষ মানববিচারের জগদ্বল পাথরের চাপায় কাতরে মরছে কেন?
এসব প্রশ্নের সদুত্তর অনেকে সারগর্ভ আলোচনার মাধ্যমে উপস্থাপন করার প্রয়াস পেলেও কী কারণে জাতির প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে না, শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে না হয়ত তার সঠিক চিন্তা-ভাবনা আমরা কি করতে পেরেছি?
আমি চিন্তা করি সারা বিশ্বে কোন নেয়ামতের প্রভাব? গরিব রাষ্ট্রগুলোর কথা বাদই দিলাম। আমেরিকা, ব্রিটেন তাদের কিসের অভাব? সারা বিশ্ব যাদেরকে উন্নত বিশ্বব্যবস্থার রূপকার মনে করে।
তাদের প্রযুক্তিগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষগত মানোন্নয়ন থাকলেও তারাই আবার বিশ্বের কাছে ধিক্কারের পাত্র কেন? ইরাকে নির্বিচারে ট্যাংক বুলডোজার ও বিমান হামলার মাধ্যমে লাখো নারী-শিশুর জীবন চোখের সামনে খণ্ড-বিখণ্ড করল, এ শিক্ষা কিসের? আফগান জনগণের অধিকার হরণের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দসই নেতৃত্ব নির্ধারণ করে একটি সম্ভাবনাময়ী জাতির অমানিশা সর্বনাশ কোন উন্নত ব্যবস্থার প্রয়োগ?
কাগজে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করা, যান্ত্রিক জগতের চরম উন্নতি সাধন করা, বৈষয়িক উন্নতি সাধন হওয়াই কি মানুষের প্রকৃত শান্তি? তারাই কি প্রকৃত মানুষ?
যারা বিশ্বব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একজন ব্যক্তির বিচার করার পরিবর্তে একটি জাতিকে ধ্বংস করে দিলো তারা কিভাবে প্রকৃত মানব হতে পারে? যাদের মানবতার প্রতি সামান্য কর্তব্যকর্ম আছে বলে মনে করে না।
যারা শিক্ষা গ্রহণ করছে, তারা বিভিন্ন ধরনের গ্র্যাজুয়েশন লাভ করার পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোতে কর্তব্য পালন করে। তারা চাইলে তো নিজ নিজ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে জাতিকে শান্তির অবসাদের ছায়াতলে আশ্রয় দিতে পারত। কিন্তু যদি লক্ষ্য করি যারা আইন প্রণেতা আইনের শাসক, তাদের হাতে আইন কোন হালতে আছে? না আইনের খোলস মাত্র প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রশাসনÑ যাদের হাতে জাতির জান-মাল, ইজ্জাত আবরু তার কি রক্ষক বা সেবকের দায়িত্ব পালনে ব্রত? না নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত। সত্যিই আমাদের সমাজের প্রকৃত নৈতিক মানসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের অভাব। এ অভাবের ঘূর্ণায়নে প্রতিটি স্তরেই সত্য-মিথ্যার আবরণে ছেয়ে আছে। সুন্দর অসুন্দরের দিকে ছুটছে। শান্তি অশান্তির বেড়াজালে নিমজ্জিত হচ্ছে।
যদি জাতিকে প্রকৃত উন্নতি ও শান্তির দিগন্তে ফিরিয়ে নিতে হয়, যারা যেখানে দায়িত্বরত আছে, নিজের মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে সমাজ, রাষ্ট্রের যার যে কর্তব্য সে কর্তব্য যথাযথভাবে, জবাবদিহিতা নিয়ে পালনে এগিয়ে আসে, অন্যের ন্যায্য অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, শ্রেষ্ঠ আদর্শের নায়ক মুহাম্মদ (সা)-এর আদর্শের চর্চার মাধ্যমেই নৈতিকমান উন্নয়ন সম্ভব। রাসূল (সা)- এর যুগে নৈতিকমান সাহাবা কেরামদের নিকট ছিল বলে খেজুরগাছের তলায় বসেই সুচারুভাবে বিশ্ব নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যে নৈতিকমান আরবের বর্বর জাতিকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিল।
আজকের এই নব্য জাহেলিয়াত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে হলে মানবতার নৈতিকমান উন্নয়নের বিকল্প নেই। আজ বিশ্ব মানবতার একমাত্র রক্ষাকবচ হলো নৈতিকমান, যে মানোন্নয়নের ফলে দেশ ও জাতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।
লেখক : সেক্রেটারি জেনারেল,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
[email protected]

SHARE

Leave a Reply