জাতিসঙ্ঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন ঐক্যের পথেই স্বাধীনতা

আলফাজ আনাম

একটি পাখির নীড় আছে কিন্তু একজন ফিলিস্তিনির তাও নেই। আবাসভূমি হারা এক ফিলিস্তিনি কবি ফিলিস্তিনিদের কষ্টের চিত্র তুলে ধরেছেন এভাবেই। স্বাধীন একটি নীড়ের জন্য তারা সংগ্রাম করছেন দশকের পর দশক ধরে। নিজেদের আবাসভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর ফিলিস্তিনিরা আরব দুনিয়াসহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। সশস্ত্র পন্থা থেকে আলোচনা কত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই না স্বাধীন সার্বভৌম আবাসভূমির জন্য তারা লড়াই করছেন। এর মধ্যে কৃত্রিম ও ক্ষুদ্র ধর্মবাদী দেশ ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর দুই দফা যুদ্ধ হয়েছে। ফলাফল শুধু পরাজয় নয় আরো অধিক ভূখণ্ড হাতছাড়া হয়েছে। মাত্র তিন সপ্তাহে দক্ষিণ সুদান জাতিসঙ্ঘে স্বীকৃতি পেয়েছে, পূর্ব তিমুর স্বাধীন হতে বা জাতিসঙ্ঘে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু ফিলিস্তিনির ক্ষেত্রে সব নিয়মই উল্টে গেছে। কারণ একটাই ইহুদি স্বার্থ। ইসরাইল চায় না স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র অতএব বিশ্বের একক পরাশক্তি আমেরিকাও চায় না স্বাধীন ফিলিস্তিন।
কিন্তু এবার ফিলিস্তিনিরা ঐক্যবদ্ধ, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি তাদের চাই। আলোচনার মাধ্যমে কালক্ষেপণ অনেক হয়েছে। স্বীকৃতির পরই হতে পারে আলোচনা। সেই ঐতিহাসিক দিনটি ছিলো ২৩ সেপ্টেম্বর। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুনের হাতে তুলে দিলেন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আবেদন। যদিও এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়ে যাচ্ছে এমন নয় কিন্তু এর ফল হবে অনেক সুদূরপ্রসারী। আর এ কারণেই যখন মাহমুদ আব্বাস এই আবেদনের ব্যাপারে অনমনীয় অবস্থান নিয়েছেন তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইল শান্তির মুখোশটি পুরোপুরি খুলে ফেললেন। খুব স্পষ্টভাবেই বারাক ওবামা ঘোষণা করলেন জাতিসঙ্ঘে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদানে আমেরিকা ভেটো দেবে। তার পরামর্শ ইসরাইলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ইসরাইলের আকাক্সক্ষা ছাড়া এমন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি ফিলিস্তিনিদের ফিরে যেতে বললেন ইসরাইলের সাথে আলোচনায়। জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলো প্রস্তাবটি তুলে নেয়ার জন্য। কিন্তু মাহমুদ আব্বাস ছিলেন অনড়।
ভবিষ্যৎ কী
জাতিসঙ্ঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এই আবেদন এখন চলে গেছে নিরাপত্তা পরিষদে। অনিবার্যভাবেই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ভেটো দেবে। কিন্তু এরপরও ফিলিস্তিনিদের অর্জন কিন্তু কম নয়। নিরাপত্তা  পরিষদের ২টি স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এবং অস্থায়ী সদস্য লেবানন,ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা আগেই সমর্থনের কথা জানিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির জন্য কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেয়ার ঘোষণার পর স্বাধীন রাষ্ট্রের এই দাবি যে গৃহীত হচ্ছে না তা নিশ্চিত। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি স্থায়ী সদস্য আর ১০টি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে। ১৫ সদস্যর মধ্যে ৯টি দেশের সমর্থন পেলে নিরাপত্তা পরিষদে তা গৃহীত হবে। কিন্তু স্থায়ী সদস্য কোনো দেশ ভেটো দিলে তা আর কার্যকর হবে না। ইহুদিবাদের মুখপাত্র ফক্স নিউজ চ্যানেল এক খবরে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আর কোনো সদস্য যাতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন না জানায় সে জন্য জোর লবিং চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবিটি অদূর ভবিষ্যতে  সাধারণ পরিষদে যখন আলোচিত হবে  সেখানে নিশ্চিতভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সমর্থন পাবে এই প্রস্তাবটি। উল্লেখ্য যে জাতিসঙ্ঘের ১৯৩ সদস্যর মধ্যে ১২০টি দেশ  ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে ভূখণ্ড হিসেবে ফিলিস্তিন জাতিসঙ্ঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদায় আছে। এখন পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের জন্য আবেদন করতে পারবে। সাধারণ পরিষদের সমর্থনে ফিলিস্তিন তা অর্জন করতে পারবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আঞ্চলিক সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে দেশটি। পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের এই আবেদন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ করবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটির পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেবে।
কূটনৈতিক সাফল্য
স্বাধীন রাষ্ট্রের এই দাবির মধ্যে দিয়ে ফিলিস্তিন পেয়েছে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য। কূটনৈতিক চাপের কারণে ইসরাইল আবার আলোচনায় বসার অনুরোধ করেছে। গোটা দুনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি  আর আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে। কারণ ওবামা নিজেই নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো প্রয়োগের কারণে ফিলিস্তিন জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী সদস্য পদ পাবে না বটে কিন্তু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি অসংখ্য রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়টি আইনগত ভিত্তি পাবে। এর ফলে ফিলিস্তিনের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি এসব দেশের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই ভাবে ইসরাইল যে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড জবর দখল করে রেখেছে তাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাবে। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।  এ কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে যাতে ফিলিস্তিন এই দাবিটি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন না করুক। অথচ এক সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেই বলেছিলেন ৬৭ পূর্ব সীমানা হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমানা। এখন এর ভিত্তিতে যখন স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি তোলা হয়েছে তাতে ভেটো দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আর এই হুমকি দেয়ার মাধ্যমে আমেরিকা আরেকবার প্রমাণ করেছে দেশটি শুধুই ইসরাইলের বন্ধু মুসলিম বিশ্বের নয়। এমনকি ইসরাইলের স্বার্থরক্ষায় মানবতা ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার সব সময় উপেক্ষিত থাকছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আবার ইসরাইলের সাথে আলোচনার বসার আহবান জানিয়েছে। অথচ গত বছরের মে মাস থেকে আলোচনা বন্ধ হয়ে আছে কারণ অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলের বসতি নির্মাণ। ইসরাইলের সাথে আলোচনায় অন্যতম শর্ত ছিলো শান্তি আলোচনা চলা অবস্থায় অধিকৃত এলাকায় নতুন করে কোনো বসতি নির্মাণ করা হবে না। কিন্তু সে শর্ত ভঙ্গ করে বসতি নির্মাণ চালাতে থাকে ইসরাইল। ফলে আলোচনা ভেঙে যায়। শুধু তাই নয়, গাজায় বছরের পর বছর ধরে অবরোধ আরোপ করে লাখ লাখ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে দেশটি। আর অব্যাহভাবে হামলার ঘটনা তো আছেই। এ অবস্থায় ইসরাইলের সাথে ফিলিস্তিনের আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়ে। এরকম পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসরাইল শুধু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো না আমেরিকার একচোখা মধ্যপ্রাচ্যনীতি যেৃ ব্যর্থ তা আবারো প্রমাণিত হলো।
আরব বসন্তের প্রভাব
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতির দাবি উত্থাপনের পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে আরব দেশগুলোর সাম্প্রতিক আন্দোলন। মিসরের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি মিসরের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের দিকটি প্রকাশ্য উঠে আসে। এর মধ্যে ইসরাইল-মিসর সীমান্তে মিসরের নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করে হত্যার পর উত্তাল হয়ে ওঠে কায়রো। ইসরাইল দূতাবাসে হামলার ঘটনাও ঘটে। কায়রো থেকে পালিয়ে যান ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত। একইভাবে জর্দানেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। অতীতে হোসনি মোবারক সব সময় ইসরাইলের স্বার্থে অবস্থান গ্রহণ করতেন।  ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আরব দেশগুলো নানাভাবে বিভক্ত হয়ে পড়তো। কিন্তু এবার সে রকম কোনো চিত্র প্রকাশ পায়নি। এর বড় কারণ মিসরের অন্তর্বর্তীকালীন সেনাশাসকরা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ঝুঁকি নেননি। সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানের সমর্থনতো ছিলোই।
একই কারণে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো এবার ঐক্যবদ্ধ ছিলো। সাধারণভাবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ফাতাহর একাধিক গ্রুপ অথবা হামাসÑফাতাহর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। কিন্তু এবার ছিলো ব্যতিক্রমী চিত্র ফিলিস্তিনিরা ছিলো ঐক্যবদ্ধ।
ফিলিস্তিন ইস্যুটি এমন এক সময় জাতিসঙ্ঘে উত্থাপিত হয় যখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে ছিলেন। দুর্নীতি দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি আর সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে তেলআবিবসহ ইসরাইলের বড় বড় শহরে প্রতিদিন বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের অনেকে ফিলিস্তিনিদের সাথে সঙ্ঘাতের অবসানও চাইছিলেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন ইসরাইলের এই বিক্ষোভগুলো হচ্ছে আরব বসন্তের প্রভাবে। শুধু আরব দেশগুলো নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন যে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে তাতে হয়তো ওবামা-নেতানিয়াহু আর বেশিদিন মরুভূমির বালুর নিচে উটপাখির মত মাথা গুঁজে থাকতে পারবেন না। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আকাক্সক্ষা শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে। স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা হয়তো জাতিসঙ্ঘে স্থায়ীভাবে উড়বে।
নেপথ্যে তুরস্ক
ফিলিস্তিনের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ আর আরব দেশগুলোকে তাদের পেছনে সমর্থন দেয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজটি পেছনে থেকে করেছে তুরস্ক। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভতুগুলো প্রধান নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছেন। একদিকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠানো ও সমর্থনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার কাজটি তুরস্কের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক মাস আগে কায়রোতে আরব নেতাদের বৈঠকে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একইভাবে ইসরাইলের ওপর অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করে তুরস্ক। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ইসরাইলের এক সময়ের বন্ধু তুরস্ক দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি প্রদান করে। ইতোমধ্যে আঙ্কারায় ইসরাইল দূতাবাসের কর্মকাণ্ড সঙ্কুচিত করে আনা হয়েছে। এরদোগান অবরুদ্ধ গাজা সফরে যাবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। বলা যায় নির্যাতিত নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ঝুঁকি নিয়ে প্রকৃত বন্ধুর ভূমিকা পালন করছে তুরস্ক। শুধুমাত্র প্রকাশ্য সমর্থন নয় নেপথ্যে থেকে আরব দুনিয়াকেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ করার কাজটিও তুরস্ককে করতে হয়েছে।
ঐক্যই মুক্তি
ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে ঐক্যের মাধ্যমে। এই ঐক্য যেমন বিভক্ত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দরকার তেমনি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যেও প্রয়োজন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন হোসনি মোবারক বা বেন আলির মতো শাসকদের যদি পতন না ঘটতো তাহলে জাতিসঙ্ঘে মাহমুদ আব্বাস হয়তো অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করতে পারতেন না। কারণ মাহমুদ আব্বাসের ওপর শুধু ইসরাইলের নয়, আমেরিকা ও ইউরোপীয় অনেক দেশের চাপ ছিলো স্বাধীন রাষ্ট্রের আবেদনটি প্রত্যাহারের। আর চাপের সাথে ছিলো মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিপুল সাহায্যের প্রলোভন। কিন্তু তিনি এতে প্রভাবিত হননি কারণ জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতি তিনি সম্মান দেখিয়েছেন। এ জন্য তিনি দেশে ফিরে পেয়েছেন বীরোচিত সংর্বধনা। জনগণের ভালোবাসা। কিন্তু অতীতে বারবার ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব বিভাজিত হয়েছে। তাদেরকে ইসরাইলের স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যবহার করেছে। কিন্তু এবারে যে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা তাতে ফিলিস্তিনিদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এই আবেদনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা তাদের নীড় ফিরে পাবে। স্বাধীন আবাসভূমির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

SHARE

Leave a Reply